সংকলন
সালসাবিল
প্রতিযোগিতা-২

নীড়ে ফেরার গল্প-২২ | সালসাবিল (ছদ্মনাম)

ভীষণ ঝড়ের দাপটে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিলাম।  আলোর ঝান্ডা হাতে কেউ এসে দাঁড়ায় নি সত্যি তবে সেই সত্ত্বা যার হাতে আমার প্রাণ সে জানে কেবল সে-ই জানে প্রতিটি আশ্রুফোটার পেছনের গল্প।আলহামদুলিল্লাহ মুসলিম পরিবারেই জন্ম, বাংলাদেশের আর দশটা তথাকথিত পরিবারের মতোই আমার পরিবার। ছোট থেকে ভোগের উপর ভোগ পেয়েই বড় হওয়া।”পড়াশোনা  করে যে গাড়িঘোড়া চড়ে সে” গাড়িঘোড়া চড়ার স্বপ্নই আমাকে দেখানো হতো।আমিও সেই স্বপ্নেই বিভোর থাকতাম।কিন্তু একদিন চোখের সামনেই খুলে গেল জীবনের মেকি পর্দাটা।আমি উপলব্ধি করলাম আমার যাপিত জীবনটা ঠিক নয় এইভাবে কাটানোর জন্য আমাকে পাঠানো হয়নি দুনিয়ায়। কেন এবং কিভাবে এই উপলব্ধি আসলো??

Tijarah Shop

“ফেরা” নীড়ে ফেরার গল্প পড়ে।অন্যধর্মের দুইটা মেয়ে তাদের ফিরে আসার গল্প আমার বন্ধ মনের করিডোরে নাড়া দিলো যেনো।আর্তচিৎকারেই কেঁপে উঠলাম।এ কেমন জীবন আমার? আমি কেমন মুসলিম? কিসের পিছু ছুটছি আমি? না না কোনো প্রশ্নের উত্তর ছিল না। আমি নিরেট অকৃতজ্ঞ একজন।হতাশায় অন্ধ হয়ে রুদ্ধশ্বাস প্রায়।
ক্ষমা কি পাবো? পাপ যে পাহাড় সমান।আল গফুর তার নামের বিশেষত্ব তুলে ধরলো নেক কোনো বান্দার উছিলায়।আমি আশা নিয়ে ছুটতে শুরু করলাম তারই ক্ষমার দিকে।

দেরি করি নি হারামের বাঁধন ছিড়ে বেরিয়ে আসতে। চারপাশে থাকা মানুষগুলোর কাছে আমি অচেনা হতে শুরু করলাম।চেনা আমাকে নতুনরূপে দেখে তারা মেনে নিতে পারছিল না।টিপ্পনী তো ছিলই,আর আমাকে নিয়ে কানকথা আমার কানেও আসতো।একদিকে আত্মসমর্পণের স্বাদ অন্যদিকে প্রিয় মানুষগুলোকে দূরে যেতে দেখার  বিষাদ।তথাকথিত বন্ধুমহল থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিতে পারলেও পরিবারের হক্ব আদায় তো করতেই হবে।সুযোগ হলেই বলেছি বোঝানোর চেষ্টা করেছি প্রথম প্রথম আমাকে তারা উল্টো বোঝানোর চেষ্টা করেছে “জীবন এতো সহজ না” লড়তে হবে ক্যারিয়ার গড়তে হবে। মোল্লা, হুজুর সাহেবা ট্যাগ নিয়েই বার বার বলেছি। আমিও অনড় , না আমি ওই ঘূর্ণিপাকে আর ফেরত যেতে চাই না।দুনিয়ায় সেই ব্যস্ততা আমি চাই না যা আমাকে পাঁচবার প্রশান্তচিত্তে রব্বের সামনে দাড়াতে দেয় না, আমি সেই ক্যারিয়ার চাই না। একদিন নিজেকে শান্ত রেখে দীর্ঘসময় নিয়ে আব্বুর সাথে বসলাম কান্না গিলে ভীষণ কষ্টে নিজের কথাগুলো বললাম।

৪০ মিনিটের সেই সময়টুকু আহারে সেই সময়টুকু।
কথাগুলো গলায় দলা পাকিয়ে যাচ্ছিল, চোখ ঝাপসা হচ্ছিল  তবুও বলে গেলাম।রুমে এসে দাড়ালাম রব্বের সামনে।সকল কান্না হুড়মুড় করে বেরিয়ে এলো।

পরিবার মেনে নিতে শুরু করলো বা ভেবে নিলো “বখে”গেছি।আর আত্মীয় প্রতিবেশি এদের কানকথা সামনে চলার অনুপ্রেরণাই যোগায় আলহামদুলিল্লাহ।গান, মুভি,বন্ধু, আড্ডা সব ছেড়েছুড়ে শান্তির তালাশ শুরু করলাম।আর সেই শান্তি পেলামও।নিয়মিত সালাত আদায় করতে শুরু করলো পরিবারের মানুষগুলোও। এটাসেটা জিজ্ঞেসও করে দ্বীনের ব্যাপারে। কিন্তু ইসলামিক বই আর লেকচারের বাইরে ইলম অর্জনের তেমন সুযোগ হয়ে উঠে নি তবুও নিত্যদিনের জীবনে যা পাই দু’হাতে কুড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি মুত্তাকীদের দলের একজন হওয়ার লোভে আর অপেক্ষায় আছি এমন জ্যোতির যা ঈমান আমলের বাকারাহ নিয়ে আসবে ইন শা আল্লাহ।

সকল প্রশংসা সেই সত্ত্বার যে এই অযোগ্য অকৃতজ্ঞ অসহায় অধম বান্দাকে ফিরিয়ে নেওয়ার আগে সুযোগ দিয়েছে আত্মসমর্পণের।
আলহামদুলিল্লাহ.
আলহামদুলিল্লাহি রব্বীল আলামীন।

Facebook Comments

Related posts

নীড়ে ফেরার গল্প-৪৬ | রিফাত আল আজাদ মাহীম

সংকলন টিম

নীড়ে ফেরার গল্প-১৪ | সাদিয়া আলম রিফা

সংকলন টিম

নীড়ে ফেরার গল্প-৪১ | আহসান রাফি

সংকলন টিম

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!