Category

নির্মল জীবন

Category

মুশতাক মুহাম্মদ আরমান খান নামে এক ব্যক্তি নিজেকে মাহদি দাবী করেছেন। মাহদি সংক্রান্ত হাদিসগুলোকে উদ্ভট গানিতিক ব্যখ্যার মাধ্যমে তিনি নিজের দাবী প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার দাবী অনুসারে ইতিমধ্যে তিনশোর বেশি লোক তার হাতে বাইয়াত দিয়েছে। মাহদি দাবিদারদের এই সিলসিলা নতুন নয়। হিজরী দ্বিতীয় শতাব্দী থেকেই একের পর এক মাহদি দাবিদারের আবির্ভাব ঘটেছে। ১১৬ হিজরীতে খলিফা হিশাম বিন আবদুল মালিকের শাসনামলে আল হারিস বিন সুরাইজ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে মাহদি…

রহমান! রবের এমন এক নাম, যা তিনি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁর বান্দাদের বলেছেন তাঁকে এই নামে ডাকতে। قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَٰنَ “বলুন, আল্লাহ বলে আহ্বান কর কিংবা রহমান বলে।”  [সুরা বনি ইসরাইল, ১১০] রহমান নামটি আল্লাহর নির্দিষ্ট বলে এই নাম তাঁর কোনও সৃষ্টির জন্য ব্যবহার বৈধ নয়। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, ‘রহমান এমন একটি নাম যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা নিজের নামকরণ করেছেন। সুতরাং মানুষের জন্য এই নাম…

উকবা ইবনু আমির (রাযি.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাদের উট চরানোর দায়িত্ব নিজেদের উপরে ছিল। আমার পালা এলে আমি উট চরিয়ে বিকেলে ফিরিয়ে নিয়ে এলাম। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পেলাম, তিনি দাঁড়িয়ে লোকদের সঙ্গে কথা বলছেন। তখন আমি তাঁর এ কথা শুনতে পেলাম, ‏ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ مُقْبِلٌ عَلَيْهِمَا بِقَلْبِهِ وَوَجْهِهِ إِلاَّ وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ “যে মুসলমান সুন্দর রুপে অযু করে তারপর…

(শায়খ আহমাদ মুসা জিবরিলের লেকচার সিরিজের অনুবাদ ‘ধূলিমলিন উপহার রমাদান’ অবলম্বনে) ১. রমাদানে বান্দার জন্য তিনটি সুযোগ আসে। সিয়াম, কিয়াম, কদর। বান্দা যদি এই তিনটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, এই তিন বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে রবের দিকে এগুতে পারে, তবে তার জন্য রয়েছে ক্ষমা পাওয়ার অকল্পনীয় সুযোগ। ২. আল্লাহর দিকে আমাকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি এগুলেই রব আমার কাছে আসবেন। যে পথ এখন মনে হচ্ছে অনেক দূরের, শীঘ্রই তিনি সেই পথ…

একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়, দৃশ্যমান জগতের আড়ালেও ভিন্ন জগত আছে। এই ভিন্ন জগতকে নিয়ে রচিত হয়েছে নানা মিথ ও কুসংস্কার। লেখা হয়েছে কল্পনা নির্ভর সাহিত্য। বিষয়টি সবার কাছে পরিচিত। অদৃশ্য জগতের মতই চোখের আড়ালেও চোখ আছে। যে চোখকে চোখ কখনো দেখে না। শুনতে অদ্ভুত শুনালেও কথাটি আমার নয়। কথাটি বলেছেন খালেদ বিন মাদান রহিমাহুল্লাহ। তিনি ছিলেন সিরিয়ার বিখ্যাত আলেমদের একজন। তিনি বলেন, আল্লাহ প্রত্যেক মানুষকে চারটি চোখ দান করেছেন।…

নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, مَن صَلَّى الصُّبحَ فِي جَمَاعَةٍ فَهُوَ فِي ذِمَّةِ اللَّهِ যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের সালাত আদায় করে, সে আল্লাহর নিরাপত্তায় থাকে। (মুসলিম, ৬৫৭) অর্থাৎ, ফজরের সালাত আদায়কারীর নিরাপত্তা, তত্ত্বাবধান ও জামানত সবই স্বয়ং আল্লাহর যিম্মায়। ফজরের সালাত আদায়কারীর জন্য এটি জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহপ্রদত্ত এক সুমহান নিরাপত্তা-ঘোষণা। আপনি যদি ফজরের সালাত আদায় করে থাকেন। তাহলে আপনি আল্লাহর নিরাপত্তায় আছেন। আপনি যদি ফজরের সালাত দায় করে…

আল-ওয়ালা ওয়াল-বারা ঠিক রাখতে হবে। অর্থাৎ বন্ধুত্ব ও শত্রুতা উভয়টিই আল্লাহর জন্য। মুমিনদের সাথে সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব থাকবে। আর কাফিরদের সাথে আন্তরিকতার সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে। কেননা, দ্বীনের শত্রুদের সাথে সম্পর্ক রাখলে ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে। আল্লাহ তাআলা বলেন, إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ নিঃসন্দেহ তোমাদের বন্ধু হচ্ছেন কেবলমাত্র আল্লাহ্ এবং তাঁর রসূল, আর যারা ঈমান এনেছে, আর যারা নামায কায়েম করে, আর…

গুনাহ হলো কালো পর্দার মতো। এই কালো পর্দা বান্দার সাথে আল্লাহর দূরত্ব তৈরী করে দেয়। এই কালো পর্দা না সরালে বান্দার সাথে আল্লাহর সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় না। গুনাহের এই পর্দা সরে তওবার মাধ্যমে। ইবনু কুদামা মাকদিসি রহিমাহুল্লাহ বলেন, তওবার জন্য তিনটি জিনিস দরকার। ইলম, অনুতপ্ততা, সংকল্প। এরপর তিনি এর কারণ ব্যখ্যা করেছেন এভাবে, গুনাহের কারণে সে আল্লাহ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে এই কথার ইলমই যদি বান্দার না থাকে, তাহলে সে…

শয়তানের প্রথম চক্রান্ত হলো, সে মানুষকে কুফর ও শিরকে লিপ্ত করতে চায়। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা শয়তানের এই চক্রান্ত সম্পর্কে বলেছেন, كَمَثَلِ الشَّيْطَانِ إِذْ قَالَ لِلْإِنسَانِ اكْفُرْ فَلَمَّا كَفَرَ قَالَ إِنِّي بَرِيءٌ مِّنكَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ ইহারা শয়তানের মত। সে মানুষকে বলে, কুফরি কর। অতঃপর যখন সে কুফরি করে তখন সে (শয়তান) বলে, তোমার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি জগতসমূহের প্রতিপালককে ভয় করি। (হাশর, ১৬) তবে শয়তান…

অন্তর পবিত্র রাখার জন্য চারটি অঙ্গ পবিত্র রাখা জরুরি। এই চারটি অঙ্গ হলো দরজার মত। এগুলো দিয়ে যদি নাপাকি প্রবেশ করে তাহলে অন্তর নাপাক হয়ে যাবে। এইজন্য এই চার প্রবেশপথের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে৷ অঙ্গ চারটি হলো-

১. দৃষ্টি

২. জবান

৩. কান

৪. মস্তিষ্ক

১। দৃষ্টি

নিম্নোক্ত তিন কাজ করলে দৃষ্টির মাধ্যমে অন্তর পাক হবে । নাপাক হবে না

  • দৃষ্টি নিচের দিকে রাখা৷
  • অন্যের সম্পদে দৃষ্টি না দেওয়া।
  • বেগানার দিকে তাকানো থেকে বেঁচে থাকা৷

২. জবান

  • কম কথা বলা।
  • অশ্লীল কথা পরিহার করা।
  • তিলাওয়াত করা।
  • যিকর ও দোয়াতে নিজেকে ব্যস্ত রাখা৷

৩. কান

  • গীবত না শোনা।
  • গানবাজনা শোনা পরিহার করা৷
  • অশ্লীল কথা শোনা থেকে বেঁচে থাকা।

৪. মস্তিষ্ক

  • গুনাহের কথা চিন্তা না করা
  • কারো ব্যাপারে নেতিবাচক ধারণা করা থেকে বিরত থাকা।
  • নেক কাজের পরিকল্পনা করা।
  • উম্মাহর চিন্তায় চিন্তিত হওয়া।

(মাওলানা সালমান সাহেবের ইসলাহী মজলিস থেকে চয়ন করা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আমলের তৌফিক দিক। আমিন)

Pin It
error: Content is protected !!