ঈদসংখ্যা ২০২০

সম্পাদকীয় | সিরাতের সান্নিধ্যে কাটুক আমাদের সময়

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

একজন মুমিনের সবসময়ের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তি একজনই—প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মুমিনের অনুসরণীয় ব্যক্তি কে হবেন—সেটাও নির্ধারণ করে দিবেন আল্লাহ তাআলা। সুরা আহযাবের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই নির্ধারণী ঘোষণা করে দিয়েছেন—“অবশ্যই আল্লাহর রাসুলের মাঝে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ”। একজন মুমিনের মাহবুব এবং প্রিয় ব্যক্তিও হবেন একজনই—প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সেকথা প্রিয় হাবিব নিজ জবানে বলে গেছেন—“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ আমি হব তার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি; তার পিতা, পুত্র এবং সকল মানুষের চেয়ে”। (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-১৫)

প্রিয় নবির আদর্শকে ধারণ করতে হলে তাঁর সিরাত পাঠ করা জরুরি। তারও আগে জরুরি হলো—সিরাত চর্চার সূচনা ও মৌলিক সিরাত পরিচিতি জানা, বাংলাভাষায় কোনসব সিরাত রচিত ও অনূদিত হয়েছে—সেসব জানা। সিরাত পাঠের আগে কিছু মৌলিক বিষয় জানাও জরুরি। যেমন—কোন ধরনের সিরাত পড়ব, কোন ধরনের সিরাত পড়ব না, কারা সিরাতের মধ্যে বিকৃতি ঘটিয়েছে আর কোনটি নির্ভরযোগ্য ও কেন—ইত্যাদি।

সংকলন কর্তৃপক্ষের ঈদসংখ্যার সিদ্ধান্তটা হুট করেই নেওয়া। ঠিক যেভাবে হুট করে কিছু কল্যাণচিন্তায় শুরু হয়েছিল সংকলনের পথচলা, ঠিক তেমনি ঈদসংখ্যার সিদ্ধান্তটাও হুট করে। সিরাত নিয়ে প্রাথমিক কিন্তু মৌলিক আলোচনাগুলো আমাদের সামনে আসা দরকার। এজন্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়—সিরাতুন্নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। একদিকে হাতে সময় কম। অন্যদিকে লেখকগণ ব্যস্ত। খুব সীমিত সময়ে এবং সীমিত পরিসরে সংকলনের ঈদসংখ্যা (ঈদুল ফিতর-২০২০) প্রস্তুত হয়েছে।

সিরাত পাঠের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা, ইসলামের ইতিহাসে সিরাত চর্চার সূচনা ও মৌলিক সিরাত পরিচিতি, বাংলাভাষায় রচিত ও অনূদিত সিরাতসমূহ ও তার পর্যালোচনা, শিয়াদের সিরাত চর্চার ধারা এবং সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা, আলি নদভির সিরাত চর্চা এবং সিরাতের আয়নায় দায়ীদের কর্মপন্থা সহ অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে লেখা এসেছে। এই সংখ্যায় সরাসরি জীবনীর প্রতি নজর দেওয়ার চেয়ে এসব বিষয়ই মূল লক্ষ্য ছিল। যার কারণে নবিজির ধারাবাহিক জীবনী এখানে আলোচিত হয়নি। এরপরও নববি জীবনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ গাযওয়া নিয়ে বিস্তারিত লেখা এসেছে। উহুদ, খন্দক, খায়বার এবং তাবুক—এই চারটি গাযওয়া নিয়ে বিবরণমূলক লেখা এসেছে। আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা এখানে উল্লেখযোগ্য—নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম, অপরটি হলো—নবিজির বহুবিবাহ নিয়ে ইসলামবিদ্বেষীদের আপত্তির জবাব।

সময়স্বল্পতা এবং লেখকদের ব্যস্ততার কারণে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ লেখা সম্পন্ন হয়নি। অনেক কাঙ্ক্ষিত লেখকের লেখা সংগ্রহ করা যায়নি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য দুটি বিষয় ছিল—প্রাচ্যবিদদের সিরাত চর্চা এবং জাহিলিয়াতের প্রকৃত পরিচয়। সময়স্বল্পতার কারণে সংখ্যাটিকে পরিপূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। তবে আশা রাখি, পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলার তাওফিক শামিলে হাল হলে সিরাত বিষয়ক আরও সংখ্যা এবং আরও কাজ সামনে আসবে। বিবিধ ব্যস্ততার ভিতর দিয়ে যেসব আলিম ও লেখক সংকলনের এই সংখ্যায় শ্রমসাধ্য অংশগ্রহণ করেছেন—তাঁদেরকে আল্লাহ তাআলা কবুল করুন। এর যথাযথ জাযা এবং আরও তাওফিক আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে দান করুন। আমরা তাঁদেরকে শুকরিয়া জানাচ্ছি।

এই সংখ্যার পিছনে দুজন মানুষের শ্রম অতুলনীয়। এই দুজনই মূলত সংকলনের উদ্যোক্তা—মুহাম্মাদ কাউছারুল আলম ভাই এবং খালেদ হাসান আরাফাত খান। একজন টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন তিজারাহ আইটি লিমিটেডের মাধ্যমে, আরেকজন প্রচ্ছদ, ডিজাইন থেকে শুরু করে আইডিয়া সহ অন্যসব সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছেন নির্ঘুমভাবে। আল্লাহ তাআলা দুজনকেই কবুল করুন এবং জাযা দান করুন।

বানান বিষয়ে কিছুটা অসংলগ্নতা রয়ে গেছে। একেকজন লেখক একেক রীতি অনুসরণ করেছেন। কেউ পুরাতন রীতিতে লিখেছেন, কেউ লিখেছেন নতুন নিয়মে। এক্ষেত্রে কিছু সামান্য ব্যতিক্রম বাদে স্বাভাবিকভাবে লেখকদের বানানরীতিকে বহাল রাখা হয়েছে। এই বিষয়টি পাঠকের গোচরে রাখার অনুরোধ রইল।

শেষকথা, এই লকডাউনে সিরাত যেন হয় আমাদের পাঠ্য। সিরাতের সান্নিধ্যে কাটুক আমাদের সময়গুলো। এই সংখ্যার ওসিলায় যেন শুরু হয় আমাদের সিরাত চর্চা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে তাওফিক দান করুন এবং ক্ষমা করুন। আমিন।

বিনীত

মাহমুদ সিদ্দিকী

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: