আব্দুল্লাহ তালহা

রিসালাতের জন্য যেকারণে জাযিরাতুল আরবকে বাছাই করা হলো | আবুল হাসান আলী নদভী রহ.

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

অনুবাদ : আব্দুল্লাহ তালহা

খোদা তাআলার হিকমত যে, জাযিরাতুল আরবকে নবুওতের মর্যাদা দান ও ইসলাম প্রচার-প্রসারের কেন্দ্র হিসেবে কবুল করেছেন। সেখানে বিভিন্ন সম্পদ ও বৈশিষ্ট্য দান করা সত্ত্বেও তাতে ছিল না কোনো জাগরণের লক্ষণ বা বাহ্যিক অস্থিরতা-পেরেশানি। সেখানে হাতেগোণা সত্যানুসন্ধানী যারা ছিলেন, তাদের অবস্থা ছিল প্রচণ্ড ঝঞ্ঝাবায়ুর মধ্যে জ্বলতে থাকা নিভুনিভু প্রদীপের আগুনের মতো, যে আগুন আলো দিতে পারে না, বরং প্রচণ্ড বাতাসের ঝাপটায় নিভে যায়।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমন-পূর্ব যে ফাতরা বা নবী না-থাকার সময়টি অতিবাহিত হয়, তা ছিল জাযিরাতুল আরবের সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অধঃপতিত সময়। এ দীর্ঘ কাল ছিল সব ধরনের সংশোধন ও সংস্কার হতে শূন্য। আর এই ঘোরতর অজ্ঞতা ও অন্ধকারাচ্ছন্নতা প্রত্যেক নবীর জন্যই অত্যন্ত কঠিন ও সংকটময়।

স্যার উইলিয়াম ম্যুর তার রচিত বিখ্যাত সিরাতগ্রন্থে সমকালীন কিছু ইংরেজ লেখকের বানোয়াট দাবী প্রত্যাখ্যান করে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে তুলে ধরেছেন তৎকালীন আরবের চিত্র। তিনি লিখেছেন, আগ্নেয়গিরিটি যেন অগ্নুৎপাতের জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল। ঠিক সেই সময়েই নবী মুহাম্মদ আগমন করলেন। পরিবার ও সমাজের প্রবল বাধা ও অনিষ্টের সম্মুখীন হলেন। তবুও তাঁর আগমনেই আগ্নেয়গিরির আগুন ঠিকরে বের হয়ে এলো।

স্যার উইলিয়াম ম্যুর আরও লেখেন, নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন যৌবনে, তখন আরব উপদ্বীপ কোনো ধরনের ইনকিলাব বা পরিবর্তন ও জাগরণের উপযোগী ছিল না। সেসময় মানব-সংশোধনের হতাশা ও নৈরাশ্য যে চূড়ান্তসীমায় পৌঁছে গিয়েছিল, হয়তো ইতিপূর্বে আর কখনো এমন স্তরে পৌঁছেনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যখন একটি বিশেষ সাফল্য অর্জন করার জন্য কোনো মাধ্যমের ওপর আস্থা-নির্ভরতা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন তার একাধিক কারণ সৃষ্টি হয়; সেই সাফল্যে পৌঁছতে তখন অনেক উপায় ও পথ হাজির হয়।

সে জন্যই কিছু মানুষ এভাবে বলেছে, যখন মুহম্মদ জেগে উঠলেন তখন তাঁর সাথে গোটা আরব যেন ঘোরতর নিদ্রা থেকে জেগে উঠল। তারা জেগে উঠল এক নতুন ঈমানী শক্তিতে। গোটা আরব যেন একসাথে দাঁড়িয়ে গেল। এর থেকে এই ফলাফলই প্রকাশিত হয় যে, জাযিরাতুল আরব এক আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ইসলাম-পূর্ব আরব সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করলে আমরা দেখি ইতিহাস এই ফলাফলকে অস্বীকার করে। কারণ, সেখানে ঈসায়ি ধর্মের ধারাবাহিক চেষ্টা-পরিশ্রম কোনো সাফল্য লাভ করতে পারেনি। দীর্ঘ পাঁচশত বছর যাবত তাদের দাওয়াত ও আহ্বান কয়েকটি গোত্রের সীমিত সংখ্যক মানুষকে কেবল নিজেদের দলে ভিড়াতে পেরেছিল।

তাদের অবস্থা ছিল যেন নিশ্চল আরব-জীবনের সমুদ্রের উপরিভাগে ছোট্টো ও দুর্বল কিছু ঢেউ। ঈসায়ী ধর্মপ্রচারকরা যে দাওয়াত ও ধর্ম প্রচারের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, তাদের সেই চেষ্টায় আঘাত হানছিল আরও শক্তিশালী ও বিরাট ঢেউ। যাতে ইহুদি দাওয়াতের প্রভাব ছিল। তবে এইসব থেকে বেশি শক্তিশালী ছিল আরবের পৌত্তলিকতা ও জাহিলিয়্যাতের জলোচ্ছ্বাস, যে জলোচ্ছ্বাস শেষ পর্যন্ত তাওহিদের কেন্দ্রবিন্দু খানায়ে কাবার দেয়াল উপচে ভেতরে ঢুকে পড়েছিল।’

স্যার ম্যুর তার গ্রন্থের আরেক জায়গায় লিখেছেন, ‘মুহাম্মদি দ্বীনের আগমনের পূর্বে আরবের অবস্থা সব ধরনের ধর্মীয় পরিবর্তন হতে যোজন-যোজন দূরে অবস্থান করছিল। যেভাবে তা অনেক দূরে সরে গিয়েছিল জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতি হতে। তা দাঁড়িয়ে ছিল নেহায়েত মূর্খতাপূর্ণ পৌত্তলিকতার উপর, যার শেকড় গভীরভাবে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছিল। খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের যাবতীয় দাওয়াতি চেষ্টা-তদবীর এই মূর্তিপুজার মজবুত প্রাচীরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে বারবার ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছিল।’

এই ঐতিহাসিক সত্যটি আরেকজন বিদগ্ধ ইতিহাস-গবেষক বেওয়ার্থ স্মিথ স্বল্প কথায় অত্যন্ত শক্তিমত্তা ও পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। স্মিথ বলেন, ‘একজন ঐতিহাসিক তার সমকক্ষদের চেয়ে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য লাভ করেন তার দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে, যাতে তিনি স্বীকার করেন যে, বিশ্ব-ইতিহাসে যেসব বৈপ্লবিক জাগরণ অমর কীর্তি রেখেছে, তার মধ্যে আরবে ইসলামি জাগরণের চেয়ে বাহ্যত চরম নৈরাশ্যপূর্ণ ও অসম্ভবপ্রায় অন্য কোনো জাগরণ ছিল না। তা ছিল এমনই এক দৈব ঘটনা, যা ঘটার কোনো কল্পনাই মানুষের ছিল না। আমরা এ কথা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছি যে, ইতিহাসশাস্ত্র, যদি বাস্তবে তাকে ইতিহাসশাস্ত্র বলার সুযোগ থাকে, তা সেই আরব বিপ্লবের কারণ উদ্ঘাটনে হতবুদ্ধি হয়ে রয়েছে’।

নবী প্রেরণের প্রয়োজনীয়তা

তৎকালে পুরা পৃথিবীর অবস্থা ছিল অত্যন্ত বিশৃঙ্খলাপূর্ণ। খ্রিষ্টীয় ষষ্ঠদশ শতকে মানুষ অধঃপতনের যে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছিল, তা কতিপয় সংস্কারক ও কিছু শিক্ষকের শিক্ষাদান থেকেও বেশি কিছু দাবি করছিল। সেই সমস্যা শুধু একটি আকিদা বিশ্বাসের সমস্যা ছিল না। ছিল না নিছক কোনো স্বভাব পরিবর্তনের বিষয়। সেই সমস্যা কেবল কিছু এবাদতকেন্দ্রিক বিষয় বা সামাজিক সংশোধনের বিষয়ও ছিল না। আর এতটুকুর জন্য যে ক’জন সংস্কারক ও শিক্ষক দরকার তা সবযুগেই বিদ্যমান থাকে।

প্রকৃতপক্ষে সেই সংকট ছিল দীর্ঘদিনের জাহিলিয়্যাতের শেকড় উপড়ে ফেলা ও সর্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক পৌত্তলিকতার বিনাশ সাধনের, যে জাহিলিয়্যাত ও পৌত্তলিকতা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ও যুগের পর যুগ মানব সমাজে স্তুপীকৃত হয়ে উঠেছিল। যার নীচে দাফন হয়ে গিয়েছিল পূর্ববর্তী নবী রাসূলদের শিক্ষা-দীক্ষা এবং সংস্কারক ও শিক্ষকদের চেষ্টা-প্রচেষ্টা। সেই পৌত্তলিকতা ও জাহিলিয়্যাতের নিচে চাপা পড়েছিল প্রশস্ত প্রান্তরবিশিষ্ট মজবুত ভবন, যা বিশ্বব্যাপী মানুষের আশ্রয়-স্থল হতে পারে।

সে সংকট ছিল এক নতুন মানবজাতি সৃষ্টি করার, যে মানব সম্প্রদায় পূর্বের মানুষদের থেকে সবদিক থেকে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে। তা হবে এক নতুন জন্ম। যেমনটি কুরআন কারিমে সুরা আনআমে আল্লাহ বলেছেন, (অর্থ) ‘যে ব্যক্তি ছিল মৃত। অতঃপর আমি তাকে জীবন দান করলাম এবং তাকে দান করলাম নূর, যে নূরে মানুষের মাঝে পথ চলতে পারে; সে কি ঐ ব্যক্তির মতো যে ঘোরতর অন্ধকারে ডুবে আছে, সেখান থেকে বেরই হতে পারে না’! (সুরা আনআম, ১২২)

সেই সংকট ছিল বিশৃঙ্খলা-ফাসাদ আর পৌত্তলিকতার বৃক্ষ শেকড়শুদ্ধ এমনভাবে উপড়ে ফেলার, যার আর কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে। সেই সাথে মানব-হৃদয়ের গভীরে তাওহীদের বিশ্বাস প্রোথিত করার এবং সেই প্রায় অনুর্বর মানব মনে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা, মানবসেবা, সত্যের সংগ্রামের বীজ বপন করার, যা পার্থিব সকল লোভ-লালসা ও প্রবৃত্তির চাহিদাকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়। মোদ্দাকথা, সেই সংকট ছিল গোটা মানবজাতি সর্বশক্তি নিয়োগ করে দুনিয়া ও আখেরাতের যে আগুনে ঝাপ দিচ্ছিল সেই অবস্থা থেকে উদ্ধার করে এমন এক পথে পরিচালিত করা, যে পথের সূচনায় রয়েছে জান্নাতের অনাবিল শান্তি এবং যে পথের শেষ গিয়ে মিলিত হয়েছে সর্বসুখের আবাসস্থল চিরস্থায়ী জান্নাতে। যে জান্নাতের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে কেবল মুত্তাকি বান্দাদেরকে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগমনের অনুগ্রহকে মহান আল্লাহ যে ভাষায় চিত্রায়িত করেছেন তার চেয়ে সুন্দর ও চমৎকারভাবে আর কেউ বলতে পারবে না। সুরা আনআমে আল্লাহ বলেন, (অর্থ) ‘তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ করো, যখন তোমরা ছিলে পরস্পরে শত্রু। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মাঝে হৃদ্যতা-ভালোবাসা সৃষ্টি করে দিলেন। ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে হয়ে গেলে পরস্পর ভাই-সদৃশ। আর (তখন) তোমরা ছিলে অগ্নিখাঁদের কিনারায় (পতনোন্মুখ)। তিনিই তোমাদেরকে সেখান থেকে উদ্ধার করলেন।’ (সুরা আনআম: ১০৩)

একজন প্রেরিত রাসূল হিসেবে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে বিশাল যিম্মাদারি ও দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল মানবেতিহাসের কোথাও তার চেয়ে সূক্ষ্ম, কঠিন ও বিশাল দায়িত্ব পাওয়া যাবে না। অনুরূপ তিনি যে ফলবান বৃক্ষ উদ্গত করেছেন তার কোনো তুলনা মিলবে না এবং তাঁর সাফল্যণ্ডিত চেষ্টার অনুরূপ কোনো চেষ্টা পাওয়া যাবে না।

এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর। সকল অলৌকিকতার বড় অলৌকিকতা।

এ বিষয়টি একজন শক্তিমান ফ্রেঞ্চ লেখক ও কবি লামারতিন অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে সুস্পষ্ট ভাষায় স্বীকার করে লিখেছেন,  ‘এমন কোনো মানুষ নেই, যে স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে এমন সুউচ্চ লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে দাঁড়াতে পারে। কারণ, এই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন ছিল মানব-শক্তির উর্ধ্বে। সংশয় সন্দেহ ও অবিশ্বাসের যে সুদৃঢ় প্রাচীর বান্দা ও তার রবের মাঝে অন্তরায় হয়ে ছিল, সে প্রাচীর ভেঙে মানুষকে তার রবের সামনে দাঁড় করানো এবং সর্বব্যাপী মূর্তিপুজা ও জড়বস্তুর উপাসনা থেকে মানুষকে বের করে খালেস ও বিশুদ্ধ তাওহীদের সরোবরে অবগাহন করানো ছিল সেই সুমহান ও সুউচ্চ লক্ষ্য। এত উচ্চ ও বিশাল লক্ষ্য বাস্তবায়নের দায়িত্ব বস্তুতই কোনো মানুষ নিতে সক্ষম নয়। বিশেষত এমন কোনো ব্যক্তি এই বিরাট যিম্মাদারি গ্রহণ করতে মোটেও সক্ষম নয়, যার পাথেয় অনেক স্বল্প আর উপায়-উপকরণ নিতান্ত দুর্বল-ভঙ্গুর।’

এক পর্যায়ে এই লেখক লিখেছেন, ‘এর চাইতেও চমকপ্রদ বিষয় এই যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ সা.) সেই অন্ধকার পৌত্তলিকতা, জড়বাদী ধর্ম, অবান্তর চিন্তা ও অযৌক্তিক বিশ্বাস প্রবলভাবে নাড়িয়ে দিয়েছেন। পাশাপাশি মানব-হৃদয়েও নাড়া দিয়েছেন।

যে ঐশী গ্রন্থের প্রতিটি শব্দ মানব জীবনকে পরিচালিত করে তা দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি খোদামুখী জাতীয়তা গড়ে তুলেছিলেন। এই রাব্বানি জাতীয়তা প্রত্যেক প্রজন্মের সদস্যদের মাঝে সৃষ্টি করল হৃদ্যতা, ভালোবাসা, এক পরিবার-ভাবনা ও অভিন্ন ভাষা। এই উম্মতকে নবী মু‏হাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের উপর গড়ে তুললেন, তা হলো বাতিল উপাস্যের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও চরম বিদ্বেষ, আল্লাহর প্রতি অগাধ ভক্তি ও সীমাহীন ভালোবাসা।

আল্লাহর প্রতি এই অগাধ ভক্তি-ভালোবাসা মানব হৃদয়কে বস্তুবাদ ও মূর্তিপুজার নাপাকি থেকে পবিত্র করে। এই সেই প্রেম ও শ্রদ্ধা, যা মানুষকে আল্লাহর সত্তার প্রতি যাবতীয় অপমান ও অন্যায় আচরণের বিপরীতে বিদ্রোহী করে তোলে।  আর এই ঐশী ভালোবাসাই উম্মতে মুহাম্মাদির নিকট সকল শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার ভিত্তিমূল।

গোটা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ এই নতুন আকীদা বিশ্বাসের প্রতি নতশীর হওয়া মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অমর কীর্তি ও অতুলনীয় কৃতিত্ব। আর বস্তুত এই কীর্তি ও কৃতিত্ব মানুষের চিন্তা-বুদ্ধিকে বিহ্বল করে দেয়। এটা নিছক কোনো অলৌকিকত্ব ছিল না। যে যুগ ও সময়ে পুরো পৃথিবী ভ্রান্ত উপাস্যদের পদতলে পিষ্ট হয়ে ক্রন্দন করছিল, সে সময়ে বিশুদ্ধ একত্ববাদের ঘোষণা নিঃসন্দেহে এক বিরাট মুজিজা ও অলৌকিকতা।

নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওহি পাওয়ার সাথে সাথেই সকলের সামনে দৃপ্তকণ্ঠে এই একত্ববাদের ঘোষণা দিলেন। তিনি একাই মূর্তির উপাসনালয়গুলোকে জনশূন্য করে ফেললেন। এক পর্যায়ে সেদিকে ডাকার কেউ রইল না, রইল না কেউ ডাক শোনার। এভাবেই এক পর্যায়ে গোটা বিশ্ব ইমানের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠল।’

মানবজাতির এই সর্বব্যাপী পরিবর্তন ও নব জাগরণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল এক নতুন রিসালাত ও বার্তার এবং অতীব জরুরি ছিল এমন কোনো রাসুল আগমনের, যিনি সকল বাতিল ধর্মকে ধ্বংস করার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়েত, সুপথ ও সত্যধর্ম নিয়ে ধরাপৃষ্ঠে আগমন করবেন। মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন, ‘মুশরিক ও কিতাবীদের মধ্যে যারা কাফের ছিল তারা ততক্ষণ পর্যন্ত নিবৃত্ত হওয়ার ছিল না, যতক্ষণ না তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আসে। অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ হতে এমন একজন রাসূল, যিনি পবিত্র গ্রন্থ পড়ে শোনাবেন। যাতে সরল-সঠিক বিষয় লেখা থাকবে। (সুরা বাইয়িনাহ : ১-৩)

 

Tijarah-Shop

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: