সংকলন
আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান
আব্দুল্লাহ তালহা আল্লামা তাকী উসমানী (হাফিঃ) নাসীহা লেখক

শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান-১

চিকিৎসার আগে এই আমলগুলো করুন

রাসূলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন তোমার জুতার ফিতা ছিড়ে যায় তখন সেটাও আল্লাহর কাছে চাও। স্বাভাবিকভাবে তো আমরা জুতার ফিতা ছিড়ে গেলে, মুচির কাছে যাই। কিন্তু তার কাছে যাওয়ার আগে আল্লাহর কাছে জুতার ফিতা চাওয়াও সুন্নত।
.
এর কারণ হলো মানুষ সাধারণত আসবাব-উপকরণের উপর ভরসা করে। কিন্তু এটা কি নিশ্চিত যে, মুচি পাওয়া যাবে? আবার মুচি রাজি হবে কি না- সেটাও তো নিশ্চিত নয়।
আবার এও তো আমি জানি না যে, সে যে পারিশ্রমিক চাবে আমি দিতে পারব কি না!
এইসবই তো আসবাব।

কিন্তু আসল শক্তি-সামর্থ্য তো একজন মহান সত্বার হাতে। তিনি রাব্বুল আলামীন। তাঁর ইচ্ছাতেই সব হয়।
এজন্য যে কোনো আসবাব গ্রহনের পূর্বে তাঁর কাছে তাওফিক চাইতে হবে।
.
জুতার ফিতা আল্লাহর কাছে চাও- একথা বলে রাসূল সা, অতি সাধারণ একটি উদাহরণ দিয়েছেন। এর দ্বারা হুজুর বোঝাতে চেয়েছেন, জীবনের ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্র প্রয়োজনের কথাও আল্লাহর কাছে বলো।
.
> আপনারা তো আমার চেয়ে ভালো জানেন যে, মানুষ যে পথ্য গ্রহণ করে, যে চিকিৎসা নেয় তা দ্বারা কিছু মানুষ তো সুস্থ হয়ে যায়, কিন্তু একই ওষুধ- একই চিকিৎসা আরেকজন গ্রহণ করছে, তবু সে সুস্থ হচ্ছে না। এটা তো স্বচোক্ষে দেখা বিষয়।
.
এজন্য যে কোনো প্রতিকুল পরিস্থিতিতে আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া, তাঁর সাহায্য চাওয়া। এটাই সবচেয়ে বড় ও নেহায়েত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ‍

আমাদের একজন মুহসিন ডাক্তার ছিলেন। নাম খলিল আহমাদ হাশেমি। তিনি লাহোরের একটি হাসপাতালের ডাক্তার ছিলেন। তিনি যেই হাসপাতালে ছিলেন সেখানে বড় ডাক্তার ছিলেন। আমার পিতার বিশিষ্ট্য চিকিৎসক করতেন।
সেই ডাক্তার সাহেব মাঝে মাঝে আমাদেরকে বলতেন, ‘আমি সারা জীবনে একটি বিষয় দেখেছি। ওষুধ যেন গলার মধ্যে ঢুকে কোনো একজনকে জিজ্ঞেস করে, এখন আমি কী করব? কাজ করব কি না? যখন তিনি ওষুধকে অনুমতি দেন তখন ওষুধ কাজ করে। ওখান থেকে নিষেধ করা হলে ওষুধ কাজ করে না।

একবার এমন ঘটনাও ঘটেছে, এক রোগী সম্পর্কে আমরা সবাই নিশ্চিত ধারণা করেছি যে, সে মারা যাবে। এই চিন্তা করে রাতে তার থেকে বিদায় নিয়ে চলে এসেছি।

আরেকজন রোগী, যার ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত হয়ে গেছি যে, সে ভালো হয়ে যাবে। ওয়ার্ডের সিস্টার আর বয়দের বলে দিয়েছি, তার ঘরে বলে দিবে, সকালে এসে যেন নিয়ে যায়।

কিন্তু সকালে গিয়ে দেখলাম, উল্টো চিত্র। যে রোগী মারা যাবে বলে আমাদের নিশ্চিত ধারণা ছিল সেই বেঁচে আছে। আর আজ যে রোগীটাকে রিলিজ দেয়ার কথা বলেছিলাম সে মারা গেছে।’

তো, সুস্থতা-অসুস্থতার মালিক আল্লাহ। চিকিৎসা গ্রহণের পূর্বে
তাঁর কাছে সাহায্য চেয়ে নিন।
.
তো এ কথাটিই বলতে চাচ্ছি আমি। সবকিছু একমাত্র আল্লাহর কুদরতি হস্তে। পুরা দ্বীনের খোলাসা এবং আল্লাহর সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলার যে পথ তা হলো দু‘টি বিষয়।

১/ আল্লাহর নেয়ামতের শোকর আদায় করা।

২/ সকাল প্রয়োজন আল্লাহর নিকট চাওয়ার ধারাবাহিকতা।

অর্থাৎ, যখনই কোনো বস্তু আল্লাহর নিকট থেকে মিলে যাবে তখন শোকর আদায় করুন। আর যখন কোনো জিনিস আপনার প্রয়োজন তখন তাঁর কাছে প্রার্থনা করুন। দুআ করুন।
.
এ দুটো গুণ যখন বান্দার হাসিল হয়ে যায় তখন সর্বদা তার দিলটা আল্লাহর সাথে জুড়ে থাকে। তখন সবসময় তার সম্পর্ক আল্লাহ সাথে মজবুত থাকে।

চলবে…

শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান-২

শায়খুল ইসলাম আল্লামা তাকী উসমানী হাফিঃ এর নির্বাচিত বয়ান-৩

Facebook Comments

Related posts

নির্মল জীবন-৩ | ইমরান রাইহান

সংকলন টিম

দোয়া : কুরআনের কিছু নির্দেশনা | মাহমুদ সিদ্দিকী

সংকলন টিম

সুবাস জড়ানো অলিন্দে-৪ | আহমাদ সাব্বির

সংকলন টিম

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: