Category

আল্লামা তাকী উসমানী (হাফিঃ)

Category

৮১.  অনেক সময় আমরা দৈনন্দিন নফল আমলের তালিকা করে রাখি: অমুক সময়ে এত পারা তিলাওয়াত করবো, দিনের অমুক মুহূর্তটাতে এত রাকাত নফল নামাজ পড়বো, এই সময়টাতে ব্যস্ত থাকব রবের জিকিরে৷ এটা খুবই ভালো৷ মুমিনের থেকে এমন পরিপাটি জীবন কাম্য৷ তবে প্রকৃত মুমিন হবার জন্যে সময়ের চাহিদাও বুঝতে হবে৷ অকস্মাৎ কেউ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লো, কেউবা অতীব প্রয়োজনে আমার সান্নিধ্য কামনা করে বসলো তখন দীনের চাহিদা হলো ওই রোগাক্রান্তের শুশ্রুষাতে ব্যাপৃত হওয়া৷…

৭১. দীনের দিকে আসুন— এই বার্তা আজ মানুষের কাছে ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে৷ মানুষ ভাবছে দীনের দিকে ধাবিত হওয়া বুঝি দুনিয়াকে ছেড়ে দেয়া৷ আসলে আদৌ তা নয়৷ দীন এবং দুনিয়া উভয়কে আজ সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী প্রমাণ করা হচ্ছে৷ যার পরিণতিতে মানুষ দীনের দিকে অগ্রসর হতে উদ্যোগী হয়ে উঠছে না৷ অথচ দীন দুনিয়াকে বর্জন করতে বলে না৷ দীন বরং দুনিয়া অর্জনে উৎসাহিত করে; তবে পার্থক্য এতটুকু— সেই অর্জনটা যেন দীন অনুযায়ী হয়৷…

৬১. আমাদের এক দুর্ভাগ্যের কথা বলি— আমরা আজ মুসলমান কেবল মসজিদে৷ জামাতের সাথে পাঁচবার নামাজ আদায় করছি, রমজান এলে তোড়জোড়ের সাথে রোজা রাখছি, ঘটা করে জাকাত প্রদান করছি, হজ করছি ফি বছর৷ কিন্তু বাজারে আমরা মুসলমান নই; অফিসে পারছি না নিজের মুসলমানিত্ব জাহির করতে৷ করছি না পরিবারস্থ লোকেদের ক্ষেত্রেও৷ ফলে আমাদের ইসলাম পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না৷ আল্লাহ তা’লা যে আহ্বান করেছেন— “তোমরা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করো” সেই পরিপূর্ণরূপে প্রবেশটা হয়ে উঠছে…

রাসূলুল্লাহ সা. এক আজিব এরশাদ করেছেন। হযরত রাসূলে কারিম সা. বলেন, যখন তুমি মানুষের মধ্যে চারটি অবস্থা দেখবে তখন অন্য মানুষের ইসলাহর ফিকির বাদ দিয়ে নিজের ইসলাহর ফিকিরে অধিক মনযোগী হও। সেই চারটি বিষয় হলো এক, যখন দেখবে মানুষ আখেরাতের উপর দুনিয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছে। অর্থাৎ তার মাঝে আখেরাতের কোনো চিন্তা-ফিকির নেই। শুধুই দুনিয়ার অর্থ-বিত্তের ধান্দা। সেই অর্থ হালাল পথে আসুক বা হারাম পথে সেদিকে তার কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। ধোকা দিয়ে…

৫১. জ্ঞানার্জনের জন্যে আল্লাহ তা’লা মানুষকে যত মাধ্যম দান করেছেন তার একটি হলো— পঞ্চেন্দ্রিয়৷ চোখ, কান, নাক, জিহ্বা, স্পর্শানুভূতি— এগুলো একেকটি মাধ্যম৷ কোনো বস্তু দেখার মাধ্যমে, কোনো আওয়াজ শোনার মাধ্যমে, রসনা দ্বারা কোনো খাদ্যের স্বাদ আস্বাদনের মধ্য দিয়ে আবার কোনো বস্তু স্পর্শ করার সাহায্যে মানুষ সেইসব সম্পর্কে তথ্য লাভ করে৷ তার অজানাকে জানায় রূপান্তরিত করে৷ এগুলো তার একেকটি অবলম্বন৷ যা তাকে দান করেছেন তার মহান প্রতিপালক৷ ৫২. উল্লিখিত মাধ্যমগুলো আপন…

৪১, সফলতা নির্ভর করে ব্যক্তির ঈমান ও আমলের ওপর৷ ৪২, পার্থিব জীবনের সফলতাই ব্যক্তির সার্বিক সাফল্য নয়; প্রকৃত সফলতা লাভ করেছে সেই যে, পার্থিব ও অপার্থিব উভয় জীবনেই সফল হতে পারলো৷ ৪৩, আল্লাহতে বিশ্বাসী ব্যক্তি মাত্রেরই অাবশ্যিক কর্তব্য— রোজকার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ৷ ঈমান গ্রহণের পর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে এই নামাজের ব্যাপারে৷ একজন বিশ্বাসী ব্যক্তির প্রকৃত সফলতা অর্জনের মাধ্যম এই নামাজ৷ কারুর নামাজ যত বেশি আন্তরিকতায়…

৩১. একজন মানুষ, সে নিজের জন্যে ব্যয় করে, পরিবারের জন্যে ব্যয় করে আবার সে তার সম্পদ ব্যয় করে এমনও কারুর জন্যে যে নয় তার আত্মীয়৷ এই যাবতীয় ব্যয়ের সময় সেই মানুষটির উচিত আল্লাহ তা’লার সন্তুষ্টির নিয়ত করা৷ সাদাকাহ, দান, খায়রাত ইত্যকার ব্যয়ের সময় মানুষের সমুখে তো রবের সন্তোষ অর্জনের সদিচ্ছা থাকেই; উল্লিখিত সমুদয় ব্যয়ের সময়ও যদি তার সামনে রবের সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে যা ব্যয় করছে সে নিজের…

হাদিস শরিফে কোনো ওসিলা দিয়ে দুআ করার কথা বলা হয়েছে। ওসিলা দিয়ে দুআ করার একটি তরিকা হলো, নেক আমলের ওসিলা দিয়ে দুআ করা। তা এভাবে যে, হে আল্লাহ! আমার এই আমলের ওসিলায় আমার দুআ কবূল করুন। . ওসিলা দেওয়ার আরেকটি তরিকা হলো, আমার নিকট তেমন কোনো আমল নেই। তবে আমি বলছি, হে আল্লাহ! আপনার ওমুক প্রিয় বান্দাকে আমি মুহব্বত করি। সেই মুহাব্বতের ওসিলা দিয়ে আপনার নিকট দুআ করছি। এখন বলুন,…

বিষয়: আমলের রুহানিয়াত কাকে বলে? অনেক সময় আমরা মনে করি, এবাদত বা আমলের রুহানিয়াত হলো, অন্তরের মধ্যে এক বিশেষ কাইফিয়্যাত সৃষ্টি হওয়া। বিশেষ ভাব পয়দা হওয়া। এবাদতে স্বাদ ও লজ্জত অনুভূত হওয়া। , কিন্তু আমাদের হযরতওয়ালা ডা. আব্দুল হাই আরেফি রহ. বলতেন, এটা ভ্রান্ত ধারণা। এটা এবাদতের রুহ বা রুহানিয়্যাত নয়। > এবাদতের রুহানিয়্যাত ও প্রকৃত অবস্থা হলো আল্লাহর হুকুম রাসূল সা,এর সুন্নত তরিকায় পূরণ করা। বিষয়টা বোঝানোর জন্য হযরত…

আল্লাহর নিকট দুআ করার উত্তম তরিকা আল্লাহর নিকট দুআ করার রয়েছে এক উত্তম পদ্ধতি ও সুন্নত তরিকা। দুআর পূর্বমূহুর্তে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের একটি তরিকা হলো প্রথমে হামদ তথা আল্লাহর প্রশংসা করবে। এরপর যা চাওয়ার চাইবে। এক্ষেত্রেও রহস্য হয়তো এটা যে, যখন আমরা আমাদের কোনো প্রয়োজনের কথা আল্লাহকে বলি অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে রুজি দিন। সুস্থ করে দিন। এটা দিন, ওটা দিন। ঐ জিনিসটা আমার প্রয়োজন ইত্যাদি ইত্যাদি। এভাবে চাওয়ার মধ্যে,…

Pin It
error: Content is protected !!