মানসূর আহমাদ

শিশুদের জন্য দীনি প্রশ্নোত্তর : ১ | সালিম বিন সাদ আত-তাওয়িল

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

অনুবাদঃ মানসূর আহমাদ

ভূমিকা: শিশুরা হচ্ছে ছোট্ট চারাগাছের মতো। ছোটবেলা থেকেই তাদেরকে দীনের বুঝ দিয়ে, সরল-সঠিক পথের দিশা দিয়ে গড়ে তুললে তারা আজীবন সোজা থাকবে ইনশাআল্লাহ। আর ছোটবেলায় সঠিক পথের দিশা না দিয়ে বাঁকা হয়ে উঠতে দিলে পরবর্তীতে ডালপালা ভাঙাই যায়; সোজা করা যায় না। তাই শিশুদেরকে ছোটবেলা থেকেই দীনের জ্ঞান দিয়ে গড়ে তোলা আবশ্যক।
আবার শিশুদেরকে গড়ে তুলতে হবে তাদের উপযোগী জ্ঞান দিয়ে। বড়দের অনেক বিষয় শিশুদেরকে শেখানোর চেষ্টা করা বৃথা। তাদেরকে ছোট, সংক্ষিপ্ত প্রশ্নাকারে দীনের শিক্ষা দেওয়া গেলে সেটা হবে উত্তম প্রচেষ্টার অন্তর্ভুক্ত। সেই উত্তম প্রচেষ্টার লক্ষ্যেই এই প্রশ্নোত্তরের অবতারণা। এই প্রশ্নোত্তরের প্রদান উদ্দীষ্ট হচ্ছে শিশুরা। তারা এগুলো মুখস্থ করবে। তবে বড়রাও এর দ্বারা উপকৃত হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ।

বিনীত
মানসূর আহমাদ

প্রশ্ন—১: তোমার রব (প্রতিপালক) কে?
উত্তর: মহান আল্লাহ আমার রব।

প্রশ্ন—২: আল্লাহ কোথায়?
উত্তর: আল্লাহ আকাশে।

প্রশ্ন—৩: বান্দার ওপর আল্লাহর কী হক (অধিকার) রয়েছে?
উত্তর: বান্দার ওপর আল্লাহর হক হচ্ছে, বান্দা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করবে; তাঁর সঙ্গে কোনোকিছুকে শরিক করবে না।

প্রশ্ন—৪: হাদিসটি পূরণ কর—
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قال: رضيت بالله ربا…
(অর্থ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি বলে, আমি আল্লাহকে রব হিসেবে…{মেনে নিয়েছি})
উত্তর:
وبالإسلام دينا وبمحمد رسولا وجبت له الجنة.
(অর্থ: ইসলামকে দীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাসুল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব।) [সুনানে আবু দাউদ : ১৫২৯; আস-সিলসিলাতুস সাহিহাহ : ৩৩৪]

প্রশ্ন—৫: আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে কী জন্য সৃষ্টি করেছেন? এ ব্যাপারে দলিল কী?
উত্তর: আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে তাঁর ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। দলিল— মহান আল্লাহ বলেন, “আমি জিন ও মানুষকে একমাত্র আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি।” [সুরা যারিয়াত : ৫৬]

প্রশ্ন—৬: আমাদের সবচে বড় দায়িত্ব কী?
উত্তর: আমাদের সবচে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, তাওহিদ তথা আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের স্বীকারোক্তি প্রদান করা।

প্রশ্ন—৭: তাওহিদের প্রকারভেদ উল্লেখ কর।
উত্তর: তাওহিদ তিন প্রকার: (১) তাওহিদুর রুবুবিয়্যাহ তথা সৃষ্টি, প্রতিপালন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ (২) তাওহিদুল উলুহিয়্যাহ তথা ইবাদত-উপাসনার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলার একত্ববাদ এবং (৩) তাওহিদুল আসমা ওয়াস সিফাত তথা আল্লাহর সুন্দর নামসমূহ ও উত্তম গুণাবলির একত্ববাদ।

প্রশ্ন—৮: কালিমায়ে তাওহিদ কী?
উত্তর: কালিমায়ে তাওহিদ হচ্ছে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আর এর অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া কোনো প্রকৃত ইলাহ বা উপাস্য নেই।

প্রশ্ন—৯: হাদিসটি পূরণ কর—
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ صِدْقًا مِنْ قَلْبِهِ…
(অর্থ: যে বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল…)
উত্তর:
إِلاَّ حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ.
(অর্থ: তার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন।) [সহিহ বুখারি : ১২৮; সহিহ মুসলিম : ৩২]

প্রশ্ন—১০: সবচে বড় গুনাহ (পাপ) কী?
উত্তর: মহান আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা।

প্রশ্ন—১১: শিরক কী?
উত্তর: শিরক হচ্ছে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও উপাসনা করা কিংবা ইবাদতের ক্ষেত্রে আল্লাহর সঙ্গে অন্য কারও ইবাদত করা।

প্রশ্ন—১২: হাদিসটি পূরণ কর—
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ…
(অর্থ: যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করল…)
উত্তর:
فَقَدْ كَفَرَ أَوْ أَشْرَكَ.
(অর্থ: সে কুফরি করল অথবা শিরক করল।) [জামে তিরমিজি : ১৫৩৫; আস-সিলসিলাতুস সাহিহাহ : ২০৪২]

প্রশ্ন—১৩: আল্লাহ তাআলা ছাড়া অন্য কেউ কি গায়েব (অদৃশ্যের খবর) জানে?
উত্তর: না; “আল্লাহ ছাড়া আসমানসমূহে ও জমিনে যারা আছে, তারা গায়েব জানে না।” [সুরা নামল : ৬৫]

প্রশ্ন—১৪: বান্দার আমল কখন আল্লাহর কাছে কবুল হয়?
উত্তর: যখন তা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (আদর্শ, পথ, পন্থা) অনুযায়ী করা হয়।

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: