আত্মশুদ্ধি

আউলিয়াদের কারামত | ইজহারুল ইসলাম

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

ইবনে তাইমিয়া রহ. এর কিতাবে বর্ণিত কিছু কারামত

ওলীদের কারামত সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেন,

وَمِنْ أُصُولِ أَهْلِ السُّنَّةِ وَالْجَمَاعَةِ : التَّصْدِيقُ بِكَرَامَاتِ الْأَوْلِيَاءِ وَمَا يُجْرِي اللَّهُ عَلَى أَيْدِيهِمْ مِنْ خَوَارِقِ الْعَادَاتِ فِي أَنْوَاعِ الْعُلُومِ وَالْمُكَاشَفَاتِ وَأَنْوَاعِ الْقُدْرَةِ وَالتَّأْثِيرَاتِ كَالْمَأْثُورِ عَنْ سَالِفِ الْأُمَمِ فِي سُورَةِ الْكَهْفِ وَغَيْرِهَا وَعَنْ صَدْرِ هَذِهِ الْأُمَّةِ مِنْ الصَّحَابَةِ وَالتَّابِعِينَ وَسَائِرِ قُرُونِ الْأُمَّةِ وَهِيَ مَوْجُودَةٌ فِيهَا إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বীদা হল, আউলিয়াদের কারামতের সত্যায়ন করা। এবং ইলম, কাশফ, বিভিন্ন প্রকার কুদরত ও তা’ছীরের ক্ষেত্রে তাদের থেকে যেসমস্ত অস্বাভাবিক বিষয় প্রকাশিত হয, তার সত্যায়ন করা। যেমন পূর্ববর্তী উম্মতের মাঝে আসহাবে কাহাফ ও অন্যান্যদের কারামত এবং এ উম্মতের মাঝে সাহাবা, তাবেয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন ও কিয়ামত পর্যন্ত প্রত্যেক যুগে কারামত প্রকাশ পেতে থাকবে। সুতরাং এ উম্মতের কারামত কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে”[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ–৩, পৃষ্ঠা-১৫৬]

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,

فَأَوْلِيَاءُ اللَّهِ الْمُتَّقُونَ هُمْ الْمُقْتَدُونَ بِمُحَمَّدِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيَفْعَلُونَ مَا أَمَرَ بِهِ وَيَنْتَهُونَ عَمَّا عَنْهُ زَجَرَ ؛ وَيَقْتَدُونَ بِهِ فِيمَا بَيَّنَ لَهُمْ أَنْ يَتَّبِعُوهُ فِيهِ فَيُؤَيِّدُهُمْ بِمَلَائِكَتِهِ وَرُوحٍ مِنْهُ وَيَقْذِفُ اللَّهُ فِي قُلُوبِهِمْ مِنْ أَنْوَارِهِ وَلَهُمْ الْكَرَامَاتُ الَّتِي يُكْرِمُ اللَّهُ بِهَا أَوْلِيَاءَهُ الْمُتَّقِينَ . وَخِيَارُ أَوْلِيَاءِ اللَّهِ كَرَامَاتُهُمْ لِحُجَّةِ فِي الدِّينِ أَوْ لِحَاجَةِ بِالْمُسْلِمِينَ كَمَا كَانَتْ مُعْجِزَاتُ نَبِيِّهِمْ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَذَلِكَ كَرَامَاتُ أَوْلِيَاءِ اللَّهُ إنَّمَا حَصَلَتْ بِبَرَكَةِ اتِّبَاعِ رَسُولِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

“মুত্তাকী ওয়ালী আল্লাহগণ যারা রাসূল (সঃ) এর একনিষ্ঠ অনুসারী, রাসূল (সঃ) যা আদেশ করেছেন, তা পালন করে এবং রাসূল (সঃ) যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকে, এবং তাদেরকে যে সমস্ত বিষয়ে আনুগত্যের আদেশ দিয়েছেন সেসমস্ত বিষয়ে আনুগত্য করে, ফলে আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করেন, এবং তাদের অন্তরে আল্লাহ তায়ালা নূর দান করেন। তাদের বিভিন্ন কারামত রয়েছে, যার মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাঁর মুত্তাকী ওলীদেরকে সম্মানিত করেন। শ্রেষ্ঠ ওলী আল্লাহদের কারামত দ্বীনের জন্য হুজ্জত কিংবা মুসলমানদের প্রয়োজনে প্রকাশিত হয়, যেমন নবীদের মু’জিযা প্রকাশিত হয়। ওলী আল্লাহদের কারামত মূলতঃ নবী কারীম (সঃ) এর অনুসরণের বরকতে হাসিল হয়”[মাজমুউল ফাতাওয়া, খ–১১, পৃষ্ঠা-২৭৪]

আল্লামা ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) তাঁর “মাজুমউল ফাতাওয়ায়” كرمات حصلت للصحابة و التابعين و الصالحين (সাহাবী, তাবেয়ী ও সালেহীনদের কারামত) শিরোনামের অধীনে ওলী আল্লাহদের অনেক কারামত উল্লেখ করেছেন।আমরা এখানে সংক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি উল্লেখ করছি

জ্যোতি হয়ে ফেরেশতাদের অবতরণ:

হযরত উসাইদ ইবনে হুজাইর রা. সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করছিলেন। আসমান থেকে মেঘ খন্ডের মতো আলোকময় বাতিসদৃশ কিছু উজ্জ্বল প্রদীপ নেমে এলো। এরা ছিলো ফেরেশতা। হযরত উসাইদের তেলাওয়াত শুনে আসমান থেকে নেমে এসেছে। ফেরেশতারা হযরত ইমরান ইবনে হুসাইন রা. কে সালাম দিতো।

খাবারের পাত্র থেকে আল্লাহর তাসবীহ :

হযরত সালমান ফার্সী ও হযরত আবু দারদা রাজি. খাবার খাচ্ছিলেন। ইতোমধ্যে খাবারের পাত্র অথবা পাত্রের খাবার আল্লাহর তাসবীহ পাঠ করলো।

আলোকদন্ড:

হযরত আব্বাদ বিন বিশর ও হযরত উসাইদ ইবনে হুজাইর রা. একটি অন্ধকার রাতে স. এর দরবার থেকে বের হলেন। হঠাৎ তাদের জন্য একটি বাতির আবির্ভাব হলো। এটি ছিলো বেতের অগ্রভাগ সদৃশ। তারা যখন পরস্পর থেকে পৃথক হলো আলোটিও তাদের সাথে পৃথক হয়ে গেলো। [বোখারী ও অন্যান্যা হাদীসের কিতাব দ্রষ্টব্য]

খাবার বাড়তেই ছিলো:

বোখারী মুসলিমসহ অন্যন্যা হাদীসের কিতাবে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. এর ঘটনা রয়েছে, “তিনি তিনজন মেহমান নিয়ে ঘরে উপস্থিত হন। তারা এক লুকমা খেলে নিচের থেকে খাবার বেড়ে যাচ্ছিলো। তারা পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করলেন। অথচ খাবার পূর্বের চেয়ে অনেকগুণ বেড়ে গিয়েছিলো। হযরত আবু বকর ও তার স্ত্রী খাবারের দিকে তাকিয়ে দেখলেন, এটি পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি। তারা এই খাবার রাসূল স. এর নিকট নিয়ে গেলো। রাসূল স. এর দরবারে অনেক লোক উপস্থিত হলো। তারা সকলেই সেই খাবার তৃ্প্তিসহ আহার করলো।

অদৃশ্য থেকে খাদ্য:

বোখারীর বর্ণনায় রয়েছে,

হযরত খুবাইব ইবনে আদী রা. মক্কার মুশরিকদের নিকট বন্দী ছিলেন। তিনি বন্দী অবস্থায় আঙ্গুর খেতেন অথচ তখন মক্কায় কোন আঙ্গুর ফল পাওযা যেত না।

শহীদের দেহ আকাশে উত্তোলন:

[বোখারীর বর্ণনায় রয়েছে]

হযরত আমের ইবনে ফুহাইরা যখন শহীদ হন, তখন তার দেহ আসমানে উঠিয়ে নেয়া হয়। তারা তার দেহ খুজে পায়নি। আমের ইবনে তোফাইল দেখেছেন যে হযরত আমের ইবনে ফুহাইরা রা. এর দেহ উপরে উঠানো হয়েছিলো। ইমাম উরওয়া বলেছেন, তারা ফেরেশতাদেরকে তার দেহ উঠিয়ে নিতে দেখেছেন।

অদৃশ্য থেকে পানির ব্যবস্থা:

হযরত উম্মে আইমান হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তার সাথে কোন পাথেয় বা পানির ব্যবস্থা ছিলো না। তিনি পিপাসার তাড়নায় প্রায় মৃত্যুমুখে পতিত হলেন। তিনি তখন রোজাদার ছিলেন। ইফতারীর সময় তিনি মাথার উপর একটি আওয়াজ শুনলেন। মাথা উঠিয়ে দেখলেন একটি বালতি ঝুলছে। তিনি সে বালতি থেকে পানি পান করলেন। তিনি পরিতৃপ্ত হলেন। এরপর জীবনে কখনও তিনি তৃষ্মার্ত হননি।

সিংহ পথ দেখিয়ে দিলো:

হযরত সাফিনা রা. ছিলেন রাসূল স. এর আজাদ করা গোলাম। তিনি সিংহকে বললেন, আমি আল্লাহর রাসূলের দূত। তখন সিংহ তার সাথে চলতে শুরু করলো এমনকি তাকে গন্তব্যে পৌছে দিলো।

বিষ প্রতিক্রিয়াহীন:

হযরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রা. একটি দুর্গ অবরোধ করলেন। তারা বলল, আপনি যদি বিষ পান করেন তাহলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করবো। হযরত খালেদ ইবনে ওয়ালিদ রা. বিষ পান করলেন কিন্তু তার কিছু হলো না।

মুস্তাজাবুদ দাওয়াহ:

হযরত সায়াদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. ছিলেন মুস্তাজাবুদ দাওযাহ (যার সব দুয়া কবুল হয়)। তিনি যতো দুযা করেছেন সবগুলোই কবুল হয়েছে। তিনি কিসরার সেনাবাহিনীকে পরাজিত করেন এবং ইরাক জয় করেন।

দূর থেকে সম্বোধন:

হযরত উমর রা. মদীনার মেম্বরে খুতবা দেয়ার সময় হযরত সারিয়াকে সম্বোধন করে আওয়াজ দেন। ঘটনাটি বেশ প্রসিদ্ধ।

দুয়ার কারণে অন্ধ হয়ে যাওয়া:

আরওয়া বিনতে হাকাম হযরত সাইদ ইবনে যায়েদের উপর মিথ্যা অপবাদ দেয়। হযরত সাইদ ইবনে যায়েদ তখন বলেন, হে আল্লাহ, সে যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে, তাহলে তাকে অন্ধ বানিয়ে দিন এবং তার নিজ দেশে তার মৃত্যু দান করুন। এরপর আরওয়া বিনতে হাকাম অন্ধ হয়ে যায় এবং তার নিজ দেশে একটি কুপে পড়ে মৃত্যুবরণ করে।

পানির উপর চলা ও কবর থেকে অদৃশ্য হওয়া:

হযরত আলা ইবনে হাজরমী রা. রাসূল স. এর পক্ষ থেকে নিযুক্ত বাহরাইনের গভর্ণর ছিলেন। তিনি দুয়ার সময় বলতে, ইয়া আলীমু, ইয়া হালীমু, ইয়া আলী, ইয়া আজীমু। অত:পর তিন দুয়া করলে তা কবুল হতো। তিনি আল্লাহর কাছে পানি পান করানো এবং ওযুর পানির ব্যবস্থার জন্য দুয়া করেন। তাদের কাছে তখন কোন পানি ছিল না। আল্লাহ পাক তাদেরকে পানির ব্যবস্থা করেন। তিনি সমুদ্রের পাড়ে এসে সমুদ্র পার হওয়ার জন্য দুয়া করেন। তাদের কাছে সমুদ্র পার হওয়ার কোন বাহন ছিলো না। তারা ঘোড়াসহ সমুদ্র পার হয়ে যান, অথচ তাদের ঘোড়াগুলোর ক্ষুরও পানিতে ভিজেনি। তিনি আল্লাহর কাছে দুয়া করেছিলেন, তার মৃত্যুর পরে কবরে যেন তার লাশ না দেখা যায়। তার মৃত্যুর পরে বাস্তবেও তারা তার কবরে কোন লাশ খুজে পায়নি।

আগুনে দগ্ধ না হওয়া, নদী পার হওয়া এবং বিষ ক্রিয়া না করা:

হযরত আবু মুসলিম খাওলানী রহ. এর বিখ্যাত ঘটনা রয়েছে। তিনি কোন বাহন ছাড়া দজলী নদী পার হয়েছে। মিথ্যা নবুওয়াতের দাবীদার আসওয়াদ আনাসী তাকে আগুনে নিক্ষেপ করলে তিনি আগুনের মাঝে দাড়িয়ে নামায পড়তে থাকেন। মদীনায় আসার পর তার খাদ্যে একজন বাদী বিষ মিশিয়ে দিলেও তার কিছু হয়নি।

দৃষ্টি থেকে অদৃশ্য হওয়া এবং বদ দূযার কারণে খারেজীদের মৃত্যু:

হযরত হাসান বসরী রহ. হাজ্জাজ বিন ইউসুফ থেকে আত্মগোপন করেন। তাকে খোজার জন্য হাজ্জাজ ছয়বার তার বাড়ীতে লোক পাঠায়। কিন্তু হযরত হাসান বসরীকে তারা একবারও দেখতে পারেনি। হযরত হাসান বসরী রহ. কে কিছু খারেজী কষ্ট দিতো। তিনি তাদের উপর বদ দুয়া করার সাথে সাথে তারা মৃত্যুবরণ করে।

ঘোড়া মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত হওয়া:

হযরত ওসলাহ বিন আশয়াম র. একটি যুদ্ধে ছিলেন। হঠাৎ তার ঘোড়া মারা যায়। তিনি আল্লাহর কাছে ঘোড়া জীবিত হওযার জন্য দুয়া করেন। অত:পর ঘোড়াটি জীবিত হয়ে যায়। তিনি যখন ঘোড়াটি নিয়ে বাড়ী আসেন, তার ছেলেকে বলেন, ঘোড়ার জিন ধরো। কেননা এটি মৃত ঘোড়ার উপর রয়েছে। ঘোড়ার জিন খুলে নেয়ার সাথে সাথে ঘোড়াটি আবার মৃত্যুবরণ করে।

রাসূল স. এর কবর থেকে আজানের আওয়াজ:

হাররার সময় হযরত সাইদ ইবনে মুসায়্যাব রাসূল স. এর কবর থেকে আজানের আওয়াজ শুনে নামায আদায় করতেন। সেসময় মসজিদে নববীতে আজান হতো না। তিনি রাসুল স. এর কবর থেকে আজানের আওয়াজ শুনে নামায পড়তেন।

মৃতকে জীবিত করা:

“নাখ এর অধিবাসী এক ব্যক্তির একটি গাধা ছিল। পথিমধ্যে সেটি মৃত্যুবরণ করল। তার সাথীরা তাকে বলল, এসো তোমার জিনিসপত্র আমাদের বাহনে বন্টন করে নেই। সে তাদেরকে বলল, আমাকে কিছুক্ষণ সুযোগ দাও! অতঃপর সে উত্তমরূপে ওযু করে দু’রাকাত নামায আদায় করল এবং আল্লাহর নিকট দু’য়া করল। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তাঁরর গাধাকে জীবিত করে দিলেন। অতঃপর সে তার জিনিসগুলো বাহনের উপর উঠাল”[মাজমুঊল ফাতাওয়া, খ–১১, পৃষ্ঠা-২৮১]

প্রস্তত কবর:

হযরত ওয়েস কুরুনী রহ. যখন ইন্তেকাল করেন,তখন তার কাপড়ের মাঝে একটি কাফনের কাপড় পাওয়া যায়, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। তাকে দাফন দেয়ার জন্য নতুন কবর খোড়ার প্রয়োজন হয়নি। কারণ কারও খনন করা ছাড়াই কবর হযে গিয়েছিলো। লোকেরা তাকে উক্ত কবরে দাফন করে।

চোখের দৃষ্টি পরিমাণ কবর প্রশস্ত হওয়া:

হযরত আহনাফ বিন কায়েস যখন ইন্তেকাল করেন, এক ব্যক্তির একটি টুপি তার কবরে পড়ে যায়। লোকটি টুপি নেয়ার জন্য কবরে ঝুকে দেখে যে কবরটি তার দৃষ্টিসীমা পরিমাণ প্রশস্ত হয়ে গেছে।

[ইবনে তাইমিয়া রহ. তার মাজমুয়াতুল ফাতাওযার ১১ খন্ডের ২৭৬ পৃ. থেকে ২৮২ পৃষ্ঠায় মোট ২৯ টি কারামত উল্লেখ করেছেন। আমরা এখানে সংক্ষেপে তার কারামতগুলো উল্লেখ করেছি। কয়েকটি কারামত এখানে উল্লেখ করা হয়নি। ]

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: