দুর্গপতি | ওবায়েদ আহমাদ

দুর্গপতি

শ্রেষ্ঠ বাণী :

‘‘হে আলি, খোদার কসম, তোমার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির সঠিক পথ পাওয়া তোমার জন্য লাল উষ্ট্রী অপেক্ষা অধিক উত্তম।’’

 

১ম দৃশ্য

রণক্ষেত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে হুদায়বিয়া। সাহাবাগণের মধ্যে উসমান রাযি. হত্যার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। যে কোনো মূল্যে তারা এই হত্যার বদলা নিতে প্রস্তুত। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাবলা গাছের নিচে উসমানহত্যার প্রতিশোধে শাহাদাতের বাইআত গ্রহণ করলেন। সাহাবাদের শাহাদাতের জযবায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাব্বুল আলামীনের তরফ থেকে এক ঐশীবার্তা এলো, ‘‘ মুমিনদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন, যখন তারা বৃক্ষের নিচে আপনার হাতে শপথ নিলো। তিনি তাদের অন্তরের অবস্থা সম্পর্কে অবগত। তাই তিনি তাদের উপর বর্ষণ করলেন প্রশান্তি এবং অচিরেই প্রদান করতে যাচ্ছেন আসন্ন এক যুদ্ধের বিজয় ও অঢেল পরিমাণ যুদ্ধলদ্ধ সম্পদ”। কী সেই অত্যাসন্ন বিজয়? আর আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কী পরিমাণ সম্পদের প্রতিশ্রুতি দিলেন?

 

২য় দৃশ্য

হুদায়বিয়া সন্ধির পর। মদিনাতে ইহুদি ঐক্যফন্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা হয়েছে। সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সাহাবাগণ জিহাদে শরীক হওয়ার জন্য নিজের জানমাল দিয়ে শরীক হচ্ছেন। এ সময় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরফ থেকে ঘোষণা এলো, “এ যুদ্ধে শুধুমাত্র তারাই অংশগ্রহণ করবে, যারা  জিহাদে আগ্রহী ও উসমানহত্যার প্রতিশোধে মৃত্যুর শপথ গ্রহণ করেছিল”। (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/৩৩৪)

 

৩য় দৃশ্য

মদিনা থেকে ইহুদি সর্দারদের হাতে একটি চিঠি পৌঁছেছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘‘মুহাম্মাদ তার দলবল নিয়ে তোমাদেরকে আক্রমণ করার ইচ্ছা করেছে। তোমরা দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করো। তার ব্যাপারে পেরেশান হওয়ার কিছু নেই। তোমাদের অস্ত্রশস্ত্র আর লোকবলের তো অভাব নেই। মুহাম্মাদরা গুটিকয়েক। হাতিয়ার নেই বললেই চলে। তোমাদের সতর্কতা কামনা করছি।

বিনীত, তোমাদের ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই

চিঠি পেয়ে তারা পাশ্ববর্তী গাতফানগোত্রের নিকট সাহায্যের আবেদন চেয়ে দুইজন বার্তাদূত পাঠালো। তারা ইহুদিদের অর্ধেক শস্য প্রদানের বিনিময়ে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিলো।  (প্রাগুক্ত)

 

৪র্থ দৃশ্য

রাতের ১ম প্রহর। নবীজি ১৬০০ সদস্যের সেনাবহর নিয়ে ইহুদিদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে যাচ্ছিলেন। হঠাত অগ্রবর্তী দল থেকে উচ্চস্বরে এক কবিতা ভেসে এলো,

ওগো দয়াময়, সত্য পথের দিশায় যদি ধন্য নাহি হতাম

সাদকা সালাত বিধান তোমার, অজ্ঞ থাকিয়া যেতাম-

উৎসর্গিত হোক তুচ্ছ এ প্রাণ; নবীর চরণতলে।

মার্জনা করো, পবিত্র করো পাপের দরিয়া তল,

দুশমন বধে অবিচল রাখো দুর্বল পদযুগল।

সমুদ্রসম রহমে তোমার শীতল করিয়া প্রাণ,

ছুঁড়ে ফেলি শত অসত্যধ্বনি ভাঙ্গিয়া লৌহ শিকল।

নবীজি কবিতা শুনে বলে উঠলেন, কে এই ব্যক্তি? উত্তর এলো, আমের ইবনুল আকওয়া। নবীজির মুখ দিয়ে বেরিয়ে এলো, ইয়ার-হামুহুল্লাহ। পাশ থেকে এক সাহাবি বলে উঠলেন, ওয়াজাবাত। (আবশ্যক হয়ে গিয়েছে)। (মাগাযী : ২/৬৩৮)

নবীজি তার জন্য কিসের দু‘আ করলেন? সাহাবি ওয়াজাবাত কেনো বললেন?

 

৫ম দৃশ্য

তখন রাত। রাসুল রাজিঅ নামক জায়গায় যাত্রাবিরতির নির্দেশ দিলেন। এই রাত শেষ হলেই তিনি ইহুদিদের বসতিতে ঢুকে পড়বেন। নবীজি কখনো রাত্রে আক্রমণ করতেন না। প্রয়োজনে রাতে যাত্রাবিরতি দিয়ে সকালে আক্রমণ করতেন। এই সময় জানা গেলো, ইহুদিদের সাথে চুক্তিমোতাবেক গাতফান গোত্রের লোকেরা এসেছিল। কিন্তু সাহাবাদের এই কাফেলার আওয়াজ শুনে তারা ভয়ে ফিরে গিয়েছে। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ২/৩৩০)

 

৬ষ্ঠ দৃশ্য

খুব ভোরে নবীজি ফজরের সালাত আদায় করলেন। উত্তরদিক থেকে ইহুদিবসতিতে প্রবেশ করতে গিয়ে রাসুলের সামনে চারটি রাস্তা পড়লো। নবীজি নিযুক্ত দুজন গাইডকে জিজ্ঞাসা করলেন, আমরা খায়বারে প্রবেশ করতে কোন পথ ব্যবহার করতে পারি। গাইড জানালেন, যে কোনো এক পথ ব্যবহার করলেই হয়। নবীজি বললেন, রাস্তাগুলোর নাম বলো। গাইড বলতে শুরু করলেন, ১ম টার নাম হুযুন, ২য় টার নাম শাশ, ৩য় টার নাম হাতেব আর সর্বশেষটার নাম মারহাব (স্বাগত জানানোর শব্দ)। নবীজি বললেন, ‘‘চলো, আমরা খায়বারে মারহাব সড়ক দিয়ে প্রবেশ করি।”

(মাগাযী : ২/৬৩৯, দুজন গাইডের নাম ছিল হুসাইল বিন খারেজা ও আব্দুল্লাহ বিন নুআইম আল আশযায়ী)

 

খায়বার

খায়বর সৌদি আরবের একটি বড় শহর। গুগল আর্থে আল-খায়বারুল কাদীম নামে অত্র অঞ্চলকে চিহ্নিত করা হয়েছে। খায়বার ছিল ঘনবসতিপূর্ণ একটি মরুএলাকা। তবে এ ভূমি তুলনামূলক চাষাবাদ ও বৃক্ষরোপনের জন্য উপযোগী ছিল। নবীজির যুগে এখানে ইহুদিদের বসবাস ছিল এবং স্থানীয় অধিবাসীরা ক্ষেতখামার চাষাবাদ করে নিজেদের জীবিকা নির্বাহ করতো। মদিনা থেকে আনুমানিক ১৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। (উইকিপিডিয়া ও গুগল আর্থ)

বহুদূর্গবেষ্টিত এ শহরটি প্রতিরক্ষার দিক থেকে ছিল যথেষ্ট সুরক্ষিত। খায়বার যুদ্ধের সময় এখানে ইহুদিদের বড় বড় ২টি গোত্রের আবাস ছিল। মদিনা থেকে এ গোত্রগুলোকে হঠকারিতার অভিযোগে বের করে দেয়া হয়েছিল। ৮টি বড় বড় মজবুত দূর্গ দিয়ে গড়ে ওঠা শহরটি নাতাত, শাক এবং কুতায়বা এই তিন এলাকায় বিভক্ত ছিল। তবে নাতাত ও শাক এলাকাটি ছিল পাশাপাশি আর কুতায়বা এলাকাটি ছিল সম্পূর্ণ বিপরীতদিকে।

যুদ্ধপরিস্থিতি বুঝার সুবিধার্থে ধারাবাহিক দূর্গগুলোর নামগুলো তুলে ধরা হলো—

১ – নায়ীম দূর্গ

২- সাআব বিন মুআয দূর্গ

৩- যুবায়ের দূর্গ (নাতাহ)

৪- উবাই দূর্গ

৫- নাজ্জার দূর্গ (শাক)

৬- কামূস দূর্গ (বনী আবিল হুকাইক)

৭- ওয়াতিহ দূর্গ

৮- সুলালিম দূর্গ

১ম পাঁচটি নাতাহ-শাক অঞ্চলে আর কুতায়বা এলাকায় অবশিষ্ট ৩ টি দূর্গ। এই ৮ টি দূর্গ ছাড়াও আরো অনেক দূর্গ ছিল। তবে এই ৮টি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/৩৩৭)

 

দূর্গের শহরে  নবীজি

খায়বারে প্রবেশের সময় নবীজি দুআ করলেন, হে আসমানসমূহ ও তার সমুদয় শক্তির প্রভূ, হে যমিনসমূহ ও তার সমূদয় শক্তির মালিক, ওহে শয়তান ও তার কূটচালের উপর ক্ষমতাপ্রয়োগকারী রব, ওহে বাতাস ও তার প্রবাহিত শক্তির প্রভূ, আমরা এই নগর, নগরের মানুষ ও নগরস্থ সমুদয় কল্যাণ কামনা করি এবং এই নগর, নগরের মানুষ ও নগরস্থ সমুদয় অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই। ওহে সেনাসদস্যরা, তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে প্রবশে করো। (সিরাতে ইবনে হিশাম : ২/৩২৯)

নিত্যদিনের মতো শহরের ইহুদিরা মাচা-কাস্তে হাতে ফসলি জমিতে চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। হঠাত একজনের কম্পিত কন্ঠস্বর শোনা গেলো,  মুহাম্মাদ তার দলবল নিয়ে আসছে। পালাও, পালাও। ইহুদিরা দূর্গের দিকে পালাতে শুরু করলো। এ দৃশ্য দেখে নবীজি বললেন, “আল্লাহু আকবার, খায়বার পতন হোক। আল্লাহু আকবার, খায়বার পতন হোক। আমরা যখনি কোনো সম্প্রদায়ের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হই, দূর্ভাগাদের প্রভাত তখন খুবই মন্দ কাটে।” (মাগাযী : ২/৬৪২)

নবীজি নাতাত দূর্গগলোর কাছাকাছি সেনাছাউনি স্থাপনের নির্দেশ দিলেন। তখন হুবাব ইবনুল মুনযির এসে আরয করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, এটা কি আপনার ব্যক্তিগত নির্দেশ নাকি ওহীর আদেশ? নবীজি বললেন, আমার ব্যক্তিগত মত। হুবাব পুনরায় আরয করলেন, এই স্থানটি নাতাত দূর্গের খুব কাছাকাছি। খায়বারের সকল যোদ্ধারা এখন এই দুর্গগুলোতে অবস্থান করছে। তারা দূর্গ থেকে আমাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। কিন্তু আমাদের পক্ষে তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। জায়গাটি তূলনামূলক নিচু হওয়ার কারণে তাদের তীরগুলো আমাদের নাগাল পাবে। কিন্তু আমাদের তীর তাদের পর্যন্ত পৌঁছবে না। এই সকল প্রতিরক্ষা সমস্যাগুলো থেকে মুক্ত স্থানে সেনানিবাস স্থাপন করার জন্য আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। নবীজি তার কথায় সম্মতি দিয়ে সেনাছাউনি অন্যত্র স্থাপনের নির্দেশ দিলেন। (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/৩৩৬)

 

দূর্গ অবরোধ

প্রজেক্ট-১: (নাতাত এরিয়া)

  • নায়ীম দূর্গ

দূগটি ছিল খায়বারের সবচে শক্তিশালী দূর্গ। এ দূর্গটি জয় করতে মুসলমানদের বেশি বেগ পেতে হয়েছে। ১ম দিন পতাকা দেয়া হয় হযরত আবু বকর রাযি.-এর হাতে। যথেষ্ট বীরত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি যুদ্ধ পরিচালনা করলেও দূর্গ বিজিত হয় না। ২য় দিন ঝান্ডা দেয়া হয় হযরত উমর রাযি.–এর হাতে। ফলাফল একই।  এবার রাসুল ঘোষণা করলেন, আগামীকাল আমি এমন একজনের হাতে ঝান্ডা তুলে দিবো যাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভালবাসেন আর সেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে ভালোবাসে।

নবীজির ঘোষণায় সাহাবাদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো এবং পরদিন প্রতুষে র্দীঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সৌভাগ্যমন্ডিত ঝান্ডাটি সেই জ্যোর্তিময় ব্যক্তির হাতে তুলে দেয়ার জন্য নবীজি বললেন, আলিকে ডাকো। তখন চক্ষুপীড়ায় ভুগছিলেন হযরত আলি রাযি.। নবীজি পবিত্র লালা আক্রান্ত চোখে লাগিয়ে দিলেন এবং বললেন, ঝান্ডা হাতে নাও। মিশন বাস্তবায়ন করো। ইনশাআল্লাহ আজকে আল্লাহ তাআলা বিজয় দান করবেন। (আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াসসিয়ার : পৃ. ১৯৮)

সহিহ বুখারিতে আছে, নবীজি বললেন, যখন তুমি তাদের কাছাকাছি পৌঁছবে তখন তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিবে। তাদের উপর আল্লাহর আবশ্যকীয় হকের ব্যাপারেও অবগত করবে। খোদার কসম, তোমার মাধ্যমে একজন ব্যক্তির সঠিক পথ পেয়ে যাওয়াটা তোমার জন্য লাল উষ্ট্রী অপেক্ষা অনেক উত্তম। (সহিহুল বুখারি : ২৯৪২)

হযরত আলি রাযি.-এর নেতৃত্বে মুসলিম সেনাবহিনী নায়ীম দূর্গ অভিমুখে গেলেন। ইহুদিরা কৌশলগত কারণে প্রতিরোধ ব্যবস্থার দিকে বেশি মনোযোগী ছিল। এই দূর্গে বসবাস করতো খায়বারের আতঙ্ক মহাবীর মারহাব।  আলি রাযি. ইহুদিদের ইসলামের দাওয়াত দিলে মারহাব সেটা প্রত্যাখান করে দূর্গের বাইরে বেরিয়ে এলো এবং উচ্চস্বরে কবিতা বলতে লাগলো,

খায়বার জানে আমি সেই অভিজ্ঞ যোদ্ধা মহাবীর মারহাব,

যুদ্ধের দামামায় তেজস্বী হয়ে উঠি বারবার,

ঢাল-তলোয়ার আর তীর-ধনুকে বধ করি দুশমন।

মুসলিমবাহিনী থেকে এগিয়ে এলেন আমের ইবনুল আকওয়া। তিনিও একই কবিতা পড়লেন। তবে মারহাবস্থানে বললেন আমের। উভয়ের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলো। মারহাবের তরবারী আমেরের ঢালে এসে আটকে গেলো। আমের ইবনুল আকওয়া রাযি.–এর তরবারী ছোটো ছিল। তিনি নিচ দিক থেকে মারহাবের উপর আক্রমণ করতে গিয়ে অসর্তকতাবশত তরবারীর ফলা তার হাটুতে বিদ্ধ হলো এবং এ আঘাতে তিনি শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করেন। (ওয়াকিদী রচিত আল-মাগাযী : ২/৬৫৪, ইবনে আব্দুর বার রচিত আদ-দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার :১/১৯৮)

তবে কি এটাই ছিল রাসুলের সেই ভবিষৎবাণীর মর্ম। ৪র্থ দৃশ্যটা আবারো আমাদের চোখে ভেসে উঠলো। জনশ্রুত ছিল, কারো সম্পর্কে রাসুলের বিশেষ মূহুর্তের বিশেষ দুআর ভাষাটা হতো একটু ভিন্নরকম।

আমের রাযি.-এর শাহাদাতের পর মারহাব পুনরায় যুদ্ধের জন্য আহ্বান করতে লাগলো। তার মুখে সেই পুরনো কবিতা। এসময় ময়দানে লড়াই করতে এগিয়ে এলেন শেরে খোদা আলি। এসেই হুংকার ছাড়লেন,

আমি সেই, মা রেখেছেন যার নাম সিংহ

ভয়ংকর দর্শন বনের সিংহের মতোই আমার বাহাদুরি,

বড় দান মেরে লঘু দানের বদলা দেয়াই আমার নীতি।

যুদ্ধ শুরু হলো। শেরে খোদা আলি রাযি.-এর এক আঘাতে মারহাবের মস্তক দ্বিখন্ডিত হয়ে গেলো। যুদ্ধে আলি রাযি.- এর ঢাল ভেঙে গিয়েছিল। তখন তিনি দূর্গের কপাটকে ঢাল বানিয়ে যুদ্ধ করছিলেন। মারহাবের মৃত্যুর খবর ইহুদিদের ভিতর ভীতির সঞ্চার করলো। হযরত আলি রাযি. দুর্গের কাছে এগিয়ে গেলেন। তখন মোকাবিলা করার জন্য মারহাবের ভাই ইয়াসের বেরিয়ে এলো এবং উচ্চকন্ঠে ঘোষণা করলো, কে আমার সাথে লড়াই করবে? হযরত যুবায়ের রাযি. তার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন এবং তাকে কতল করলেন। বেশ কয়েকদিন কঠোর অবরোধের পরে ইহুদিগণ বাধ্য হয়ে এ দুর্গ ছেড়ে দিয়ে পাশ্ববর্তী সাআব বিন মুআয দূর্গে আশ্রয় নিলো।

 

  • সাআব বিন মআয দূর্গ

সমরশক্তির দিক থেকে এ দূর্গটি ছিল যথেষ্ট মজবুত। খাদ্যশস্যের মজুদ ছিল পর্যাপ্ত। ফলে এটি অপ্রতিরোধ্য এক দূর্গে পরিণত হয়। ৩ দিন দূর্গ অবরোধ অব্যাহত থাকে । হুবাব বিন মুনযিরের নেতৃত্বে দূর্গটি অবরোধ করা হয়। অবরোধ চলাকালিন সময়ে আসলাম গোত্রের কিছু লোক এসে বললো, আমরা প্রাণান্ত চেষ্টা করছি, কিন্তু আমাদের হাতে পর্যাপ্ত রসদও নেই। এ কথা শুনে নবীজি বললেন, হে আল্লাহ, আপনি তাদের অবস্থা জানেন। তাদের দূদর্শার কথাও জানেন। আপনি তাদেরকে খাদ্য-শস্যে পরিপূর্ণে এক বিশাল দূর্গ বিজয় করার তাওফীক দিন। নবীজির বরকতময় দুআয় গোত্রের লোকেরা যেনো নবজীবন লাভ করলো। পরদিন সূর্য ডোবার আগেই এ দূর্গটি বিজিত হয় এবং এতে আসলাম গোত্রের লোকেরা সাহসিকতার এক অনন্য নযীর স্থাপন করেন। এ দূর্গ বিজিত হওয়ার মধ্য দিয়ে মুসলমানদের প্রচুর খাদ্যশস্য,মিনযানিক ও কামান হস্তগত হয়।

 

  • যুবায়ের কেল্লা

এবার ইহুদিরা যুবায়ের কেল্লায় দূর্গবন্দি হলো। এ দূর্গের প্রবেশপথটি ছিল খুবই সরু। কয়েকজন মানুষ একসাথে দূর্গে প্রবেশ করাটা ছিল কষ্টসাধ্য। নবীজি এ দূর্গ অবরোধ করলেন। ৩ দিন পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত থাকলো। আচমকা এক ইহুদি রাতে দূর্গ থেকে বেরিয়ে এলো এবং নবীজিকে বললো, হে আবুল কাসেম, একমাসও যদি অবরোধ করে রাখেন, তাতে কোনো লাভ হবে না। মাটির নিচে তাদের রয়েছে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয়। তারা নিরাপদ দূরত্বে থেকেই রাতে বের হয়ে পানি পান করে। প্রয়োজন শেষে আবার তারা দূর্গে ঢুকে পড়ে। আপনি একটি কাজ করতে পারেন- তাদের পানির লাইন কেটে দেন। আগন্তুক অদৃশ্য হলেন। নবীজি আগন্তুকের পরামর্শ মোতাবেক পানির লাইন কেটে দিলেন। ফলে তারা বাধ্য হয়ে বের হয়ে আসলে তাদের সাথে যুদ্ধ হয় এবং দশজন ইহুদিসৈন্য মারা যায়। অবশেষে এ দূর্গটিও মুসলমানদের দখলে চলে আসে।

 

প্রজেক্ট-২ : (শাক এরিয়া)

  • উবাই কেল্লা

এ দূর্গে ইহুদিরা অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর দুইজন বীর কেল্লা থেকে বেরিয়ে যুদ্ধের জন্য মুসলমানদের ডাকতে থাকে। এতে দুইজন বীর মুসলমান কতৃর্ক নিহত হয় এবং সহজেই এ কেল্লাটি মুসলমানদের হস্তগত হয়।

  • নাজ্জার দূর্গ

ইহুদিরা এবার মজবুত এক দূর্গে অবস্থান নিলো। এটা ছিল উচু এক টিলায় অবস্থিত। রাস্তা ছাড়া সেখানে পৌঁছা ছিল কষ্টকর ব্যাপার। কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় দূর্গটির অবস্থান হওয়ার কারণে ইহুদিরা ভেবেছিল, এই দূর্গ মুসলমানদের পক্ষে জয় করা সম্ভব নয়। তাই তারা এ দূর্গেই নারী ও দাসীদেরকে এনে রেখেছিল এবং তারা এবার আবার সরাসরি সমরযুদ্ধে অংশগ্রহণ করলো না।

এতদিনে মুসলমানদের বীরত্বের কথা তাদের মনে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল। তারা মুসলমানদের মোকাবিলা করার জন্য দূর্গের উপর থেকে তীর ও পাথর ছুঁড়ছিল। ফলে মুসলমানদের জন্য দূর্গ বিজয় করাটা অসম্ভব হয়ে দেখা দিলো। তখন নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কামান স্থাপনের নির্দেশ দিলেন এবং কামানের গোলার আঘাতে দূর্গদেয়ালের একাংশ বিশাল ফাটল ধরলো। মুসলমানরা সেদিক দিয়ে দূর্গে প্রবেশ করলো। এসময় ইহুদিদের সাথে যুদ্ধ বেঁধে যায়। এবার তাদের আর পালাবার কোনো জায়গা ছিল না। এটাই ছিল নাতাত-শাক অংশের সর্বশেষ দূর্গ। এখান থেকে বিকল্প পথে দূর্গ থেকে বের হওয়ার কোনো পথ ছিল না। ফলে ইহুদিরা শোচনীয়ভাবে মুসলমানদের কাছে পরাজিত হয়।

 

প্রজেক্ট-৩: (কুতায়বা এরিয়া)

নাতাহ-শাক এরিয়ার দূর্গগুলো বিজিত হবার পর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুতায়বা অঞ্চলের দূর্গগুলোর দিকে পা বাড়ালেন। এখানে ৩টি বড় দূর্গ ছিল। কামূস, ওয়াতিহ ও সুলালিম। কামূস দূর্গের যুদ্ধ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতামতের ভিন্নতা থাকলেও বাকী দূর্গগুলো যুদ্ধ ছাড়াই মুসলমানদের করতলগত হয়। নবীজি ১৪ দিন পর্যন্ত অবরোধ অব্যাহত রাখেন এবং কামান স্থাপনের নির্দেশ দেন। ইহুদিরা যখন বিপদের অশনি সংকেত টের পেলো তখন তারা সন্ধির প্রস্তাব দিয়ে কিনানাহ বিন আবিল হুকায়ককে পাঠালো। সন্ধিতে ৩টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলো-

১- ইহুদিরা সকল সম্পত্তি মুসলমানদের হাতে সোর্পদ করবে।

২- ইহুদিদের জানের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।

৩- তারা পরিবার পরিজন নিয়ে খায়বার ছেড়ে চলে যাবে।

ইহুদিরা শেষের শর্তটিতে ভিন্ন একটি প্রস্তাব পেশ করে বললো, “আমরা এ ভূমির চাষাবাদ সর্ম্পকে অধিক অবগত আছি। আমরা জমিনে চাষাবাদ করবো এবং উৎপন্ন শস্য ও ফলমূলের অর্ধেক আপনাদের কাছে হস্তাস্তর করবো”। এদিকে সাহাবাদের এ ভূমি চাষাবাদ করার জন্য লোকবল এবং পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার কারণে নবীজি তাদের এই প্রস্তাবে সম্মতি দিলেন এবং এই সন্ধিচুক্তি সম্পন্ন হবার মধ্য দিয়ে খায়বারের সকল দূর্গ মুসলমানদের হস্তগত হয়। (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/৩৩৯-৩৪৪)

এ যুদ্ধে ১৫ জন মুসলমান শহীদ হন এবং ৯৩ জন ইহুদি নিহত হয়। (মাগাযী : ২/৭০০)

এখন থেকে আমাদের প্রিয় নবীজি খায়বারের নতুন “দূর্গপতি”।

কেনো এই মহাযুদ্ধ

খায়বার দূর্গ ছিল ইহুদি ষড়যন্ত্রের হেডকোয়ার্টার। মদিনার বড় বড় দুটি ইহুদি গোত্র বনু কায়নুকা ও নাযীর সেখান থেকে বহিষ্কৃত হয়ে এখানে আবাস গেড়েছিল। দুই বছর আগে ৫ম হিজরীতে ঘটে যাওয়া আহযাব বা কাফেরদের সম্মিলিত যুদ্ধের ইন্ধনদাতা ছিল এই ইহুদিরা। মক্কার কোরাইশদের উত্তেজিত করে মদিনায় অবস্থানরত জ্ঞাতী ভাই বনু কুরাইজাকে ভিতর থেকে শর্ত ভঙ্গ করে মুসলমানদের উপর আক্রমণ করার পরিকল্পনা এই খায়বার থেকেই হয়েছিল। ফলে নবীজি খন্দক খননের মাধ্যমে বহিঃযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে বনু নাযীরের যোদ্ধাদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে আহযাব যুদ্ধের সময় কৃত গাদ্দারীর শাস্তি দিলেন এবং হুদায়বিয়ার সন্ধি সম্পন্ন করে কুরাইশদের আক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ করলেন। এবার এলো খায়বারের ইহুদিদের ষড়যন্ত্রের জবাব দেবার পালা। তাই কালবিলম্ব না করে নবীজি অবরোধ করেছিলেন খায়বর দূর্গ । (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/ ৩৩৩)

 

আনন্দ-বেদনায় স্মৃতিময় খায়বার 

১ম ঘটনা :

আমের রাযি.–এর শাহাদাত নিয়ে সাহাবাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হলো। অনেকেই আত্মহত্যা ধরে বলছিলেন, আমেরের সব আমল তো বরবাদ হয়ে গেলো। নবীজির কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে নবীজি বললেন, যে বলে সে মিথ্যা বলেছে । সে দুইটা পুরষ্কার পাবে। কারণ সে হচ্ছে জাহেদ ও মুজাহিদ। তারচে অধিক প্রতিদান আর কে পেতে পারে? (সহিহ বুখারি : ৬৮৯১)

পরিবারের লোকদের জন্য এ সুসংবাদটি ছিল অত্যন্ত আনন্দের।

ইমাম নববী রহ. হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন, জাহেদ বা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন আল্লাহর আনুগত্যে আর মুজাহিদ হিসেবে কাটিয়ে দিয়েছেন জিহাদের ময়দানে। (শরহুন নববী আলা মুসলিম : ১২/১৬৯)

২য় ঘটনা :

তখন মধ্যরাত। সেনাছাউনি পাহারা দিচ্ছিলেন হযরত উমর রাযি.। দূরে এক লোককে এগিয়ে আসতে দেখা গেলো। উমর রাযি. তাকে গ্রেফতার করে নবীজির দরবারে নিয়ে গেলেন। লোকটি বললো, হে আবুল কাসেম, আমাকে নিরাপত্তা দিন। আমি আপনাকে একটি গোপন সংবাদ দিতে এসেছি। নবীজি নিরাপত্তা দিলেন। লোকটি বলতে শুরু করলো, আমি নাতাত অঞ্চলের দূর্গ থেকে এসেছি। তাদের নিকট এখন কোনো রসদ নেই। তারা আজ রাতে পালিয়ে পাশ্ববর্তী শাক অঞ্চলের দূর্গগুলোতে আশ্রয় নেয়ার পরিকল্পনা করছে। এই দূর্গে অনেক রসদ ও অস্ত্রশস্ত্র আছে। তারা এগুলো মাটির নিচে লুকিয়ে রেখেছে। তাছাড়া দুটি ক্ষেপনাস্ত্র, দুটি কামান ও বেশকিছু অস্ত্রশস্ত্রও আছে। আগামীকাল সকালে যখন আপনি দূর্গে প্রবেশ করবেন তখন আমি আপনাদের সাথে প্রবেশ করবো এবং আপনাকে এ সকল বিষয়ের সন্ধান দিবো। এগুলোর সন্ধান আমি ছাড়া আর কেউ দিতে পারবে না।

আরেকটা কথা। লোকটা একটু থামলো। নবীজি বললেন, কী সেই কথা? যখন আপনি সেগুলো উদ্ধার করবেন তখন আমি শাক অঞ্চলের নাজ্জার দূর্গ বরাবর ক্ষেপনাস্ত্র তাক করবো আর আপনি লোকদের দুটি স্থাপিত কামানের নিচ দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিবেন। তারা সেখানে দূর্গ খুঁড়তে শুরু করলেই দূর্গ বিজিত হবে। আপনি কুতায়বা অঞ্চলের দূর্গগুলোও এরূপে জয় করতে পারবেন। তবে আমার ছোট্টো একটি আরয ছিল, নাজ্জার দূর্গে আমার এক স্ত্রী বন্দী। দূর্গ বিজিত হলে তাকে আমার হাতে সোপর্দ করবেন এবং আমার জানের নিরাপত্তা দিবেন। নবীজি বললেন, তাই হবে। পরদিন তার কথা মোতাবেক নাতাত অঞ্চলের সর্বশেষ দূর্গ বিজিত হলো এবং অনেক সম্পদ উদ্ধার হলো। নবীজি শাক অঞ্চলের নাজ্জার দূর্গের দিকে ক্ষেপনাস্ত্র তাক করার নির্দেশ দিলেন। ফলে অল্পসময়ে নাজ্জার বিজিত হলো। নবীজি ওয়াদা মতো ইহুদি লোকটির স্ত্রী নুফাইলাকে তার হাতে সোর্পদ করলেন। খায়বার বিজিত হওয়ার সময় লোকটি মুসলিম হন। (মাগাযী : ২/৬৪৮)

এ ঘটনাটি ছিল সাহাবাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দায়ক ঘটনা। নাতাত দূর্গগুলোর অবরোধ চলাকালে সাহাবাগণ খাদ্য সংকটে পড়েছিলেন। অন্যদিকে সময়টা ছিল অত্যাধিক গরম। ক্ষুধায় কাতর হয়ে অনেকে গৃহপালিত গাধা জবাই করে রান্না বসিয়েছিলেন। কিন্তু নবীজি তাদেরকে গৃহপালিত গাধা খেতে নিষেধ করলেন এবং ডেগ উল্টিয়ে দিতে বললেন। আদেশ পালিত হলো।  এ চরম দুর্দিনে লোকটির কথায় আবার সাহাবাদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলো।

৩য় ঘটনা :

সাল্লাম ইবনে মিশকামের স্ত্রী যায়নাব বিনতে হারিস নবীজির দরবারে আগমন করে খানার আমন্ত্রণ জানালেন এবং জানতে চাইলেন মাংসের মধ্যে নবীজির পছন্দনীয় অংশ কোনটি? তাকে জানানো হলো, বাহুর গোশত। নবীজি যথাসময়ে খানায় বসলেন। অল্প একটু মুখে দিতেই বুঝলেন গোশত বিষমিশ্রিত। ধূর্ত মহিলাটি বাহুর গোশতে বেশি পরিমাণে বিষ মিশিয়েছিল। নবীজি কারণ জানতে চাইলে সে বললো, আমি এই পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম যে, আপনি সত্যবাদী না মিথ্যাবাদী। আপনি যদি মিথ্যাবাদী হতেন তবে এই বিষ আপনার শেষ দেখতো। নবী হওয়ার কারণে আজ বেঁচে গেলেন।

তবে এই যাত্রায় প্রাণ গেলো সাহাবি বিশর ইবনে বারা। নবীজি কিসাস সরূপ মহিলাকে কতলের নির্দেশ দিলেন।

 ৪র্থ ঘটনা :

কিনানাহ বিন রাবীয়াকে নবীজির নিকট ধরে নিয়ে আসা হয়েছে। সে শর্ত মোতাবেক মুসলমানদের নিকট সকল সম্পদ সোর্পদ করেনি। তার কাছে জানতে চাওয়া হলে সে অস্বীকার করলো। পরে তার চাচার বাতলানো একটা জায়গা খুঁড়ে অনেক সম্পদ উদ্ধার করা হলো। এ সম্পদ বনু নাযীরকে মদিনা থেকে বহিস্কারের সময় ইহুদি সর্দার হুয়াই বিন আখতাব সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন। চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়।

গনিমতের মাল বন্টনের সময় নিহত কিনানাহ বিন রাবীয়ের স্ত্রী কামূস দূর্গের বন্দী সর্দারকন্যা সাফিয়্যাহকে সাহাবি দিহইয়া কালবীর ভাগে দেওয়া হলো। পরবর্তীতে নবীজি দিহইয়া কালবীকে ভিন্ন বাদী দিয়ে সাফিয়্যাহকে আযাদ করে দেন এবং তাকে বিবাহ করেন। মদিনাতে ফিরে যাওয়ার প্রাক্কালে যাত্রাবিরতি দেয়া হয়। সেখানে ওলিমা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। একান্ত মুহুর্তে নবীজি সাফিয়্যার চেহারায় সবুজ রঙ দেখতে পেলেন। নবীজি জানতে চাইলেন, এটা কী? সাফিয়্যাহ বললেন, আপনার আগমনের পূর্বে আমি স্বপ্নে দেখলাম, একটি চাঁদ আকাশ থেকে খসে আমার কোলে এসে পড়লো। আর এই সুন্দর স্বপ্ন আজ সত্যি হতে যাচ্ছে। আমি স্বপ্নটি আমার স্বামীর নিকট বর্ণণা করলে সে আমার গালে চড় মেরে বলেছিল, তুই এখানে বসে বসে মদিনাহর বাদশাহর স্বপ্ন দেখিস?  (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/৩৪২,৩৪৪)

 

মুখোমুখি

১ম দৃশ্যের দুটি প্রশ্ন এখনো আমাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রশ্ন দুটি নিয়ে আমরা মুখোমখি হলাম প্রখ্যাত হাদীস গবেষক ইবনে আব্দিল বার রহ. ও আর-রাহিকুল মাখতুম-এর গ্রন্থপ্রণেতা সফিউর রহমান মুবারকপুরীর কাছে।

১ম প্রশ্নটি ছিল, হুদায়বিয়ায় আল্লাহ তাআলা মুসলমানদের কোন্ বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? ইবনে আব্দুর বার রহ. বলেন, খায়বার বিজয়। (আদ- দুরার ফি ইখতিসারিল মাগাযী ওয়াস সিয়ার : ১/ ১৯৬)

২য় প্রশ্নটি ছিল, খায়বারে কী পরিমাণ সম্পদ মুসলমানগণ লাভ করেছিল? এ প্রশ্নের উত্তরে যাদুল মাআদ গ্রন্থের বরাত দিয়ে সফিউর রহমান মুবারকপুরী রহ. উল্লেখ করেছেন, সাহাবাগণ এ যুদ্ধে বিপুল পরিমাণে গনিমতের সম্পত্তি লাভ করেছিল এবং এ যুদ্ধের প্রাপ্ত সম্পদের বিনিময়ে মুহাজিরগণ আনসারদের ঐ সকল সম্পত্তি ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন যা তারা মক্কা ছেড়ে মদিনাতে হিজরত করার পরে লাভ করেছিল। (আর রাহিকুল মাখতুম : ১/৩৪৩)

যুদ্ধের অনুভূতি

খায়বার যুদ্ধের পর পর হাবশায় হিজরতকারী একদল সাহাবি জাফর ইবনে আবি তালিবের নেতৃত্বে মদিনায় আগমন করলেন। নবীজি তাদেরকে দেখে বলে উঠলেন, কোন্ বিষয় আমাকে বেশি আনন্দিত করেছে তা আমি জানি না;খা য়বার যুদ্ধ না জাফরের আগমন! (প্রাগুক্ত : ১/৩৪৪)

লেখক : তরুণ আলেম এবং লেখক

Tijarah-Shop

Facebook Comments