নির্মল জীবন-১০ | ইমরান রাইহান

নির্মল জীবন

রহমান!

রবের এমন এক নাম, যা তিনি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাঁর বান্দাদের বলেছেন তাঁকে এই নামে ডাকতে।

قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَٰنَ

“বলুন, আল্লাহ বলে আহ্বান কর কিংবা রহমান বলে।”  [সুরা বনি ইসরাইল, ১১০]

রহমান নামটি আল্লাহর নির্দিষ্ট বলে এই নাম তাঁর কোনও সৃষ্টির জন্য ব্যবহার বৈধ নয়। হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,

‘রহমান এমন একটি নাম যা দ্বারা আল্লাহ তাআলা নিজের নামকরণ করেছেন। সুতরাং মানুষের জন্য এই নাম ধারণ করা জায়েয নেই’। [তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/২২]

যা কিছু রবের নিজস্ব, অন্য কেউ তা ধারণ করতে চাইলে নিঃসন্দেহে আল্লাহ তাকে লাঞ্চিত করবেন। মুসাইলামাতুল কাযযাব ধৃষ্টতা দেখিয়েছিল। সে নিজের নাম রেখেছিল, রহমানুল ইয়ামামা বা ইয়ামামার রহমান। আল্লাহ তাঁকে লাঞ্চিত করেছেন চরমভাবে। ইবনু কাসিরের ভাষায়, ‘আল্লাহ তাঁকে মিথ্যার চাদর পরিয়ে দিয়েছেন। সে প্রসিদ্ধি পেয়েছে মুসাইলামাতুল কাযযাব নামে’।
[তাফসিরে ইবনে কাসির, ১/১২৬]

রহিম। রহমান নামের মতই আল্লাহর আরেক নাম। দুটি শব্দের উৎসমূল রহমাহ শব্দ থেকে। সাধারণভাবে দুই শব্দের অর্থ দয়ালু, দয়াবান হলেও সূক্ষ্ম এক তফাত তো থেকেই যায়।

আল্লাহ দুনিয়াতে তাঁর রহমান গুনটি প্রকাশ করেন। তাঁর এই রহমত এখানে বিস্তৃত সবার উপর। তাঁর রহমত থেকে বঞ্চিত হয়না কাফেরও। কাফের প্রতিনিয়ত আল্লাহর অবাধ্যতা করা সত্ত্বেও আমাদের রব তাঁকে পাকড়াও করেন না, তাৎক্ষণিক তাঁকে শাস্তি দেন না, তাঁকে ধূলিধূসরিত করেন না। বরং তাঁর রহমত প্রদর্শন করে তাঁকে সুযোগ দেন, অবকাশ দেন। তাঁর সামনে শুধরে যাওয়ার অজস্র পথ খুলে দেন। তাঁকে রিযিক দেন। মূলত এই কারণে আল্লাহ তাআলা নিজের এই নাম মুমিনের পাশাপাশি কাফেরের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন।

وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَٰنِ

তাঁরা রহমানকে অস্বীকার করে। [সূরা রাদ, ৩০]

অন্যদিকে রহিম এমন একটি নাম যা মুমিনের সবচে কঠিন সময়ের ভরসা। আল্লাহ তাআলা শুধু মুমিনের জন্যই এই গুণের প্রকাশ ঘটান। নিজের এই গুনের প্রকাশ আল্লাহ তাআলা ঘটাবেন হাশরের ময়দানে, চরম পরিণতির দিন। যখন দিগ্বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকবে বিশ্বের সকল লোক, কর্মফলের ভয়ে, শাস্তির ভয়ে যখন উদ্ভ্রান্ত লোক সকল, ঠিক সেদিন তিনি এই গুণবাচক নামটির প্রয়োগ দেখাবেন। উত্তপ্ত, বিশৃঙ্খল, ভয়ভয় পরিবেশে তিনি শুধু মুমিনদের দয়া করবেন। রহমতের চাদরে আবৃত করে নিবেন। ভুলত্রুটির ফায়সালা করে জান্নাতের দিকে এগিয়ে দেবেন। কাফেররা সেই দয়ার বিন্দুমাত্র অংশও পাবে না। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَكَانَ بِالْمُؤْمِنِينَ رَحِيمًا

তিনি মুমিনদের প্রতি পরম দয়ালু। [সুরা আহযাব ৩৩:৪৩]

এই আয়াতে বিল মুমিনিন শব্দটি রহিমের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সাধারণ নিয়ম অনুসারে এক্ষেত্রে বিল মুমিনিন শব্দটি রহিমের পরে আসার কথা। কিন্তু আল্লাহ তাআলা শব্দটিকে আগে এনেছেন। আরবী ব্যাকরণ অনুসারে এমনটি করা হয়, যখন শব্দকে কোনো কিছুর জন্য নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন হয়। ফলে এই আয়াতটি নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। যার অর্থ দাঁড়ায় আল্লাহ শুধু মুমিনদেরই দয়া করেন, অন্য কাউকে নয়। অর্থাৎ, আল্লাহর রহিম নামটি শুধু মুমিনের জন্য নির্দিষ্ট।

আল্লাহ আমাদের দুনিয়াতে প্রতিনিয়ত দয়া করে চলেছেন। দয়া করবেন আখিরাতেও। তবে তাঁর দুনিয়ার দয়ার তুলনায় আখিরাতের দয়া অনেক প্রশস্ত। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

‘আল্লাহর একশটি রহমত আছে, যার মধ্য হতে একটি মাত্র রহমত তিনি মানব-জ্বীন, পশু ও কীটপতঙ্গের মধ্যে অবতীর্ণ করেছেন। ঐ এক ভাগের কারণেই (সৃষ্টজীব) একে অপরকে মায়া করে, তার কারণেই একে অন্যকে দয়া করে এবং তার কারণেই হিংস্র জন্তুরা তাঁদের সন্তানকে মায়া করে থাকে। বাকি নিরানব্বইটি আল্লাহ আখিরাতের জন্য রেখে দিয়েছেন, যার দ্বারা তিনি কিয়ামতের দিন আপন বান্দাদের উপর রহম করবেন।’
[মুসলিম]

আল্লাহর রহমত সবকিছু বেষ্টন করে আছে। স্বীয় বান্দাদের তিনি অসীম দয়ায় ঘিরে রাখেন। বান্দাদের অপরাধের কারনে তাঁদের প্রতি ক্রোধান্বিত হন। কিন্তু তাঁর ক্রোধ থেকে তাঁর দয়া শক্তিশালী। আল্লাহ তাআলা নিজেই বলেছেন, আমার ক্রোধের উপর আমার রহমত বিজয়ী হয়েছে।
[বুখারি, ৭৫৫৩]

আল্লাহ দয়াবান জানা সত্ত্বেও আমাদের বিপদের সময় মনে নানা প্রশ্ন জাগে। যখন কোনও মুমিন অসুস্থ হয়, এবং তাঁর অসুস্থতা বেড়ে এমন অবস্থা হয় যেন সুস্থতার কোনো আভাস নেই। কিংবা যখন কোনও ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নানা চেষ্টা সত্ত্বেও সে সফলতা পায় না। তখন মনে সংশয় জাগে, এরাও কি রহমতপ্রাপ্ত?

বস্তুত রহমত হচ্ছে পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়া এবং নিজের দ্বীনকে নিরাপদ রেখে দুনিয়ার ফিতনাগুলো অতিক্রম করা। যে ব্যক্তি এই লক্ষ্য অর্জন করবে সে রহমতপ্রাপ্ত। তাই মুমিন দুনিয়াতে যেসব বিপদের মুখোমুখি হয়, সে তাতে ধৈর্য্যধারন করে। তাঁর মন থাকে প্রশান্ত। এটা তাঁর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। কারণ বান্দার কাছ থেকে রব ধৈর্য্য চায়। বান্দা যখনই ধৈর্য্য ধারণ করে রবের ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহ বান্দার সাথে থাকেন, তাঁর উপর রাজিখুশি হয়ে যান। এই কথাই আবদুল কাদের জিলানি (র) বলেছেন,

‘মুমিন যে বিপদের মুখোমুখিই হোক, তাঁর মনে দৃঢ়বিশ্বাস থাকে, আল্লাহ বিশেষ কোনো কল্যানে তাঁকে এই বিপদে ফেলেছেন। ফলে সে নিজের উপর আপতিত এই বিপদে ধৈর্য ধরে এবং আল্লাহর ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকে।’
[আল ফাতহুর রব্বানি, ৪৩]

আমাদের রবের রহমত বিস্তৃত। কখনো তিনি এক প্রজন্মের নেক কাজের জন্য তাঁর বংশধরদেরও দয়া করেন। মুসা আলাইহিস সালাম যখন হযরত খিযির আলাইহিস সালামের সাথে সফর করছিলেন তখন হযরত খিযির আলাইহিস সালাম দুই বালকের মালিকানায় থাকা একটি দেয়াল মেরামত করেছিলেন। কুরআনে এই ঘটনা আছে এইভাবে,

وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ

প্রাচীরটি ছিল নগরের দুজন পিতৃহীন বালকের। এর নীচে ছিল তাঁদের গুপ্তধন এবং তাঁদের পিতা ছিল সৎকর্ম পরায়ন। সুতরাং আপনার পালনকর্তা দায়বশতঃ ইচ্ছা করলেন যে, তাঁরা যৌবনে পদার্পন করুক এবং নিজেদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক। আমি নিজ মতে এটা করিনি। আপনি যে বিষয়ে ধৈর্য্যধারণ করতে অক্ষম হয়েছিলেন, এই হল তার ব্যাখ্যা।
[সুরা কাহফ ৮৮]

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা পূর্বপুরুষের নেক কাজের কারণে ইয়াতিম দুই বালককে দয়া করেছিলেন।

আমরা আমাদের রবের রহমতে বেষ্টিত আছি জীবনের প্রতিমুহুর্তে। এই নীল আকাশ, টকটকে লাল আভায় ঘেরা সূর্য, দখিনের জানালার বাতাস, ধূলোমাখা পথ, টলটলে নদী সবকিছুই রবের রহমতের বহিঃপ্রকাশ। সূর্যটা ঠিকমত আলো দিচ্ছে, পৃথিবীটা ঠিক আছে। কোনো মহামারী, দুর্যোগ আমাদের আক্রান্ত করেনি, ভূমিধ্বসে পুরো শহর হারিয়ে যায়নি। আমরা সুস্থ আছি, প্রানভরে উপভোগ করছি পৃথিবীর সৌন্দর্য। আমরা কি ভাবছি এসব এমনি এমনিই হয়? না। বরং এসবই তো রবের রহমত। এই যে আমরা শাহাদাত পাঠ করে মুসলমান হই, ওয়াক্ত অনুযায়ী সালাত আদায় করি, যাকাত দিই, হালালভাবে জীবিকা নির্বাহ করি, প্রয়োজন মেটাই, সিয়াম থেকে তৃপ্তি পাই, কাবার দিকে দৃষ্টিপাত করে অশ্রু বইয়ে দিই, এই যে আমরা রবের অনুগত থাকতে চাই, এর চেয়ে বড় রহমত আর কীইবা হতে পারে! অন্যদিকে এই আমরা যখন প্রতিনিয়ত অবাধ্যতা করে চলি, গুনাহর পাল্লা ভারী করি, ফিতনায় ভাসিয়ে দিই সমগ্র পৃথিবীকে। তা সত্ত্বেও তো রব আমাদের জন্য এখনো তওবার দরজা খোলা রেখেছেন, ফিরে আসার সুযোগ করে দিচ্ছেন, এটাই তো রহমত, আমাদের প্রতি রবের দয়া।

মানুষ মানেই যত পায়, তত চায়। আর এই চাওয়া যদি হয় রবের রহমত প্রাপ্তি, তবে কি মানুষের লোভ সহজে কমতে পারে? এই রহমত প্রাপ্তির জন্য এক নজরে দেখে আসা যাক কিছু সহজ আমল। যা করলে রবের রহমতপ্রাপ্তি আরো সহজ হবে আমাদের জন্য।

১। নফল সালাত আদায় করা। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি আসরের আগে চার রাকাত নফল আদায় করে আল্লাহ তাকে রহম করেন।” [আবু দাউদ, ১১৫৪, হাসান]

২। কোরআন তিলাওয়াত শোনা। আল্লাহ তাআলা বলেছেন,

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُواْ لَهُ وَأَنصِتُواْ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

আর যখন কোরআন পাঠ করা হয়, তখন তাতে কান লাগিয়ে রাখ এবং নিশ্চুপ থাক যাতে তোমাদের উপর রহমত হয়।
[সুরা আরাফ, আয়াত ২০৪]

৩। তাহাজ্জুদ আদায় করা এবং অন্যকে তাহাজ্জুদে জাগানো। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ ঐ ব্যক্তির উপর রহম করুন, যে রাতের বেলা ঘুম থেকে জেগে উঠে এবং তাহাজ্জুদ আদায় করে। সে নিজের স্ত্রীকে জাগিয়ে দেয়। সেও তাহাজ্জুদ আদায় করে। যদি সে গড়িমসি করে তাহলে স্বামী তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ রহম করুন ওই মহিলার উপরও যে রাতের বেলা ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে এবং স্বামীকে জাগিয়ে দেয়। সে উঠতে দ্বিধা করলে তার চেহারায় পানি ছিটিয়ে দেয়।”
[আবু দাউদ, ১১৮১, সহিহ]

৪। রোগী দেখে আসা। নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি অসুস্থকে দেখতে যায় সে আল্লাহর রহমতের ভেতর প্রবেশ করে।”
[আল আদাবুল মুফরাদ, ৫২২, সহিহ]

৫। মানুষকে দয়া করা। হাদিসে এসেছে, আল্লাহ দয়ালুদের উপর দয়া করেন। তোমরা যমিনে যারা আছে তাঁদের প্রতি দয়া কর, আসমানে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।
[তিরমিযি, সহিহ]

রবের এই গুন সম্পর্কে জানার পরে তাঁকে ভালোবাসা ছাড়া উপায় নেই। শাইখুল ইসলাম ইয বিন আবদিস সালাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রহমতের পরিচয় পেয়েছে সে আশাবাদী হয়ে উঠে।”
[শাজারাতুল মাআরিফ ওয়াল আহওয়াল, ৮৩]

হাম্মাদ ইবনু সালামাহ ছিলেন বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও আবেদ। তাঁর সম্পর্কে আহমাদ ইবনু হাম্বল বলেছিলেন, যদি কাউকে দেখো হাম্মাদ ইবনু সালামাহকে কটাক্ষ করছে তাহলে তারঁ ইসলাম সম্পর্কেই প্রশ্ন তোলো। আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ বলেছিলেন, আমি যখন বসরায় প্রবেশ করি, সেখানে হাম্মাদ ইবনু সালামাহকে পেলাম যিনি সাহাবায়ে কেরামের পথ অনুসরণ করে চলতেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ইবাদতগুজার। তার সম্পর্কে প্রসিদ্ধ ছিল, যদি হাম্মাদ ইবনু সালামাহকে বলা হয়, আপনি আগামিকাল মারা যাবেন, তবু তাঁর সুযোগ নেই নিজের প্রতিদিনের কাজের রুটিনে নতুন কিছু সংযুক্ত করবেন।

এই হাম্মাদ ইবনু সালামাহ একবার গেলেন সুফিয়ান সাউরির কাছে। সুফিয়ান সাউরি প্রশ্ন করলেন, আপনার কী মনে হয়? আল্লাহ কি আমার মত কাউকেও মাফ করবেন? হাম্মাদ ইবনু সালামাহ বললেন, আল্লাহর কসম। যদি আমাকে সুযোগ দেয়া হয়, আল্লাহর কাছে হিসাব দিতে কিংবা আমার পিতামাতার কাছে হিসাব দিতে। তাহলে আমি আল্লাহর কাছে হিসাব দেয়াকেই বেছে নিব। কারণ, আল্লাহ আমার প্রতি আমার পিতামাতার চেয়েও দয়ালু।

আসুন আমরা রহমানের দরবারে হাত তুলি। তাঁর কাছে তাঁর রহমত প্রার্থনা করি।
হে রহমান, আমার প্রতি দয়া করুন। আমাকে সরিয়ে নিন আপনার অবাধ্যতার পথ হতে। আমায় টেনে নিন আপনার কাছে, আমায় তাওফিক দিন আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের।

হে রহমান, আমাকে এমন দয়া করুন, যেন অন্য কারো দয়ার কোনো প্রয়োজন না হয়। আমাকে অমুখাপেক্ষী করুন সকলের দয়া হতে, আমাকে দান করুন আপনার অসীম রহমত।

হে রহমান, আমাকে দয়া করুন কবরে, আমাকে দয়া করুন হাশরে, আমাকে দয়া করুন সেই সময়ে যখন আপনি ছাড়া আর কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।

হে রহমান, আমরা গুনাহগার, অবাধ্য। তবুও আমাদের দয়া করুন। আপনার ভালোবাসা দান করুন। আমরা আপনার কাছে আপনাকেই চাই, আপনার সন্তুষ্টি চাই।

আল্লাহর রহমান গুন সম্পর্কে আমরা জেনেছি। যত জেনেছি তত ভালবেসে তাঁর রহমত পেতে মন উতলা হয়েছে। এই উতলা মনের শান্তির জন্য কী কী আমল করা প্রয়োজন, জেনেছি আমরা তাও।এবার নিজেকে যাচাইয়ের পালা। রবকে আরও কাছে পেতে, রবের আরও বেশী রহমত পেতে আমরা কতটা এগুচ্ছি তা নিয়ে ভাবার পালা। এবার আর হেলায় সময় কাটানোর সুযোগ নেই। দ্রুত ফুরিয়ে যায় সময়। অল্প কিছুটা সময়ের মাঝে রবের দয়া পেতে হবে আমাদের। যাচাই করতে হবে নিজেকে, প্রশ্ন করতে হবে শতবার।

১। আমার ক্রোধ কি আমার দয়ার কাছে পরাস্ত হয়? আমি ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রন করতে পারি তো?

২। আমি কি আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে সুধারণা রাখি ? আমি কি রহমতের আশা করি?

৩। আমি কি আসরের আগে চার রাকাত নফল আদায় করি?

৪। আমি কি মানুষের প্রতি দয়া করি?

নির্মল জীবন সব পর্ব একত্রে

Facebook Comments