সংকলন
মাহদি হাসান

বিখ্যাত মুসলিম পর্যটকগণ ও তাদের রিহলাহ | মাহদি হাসান

আমরা সবাই ‘ভ্রমণ’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। রোজকার ক্লান্তির জীবন থেকে কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে আমরা মাঝেমধ্যেই বেরিয়ে পড়ি ভ্রমণে। আমরা যারা মাদরাসা পড়ুয়া তাদের ভাষায় সফর অথবা সাইর। এই সাইর আমাদের যতটা স্বস্তি বা আনন্দ দেয়, ততটা শিক্ষার উপাদানও কিন্তু এর মধ্যে আছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন,

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ

‘আপনি বলুন, তোমরা জমিনে ভ্রমণ করো। অতঃপর প্রত্যক্ষ করো অপরাধীদের কেমন শাস্তি দেয়া হয়েছিল। [সুরা নামল: ৬৯]

قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَانْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلُ كَانَ أَكْثَرُهُمْ مُشْرِكِينَ
‘আপনি বলুন, তোমরা জমিনে ভ্রমন করো। অতঃপর প্রত্যক্ষ করো পূর্ববর্তী লোকদের পরিণতি কী হয়েছিল, যাদের অধিকাংশই ছিল আল্লাহ তাআলার সঙ্গে অংশীদার সাব্যস্তকারী। [সুরা রুম: ৪২]

أَفَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنْظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ
তারা কি জমিনে ভ্রমন করে না? তাহলে দেখতে পারত পূর্ববর্তী লোকদের কী পরিণতি হয়েছিল। [সুরা গাফির: ৮২]

উপরিউক্ত আয়াতসমূহে অনুপ্রাণিত হয়ে যুগে যুগে অনেক মুসলিম বিশ্বের আনাচে কানাচে সফর করেছেন। অনেকে সফর করেছেন জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে। অনেক সফর করেছেন নিছকই ঘুরাঘুরি করার জন্য। সফর থেকে ফিরে এসে তাদের অনেকেই লিখেছেন ভ্রমন অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ। আরবি সাহিত্যে এই ভ্রমণবৃত্তান্তকে বলা হয় রিহলাহ। রিহলাহ এবং মুসলিম পর্যটক প্রসঙ্গ আসলেই আমাদের সামনে দুটি নাম চলে আসে। ইবনে বতুতা ও ইবনু জুবাইর। তারা তাদের রিহলাহ তথা ভ্রমণবৃত্তান্তের মধ্য দিয়ে পাঠকের সম্মুখে নিজেদের সময়কে দৃশ্যমানভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। ফলে তাদের এই ভ্রমণবৃত্তান্ত হয়ে গেছে সেই সময়কার ঐতিহাসিক দলিল।

খিলাফতে রাশিদার সময় থেকে ক্রমেই ইসলামের বার্তা ছড়াতে শুরু করে বিশ্বের আনাচে কানাচে। একসময় পূর্বে চীন থেকে নিয়ে পশিমে আটলান্টিক মহাসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল মুসলিমদের করতলে চলে আসে। তখন অনেকেই মুসলিম বিশ্বের এ প্রান্তে ও প্রান্তে সফর করেন। অনেক পর্যটক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পবিত্র মক্কা-মুকাররমায় হজ্ব করতে আসেন। তখন থেকেই শুরু হয় মুসলিমদের রিহলাহ। ভ্রমণপথে নিজেদের দেখা শহর-বন্দর, সেখানকার পথ-পরিবেশ ইত্যাদির বর্ণনার তারা অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করেন। অনেকে সফর করেন ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে।

আরব্য রজনীর গল্পে আলোচিত সিন্দাবাদের ঘটনা-(যেটির সময়কাল উল্লেখ করা হয়েছে খলিফা হারুনুর রশিদের খিলাফতকালকে)-থেকে জানা যায়, আব্বাসি খিলাফতের সময় থেকে আরবরা সমুদ্রপথে ভ্রমণ শুরু করে। যা বাগদাদ থেকে শুরু করে পারস্য প্রণালী হয়ে মালাক্কা দ্বীপ পর্যন্ত গিয়ে শেষ হতো। হিন্দুস্তানের মসলা, সুগন্ধি এবং চীনের রেশমি কাপড় সংগ্রহের জন্য এইসব সফরে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ ছিল লক্ষ্যনীয়। [আর-রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রামাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা:৩৫]

এইসব পর্যটকদের অনেকেই পরবর্তীতে নিজেদের ভ্রমণবৃত্তান্ত লিখেছেন। নিজেদের চোখে দেখা বিভিন্ন শহর-নগর, নদী-বন্দর, সভ্যতা, কৃষ্টি-কালচারের চমকপ্রদ বিবরণ তুলে ধরেছেন তারা। অনেকে বর্ণনা করেছেন সফরকালে পথিমধ্যে নানা বিপদাপদ ও দুর্যোগের কথা। অনেকে তুলে ধরেছেন সমুদ্রপথে সফরের রোমাঞ্চকর বিবরণ। দিয়েছেন উত্তাল সমুদ্রের বুকে ভয়াল বিভীষিকার রোমহর্ষক বর্ণনা।

একটি কথা স্মর্তব্য যে, আব্বাসি খিলাফতের সময়ে ইসলামি ইতিহাসে জ্ঞানের উন্মেষ ঘটে। এসময় ইসলামি জ্ঞানশাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে রচনা ও সংকলন শুরু হয়। তারিখ তথা ইতিহাসের গ্রন্থগুলোও এ সময়ে লিখা শুরু হয়। তাই যারা আব্বাসি খিলাফত ও পরবর্তী সময়ে ভ্রমণ করেছেন এবং এ নিয়ে লেখালেখি করেছেন তারাই ইতিহাসে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তবে এর আগেও অনেক রিহলাহ করেছেন। তবে তাদের মাঝে ভ্রমণবৃত্তান্ত লেখার প্রচলন তেমন ছিল না। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, বারজাক ইবনু শাহরিয়ার আর-রামাহুরমুজি। তিনি লিখেছেন ‘আজায়িবুল হিন্দি, বাররুহু ওয়া বাহরুহু ওয়া জাযায়িরুহু’ নামের গ্রন্থ। সালাম আত-তারজুমান, সুলাইমান আত-তাজির, ইবনু ওয়াহাব আল-করশি, ইবনু ফুজলান এবং আবু দিলফ আল-খাজরাজি এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য নাম। তাদের পরবর্তী সময় থেকে অনেকে রিহলাহ তথা ভ্রমণবৃত্তান্ত লেখা শুরু করেন। তাদের লেখার মধ্য দিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠি। মুসলিম ইতিহাসের এমনই কজন বিখ্যাত পর্যটক ও তাদের অভিজ্ঞতার কথা জেনে নিই চলুন।

১. ইবনু খারদাজবা

পুরো নাম আবুল কাসিম উবাইদুল্লাহ ইবনু খারদাজবা। ২০৫ হিজরি মোতাবেক ৮২০ খ্রিষ্টাব্দে খোরাসানে তার জন্ম। কৈশোর, যৌবন এবং শিক্ষাজীবন কেটেছে বাগদাদে। তার পিতা ছিলেন তাবারিস্তানের প্রশাসক। শাস্ত্রীয় জ্ঞানের পাশাপাশি সঙ্গীত এবং সাহিত্যেও ইবনু খারদাজবা দক্ষ ছিলেন।

বিত্তশালী পরিবারের সন্তান ইবনু খারদাজবা খলিফা মুতামিদ আব্বাসির সময়ে ইরানের মিদিয়েয়া শহরের ডাকবিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি জানজিদের বিদ্রোহসহ আরও বিভিন্ন ঘটন-অঘটন প্রত্যক্ষ করেন। এ সময়েই আব্বাসি খিলাফতের পূর্বাঞ্চলে তাহেরি, সাফফারি ও সামানি প্রভৃতি বেশ কিছু স্বাধীন সাম্রাজ্য গড়ে উঠে।

ইবনু খারদাজবা আব্বাসি আমলের সবচেয়ে প্রাচীন পর্যটক ও ভূগোলবিদ। ‘আল-মাসালিক ওয়া মামালিক নামের মূল্যবান একটি গ্রন্থ তিনি আমাদের জন্য রেখে গিয়েছেন। এই গ্রন্থটিকে ভূগোল বিষয়ে আরবি ভাষায় সর্বপ্রাচীন একটি গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সমুদ্রযাত্রায় মুসাফিরগণ এই গ্রন্থের সাহায্য নিতেন। ইরাকের দজলা নদীর তীরের আল-আবেলা শহর থেকে তিনি সামুদ্রিক সফর শুরু করেছিলেন। যা শেষ হয়েছিল চীন ও হিন্দুস্তানে এসে। ২৭২ মতান্তরে ৩০০ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা: ৫৫-৬২]

২. আবুল ফরজ কুদামা ইবনু জাফর

কুদামার বেড়ে উঠা ছিল ইরাকে। তার পিতা ছিলেন খ্রিষ্টান। ছাত্র বয়সেই নিজের প্রতিভা ও দক্ষতা দেখিয়ে তিনি সবার নজর কেড়ে নেন। খলিফা মুক্বতাদির বিল্লাহর সময়ে ২৯৭ হিজরি মোতাবেক ৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। সে সময় তিনি সাম্রাজ্যের কর উসুল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ৩২৫ হিজরি অর্থাৎ খলিফা মুক্বতাদির বিল্লাহর পতন পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্বে বহাল থাকেন। কর বিভাগের এই দায়িত্বের ফলেই তিনি খিলাফতের প্রতিনিধি হিসেবে সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি শুধু কর এবং সম্পদ সংক্রান্ত ব্যাপারেই অভিজ্ঞতা অর্জন করেননি। বরং বিভিন্ন শহর-বন্দর, তাদের সভ্যতা, ইতিহাস, কৃষ্টি-কালচার, তাদের কথা বলার ধরণ, লেখার ধরণ এসব বিষয়েও লাভ করেন অসামান্য অভিজ্ঞতা। এতসব অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়ে তিনি প্রভূত বিষয়ে কলম ধরেন। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হচ্ছে, তার সেইসব রচনা থেকে অধিকাংশই হারিয়ে যায়। বিশেষ করে ভাষাশাস্ত্র এবং ইতিহাস বিষয়ে তিনি অনেক কিছু লিখেছিলেন। শুধু ‘সুনআতুল কিতাবাহ’ নামক একটি গ্রন্থের কিছু অংশ পাওয়া যায়। যেটি ছিল তার লেখা ‘কিতাবুল খারাজ’ নামক গ্রন্থের চতুর্থ ও শেষ অধ্যায়।

এই গ্রন্থে তিনি সাম্রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গমনপথের অত্যন্ত সুক্ষ বর্ণনা দিয়েছেন। তার এই গ্রন্থ ইবনু খারদাজবা রচিত ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’ এর মতোই প্রায়। উভয় গ্রন্থেই বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতের গমনপথের দূরত্ব সংখ্যায় উল্লেখ করার প্রতি জোর দেয়া হয়েছে। উভয়েই সাম্রাজ্যের দুই বিভাগের প্রতিনিধি হওয়ায় তাদের লেখার ধরনের মাঝেও মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
৩১০ হিজরিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা: ৬৩-৭০]

৩. আহমাদ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ওয়াজিহ [ইয়াকুবি নামে প্রসিদ্ধ]

পুরো নাম আহমাদ ইবনু ইয়াকুব ইবনু জাফর ইবনু ওয়াহাব ইবনু ওয়াজিহ। তার দাদা ছিলেন খলিফা মানসুরের আজাদকৃত ক্রীতদাস। পর্যটক হওয়ার পাশাপাশি ইতিহাসবিদ এবং ভূগোলবিদ হিসেবেও ইয়াকুবি ছিলেন সমাদৃত। আর্মেনিয়া, ইরান, হিন্দুস্তান, মিসর এবং মাগরিব অঞ্চলে তিনি দীর্ঘ সফর করেছিলেন। তার রচিত ‘কিতাবুল বুলদান’ এ বিষয়ে আমাদের পরিচিত সবচেয়ে প্রাচীন গ্রন্থ।

ইতিহাস নিয়েও তিনি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। যা তারিখে ইয়াকুবি নামে প্রসিদ্ধ। যেটি ইসলামের ইতিহাস নিয়ে রচিত প্রথমদিকের একটি গ্রন্থ। খলিফাদের হিসেবে গ্রন্থটির বিন্যাস করা হয়েছে এবং খলিফা মুতামিদ বিল্লাহর সময় পর্যন্ত ইতিহাস উল্লেখ করা হয়েছে।

ইয়াকুবি রচিত ‘কিতাবুল বুলদান’ ইলমুল বুলদান তথা বিভিন্ন দেশের বর্ণনা সংক্রান্ত শাস্ত্রে নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের একটি। নিজের বিভিন্ন সফর, খোরাসানে তাহেরি সাম্রাজ্য এবং মিসর ও শামের তুলুনিয়া সাম্রাজ্যে কাজের অভিজ্ঞতা তিনি এখানে তুলে ধরেছেন। এর পাশাপাশি অন্যদের বর্ণনাও তিনি এখানে চয়ন করেছেন। তবে লেখার ধরনের দিক দিয়ে ইয়াকুবি পূর্বসূরিদের থেকে ভিন্ন পথে হেঁটেছেন। গ্রন্থে সন্নিবেশিত সকল তথ্য নিয়ে তিনি গভীর অনুসন্ধান চালিয়েছেন। গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি এ ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে ইয়াকুবি ছিলেন আলাভি সম্প্রদায়ের অনুরক্ত। তাই তার লেখায় আমরা আলাভিদের বিরোধীদের নিন্দা ও সমালোচনা দেখতে পাই। বিশেষ করে বনু উমাইয়া বংশের ব্যাপারে। এ ধারায় তিনি উসমান ইবনু আফফান রাদিয়াল্লাহু আনহুকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন। এছাড়াও বনু উমাইয়ার কতক খলিফার ব্যাপারে তিনি অপ্রমাণিত ও অশুদ্ধ অনেক অভিযোগ এনেছেন। এসব বিষয় বাদ দিলে ইয়াকুবি রচিত ‘কিতাবুল বুলদান’ তথ্যভাণ্ডারের দিক দিয়ে বেশ সমৃদ্ধ। ২৮৪ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা:৭১-৭৮]

৪. আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনু মুহাম্মাদ আল-ইস্তাখারি [কারখি নামে প্রসিদ্ধ]

সফর ও ভ্রমণের প্রতি তিনি আসক্ত ছিলেন বলা যায়। বিভিন্ন দেশ, শহর-বন্দর ও সমুদ্রে তিনি ভ্রমণ করেছেন এবং এর বিবরণ দিয়েছেন।
তার জীবন সম্পর্কে তেমন বিস্তারিত জানা যায় না। ইরানের ইস্তাখারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩৪০ হিজরিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার রচিত গ্রন্থের নাম ও ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক’। এই গ্রন্থে তিনি মুসলিম দেশগুলোকে দশটি ভাগে বিভক্ত করেন। শুরু করেন আরবের দেশগুলোর বিবরণ দিয়ে এবং সমাপ্ত করেন মাওরায়ান্নাহার অঞ্চলের দেশগুলোর বিবরণ দিয়ে। প্রতিটি দেশের শহর, নগর, ব্যবসা, কৃষিব্যবস্থা ও নাগরিকদের পেশার বিবরণ দিয়েছেন। এমনকি তিনি মানচিত্রও উল্লেখ করেছেন। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ পৃষ্ঠা:৭৯-৮৪]

৫. ইবনুল ফকিহ আল-হামদানি

তিনি ছিলেন তৃতীয় হিজরি শতাব্দির একজন ভূগোলবিদ। তিনি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছেন এবং এ নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছেন। বিশেষ করে আরব ও হেজাজ অঞ্চল নিয়ে তিনি অধিক আলোচনা করেছেন। তার রচনাবলীর মধ্যে ‘মুখতাসারু কিতাবিল মুলদান’ নামক গ্রন্থটি উল্লেখযোগ্য। যা তিনি ২৭৯ হিজরির দিকে রচনা করেন। উক্ত গ্রন্থে চীন, হিন্দুস্তান ও আরব অঞ্চলের-বিশেষ করে বসরা ও কুফার স্থল ও সমুদ্রপথের বিবরণ প্রদান করেন। মাকদিসি এবং ইয়াকুত আল-হামাভি প্রমুখ তাদের গ্রন্থে ইবনুল ফকিহ আল-হামাদানি থেকে অনেক তথ্য চয়ন করেছেন।

ইবনুল ফকিহ আল-হামদানি স্বীয় গ্রন্থে মুসলিম ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলীও উল্লেখ করেছেন। ইরাক অঞ্চলের প্রতি দিয়েছেন বিশেষ গুরুত্ব। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা: ৮৯-৯৩]

৬. আবু আলি আহমাদ ইবনু উমর ইবনু রুস্তা

তৃতীয় হিজরি শতাব্দির পরিব্রাজক এবং ভূগোলবিদদের মাঝে তিনি ছিলেন অন্যতম। গ্রীক ও রোমক গ্রন্থগুলো থেকে তিনি অনেক জ্ঞান লাভ করেছিলেন। ২৯৯ হিজরির দিকে তিনি ‘আল-আলাকুন নাফসিয়্যাহ’ গ্রন্থ রচনা করেন। যেখানে তার অর্জিত সকল তথ্য ও জ্ঞানের ভাণ্ডার জমা করেন তিনি।

গ্রন্থের প্রথমভাগে তিনি আসমান ও জমিনের বিভিন্ন আশ্চর্য বিষয়, পৃথিবীর আয়তন, বিভিন্ন স্থানের বিবরণ এবং পরিবেশ ও আবহাওয়া ইত্যাদি দুর্লভ বিষয় উল্লেখ করেন। গ্রন্থের সপ্তমভাগে করেছেন জ্যোতির্বিদ্যা নিয়ে আলোচনা।

এই গ্রন্থ রচনা করার সময় তিনি ইরানের ইস্ফাহান শহরে বসবাস করছিলেন। তাই বিভিন্ন দেশ ও শহরের বিবরণ দেয়ার সময় তিনি এই শহরের প্রতি দিয়েছিলেন বিশেষ গুরুত্ব। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা:৮৫-৮৮]

৭. আবু মুহাম্মাদ আল-হাসান ইবনু আহমাদ ইবনু ইয়াকুব আল-হামদানি
[ইবনুল হায়েক নামে প্রসিদ্ধ]

তাকে বলা হয় লিসানুল ইয়ামান তথা ইয়ামানের মুখপাত্র। তার জন্ম হয় ইয়ামানের সানায়। ধারণা করা হয় খলিফা মুতাওয়াক্কিলের সময়ে তার জন্ম। হামদানির বেড়ে উঠা ছিল এমন এক সময়ে যখন মুসলিমরা জ্ঞানে ও সাহিত্যে অনেক অগ্রগামী হয়েছিল। সেই সমৃদ্ধির মিছিলে হামদাই নিজেকেও শামিল করেছিলেন। সে সময়ের ইতিহাস, বংশধারা এবং ভৌগলিক ও জ্যোতির্বিদ্যার জ্ঞান তিনি আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন। তার রচিত গ্রন্থ ‘কিতাবুল ইকলিল’কে ইয়ামানের ইতিহাসের মৌলিক রেফারেন্স গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দশ খণ্ডে রচিত এই গ্রন্থে তিনি তার সময়ের ইয়ামান এবং এর আগের সময়ে ইয়ামানের ইতিহাস ও সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেছেন। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা:৯৫-১০০]

৮. আবুল হাসান আলি ইবনুল হুসাইন ইবনু আলি আল মাসউদি

মুসলিম ইতিহাসের প্রসিদ্ধ পরিব্রাজক ও ভূগোলবিদদের মাঝে মাসউদিই সম্ভবত সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার অধিকারী। তাই জ্ঞান ও তথ্যের দিক দিয়েও তিনি সমৃদ্ধ। ইবনু খাল্লিকান তাকে ইমামুল মুওয়াররিখিন অর্থাৎ ইতিহাসবিদদের নেতা উপাধি দিয়েছেন। ধারণা করা হয়, তার জন্ম বাগদাদে এবং তিনি ছিলেন প্রসিদ্ধ সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর বংশধর। ৩০৫ হিজরিতে ইরানে সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার ভ্রমণযাত্রা। তারপর ৩৪৫ হিজরিতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি হিন্দুস্তান তথা ভারত উপমহাদেশ, শ্রীলংকা, চীন, আম্মান, জাঞ্জিবার, পূর্ব আফ্রিকার উপকূল, সুদান, কাস্পিয়ান সাগর, ফিলিস্তিন, এশিয়া মাইনর, এন্টিয়ক, শাম, ইরাক এবং আরবের দক্ষিনাঞ্চল ঘুরে মিসরে গিয়ে উপনীত হন। সেখানেই তার ইন্তেকাল হয়। তার রচিত গ্রন্থ শুধু ইতিহাস ও ভূগোল বিষয়ক বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আরও বিভিন্ন শাস্ত্রীয় জ্ঞানের সন্নিবেশ ঘটেছিল এই গ্রন্থে। যদিও বেশ কিছু ক্ষেত্রে তিনি বিচ্যুতির শিকার হয়েছেন। তবে মুসলিম বিশ্বের এমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য দিয়ে তিনি আমাদের ঋণী করে গিয়েছেন, যেগুলো কেবল তার কাছেই পাওয়া যায়। তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা অনেক। তবে এর বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে। যেগুলো অক্ষত আছে তন্মধ্য হতে সাতটি গ্রন্থ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। ১. যাখায়িরুল উলুম ওয়া মা কানা ফি সায়িরিদ দুহুর, ২. আল-ইস্তিজকার লিমা মাররা ফি সালাফিল আ’মার, ৩. আত-তারিখ ফি আখবারিল উমামি মিনাল আরবি ওয়াল আজম, ৪. আখবারুজ জামান, ধারনা করা হয় এটি ত্রিশ খণ্ডে রচনা করা হয়েছিল। ৫. আল-আওসাত, যেটি ছিল আখবারুজ জামানের সংক্ষিপ্ত রূপ। ৬. মুরুজুয যাহাব ও মা’দানুল জাওহার। ৭. মুরুজুয যাহাব।

তবে একটি বিষয় প্রসিদ্ধ যে, মাসউদি ছিলেন মুতাজিলাপন্থী। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণ শেষে জীবনসায়াহ্নে তিনি মিসরে এসে বাস করেন এবং সেখানে এসেই শেষোক্ত দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। ইতিহাস রচনার ধারায় মাসউদি যোগ করেন একটি নতুন প্রথা। ইতিহাসের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি হিজরি বর্ষের হিসেবে বিন্যাস না করে বিভিন্ন দেশ, রাজ্য এবং পরিবারের ভিত্তিতে এর বিন্যাস করেন। পরবর্তী অনেকেই এক্ষেত্রে তার অনুসরণ করেন। তন্মধ্যে ইবনে খালদুন সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। তার রচিত গ্রন্থ মুরুজুযা যাহাব ইতিহাস ও ভূগোল বিষয়ে অসামান্য তথ্যের খাজানা। এই গ্রন্থে তিনি মুসলিম ইতিহাসবিদদের প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে হিন্দুস্তান, পারস্য, রোমক এবং ইহুদিদের ইতিহাসও বর্ণনা করেছেন। এই গ্রন্থের প্রথমভাগে তিনি পূর্ববর্তী নবীগণের বর্ণনা থেকে শুরু করে পূর্বের বিভিন্ন জাতির ইতিহাস এবং জমিন ও সমুদ্রপথের বিভিন্ন দুর্লভ ও আশ্চর্য তথ্যের সমাহার তিনি ঘটিয়েছেন। আর দ্বিতীয়ভাগে খুলাফায়ে রাশিদীনের সময় থেকে খলিফা মুতি আল-আব্বাসির খেলাফত পর্যন্ত ইসলামি ইতিহাসের বর্ণনা দিয়েছেন। বিভিন্ন স্থানের স্থাপত্য ও প্রাসাদের বর্ণনার প্রতি তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার পূর্বের কোনো ইতিহাসবিদকে এসবের বর্ণনার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতে দেখা যায়নি। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা: ১০১-১১৫]

তবে মুতাজিলি শিয়া হওয়ার কারণে তার গ্রন্থসমূহের নির্ভরযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ। বিভিন্ন আশ্চর্য ও দুর্লভ তথ্যের সমাহার ঘটাতে গিয়ে তিনি যথেষ্ট বিচ্যুতিরও শিকার হয়েছেন। তাই তার গ্রন্থসমূহ থেকে ফায়েদা নেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত। ইবনু হাজার আসকালানি রাহিমাহুল্লাহু তার গ্রন্থ সম্পর্কে লিখেন, মাসউদির বইপত্র শুস্ক ও শূন্য। কারণ, সে ছিল মুতাজিলি শিয়া। [লিসানুল মিজান, ৫/৫৩২]

ইমাম ইবনে তাইমিয়া লিখেছেন, মাসউদির লেখা বইয়ে এতবেশি ভুল ও বানোয়াট তথ্য আছে, যা গণনা করা একমাত্র আল্লাহ তাআলার পক্ষেই সম্ভব। [মিনহাজুস সুন্নাহ, ৪/৮৪]

মোটকথা, একজন পর্যটক বা পরিব্রাজব হিসেবে মাসউদিকে শীর্ষ মনে করা হলেও তার লেখা গ্রন্থগুলো মোটেই সেই অবস্থানে নেই।

৯. আবুল কাসিম মুহাম্মাদ ইবনু আলি ইবনু হাওকাল আন-নুসাইবি

মেসোপটেমিয়ার নুসাইবিন শহরে ইবনু হাওকালের জন্ম। ৩৩১ হিজরির ৭ই রমজান তিনি শুরু করেন তার সফর ও পর্যটক জীবন। একাধারে ত্রিশটি বছর তিনি চষে বেড়ান মুসলিম বিশ্বের পূর্ব থেকে পশ্চিম। এ সময়ে বিভিন্ন দেশ, জাতি ও তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতি, জীবনাচারের সঙ্গে পরিচিত হয়ে নিজেকে ঋদ্ধ করেন। ৩৩৬ হিজরি থেকে ৩৪০ হিজরি পর্যন্ত তিনি মাগরিব, আন্দালুস এবং সুদানের পশ্চিমাঞ্চল ভ্রমণ করেন। ৩৪৪ হিজরিতে ভ্রমণ করেন মিসর, আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজান। ৩৫০ থেকে ৩৫৮ হিজরি পর্যন্ত ভ্রমণ করেন ইরাক, খোরাসান, পারস্য এবং মাওরায়ান্নাহারের দেশসমূহ। সর্বশেষ ৩৬২ হিজরিতে তিনি ভ্রমণ করেন সিসিলিতে।

৩৪০ হিজরিতে তার সাক্ষাৎ হয় পর্যটক ও ভূগোলবিদ ইস্তাখারির সাথে। ইস্তাখারি সিন্ধু অঞ্চলের একটি মানহীন মানচিত্র তৈরী করেছিলেন। তবে তার করা পারস্যের মানচিত্র ছিল চমৎকার। ইবনু হাওকাল তাকে নিজের করা মানচিত্রগুলো থেকে দুটি মানচিত্র দেখান। একটি আজারবাইজানে আর অপরটি মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের। ইস্তাখারি তা দেখে ইবনু হাওকালের ভূয়সী প্রশংসা করেন। অতঃপর ইস্তাখারি নিজের লেখা গ্রন্থে ইবনু হাওকালকে নজর বুলিয়ে পরিমার্জন করে দিতে বলেন। ইবনু হাওকাল তাই করেন। তখন থেকে ইস্তাখারি ভূগোলবিদ ও পর্যটকদের রেফারেন্সে পরিণত হন। এর আগে সবাই কুদামা ইবনু জাফরের উপর নির্ভর করত। তারপর ইবনে হাওকাল ইস্তাখারির অনুসরণ করে নিজেই একটি গ্রন্থ লিখেন। তবে তার মানচিত্রগুলো ছিল অত্যন্ত সুক্ষ ও উপকারী। তিনি আমাদের কাছে চতুর্থ হিজরি শতাব্দীর মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ অংশের ভৌগোলিক চিত্র উপস্থাপন করেছেন। তার রচিত মানচিত্রের সংখ্যা ছিল মোট বিরাশিটি। [আল-জুগরাফিয়্যাতু ওয়ার রিহলাতু ইনদাল আরব, পৃষ্ঠা:32]

তার রচিত গ্রন্থের নামও ‘আল-মাসালিক ওয়াল মামালিক।’ তবে ‘সুরাতুল আরদ’ নামেই তা অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। যা ইংরেজি ভাষায় ‘The face of earth’ নামে অনূদিত হয়েছে। ভ্রমন ও ভূগোলবিদ্যার বিভিন্ন বই পড়ে তিনি ভ্রমণ ও এ সংক্রান্ত বই লেখার প্রতি আগ্রহী হন। তার গ্রন্থে তিনি বিভিন্ন শহরের চিত্তাকর্ষক ও মনোমুগ্ধকর বর্ণনা দিয়েছেন। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা: ১১৭-১২৭]

সিন্ধু, হিন্দুস্তান ও শ্রীলংকা মুসলিমদের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি লিখেন, ‘নিজেদের রাজাদের অধীনে তারা নিরাপদে জীবনযাপন করছিলেন। নিজেদের শরিয়াহ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অধিকার তাদেরকে দেয়া হয়েছিল। তখন সিন্ধু, হিন্দুস্তান এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আরব ব্যবসায়ীগণ ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন। তারা চীন ও শ্রীলংকার উৎপন্ন ফসলাদি নিয়ে সিন্ধু বন্দরে আসতেন। অতঃপর সেখান থেকে মুলতানের পথ ধরে তারা তুর্কিস্তান ও খোরাসানে চলে যেতেন।’ [সুরাতুল আরদ, ইবনু হাওকাল, পৃষ্ঠা: ২৩০]

১০. শামসুদ্দিন আবু আবদিল্লাহ ইবনু আবি বাকর আল-বান্না আল-মাকদিসি

তার জন্ম ও বেড়ে উঠা সম্পর্কে তেমন জানা যায় না। তবে তিনি জেরুজালেমে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে জোরালো মত পাওয়া যায়। ইসলামি বিশ্বের এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে ঘুরে তিনি বিভিন্ন দেশ-জাতির অবস্থা, তাদের আকিদা-বিশ্বাস ও জীবনাচার গভীর অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে অবলোকন করেন। অতঃপর ৩৬৫ হিজরিতে পারস্যের সিরাজ নগরীতে চল্লিশ বছর বয়সে তিনি নিজের কিতাব লেখা সম্পন্ন করেন। যার নাম দেন ‘আহসানুত তাকাসিম ফি মা’রিফাতিল আকালিম।’

তার লেখা গ্রন্থটিকে একটি একাডেমিক গ্রন্থের নমুনা বলা যায়। তিনি গ্রন্থটির বিন্যাস করেছেন অধ্যায় আকারে। বিভিন্ন অঞ্চলের অত্যন্ত সুক্ষ ভৌগোলিক বিবরণ তিনি পেশ করেছেন। তারপর করেছেন বিভিন্ন নদী ও সমুদ্রের বর্ণনা। অতঃপর তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের নাম ও বৈশিষ্ট্যসমূহ পাঠকের কাছে তুলে ধরেছেন। তিনি মোট চৌদ্দটি অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন এবং সেগুলোর বর্ণনাই গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্য হতে ছয়টি ছিল আরব, ইরাক, শাম, মিসর, মাগরিব, খুজেস্তান, পারস্য ও সিন্ধু উল্লেখযোগ্য। [আর রিহলাতু ওয়ার রাহহালাহ, ডক্টর আহমাদ রমাদান আহমাদ, পৃষ্ঠা: ১২

Facebook Comments

Related posts

আফগানিস্তানের প্রথম বিজেতা: আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু কুরাইজ । মাহদি হাসান

সংকলন টিম

বাংলাভাষায় রচিত ও অনূদিত সিরাতগ্রন্থ : পরিচিতি ও পর্যালোচনা | মাহদি হাসান

সংকলন টিম

উম্মাহর আকাশে জ্বলজ্বলে তারা | ইবরাহিম নাখয়ী রহ.

সংকলন টিম

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!
%d bloggers like this: