নীড়ে ফেরার গল্প- ৩৮ । ইতকান বিন সারওয়ার

ইতকান বিন সারওয়ার

আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ ওয়াবারকাতুহু।
আাশা করি মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।এখন আমি আমার হিদায়াতের গল্প বলছি।
প্রথমেই মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতের শুকুর আদায় করছি এবং বিশ্ব মনবতার মুক্তির দূত মুহাম্মদ সাঃ এর প্রতি দরুদ পেশ করছি।

Tijarah Shop

ডিসেম্বর মাস।

হেদায়াতের আজ ছয় মাস (যতটুকু মনে পড়ে)। যতটুকু মনে পড়ে তাতে থেকে বলা যায় জুলাই মাসের দিক থেকে আমি দ্বীনের প্রতি দৃঢ় হতে শুরু করেছি। হিদায়াতের আগের জীবনটা ছিল এক রকম আর পরের অর্থাৎ বর্তমানের জীবনটা অন্য রকম। হিদায়াতের আগে যখন আমি জাহান্নামী দের একজন ছিলাম তখন থেকেই শুরু করছি।

আমি যখন স্কুলে পড়া শুরু করি তখন মোটামুটি ভালো স্টুডেন্ট ছিলাম। এরপর আস্তে আস্তে অসৎ বন্ধুর সাথে মেলামশার কারণে একটু অন্য রকম হয়ে পড়ি। স্কুলে তেমন ভালো ফালাফল করতাম না। চতুর্থ শ্রেনিতে উঠার পর ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে আমি চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল এ পড়া শুরু করি আবার পঞ্চম শ্রেণিতে পিএসসিতে ভালো ফলাফল করি। এরপর ষষ্ঠ শ্রেনিতে উঠে আমার এক অসৎ বন্ধুর সাথে মিশে খারাপ হতে লাগলাম। আসলে আমি আগে জানতাম না যে সে এতো খারাপ। চেহারা তার মাশাআল্লাহ সুন্দর, পড়ালেখায়ও অনেক ভালো ছেলে তাই মিশতে গিয়েছিলাম। এরপর সে আমাকে অনেক খারাপ খারাপ কথা বলে, স্কুলে গেলেই তার সাথে উঠতাম, বসতাম। সে ধর্মের দিক দিয়ে একজন বৌদ্ধ, প্রাই তার সাথে ধর্মের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক করতাম, কিন্তু পারতাম না। ভালোর দিকে যেতে চাইলেই সে বাধা হয়ে দাড়াত, তার অশ্লীল কথা মনে ভেসে বেড়াত। সপ্তম শ্রেনিতে আমি সেই অসৎ বন্ধুর মেলামেশায় আমি আরও খারাপ হতে লাগলাম। সপ্তম শ্রেনির বছরে মার্চ মাসে অর্থাৎ২০২০-এ সরকার কর্তৃক করোনার জন্য সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে অসৎ বন্ধুর সাথে যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়। এবার ২০২০-এ রমজান মাসে অঙ্গিকার করলাম সব রোযা রাখব এবং তাতে আমি সফল হয়েছিলাম আর সর্বোচ্চ ইবাদত করার চেষ্টা করেছিলাম। রমজানের এতো ইবাদাতের পরও আমি পর্ণ আসক্তির কারণে আগের মতো রয়ে গেলাম। আমি তখন চাচ্ছিলাম আস্তে আস্তে পর্ণ আসক্তি ছেড়েদিতে। তখন আমার মনোভাব ছিলযে আমি এমনে গান, নাটক দেখব, সিনেমা দেখব।কিন্তু আমি সিরিয়াল দেখব না। ঠিক এই সময় আমি একদিন আসরের নামাজ তাডাহুডা করে মোবাইল নিয়ে বসে পড়লাম , মোবাইলে দেখলাম আমার প্রায়ই একশত গান ছিল। আমার তখন মনোভাব হলো যে আমি একজন মুসলমান, আর মুসলমান হয়ে মোবাইলে একটা গজল ও নাই। আর তখনই আমি মোবাইলে একটা গজল মাউলা ইয়া সাল্লি ওয়া সাল্লিম ডাউনলোড করি। গজল টা তে ইসলামের সৌন্দর্য তথা কাবাঘরের সৌন্দর্য্য, মুসলমানরা কাবার দিকে ফিরে দোয়া চাওয়া অবস্থা, কুরআনের সৌন্দর্য ইত্যাদি তুলে ধরা হয়েছিল, আমি তো এসব দেখে মুগ্ধ।এরপর রেগে আমি সব রকম গান মোবাইল থেকে ডিলিট করে দিয়েছিলাম। এরপর মনে মনে অঙ্গীকার করলাম গোনাহ কাজ করবা না এবং এসব থেকে দূরে থাকব। আর সে সময়ই আমার সবচেয়ে উত্তম অঙ্গীকার ছিল যে টিভি না দেখা, এটা র কারণেই আমি গোনাহ থেকে রক্ষা পেয়েছি এবং হেদায়াতের পথে অটল থাকার সাহস পেয়েছি।

আসলে হেদায়াত মহান আল্লাহ র পক্ষ থেকে বড় একটা উপহার। মহান আল্লাহ তায়লা আমাদের সবাইকে দ্বীনের প্রতি অটল থাকার তাওফিক দান করুক -আমিন। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।

আপনাদের ভাই
ইতকান বিন সারওয়ার

Facebook Comments