আব্দুল্লাহ তালহা

শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান-৩

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

আল্লাহর নিকট দুআ করার উত্তম তরিকা

আল্লাহর নিকট দুআ করার রয়েছে এক উত্তম পদ্ধতি ও সুন্নত তরিকা। দুআর পূর্বমূহুর্তে আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের একটি তরিকা হলো প্রথমে হামদ তথা আল্লাহর প্রশংসা করবে। এরপর যা চাওয়ার চাইবে। এক্ষেত্রেও রহস্য হয়তো এটা যে, যখন আমরা আমাদের কোনো প্রয়োজনের কথা আল্লাহকে বলি অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে রুজি দিন। সুস্থ করে দিন। এটা দিন, ওটা দিন। ঐ জিনিসটা আমার প্রয়োজন ইত্যাদি ইত্যাদি।

এভাবে চাওয়ার মধ্যে, আমার মনে হয়, আল্লাহ হেফাজত করুন, কিছুটা অভিযোগের শ্লেষ আছে। কারণ, বান্দা যা কিছু বা যত কষ্টের কথাই আল্লাহকে বলুক, সেসব ছাড়াও সে আল্লাহর হাজারো নেয়ামতের মধ্যে ডুবে আছে। এসব নেয়ামতের দিকে লক্ষ্য করলে বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, আমাদের গোটা অস্তিত্ব আল্লাহর নেয়ামতের সাগরে ডুবে আছে। চোখ দেখুন, কান দেখুন, শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দেখুন। বা আল্লাহর দেয়া রিযিক দেখুন, সবই আল্লাহর নেয়ামত।

যখন দুআয় বলা হচ্ছে, আমাকে সুস্থতা দান করুন, আমাকে চাকরি দিন। তো এ যেন আল্লাহর দেয়া সকল নেয়ামতের প্রতি কিছু অভিযোগ। এমনটা অনুমান করা যায়।

পক্ষান্তরে দুআ তো অতি উত্তম বিষয়। কিন্তু অভিযোগ অত্যন্ত নিকৃষ্ট বিষয়। সুতরাং, আল্লাহর কাছে চাইতে থাক। খুব চাইতে থাক। কোনো সংকোচ করো না। আল্লাহর কাছে ছোটো বড় সব চাও। মনে করো না, এত ছোটো বিষয় কীভাবে আল্লাহ কাছে চাইব।

কিন্তু অভিযোগ করো না। অভিযোগ বড় মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহর তাকদীরের প্রতি শিকওয়া বা অভিযোগ বড় মারাত্মক অপরাধ। হে আল্লাহ! আমার এই হইছে, সেই হইছে, এইটা পাইলাম না, সেইটা হইল না। এসব বলা হলো শিকওয়া বা অভিযোগ।

তো.. আমি যা বলছিলাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা. দুআ করার যে তরিকা শিক্ষা দিয়েছেন তা হলো প্রথমে তাঁর প্রশংসা করো। হামদ পাঠ করো। যাতে অকৃতজ্ঞ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে যাও।

সুতরাং দুআর শুরুতে তাঁর প্রশংসা করো। তিনি যে নেয়ামত দান করেছেন তার তারিফ করো। এভাবে বলতে চেষ্টা করো যে, হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এতো এতো নেয়ামত দান করেছেন, যার কোনো হিসাব নাই। সেসবের প্রশংসা করে শেষ করতে পারব না। তবে আমি কমজোর ও দুর্বল বান্দা, আমার সুস্থতা দান করুন। আমাকে ঐ বস্তুটা দান করুন।

এটাই হলো বন্দেগি তথা দাসত্বের তরিকা। এজন্য আপনারা দেখবেন, রাসূল সা. অধিকাংশ দুআই শুরু করেছেন আল্লাহর প্রশংসা ও তারিফ দিয়ে। এরপর তিনি অন্যান্য বস্তুর কথা বলেছেন।

এজন্য দুআর শুরুতে আল্রাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করতে হবে। এরপর নিজের প্রয়োজনের কথা বলতে হবে। এটাই দুআর সুন্নতসম্মত তরিকা।

আরও পড়ুন…

শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান-২

শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান-১

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: