Author

সংকলন টিম

Browsing

ইমাম আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল আশ শায়বানি (রাহিমাহুল্লা) জারির ইবন আব্দুল হামিদ, বিশিষ্ট একজন মুহাদ্দিস। শত শত হাদীসের শিক্ষার্থীরা তার কাছে বসে হাদীসের দারস নিচ্ছেন। ক্লাসের বাইরে দাড়িয়ে আছেন এক যুবক। অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারেননি। শুধু জারির ইবন আব্দুল হামিদের চেহাড়া দেখেই নিজের স্বাদ মেটাচ্ছেন। এই যুবকটিই ইমাম আহমাদ ইবন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)। আর্থিক সংকটে ক্লাস করতে পারছেন না। আহমাদ ইবন মুহাম্মাদ ইবন হাম্বল (রাহিমাহুল্লাহ)। পিতার নাম মুহাম্মাদ আর…

কাফেলা এখনো মাদীনা মুনাওয়ারা থেকে অনেক দূরে এমন সময় একজন ব্যক্তি উন্মাদের মতো আচরণ করতে লাগলেন। নেমে গেলেন সাওয়ারি থেকে। নগ্ন পায়ে দৌঁড়াতে লাগলেন সবুজ গম্বুজ পানে। পায়ের নিচে ছোটো ছোটো পাথর। পাথরের আঘাতে ক্ষত হলো পদদ্বয়। রক্তও বের হয়ে আসলো। কিন্তু ছুটে-চলা মানুষটির কোনো বিকার নেই। বগলে জুতাজোড়া নিয়ে তিনি প্রিয় নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রওজা আতহারের দিকে পাগলের মতো ছুটে চলেছেন। সঙ্গে থাকা দুয়েকজন সফরসঙ্গীও তাঁকে দেখে…

আব্দুল্লাহ ইববনুল মুবারক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। যুগশ্রেষ্ঠ যে-কজন তাবে-তাবেয়ী আছেন ইবনুল মুবারক তাদের অন্যতম। কুতুবে সিত্তার সকল কিতাবে তার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। একাধারে তিনি একজন ইমাম, একজন মুহাদ্দিস, একজন ফকিহ, একজন মুজাহিদ এবং একজন ব্যবসায়ী। মুমিনের জীবনে সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। সম্পদ অর্জন করেও যে সম্পদের মোহ থেকে মুক্ত থাকা যায়, তাঁর উদাহরণ ও প্রেরণা আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ.। মুমিন সম্পদ অর্জন করলেও সম্পদের মোহ সে অন্তরে ঢুকতে দিবে না।…

ইমাম আবু হামিদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আত তুসী আশ-শাফিয়ী আল-গাজালি। ইতিহাস যাকে ইমাম গাজালি নামে চিনে৷ গাজালি বলা হয় তাঁর জন্মস্থান গাজালার দিকে নিসবত করে৷ অনেকে তাঁকে ইমাম গাজ্জালিও বলে থাকেন৷ এই নিসবত করা হয় তাঁর পিতার পেশার প্রতি লক্ষ্য করে৷ উভয় নিসবতই সহিহ। ছিলেন ইসলামি ইতিহাসের সেই বিরলপ্রজ আলিমগণের একজন যারা পৃথিবীময় নিজেদের জ্ঞানের অবদান রেখে গেছেন৷ ইলমি পাণ্ডিত্য এবং চিন্তার গভীরতা ও শুদ্ধতায় উম্মাহকে করে…

একজন অপরিচিত সাহাবী।কিন্তু তার মাকাম এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের স্থানে। তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ ক্ষমার ঘোষণা প্রাপ্ত বদরী একজন সাহাবী। হযরত উসমান ইবনে মাজউনের ভাই। এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা রাঃ এর আপন মামা। হিজরত পূর্ব ৩২ শনে তার জন্ম। মিনাসসাবিক্বিনাল আওওয়ালীন বা প্রথম তবকায় যারা ইসলামের সুশীতল ছায়ার পরশে ধন্য হয়েছিলেন, তিনিও তাদের একজন। হাবাশা ও ইয়াসরিব দুই মোবরক হিজরতের দুটিতেই তিনি শরীক। ৬৩৭ খ্রীস্টাব্দে তার ব্যাপারে…

ঘুমাতে পারছেন না হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। চেষ্টা করছেন জেগে থাকতে, কারণ ঘুম এখন তার কাছে আতংকের অপর নাম। কিন্তু কতক্ষণ থাকা যায় না ঘুমিয়ে। ক্লান্তিতে চোখে নেমে আসে ঘুম। আর চোখ বুজলেই তিনি স্বপ্নে দেখেন, তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন সাঈদ ইবনু জুবাইর। জিজ্ঞেস করছেন, আমাকে হত্যা করেছ কেন? তীব্র আতংক নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। চিৎকার করে বলতে থাকেন, হায়, সাঈদ ইবনু জুবাইরের সাথে আমার কী সম্পর্ক?…

মদীনা। ৬৫ হিজরী। হজ্বের সফরে এসেছেন খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান। একদিন দুপুরে মসজিদে নববীর পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। বাইরে প্রখর রোদ। উত্তপ্ত হয়ে গেছে পথঘাট। খলিফার চোখে ঘুম নেমে এলো। এ সময় মসজিদে নববীতে হৈচৈ শুরু হলে খলিফার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ‘দেখো তো মসজিদে নতুন কোনো মুহাদ্দিস এসেছে কিনা?’ খলিফা একজন প্রহরীকে পাঠালেন মসজিদে কী হচ্ছে দেখে আসার জন্য। প্রহরী মসজিদে এসে দেখলো একজন আলেম বসে তার ছাত্রদের দরস…

চলুন আমরা ৯৩ হিজরির জিল হজ্জের শেষ দশক থেকে একটু ঘুরে আসি… এই তো পৃথিবীর নানান প্রান্ত হতে আগত আল্লাহ প্রেমি তাওহিদী জনতায় তরঙ্গময় হয়ে উঠেছে বাইতুল্লাহ। কেউ এসেছে পায়ে হেটে, কেউবা আবার ঘোড়ায় চড়ে। নানা রঙ্গের, নানান দেশের, আরবি আর আজমি, রাজা আর প্রজা সহ সকল আবালবৃদ্ধবনিতার এক মহা সমাবেশ। অনেক স্বপ্ন, অনেক চাওয়া নিয়ে আপন রব্বের কাছে ছুটে এসেছে সবাই। হৃদয়ে আল্লাহর ভয়, মুখে মুখে কলরবিত প্রাণবন্ত তালবিয়া।…

আবু হানিফা রহ.বলেছেন, ‘সালিম (আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রা.এর পুত্র) এর চেয়েও ইবরাহিম অধিক প্রাজ্ঞ। যদি সাহাবি হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব না থাকত, তবে আমি বলতাম ইবনু ওমর রা.এর চেয়েও ইবরাহিম অধিক প্রাজ্ঞ।’ (১) অনুবাদ করছিলাম। হঠাৎ এই লাইনগুলো লিখে চমকে যাই। ভাবতে থাকি কে এই ইবরাহিম, যার সম্পর্কে ইমামে আজম আবু হানিফা রহ. এত বড় মন্তব্য করলেন! চলুন জেনে নেই কে এই ইবরাহিম আর তাঁর সম্পর্কে ইমাম আজমের এমন মন্তব্যের কী রহস্য?…

চলছে বনু উমাইয়ার শাসনকাল। খেলাফতের মসনদে আসীন আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান। প্রতিদ্বন্দ্বী রোমের সম্রাটের কাছে এক দূতকে পাঠালেন তিনি। জরুরী বার্তা নিয়ে। এই দূতই আমাদের গল্পের নায়ক। তিনি কোনো সাধারণ ব্যক্তি নন। একজন বর্ষীয়ান আলেম। সাধারণত দূতেরা কোথাও গিয়ে বেশীদিন অবস্থান করতেন না। কিন্তু সে যাত্রায় রোমে তাঁর অবস্থান দীর্ঘায়ত হয়। অবশেষে ফেরার পালা আসে যখন, তখন রোম সম্রাট সেই দূতকে লক্ষ্য করে বলেন, আপনি কি রাজবংশের কেউ? দূত উত্তর…

Pin It
error: Content is protected !!