বাংলাভাষায় রচিত ও অনূদিত সিরাতগ্রন্থ : পরিচিতি ও পর্যালোচনা | মাহদি হাসান

বাংলা-ভাষায়-রচিত-সিরাত

রাসুলে আরাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমাদের প্রিয়নবী। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে আমাদের জন্য বানিয়েছেন উসওয়াতুন হাসানাহ তথা উত্তম আদর্শ। ‘নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের অধিকারী’ বলে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর উত্তম চরিত্রের। শৈশব থেকে নিয়ে রফীকে আলার সান্নিধ্যে গমনের আগ পর্যন্ত তাঁর পুরো জীবনচরিতই আমাদের জন্য অনুসরণীয়। তাই তাঁর ইন্তেকালের পর থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত বহু ভাষায়, বহু লেখকের হাতে হয়েছে তাঁর মহান জীবনের চর্চা। যার শুরু হয়েছে আরবি ভাষায়। মুসলিমদের হাতে। এরপর এই চর্চা ছড়িয়েছে অনারব ভাষায়।

অমুসলিমরাও বঞ্চিত হয়নি তাঁর জীবন চর্চার স্বাদ থেকে। তাই তো মাইকেল এইচ হার্টের মতো অমুসলিম ব্যক্তিও তাঁকে রেখেছেন বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানুষদের তালিকার শীর্ষে। প্রিয় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের এই চর্চাকেই বলা হয় সিরাত। সিরাত শব্দের শাব্দিক অর্থ হলো চলার পথ। পবিত্র কুরআনে সুরা তোয়াহার একুশ নং আয়াতে সিরাত শব্দটি একবার এসেছে। ব্যবহৃত হয়েছে চলার পথ অর্থে। বস্তুত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পুরো জীবনই আমাদের চলার পথের পাথেয়। বিশ্বের প্রায় সকল ভাষায় হয়েছে তাঁর জীবন চর্চা। ভবিষ্যতেও যত ভাষা আবিস্কৃত হবে তা সিরাত চর্চার পরশে হবে ধন্য। আমরা যে ভাষায় কথা বলি তথা বাংলা ভাষাও বঞ্চিত নয় সিরাত চর্চার সান্নিধ্য হতে।

বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা কবে থেকে শুরু হয়েছে তা সন তারিখ ঠিক করে বলা অবশ্যই দুরূহ ব্যাপার।  তবে একথা বলা যায় যে, ইসলামের দ্বিতীয় খলীফা আমিরুল মুমিনীন ওমর (রা.)-এর খিলাফতকালে যখন এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার শুরু হয় তখন থেকেই মৌখিকভাবে সিরাত চর্চার শুরু। তবে লিখিতভাবে সিরাত চর্চা শুরু হয় কবিতার হাত ধরে। বাংলা গদ্যের ইতিহাস খুব বেশী পুরনো নয়, মাত্র দুশো বছরের বেশি সময়ের। কিন্তু বাংলা পদ্যের ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি সময়ের। সেই চতুর্দশ শতাব্দীর ‘ইউসুফ জুলেখা’র কবি শাহ মুহম্মদ সগীর থেকে শুরু করে একবিংশ শতাব্দীর এই প্রারম্ভ পর্যন্ত যত বাঙালি কবি জন্মগ্রহণ করেছেন এবং কাব্য রচনা করেছেন তাদের  প্রায় সবাই  কোন না কোনভাবে রাসুল প্রশস্তি করেছেন, গদ্য সাহিত্যের ক্ষেত্রে ঐ একই কথা প্রযোজ্য।

চতুর্দশ শতাব্দীর শাহ মুহাম্মাদ সগীর, ষোড়শ শতাব্দীর গৌড়ের সুলতান ইউসুফের দরবারের কবি জৈনুদ্দিন, শাহ বিরিদ খান এবং সৈয়দ সুলতান প্রমুখ ছিলেন এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নাম। তাদের পর আরও অনেকের কবিতায় উঠে এসেছে রাসুলের কথা, তাঁর প্রশস্তি এবং জীবনের শিক্ষনীয় দিক। নিকট অতীতে কাজি নজরুল ইসলাম, মুহাম্মাদ শাহাদাৎ হোসেন , গোলাম মুস্তফা এবং ফররুখ আহমাদের কবিতায় আমরা রাসুল প্রশস্তি দেখেছি। এছাড়া আরও অনেক কবিই তাদের কবিতায় বলেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা।

বাংলা গদ্য সাহিত্যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে প্রথম গ্রন্থ রচনা করেন শেখ আব্দুর রহীম (জ. ১৮৫৯ খ্রি-মৃ.১৯৩১খ্রি.)। গ্রন্থটির নাম হযরত মুহম্মদের (স.) জীবন চরিত ও ধর্মনীতি ১৮৮৭ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত ৪০৪ পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটির ভূমিকায় বলা হয়েছে,  ‘ইহাতে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের অবস্থা বিশদরূপে বিবৃত করিতে প্রয়াস পাইয়াছি। হিজরীর প্রথম অব্দ হইতে প্রত্যেক বৎসরের ঘটনাবলী একেকটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে নিয়মিতরূপে লিখিয়াছি। প্রত্যেক সম্বন্ধে কুরআন শরীফের যে যে আয়াত অবতীর্ণ (নাজেল) হইয়াছিল, তাহার প্রকৃত অনুবাদ যথাস্থানে সন্নিবেশিত করিয়াছি, … হযরত মুহাম্মদ তরবারী বলে ইসলাম প্রচার করিয়াছেন বলিয়া ভিন্ন ধর্মাবলম্বীগণ  যে তাহার নামে বৃথা দোষারোপ করিয়া থাকেন এই পুস্তক পাঠ করিলে সে ভ্রম বিদূরিত হইবে।’

এরপর ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে সিলেট থেকে নগরী হরফে মুন্সী বুরহান উল্লা ওরফে চেরাগ আলী রচিত ‘হায়াতুন্নবী’, কুষ্টিয়া থেকে ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে আব্দুল আজিজ খান (জ. ১৮৬৮খ্রি-মৃ. ১৯০৩ খ্রি.) রচিত ‘সংক্ষেপ্ত মুহম্মদ চরিত; যশোর থেকে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে ডা. সুফী ময়েজউদ্দীন আহমদ  (মধুমিয়া) রচিত ‘ত্রিত্বনাশক ও বাইবেলে মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’, শান্তিপুর, নদীয়া থেকে ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে মোজাম্মেল হক রচিত ‘হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’, যশোর থেকে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে মুনসী মহম্মদ মেহেরউল্লা’র প্রকাশনায় শেখ ফজলল করিম (জ. ১৮৮২ খ্রি.-মৃ. ১৯৩৬ খ্রি.) রচিত ‘হযরত পয়গম্বরের জীবনী’ (নবীজীর যুদ্ধাবলী), কলকাতা থেকে ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ডা. সৈয়দ আবুল হোসেন (জ.১৮৬২খ্রি.-মৃ. ১৯২৯ খ্রি.) রচিত ‘মোসলেম পতাকা; হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী’, ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে শেখ মোহাম্মদ জমীর উদ্দীন (জ.১৮৭০খ্রি.-মৃ. ১৯৩০ খ্রি.) রচিত ‘মাসুম মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’, ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে সারা তায়ফুর রচিত ‘স্বর্গের জ্যোতি’, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে এয়াকুব আলী চৌধুরী রচিত ‘নূরনবী’ ও ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ‘মানব মুকুট’, ‘১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে মোবিনুদ্দীন আহমদ জাহাগীর নগরী রচিত ‘নবীশ্রেষ্ঠ’, ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘মরু ভাস্কর’, ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে চুঁচুড়া থেকে কবি গোলাম মোস্তফা রচিত ‘বিশ্বনবী’, ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী রচিত ‘ছোটদের হযরত মোহাম্মদ’, ঐ ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে খান বাহাদুর আবদুর রহমান খাঁ রচিত ‘শেষ নবী’, ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে মাওলানা আবদুল খালেক রচিত ‘ছাইয়েদুল মুরছালীন (দু’খন্ড)’, ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ রচিত ‘নবী গৃহ সংবাদ’ ও ১৯৬৩ ‘নয়াজাতি স্রষ্টা হযরত মুহাম্মদ’, ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ঢাকা থেকে শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ তফাজ্জল হোসাইন রচিত ‘হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমকালীন পরিবেশ ও জীবন’ ছাড়াও কয়েকটি সম্পাদিত সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়।

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে অধ্যাপক আবদুল গফুর সম্পাদিত ‘শাশ্বত নবী’, ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে হাসান আবদুল কাইয়ূম সম্পাদিত ‘অনুপম আদর্শ’, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে ইসলামী বিশ্বকোষ সম্পাদনা পরিষদ কর্তৃক সম্পাদিত ‘হযরত রসূল করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জীবন ও শিক্ষা’, ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে ইসলামি একাডেমি থেকে ইশারফ হোসেনের সম্পাদনায় ‘মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্মরণে নিবেদিত কবিতা’, ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে প্রীতি প্রকাশন, ঢাকা থেকে আসাদ বিন হাফিজ ও মুকুল চৌধুরীর যৌথ সম্পাদনায় ‘রাসূলের শানে কবিতা’, শিরোনামের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ সংকলনগুলো প্রকাশিত হয়েছে। (১)

নিকট অতীতে ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয়েছে সৈয়দ আলি আহসান (জ. ১৯২০ মৃ. ২০০২) রচিত ‘মহানবী’। সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জন্য কবি আল মাহমুদ রচিত ‘মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম’ ও কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা রচিত ‘মহানবী’ গ্রন্থ দু’টি অনবদ্য হয়েছে। অবশ্য ২০০২ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত কবি আব্দুল মান্নান সৈয়দ রচিত ‘বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও এক অনন্য কিশোর’ জীবনীগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।

উল্লেখ্য যে, রচিত এ সকল গ্রন্থগুলোর মধ্য আলেমগণের রচনা ছিল খুবই অপ্রতুল। উপরে মাত্র দু জন আলেম রচিত সিরাত গ্রন্থ আমরা দেখতে পেয়েছি। এরপর আলেমগণের মাঝে সিরাত নিয়ে মৌলিক গ্রন্থ রচনার প্রয়াস যেন ক্রমেই কমে গিয়েছে। তবে অতি সাম্প্রতিক সময়ে মুফতি তারেকুজ্জামান এ শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসে রচনা করেছেন ‘উসওয়াতুন হাসানাহ’ নামের এক অনবদ্য সিরাতগ্রন্থ। আরেক আলেম সালাহুদ্দিন জাহাঙ্গীর চমৎকার গদ্যে লিখেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈবাহিক জীবনের আখ্যান ‘প্রিয়তমা’। এছাড়াও রেইনড্রপস থেকে সাবলীল গদ্যে প্রকাশিত ‘সীরাহ’ গ্রন্থটিও পাঠকের মাঝে বিপুল সাড়া পেয়েছে। এই ছিল বাংলা ভাষায় রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী নিয়ে রচিত মৌলিক গ্রন্থাবলীর সংক্ষিপ্ত ধারাবিবরণী। এগুলো থেকে উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থ সম্পর্কে পর্যালোচনা করা যাক এবার।

স্বর্গের জ্যোতি

গ্রন্থটির লেখিকা বেগম সারা তায়ফুর (জ. ১৮৯৩)। পুরো নাম হুরায়ুন্নিসা সারা খাতুন। বাংলা সাহিত্যে প্রথম জীবনী লেখিকা সারা তায়ফুর-এর ‘স্বর্গের জ্যোতি’ গ্রন্থটি ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। অবশ্য ১৩৭১ বাংলা সনে বাংলা একাডেমি, ঢাকা এর একটি সংস্করণ প্রকাশ করে।
কাব্যিক গদ্যে রচিত এ গ্রন্থের ভাষা সাবলীল। লেখিকা অত্যন্ত  দরদ দিয়ে গ্রন্থটি রচনা করেছেন। উল্লেখ্য যে, এ গ্রন্থ প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চিঠি দিয়ে লেখিকাকে অভিনন্দিত করেছিলেন।

নূরনবী

আজ পর্যন্ত বাংলা ভাষায় এয়াকুব আলী চৌধুরী রচিত ‘নূরনবী’র তুল্য ছোটদের জন্য তেমন কোন গ্রন্থ রচিত হয়নি। সাবলীল ভাষায় রচিত গ্রন্থটি যে কোন বয়সী পাঠককে আকর্ষণ করতে সক্ষম। গ্রন্থটি শুরু হয়েছে এভাবে-
‘‘সে অনেক দিনের কথা। তেরশ’ কি তারও আগে,
সেই সাত সমুদ্র পার, তের নদীর ধার, সেই
সোনার হীরার গাছ, আর মুক্ত মনির ফুল-
সবাই তখন ভুল।
তখন না ছিল ফুলে ফুলে পরীর মেলা, আর না ছিল সব দেশে দেশে ‘রাজপুত্রের খেলা।’’
এমনি প্রাণকাড়া ভাষা দিয়ে পুরো বইটি রচনা করা হয়েছে। ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এর একটি সংস্করণ  প্রকাশ করেছে।

মানব মুকুট

মহাপুরুষেরও শৈশব আছে, মানব শিশুর স্বাভাবিক সোহাগ-বিরাগ ও মান-অভিমান তাহারও জীবনে লালায়িত হয়। শৈশব স্মৃতির পুষ্প পরশে তাহার ও প্রাণের কোমল পর্দায় ঝঙ্কার উঠে’ (পৃ: ৩০)।
এয়াকুব আলী চৌধুরীর লেখার ভঙ্গিই আলাদা। তাঁর ভাষা যেন বহতা নদীর মত তর তর করে বয়েই চলে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবন কেন্দ্রিক ৭টি প্রবন্ধ নিয়ে এ গ্রন্থ। লেখক দেখিয়েছেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুধুমাত্র একজন নবীই নন—তিনি মানবতার মুক্তির দিশারী হিসেবে পথ প্রদর্শক হিসেবে এসেছিলেন।

নবী শ্রেষ্ঠ

ঢাকা জেলার অধিবাসী মোবিনুদ্দীন আহমদ জাঁহাগীর নগরী রচিত ‘নবী শ্রেষ্ঠ’ গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যে একটি অমূল্য সংযোজন। গ্রন্থটির ১৪টি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম থেকে  ত্রয়োদশ অধ্যায় পর্যন্ত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিশদ বর্ণনা করা হয়েছে। চতুর্দশ অধ্যায়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চারিত্রিক গুণাবলী তুলে ধরা হয়েছে, সাথে  সাথে গ্রন্থটি সম্পর্কে সমালোচকদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। সে সময়কার একজন নামকরা সমালোচক শ্রীযুক্ত বাবু গিরিশ চন্দ্র নাগ লিখেছিলেন, ‘‘আমি মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করিতেছি, আপনার গ্রন্থ পাঠে হযরত মুহম্মদের চরিত্র ও শিক্ষা দীক্ষার প্রতি সহস্র গুণে অধিকতর শ্রদ্ধাবান হইয়াছি।’’

মোস্তফা চরিত

মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ গ্রন্থটি সম্বন্ধে নিজেই লিখেছেন—‘এই অসাধ্য সাধন করিতে আমাকে মাসের পর মাস, বৎসরের পর বৎসর ধরিয়া অবিরাম নিভৃত সাধনায় সমাহিত থাকিতে হইয়াছে। আমার এ সাধনা কতটুকু সিদ্ধি লাভ করিয়াছে, বিজ্ঞ পাঠক তাহার বিচার করিবেন। এই ব্যাপারে আমাকে ইতিহাস, জীবনী, তাফসীর, হাদীস ও তাহার ভাষা প্রভৃতি হযরতের জীবনী সংক্রান্ত উল্লেখযোগ্য অধিকাংশ গ্রন্থ অধ্যয়ন ও আলোচনা করিতে হইয়াছে।’
মুহাম্মদী বুক এজেন্সী, কলকাতা থেকে ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ‘মোস্তফা চরিত’ প্রকাশিত হয়।

পন্ডিত আকরাম খাঁ তাঁর জ্ঞান বুদ্ধি দিয়ে তুলনামূলক বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর চরিত্রকে পাঠকের সামনে তুলে ধরতে চেষ্টা করেছেন। গ্রন্থটি সম্বন্ধে শাহাবুদ্দীন আহমদ লিখেছেন—

‘বাস্তবিকই প্রায় ন’শ পৃষ্ঠার ‘মোস্তফা চরিত’-এর প্রায় তিনভাগের একভাগ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনী সম্পর্কিত আলোচনায় বিতর্কিক। ২২৩ পৃষ্ঠা জুড়ে তিনি যে রসূল চরিত্রের মহিমা প্রদর্শনের পটভূমি রচনা করে তাঁর সমীক্ষাধর্মী মনীষার পরিচয় দিয়েছেন, জীবনী রচনায় তা তুলনারহিত। এতে শুধু হাদীসের সত্যাসত্য নিরূপণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সমগ্র ইসলামের আবির্ভাবের কারণের মধ্যে এই সমীক্ষা নিপুণ শিল্পীর সৃষ্ট পোট্রেটের বা ল্যান্ড স্কেপের সৌন্দর্যে বিকশিত হয়েছে। এই বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনায় আকরম খাঁ যে মেধা, পরিশ্রম ও মনীষার পরিচয় দিয়েছেন তা অক্লান্ত সাধনার অধ্যবসায়ের ফল।’’
‘মোস্তফা চরিতের বৈশিষ্ট্য’ নামে মাওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর আরও একটি গ্রন্থ ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে ঐ মহম্মদী বুক এজেন্সী, কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

মরু ভাস্কর

প্রখ্যাত সাহিত্যিক মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী (জ. ১৮৯৬ খ্রি.-মৃ. ১৯৫৪ খ্রি.) রচিত ‘মরু ভাস্কর’ নামের সুলিখিত নবীজীবনীটি মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ বাহারের সুদীর্ঘ ভূমিকাসহ ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে বুলবুল পাবলিশিং হাউস কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।
গ্রন্থটি সম্পর্কে অধ্যাপক আবদুল গফুর লিখেছেন, ‘বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ নবী চরিতসমূহের মধ্যে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর ‘মরু ভাস্কর’ অন্যতম। মননশীল গদ্যলেখক হিসেবে মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলীর খ্যাতি সর্বত্র পরিব্যাপ্ত। স্বচ্ছ চিন্তাধারা এবং সাবলীল ভাষার অধিকারী হিসেবে তার খ্যাতির একটা বড় দলিল এই মরু ভাস্কর।’
‘ছোটদের হযরত মোহাম্মদ’ নামেও কিশোরদের উপযোগী একটি নবীজীবনী তিনি রচনা করেছিলেন। অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ভাষায় রচিত এ গ্রন্থটি ১৯৪৯ খ্রিস্টাব্দে দেব সাহিত্য কুটির, কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়।

বিশ্বনবী

কবি গোলাম মোস্তফা (জ. ১৮৯৭ খ্রি.-মৃ. ১৯৪৬ খ্রি.) এর অমর সৃষ্টি। নিঃসন্দেহে ‘বিশ্বনবী’ কবি গোলাম মোস্তফার শ্রেষ্ঠ সাহিত্যকীর্তি। আজও এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, কবি গোলাম মোস্তফা যদি ‘বিশ্বনবী’ গ্রন্থটি ছাড়া অন্য কোনকিছু রচনা নাও করতেন, তবু যুগের পর যুগ শতাব্দীর পর শতাব্দী, বাঙালি পাঠক তথা বাঙালি মুসলিম পাঠকের কাছে তিনি বেঁচে থাকতেন, শ্রদ্ধার আসনে সমাসীন থাকতেন। ‘বিশ্বনবী’ প্রকাশিত হয় ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে, এরই মধ্যে প্রায় ৭০ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু বিশ্বনবীর কদর পাঠকদের কাছে বিন্দুমাত্র কমেনি বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার প্রমাণ ১৯৪২ থেকে ২০১১ পর্যন্ত অনেকগুলো সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।

প্রথম খন্ডে মোট ৫৮টি পরিচ্ছেদে আলোচনা করা হয়েছে। প্রতিটি পরিচ্ছেদের আলোচনা অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত, হৃদয়গ্রাহী ও প্রাঞ্জল। ‘বিশ্বনবী’ নিঃসন্দেহে একটি গবেষণাগ্রন্থ, সর্বসাধারণের বোধগম্যও। এর কোন আলোচনা যুক্তির ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েনি, আবার আবেগের বশবর্তী হয়ে কোন অযৌক্তিক কিছুকে প্রশ্রয়ও দেয়া হয়নি।
আমাদের বিশ্বাস এ বিশাল গদ্য কাব্যটি আরও সুদীর্ঘকাল বাঙালি পাঠককে বিমুগ্ধ করে রাখবে।
‘বিশ্বনবী’ ছাড়াও কবি গোলাম মোস্তফা ‘বিশ্বনবীর বৈশিষ্ট্য’ ও ‘মরু দুলাল’ নামে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর আরও দু’টি চমৎকার গ্রন্থ রচনা করেছেন।

সাইয়েদুল মুরসালীন (দুখন্ড)

বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মরহুম মাওলানা আবদুল খালেক রচিত ‘সাইয়েদুল মুরসালীন’ (দু’খন্ড) বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সংযোজন। ‘মোস্তফা চরিত’, ‘বিশ্বনবী’ পর্যায়ের গ্রন্থ এটি না হলেও জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকটা কাছাকাছি। এ গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে। এরপর ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশন গ্রন্থটির ৪টি সংস্করণ প্রকাশ করেছে। দু’খন্ডে প্রায় দু’হাজার পৃষ্ঠার এ গ্রন্থটি লেখকের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। কাজি নজরুল ইসলাম এবং সৈয়দ আলী আহসান প্রমুখের সিরাত রচনার অন্যতম উৎস ছিল এই গ্রন্থটি। উল্লেখ্য যে, এটিই ছিল প্রথম কোনো আলেম রচিত সিরাতগ্রন্থ।

নয়া জাতি স্রষ্টা হযরত মুহাম্মদ

‘পারস্য প্রতিভা’র লেখক মোহাম্মদ বরকতুল্লাহ  রচিত ‘নয়া জাতি স্রষ্টা হযরত মুহাম্মদ’ গ্রন্থটি ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়। বাংলা ভাষায় সিরাত সাহিত্যের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।  লেখক কেন গ্রন্থটি লিখলেন, তা বলতে গিয়ে বলেছেন—‘ত্রিশ বৎসর আগের কথা। কতিপয় সাহিত্যামোদি ব্যক্তি আমার পারস্য প্রতিভা পাঠ করার পর আমাকে প্রাঞ্জল ভাষায় একখানি নবী চরিত লিখিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি আত্মজিজ্ঞাসা হইতে উপলব্ধি করিলাম, নবী চরিতের আসল স্বরূপ আমার বোঝা হয় নাই। তারপর পড়িয়াছি, যথাসাধ্য এবং শুনিয়াছি বিস্তর কিন্তু এখনও সেই বিরাট ব্যক্তিত্বের সকল দিক সম্যক বুঝিয়াছি এ দাবি করিতে পারি না। বিষয়টি বাস্তবিকই দুরূহ। তবে যতটুকু বুঝিয়াছি। সরলভাবে লিপিবদ্ধ করিলাম।’

হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমকালীন পরিবেশ ও জীবন

শাইখুল হাদিস মাওলানা মুহাম্মাদ তফাজ্জল হোসাইন  রচিত এই গ্রন্থটি ইসলামিক রিসার্চ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ থেকে সৈয়দ একে কামরুল বারী প্রকাশ করেছেন। এটি ১০০৮ পৃষ্ঠার বিপুলায়তন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিরাতগ্রন্থ। ১৪টি অধ্যায়ে বিভক্ত এ গ্রন্থটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের নানা দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

অধ্যায় শুরুর আগে প্রথম ভাগে সমকালীন পরিবেশ শীর্ষক খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৮টি পরিচ্ছেদে ৮টি জরুরি বিষয় আলোচনা করা হয়েছে। সেগুলো হলো- রাসুল প্রেরণ, কুরআন-হাদীস সংকলনের ধারা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আবির্ভাব কালীন বিশ্ব, মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর আগমনের পূর্বাভাস, শেষ নবীর আবির্ভাব আরবে কেন, মক্কায় ইসমাঈলী বংশের আগমন, কা’বা শরীফের পুনঃসংস্কার ও হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বংশ পরিচয়।

গ্রন্থটির মাঝে মাঝে বিভিন্ন মূল্যবান চিত্রও সংযোজন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমান সময়ে বাংলাভাষায় প্রকাশিত সিরাত গ্রন্থের মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ। এ মূল্যবান গবেষণা গ্রন্থটির রচয়িতা শায়খুল হাদীস মাওলানা মুহাম্মদ তফাজ্জল হোসাইন। গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন তারই সুযোগ্য সন্তান ড. এ এম এম মুজতবা হোসাইন। গ্রন্থটি ১৯৯৮ সালে জাতীয় সিরাত কমিটি বাংলাদেশ কর্তৃক গত ১০ বছরে প্রকাশিত বিষয়ে মৌলিক রচনার মধ্যে বিবেচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। (২)

মহানবী

বাংলা ভাষায় রাসুলের জীবনী নিয়ে লিখিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে সৈয়দ আলি আহসান রচিত ‘মহানবী’ নিঃসন্দেহে শীর্ষ অবস্থানে থাকবে। গ্রন্থটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের সামগ্রিক একটি রূপ তুলে ধরা হয়েছে। সর্বোপরি আধুনিক বাংলা গদ্যের চমৎকার একটা কুশলী ব্যবহার উপস্থাপনার মাধ্যমে রাসূলে আকরাম (সা:)-এর জীবনের প্রধান প্রধান দিকগুলোর বিশ্বস্ত প্রমাণ সম্বলিত ঐতিহাসিক বর্ণনা লিপিবদ্ধ করবার একটা প্রয়াস মনীষী সৈয়দ আলী আহসানের ‘মহানবী’ গ্রন্থে লক্ষ্য করা যায়।

একটি মহান জীবন এবং প্রজ্ঞার কাছে নিজেকে সমর্পণ করে তিনি এই গ্রন্থটি লিপিবদ্ধ করেন। ‘মহানবী’ লিপিবদ্ধ করতে যেয়ে রাসূলে  আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর বাংলা ভাষায় লিখিত তার পূর্বের এবং সমকালের লেখক সাহিত্যিকবৃন্দের অনুকরণ কিংবা অনুসরণ কোনোটাই গ্রহণ না করে সম্পূর্ণ নিজস্ব এক চমকপ্রদ এবং অত্যাধুনিক বাংলা গদ্যের শৈলীকে অবলম্বন করেছেন। তার বক্তব্য যেমন মনোজ্ঞ ধারালো তেমনি সত্যনিষ্ঠ। ঐতিহাসিক ঘটনা প্রবাহ বর্ণনায় তিনি স্বকীয় বৈশিষ্ট্য তথা মাধুর্য মণ্ডিত ভাষা ব্যবহারের সাথে সাথে অভিনব শব্দ ও বাক্যে বক্তব্যকে আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়াসী হয়েছেন। এমন সুন্দর এবং অতীব নতুনত্বের ভাষাভঙ্গি বর্তমান বাংলা গদ্যে সচরাচর দেখতে পাওয়া দুর্লভ। যেহেতু তিনি একজন আধুনিক কবি কিন্তু তার গদ্যে কবির কাব্য কুশলতার পরিবর্তে চমৎকার ও অভিনব গদ্যের একটি নিদর্শন আমরা প্রত্যক্ষ করি। যা একজন কৃতী গদ্য শিল্পীর অনবদ্য অবদানকেই স্মরণ করিয়ে দেয়।

তাঁর এরূপ ভাষাশৈলী তাঁর নিজেরই আবিষ্কার। যা কারো দ্বারা প্রভাবান্বিত নয়। দীর্ঘ কালের চর্চা এবং বিপুল পঠন-পাঠনে তাঁর এ ভাষারূপ তৈরি হয়েছে। যা চিনিয়ে দেয় তাঁর স্বতন্ত্র সত্তাকে। তাঁর নিজস্ব পথ পরিক্রমণকে।

তিনি বলেন : “মহানবীর (সা:) জীবন কথা রচনায় আমার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আত্মশুদ্ধি। শিক্ষিত সমাজের কাছে পাঠযোগ্য সাহিত্যের সংরাগযুক্ত গ্রন্থ উপহার দেয়া। বিভিন্ন দুর্দশা থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে হলে এবং সত্য ও পরিচ্ছন্নতার মধ্যে জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে মহানবীর জীবন কথা জানা প্রত্যেক মানুষের জন্য অপরিহার্য”।

উসওয়াতুন হাসানাহ

মুফতি তারেকুজ্জামান রচিত এ গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে রুহামা পাবলিকেশন্স থেকে। গ্রন্থটিতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনীর নানা অধ্যায় নিয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে গ্রন্থটির অনন্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে তুলে ধরা হয়েছে সেই অধ্যায়ের শিক্ষণীয় দিকগুলো। যা অন্যান্য সিরাতগ্রন্থে ইতঃপূর্বে দেখা যায়নি।

প্রিয়তমা

সালাহুদ্দিন জাহাঙ্গীর রচিত একটি অনবদ্য গ্রন্থ ‘প্রিয়তমা’। সুন্দর গদ্যে গল্পের ভঙ্গিতে তিনি আলোচনা করেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বৈবাহিক জীবনের আখ্যান। তুলে ধরেছেন উম্মুল মুমিনীনগণের সাথে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আচরণ এবং সমতাবিধান। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে নবপ্রকাশ থেকে।

সীরাহ

রেইনড্রপস থেকে প্রকাশিত এই সিরাতগ্রন্থটি পাঠকের মাঝে পেয়েছে বিপুল সাড়া। গ্রন্থটি সংকলন করেছে রেইনড্রপস টিম। এ গ্রন্থটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর উপস্থাপনা এবং সাবলীল গদ্য। সিরাত পাঠের ক্ষেত্রে অনেক প্রাথমিক পাঠকের জন্য বইটি হয়ে উঠেছে প্রথম পছন্দ।

মহানবী

মাজিদা রিফা রচিত এই গ্রন্থটির বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে প্রথমে বলতে হয় এটি লিখেছেন একজন আলিমা। এ গ্রন্থের মাধ্যমে সিরাত চর্চায় নারীদের এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে মাজিদা রিফা অগ্রজ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মাজিদা রিফার গদ্য সহজ এবং সাবলীল। এক ছন্দে এগিয়ে চলে। সহজ সরল চিত্তাকর্ষক ভঙ্গিতে গল্পের ভাষায় রচিত নবীজীবনের কাহিনী নিয়ে অসাধারণ এক সিরাতগ্রন্থ। বইটি পড়তে গিয়ে পাঠক কোথাও বিরক্তবোধ করবেন না। নিজের অজান্তেই হারিয়ে যাবেন সীরাতের অজানা ভুবনে, স্নাত হবেন নবীপ্রেমে। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে রাহবার প্রকাশনী থেকে।

নবী জীবনের গল্পভাষ্য—মুস্তফা

সাম্প্রতিক সময়ে সিরাত চর্চার শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসা তরুন লেখক নকীব মাহমুদ রচিত শিশু-কিশোর উপযোগী সিরাত গ্রন্থ নবী জীবনের গল্পভাষ্য ‘মুস্তফা’। গ্রন্থটিতে সাবলীল এবং চমৎকার গদ্যে গল্পাকারে উপস্থাপন করেছেন নবী জীবনের নানা অধ্যায়। শিশু-কিশোরদের সিরাত পাঠ উপভোগ্য করে তুলতে গ্রন্থটি চমৎকার ভূমিকা রাখবে। গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে দারুল হিলাল থেকে।

 

বাংলা ভাষায় অনূদিত সিরাত গ্রন্থাবলি

মৌলিক গ্রন্থের পাশাপাশি বাংলা ভাষায় এ পর্যন্ত অনেক সিরাত গ্রন্থ অনূদিত হয়েছে। তন্মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য কিছু গ্রন্থের বর্ণনা উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।

সিরাতে ইবনে ইসহাক : আল্লামা ইবনু ইসহাক রচিত সীরাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলা হয় প্রথম পূর্ণাঙ্গ কোনো সিরাতগ্রন্থ। রচনার পর থেকেই তা পুরো মুসলিম বিশ্বজুড়ে সমাদৃতি লাভ করেছে এবং যুগের পর যুগ ধরে সংরক্ষিত হয়ে আসছে। হয়েছে বিশ্বের বহু ভাষায় অনূদিত। বাংলা ভাষাতেও হয়েছে এর একাধিক অনুবাদ।

সিরাতে ইবনে হিশাম : রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী নিয়ে রচিত প্রথম দিককার গ্রন্থসমূহের একটি হচ্ছে ইবনে হিশাম রচিত সীরাতুন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এই সুপ্রাচীন গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে। গ্রন্থটি সিরাতচর্চার একটি গ্রহণযোগ্য উৎস পুরো মুসলিম বিশ্বে সমাদৃত।

সিরাতে ইবনে কাসির : প্রখ্যাত মুফাসসির এবং ইতিহাসবেত্তা, তাফসিরুল কুরআনিল আযিম (তাফসিরে ইবনে কাসির) এবং আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়ার মতো সমাদৃত ও নির্ভরযোগ্য গ্রন্থের রচয়িতা আল্লামা ইমাদুদ্দিন ইবনু কাসির রচিত আরেক মূল্যবান গ্রন্থ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিস্তারিত জীবনী নিয়ে রচিত তাঁর সিরাত গ্রন্থ। যা ‘সিরাতে ইবনে কাসির’ নামে সমাধিক প্রসিদ্ধ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের অন্যতম প্রামাণ্য এবং নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হয়। আল-কুরআন একাডেমী লন্ডন থেকে এর বাংলা অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

আর-রাহিকুল মাখতুম : আরবী এবং উর্দূ ভাষায় মাওলানা সফিউর রহমান মোবারকপুরী রচিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি অনবদ্য জীবনীগ্রন্থ। আধুনিক যুগে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী নিয়ে আরবী ভাষায় লেখা অন্যতম একটি সিরাত গ্রন্থ। আরবী বইটি ১৯৭৯ সালে রাবেতায়ে আলাম আল ইসলামি কর্তৃক আয়োজিত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবনীর উপর আয়োজিত প্রথম উন্মুক্ত সিরাত গ্রন্থ প্রতিযোগিতায় ১১৮৭ টি পান্ডুলিপির মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে। এ গ্রন্থটি মূলত সিরাতের ওপর রচিত অতীতের শত শত গ্রন্থের মৌলিক ও নির্ভরযোগ্য উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এক কথায় সিরাত সংক্রান্ত বিশাল সংগ্রহশালার একটি নির্যাস গ্রন্থ। বাংলা ভাষায় বেশ কয়েকবার গ্রন্থটি অনূদিত হয়েছে।

সিরাত বিশ্বকোষ : সম্প্রতি মাকতাবাতুল আজহার থেকে প্রকাশিত হয়েছে উর্দু ভাষায় রচিত সীরাতের বিশাল ভাণ্ডার সিরাত ইনসাইক্লোপিডিয়ার বাংলা অনুবাদ সিরাত বিশ্বকোষ। যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন নিয়ে বিস্তারিত অধ্যয়ন করতে চায় তাদের জন্য গ্রন্থটি উত্তম উপহার হিসেবে বিবেচিত হবে।

নবিয়ে রহমত : বিগত শতাব্দীর অন্যতম মুসলিম মনীষা আল্লামা আবুল হাসান আলি নদভী রচিত কালজয়ী গ্রন্থ নবিয়ে রহমত। বাংলাভাষায় সিরাত পাঠের জগতে উক্ত গ্রন্থটির অনুবাদ অন্যতম সমৃদ্ধ সংযোজন। গ্রন্থটির অনুবাদ করেছেন আবু সাইদ মুহাম্মাদ ওমর আলি রহিমাহুল্লাহু। যিনি সরাসরি লেখকের কাছ থেকে অনুবাদের অনুমতি পেয়েছিলেন। অনুবাদ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে মাকতাবাতুল হেরা।

তোমাকে ভালোবাসি হে নবী : বাংলা ভাষায় অনূদিত সিরাতগ্রন্থের তালিকায় যদি এ গ্রন্থটির নাম না রাখি তবে তা হবে নিতান্তই অন্যায়। গ্রন্থটির মূল রচয়িতার নাম গুরুদত্ত সিং। যিনি ছিলেন ভারতের এক ম্যাজিস্ট্রেট। একজন অমুসলিম হয়েও তিনি হৃদয়ের মাধুরী মিশিয়ে এই গ্রন্থটি লিখে অমর হয়ে আছেন। মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ সাহেবের অনুবাদে গ্রন্থটির মাধুর্যতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। হৃদয়ে রাসুল প্রেমের তরঙ্গ জাগ্রত করতে চান যদি তবে ডুব দিন সংক্ষিপ্ত এই গ্রন্থের মাঝে।

সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া : বিগত শতাব্দীর পাকিস্তানের বর্ষীয়ান আলেম মুফতি শফী রহিমাহুল্লাহু রচিত একটি সংক্ষিপ্ত অনন্য সিরাত গ্রন্থের নাম ‘সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া’।  গ্রন্থটিতে তিনি সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করেছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শৈশব থেকে নিয়ে ওফাত পর্যন্ত। গ্রন্থটি হয়েছে বিপুল সমাদৃত। গ্রন্থটি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের প্রায় সকল কওমি মাদ্রাসার পাঠ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত। এ পর্যন্ত বাংলা ভাষায় গ্রন্থটির একাধিক অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দি  গ্রেটেস্ট : সাইয়েদ সুলাইমান নদভী রহিমাহুল্লাহুর সিরাত বিষয়ক ঐতিহাসিক আটটি বক্তৃতা সংকলনের নাম খুতুবাতে মাদরাস। প্রথিতযশা আলিম লেখক এবং সাহিত্যিক যাইনুল আবেদিন সাহেবের অনুবাদে এটি প্রকাশিত হয়েছে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দি  গ্রেটেস্ট নামে। প্রকাশ করেছে রাহনুমা প্রকাশনী।

যেমন ছিলেন তিনি : অতিসম্প্রতি দুই হাজার উনিশের ইসলামি বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছে বর্তমান মুসলিম এবং আরব বিশ্বের প্রখ্যাত আলিমে দীন শাইখ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ রচিত ‘কাইফা আমালাহুম’ গ্রন্থের অনুবাদ ‘যেমন ছিলেন তিনি’। বাংলা অনুবাদটি প্রকাশিত হয়েছে রুহামা পাবলিকেশন্স এবং মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের নানা খুঁটিনাটি দিক তুলে ধরা হয়েছে সুবিস্তৃত এই গ্রন্থে। প্রকাশের পর থেকেই পাঠকের কাছে পেয়েছে বিপুল সমাদৃতি।

আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম : বিগত শতাব্দীর প্রখ্যাত আলেমে দীন সাইয়েদ আবুল হাসাল আলি নদভী রহিমাহুল্লাহুর বোন সাইয়েদা আমাতুল্লাহ তাসনীম রচিত সিরাতগ্রন্থের অনুবাদ আমাদের প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অনুবাদ করেছেন মাওলানা আহসান ইলয়াস। গ্রন্থটি শিশু-কিশোরদের জন্য জীবন উপযোগী। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মের আগ থেকে নিয়ে ইন্তেকাল পর্যন্ত সংক্ষেপে জানতে বইটি খুবই ফলপ্রসূ। প্রকাশিত হয়েছে মাকতাবাতুল আফনান থেকে।

উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম (সাঃ) : বাংলা ভাষায় অনূদিত সিরাত গ্রন্থের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হচ্ছে হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলি থানভী রহিমাহুল্লাহুর বিশিষ্ট খলিফা ডা. মুহাম্মাদ আবদুল হাই আরেফি (মৃ. ১৯৮৬) বিরচিত গ্রন্থ ‘উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম (সাঃ)’অনুবাদ করেছেন মাওলানা আহসান ইলয়াস (দাঃ বাঃ) গ্রন্থটির আরবি সংস্করণের ভূমিকায় সাইয়েদ আবুল হাসান আলি নদভী রহিমাহুল্লাহু বলেন, ‘আমাদের হিন্দুস্তানে (যা শতাব্দীকালব্যাপী ইসলাহ ও দীনী শিক্ষার মারকাজ হিসেবে পরিচিত লাভ করেছে) বিশেষভাবে তিনটি কিতাব উল্লেখযোগ্য। এক. কাজি সানাউল্লাহ পানিপথী রহ.এর মালাবুদ্দা মিনহু; দুই. সাইয়েদ আহমাদ শহিদ রহ.এর সিরাতে মুস্তাকিম; তিন. হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলি থানভী রহ.এর বেহেশতি জেওর।

এই সোনালি সিরিজে এক বরকতপূর্ণ সংযোজন হলো হাকিমুল উম্মাত আশরাফ আলি থানভী রহিমাহুল্লাহুর বিশিষ্ট খলিফা ডা. মুহাম্মাদ আবদুল হাই আরেফি (মৃ. ১৯৮৬) বিরচিত গ্রন্থ ‘উসওয়ায়ে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিতাবটি। যা একজন সত্যান্বেষী এবং শরীয়ত ও সুন্নাহর অনুসারী মুসলমানের জন্য তার সমগ্র আমলী জীবনের পরিপূর্ণ পথপ্রদর্শক হতে পারে। এই কিতাব ইমানিয়াত, ইবাদাত, মুআমালাত, মুআশারাত, আখলাকিয়াত, পবিত্র জীবনের দিন-রাত, সামাজিক ও পারিবারিক জীবন এবং আচার-ব্যবহারের ক্ষেত্রে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা রাখতে পারে। এই কিতাবটিকে আল্লাহ তায়ালা এমন গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন, যা সমকালীন অন্য কোনো দীনী কিতাব লাভ করতে পারেনি। এমনকি বিভিন্ন ভাষায় বহুসংখ্যায় এবং একাধিক সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে এবং সেগুলো মূল কিতাবের মতোই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। গ্রন্থটির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে মাকতাবাতুল হেরা থেকে।

সীরাতুন্নবী : শাইখ ইবরাহিম আলীর ‘বিশুদ্ধ হাদিসের ভিত্তিতে’ ভিত্তিতে রচিত সীরাতুন্নবির অনুবাদ প্রকাশিত হয়েছে বায়ান পাবলিকেশন থেকে। অনুবাদ করেছেন জিয়াউর রহমান মুন্সী।

এছাড়াও রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনের নানা আঙ্গিক নিয়ে বাংলা ভাষায় আরও অনেক সিরাত গ্রন্থ রচিত ও অনূদিত হয়েছে। বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা তুলনামূলক কম হলেও বর্তমানে তা মোটেও অপ্রতুল নয়। দিন দিন এর সংখ্যা কেবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সিরাত চর্চার গুরুত্ব এবং মর্যাদা নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। তাই আমাদের উচিত আরও বেশি বেশি করে সিরাত পাঠে মনোযোগী হওয়া এবং নিজের মতো করে রচনার প্রয়াস চালানো। নিশ্চয়ই আখেরাতে এটি আমাদের জন্য নাজাতের উসিলা হয়ে দাঁড়াবে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে তাওফিক দান করুন।

 

সূত্র :

(১) বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা : নাসির হেলাল।

(২) বাংলা ভাষায় সিরাত চর্চা : নাসির হেলাল।

Tijarah-Shop

Facebook Comments