মাসিহে মাওউদ কল্পনাপ্রসূত এক ইহুদি মতবাদ | মাহদি হাসান কাসেমি

মাসিহে-মাওউদ

মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি ছিলেন ইহুদি খ্রিস্টানদের খেলনা পুতুল। তাকে তারা যেভাবে নাচিয়েছে, তিনি সেভাবেই নেচেছেন। যা বলতে বলেছে, তাই বলেছেন। যা করতে বলেছে, তাই করেছেন। তবে এ ক্রীড়ানককে নিজেদের মতো করে গড়ার ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট এ দুজাতির মধ্যে যদি কোনো বড় মতপার্থক্যও পরিলক্ষিত হত, মুখ বুজে সহ্য করে নিত। মাসিহে মাওউদ ঠিক এমনই এক চিন্তাধারা। পথভ্রষ্ট এই দু’ জাতির মতভেদপূর্ণ এক প্রধান মতবাদ। যা ইহুদি জাতির ইতিহাস অধ্যায়ন ব্যতীত জানা সম্ভব নয়। কাজেই প্রথমে আমাদের সংক্ষেপে ইহুদি জাতির ইতিহাস পর্যালোচনা করতে হবে।

ইহুদি জাতির ইতিহাস

আহাদ নামায়ে আতিক অনুযায়ী ‘আবরাহাম (ইবরাহীম আলাইহিস সালাম)-এর দুই ছেলে ছিলেন ইশমাঈল (ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) ও ইদহাক (ইসহাক আলাইহিস সালাম)। ইদহাকের (আলাইহিস সালাম) বড় ছেলে ইসু ছিল ইশমাঈলের (আলাইহিস সালাম) জামাতা। আর তার ছোট ছেলের নাম ইয়াকুব (আলাইহিস সালাম)। তার আরেক নাম ইসরাঈল (আল্লাহর বান্দা)। যার বংশধারাকে বলা হয় বনি ইসরাঈল।’

আহাদ নামার বর্ণনা অনুযায়ী ইসরাঈলের বারো ছেলে ছিল। বড় ছেলের নাম ইহুদা আর ছোট ছেলের নাম বিনইয়ামিন। ইহুদা ও বিনইয়ামিনের সন্তানরা (অধস্তন বংশ) ফিলিস্তিনের ইহুদা এলাকায় বসবাস করত। তাই এ এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তিকে ইহুদা বলা হতো।

খ্রিস্ট ৮০০ বছর পূর্বে ইসরাঈলিরা দক্ষিণ ও উত্তরে ভাগ হয়ে গিয়েছিল। বনি ইসরাঈলের দক্ষিণের অংশকে বলা হতো দশ কবিলা, যার রাজধানী ছিল সামিরিয়্যাহ। উত্তরের লোকজন ছিল অদৃশ্য আল্লাহ’য় বিশ্বাসী ও ইবাদাতকারী। তাদের বাদশাহ ছিল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর ছেলে জারবিয়াম।[1]

খ্রিস্ট ৭২১ বছর পূর্বে আসিরিয়ার বাদশাহ শালমান্দার (আধুনিক তাহকিক মতে সারগন্দম) দক্ষিণের বনি ইসরাঈলি দশ কবিলার উপর হামলা করে ২৭,২৯০ জনকে বন্দি করে।[2] তাওরাত অনুযায়ী, ফুরাত নদী পেরিয়ে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে তাদেরকে দেশান্তরিত করা হয়।[3] ইতিহাসে এটাই ছিল ইসরাঈলিদের প্রথম অভিপ্রয়াণ।

খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ সালে বাবেলের বাদশাহ বুখতে নসর দক্ষিণ কবিলায় হামলা করে অনেককে হত্যা ও জেরুজালেমকে ধ্বংস করে।[4]

ইতিহাসের এই বাস্তবতাটুকু স্মরণ রাখা উচিত যে, খ্রিস্টপূর্ব ৭২১ সালে বনি ইসরাঈলের দশ কবিলাকে গুম করা হয়নি, বরং তাদের ২৭ হাজার জনকে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে কিছুদিনের জন্য দেশান্তরিত করে হয়েছিল মাত্র। যাদের অধিকাংশই পরবর্তীতে তাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে মিলিত হয়।[5] এর ১৩৫ বছর পর খ্রিস্টপূর্ব ৫৮৬ সালেও বুখতে নসরের হামলায় কোনো ইহুদি গুম হয়নি।[6] এটাই আধুনিক ইতিহাসবিদদের সত্যনিষ্ঠ বিশ্লেষণ।

কেউ কেউ মনে করে যে, ভারত উপমহাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলের লোকজন যেমন: কাশ্মিরি ও পাঠানরা প্রমুখ গুম হয়ে যাওয়া ইহুদিদের সন্তান। তবে ঐতিহাসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী এ ধারণাও বাতিল হয়ে যায়।[7] ইউরোপের যেসব সম্প্রদায়কে ইহুদিদের বংশধারা বলা হয়, তাদের কথাও ইতিহাস স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করে।[8] মূলত এ সবই ইহুদিদের বানোয়াট অলীক কল্পকথা। যা তারা জায়ানিস্ট ও সাধারণ ইহুদিদের জজবা বাড়ানোর জন্যই বলে থাকে।

খ্রিস্টপূর্ব ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে বুখতে নসরের হামলার পর থেকে নিয়ে প্রথম শতাব্দী পর্যন্ত ইহুদি ও ইরানিরা ইউনানি ও রোমকদের অধীনে ছিল।[9] এ সময় রাব্বুল আলামিন তাদের কাছে পাঠিয়েছিলেন একের পর এক নবি। এমনকি হযরত ঈসা ইবনু মারইয়াম আলাইহিস সালামও তাদের কাছেই প্রেরিত হয়েছিলেন। কিন্তু তারা তাদের এই গোলামির জীন্দিগীতে এমন একজন মাসিহের অপেক্ষায় ছিল, যে মুক্তি দূত হয়ে আগমন করে তাদের দাসত্বের জিঞ্জির থেকে রক্ষা করবে এবং পৃথিবীর বুকে তাদের শাসন কায়েম করত: বাদশাহিত্বের অমৃত স্বাদ আস্বাদন করাবে।

মাসিহের পরিচয়

ইহুদিদের আকিদা মতে ‘মাসিহ’ ফিলিস্তিনকে তাদের আবাসস্থল বানাবে এবং তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণ করবে।[10] এজন্য যারাই নিজেদের মাসিহ বলে দাবি করত, তারাই ঘোষণা করত যে, অচিরেই ফিলিস্তিনে তাদের শাসনক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হবে। এমনকি আস্তে আস্তে তাদের মাঝে এ আকিদাও বদ্ধমূল হয় যে, মাসিহে মাওউদের পূর্বে তাদের নিকট ইলিয়াস নামক এক নবি আসবে।

তাওরাতের সফরে তাকবিনের ২৮তম অধ্যায় ও সফরে খুরুজের ২৩তম অধ্যায়ে আমাদের এমন এক মাসিহে মাওউদেরই সন্ধান মিলে। মাসিহ আরামাইক শব্দ, যার অর্থ হলো: এমন ব্যক্তি, যার মাথায় তেল ঢালা হয়। এজন্যই ইহুদিরা তাদের বাদশাহকে সিংহাসনে বসিয়ে তাকে মুক্তিদাতা ও ধর্মীয় রাহবার জ্ঞান করে তার মাথায় তেল ঢালত। তবে তাদের এই মাসিহ ইহুদি ছাড়া ভিন্ন ধর্মেরও হতে পারে। যেমন: সফরে ইয়াসা’আর ৪৫তম অধ্যায়ে পারস্যের বাদশাহ খসরুকে মাসিহে মাওউদ বলা হয়েছিল।[11]

আল্লাহ তাআলা যখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করেন, তখন ইহুদিরা তার মাধ্যমে রোমকদের সঙ্গে যুদ্ধ করে একটি স্বাধীন রাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা আরম্ভ করেছিল। কিন্তু তিনি যখন তাদের নতুন শরিয়াতের দিকে আহ্বান করেন, তখন তারা আশাহত হয় এবং তার ওপর অশুচি ও নাপাক সব অপবাদ আরোপ করে। এমনকি রোমকতৃক তাকে শূলে চড়ানোরও ব্যবস্থা করে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা তাদের সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দিয়ে তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নেন।

মাসিহে মাওউদ দাবিদার

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার পর থেকে খ্রিস্ট ষষ্ঠ শতাব্দিতে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লামের আগমন অবধি কয়েকজন মাসিহে মাওউদের দাবিদারের কথা ইতিহাসে পাওয়া যায়। ৬২৩ খ্রিস্টাব্দে হযরত উমার রদিয়াল্লাহু আনহু-এর শাসনামলে ফিলিস্তিন মুসলমানদের অধীনে এলেও পূর্ণ ফিলিস্তিন ৬৪০ সালে করায়ত্ব হয়েছিলো। যা ছিলো ইহুদিদের কষ্টের এক বড় উপখ্যান। তাই তো তারা সর্বদাই মুসলমানদের জন্য চক্রান্তের গোপন জাল বিছিয়েই রাখত। শুধু তাই নয়, তাওরাতের যাকারিয়া অধ্যায়ের ৪:১৪ এবং ৬:১১ অনুচ্ছেদের ভবিষৎবাণী অনুযায়ী তারা মুসলমানদের আভ্যন্তরীন কলহের সময়ই রাজনৈতিকভাবে কেউ না কেউ মাসিহে মাওউদের দাবি করে বসত এবং ফিলিস্তিনে তাদের শাসন ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি বাণী শুনাত। আজ আপনাদের এমন কিছু মাসিহে মাওউদ দাবিদারের গল্প শুনাব। যার পাঠ দ্বারা আশাকরি মুসলমানদের সঙ্গে তাদের শত্রুতা ও হীন চক্রান্ত অনুধাবন করতে পারবেন।

আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর মানসুরের শাসনামলে ইস্পাহানের ইসহাক ইবনু ইয়াকুব নামক এক ইহুদি নিজেকে মাসিহে মাওউদের দাবি করেছিল। যে ইহুদি সম্প্রদায়কে একত্রিত করে  মুসলিম বাহিনীর উপর লাগাতার আক্রমণ চালিয়েছিল। সে মারা যাওয়ার কয়েক বছর পর হামদানে ইউদগান এবং মিশরে ইয়াহইয়া সাবাতানি নামক দু’জন ব্যক্তি পৃথক পৃথকভাবে মাসিহে মাওউদের দাবি করে ফিলিস্তিন অভিমুখে রওনা হয়েছিল।[12]

নবম শতাব্দীর আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ সর্বপ্রথম জেরুজালেমে খ্রিস্টানদের গির্জা স্থাপনের অনুমতি দিয়ে এক অসম্প্রদায়িক ইসলামের সূচনা করেছিলেন। অথচ খ্রিস্টানদের শক্তিসামর্থ্য যখন বৃদ্ধি পায়, তখন পবিত্র ভূমি জেরুজালেম ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য তারা প্রথম ক্রুসেড (যুদ্ধ) করে। যুদ্ধে ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও তারা বড় বড় আক্রমণ জারি রেখে গণহত্যা চালিয়ে যায়। জেরুজালেম, জাফা, হিফা ইত্যাদি প্রদেশগুলো দখল করে নেয় খ্রিস্টানরা। ১১৪৬-৪৭ সালে জার্মান ও ফ্রান্সের বাদশাহর নেতৃত্বে দ্বিতীয় ক্রুসেড শুরু হয়। সে বার কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই খ্রিস্টানরা বিজয় লাভ করে। এরকম নাজুক পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবি রহিমাহুল্লাহ-কে প্রেরণ করেন। যিনি ১১৮৬ সালে তিবরিয়াহ ও ফিলিস্তিনে খ্রিস্টানদের উপর আক্রমণ করে জেরুজালেম বিজয় করে নেন। বাইতুল মাকদিসকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য ১১৮৯ সালে ইংরেজরা পুনরায় ক্রুশযুদ্ধ করে। তবে সালাহুদ্দিন আইয়ুবির সামনে টিকতে পারেনি তৎকালীন ব্রিটিশ বাদশাহ রিচার্ড। ফলে ব্যর্থতার গ্লানি নিয়ে নিজ দেশে প্রত্যাগমন করেন তিনি। এর পরেও থেমে থেমে খ্রিস্টানরা লড়াই করতে থাকে এবং ৪র্থ ও ৫ম ক্রুসেডে ও পরাজয় বরণ করে।[13]

ক্রশযুদ্ধের দরুন খ্রিস্টানদের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে যায়। এই সুযোগে ১১২০ সালে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে দাউদ রায় নামক এক ইহুদি নিজেকে মাসিহে মাওউদ ও স্বাধীন ইহুদি জাতির মুখপাত্র বলে দাবি করে। সে-ই সর্বপ্রথম এই দাবি উঠিয়েছিল যে, গুম হয়ে যাওয়া বনি ইসরাঈলিরা পূর্বদিকে চলে গিয়েছে। ফলে ইরান থেকে ভারত অবধি কয়েকটি গোত্রই তাদের বংশধর।[14] ধর্মীয় এই কল্পিত আধা ইতিহাস সামনে রেখে আফগানদেরও ইহুদি বংশ সাব্যস্ত করার চেষ্টা করেছিল সে।[15]

মুসলিমদের ফিলিস্তিন থেকে বিতাড়িত করার জন্য ইহুদি মাসিহে মাওউদের দাবিদাররা খ্রিস্টানদের সামরিক ও আর্থিক সহযোগিতা করে। ১২৮১ সালের ক্রুশযুদ্ধের সময় ইহুদি ইবরাহীম ইবনু সামুয়েল মাসিহে মাওউদের দাবি করে খ্রিস্টান পোপের কাছে চিঠি লিখে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের জোটবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানায়। ১২৮৭ সালে সেভিলিয়া থেকে আবুলানা  মাসিহে মাওউদের ঘোষণা দেয় এবং স্পেনের ইহুদিদের একত্রিত করে।

পরবর্তীকালের মাসিহে মাওউদের দাবিদারদের মধ্যে রয়েছে: ত্রয়োদশ শতাব্দীতে নাসিম বিন ইবরাহীম, চতুর্দশ শতাব্দীতে মূসা বুতরেল, পঞ্চদশ শতাব্দীতে ইয়াকুব কারসিন স্পেনি, ষষ্ঠদশ শতাব্দীতে প্রসিদ্ধ ইহুদি র‍্যাবাই দাউদ। তাদের সবারই উদ্দেশ্য ছিল ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে নিশ্চিহ্ন করে ইহুদিবাদকে জিন্দা করা এবং ফিলিস্তিনে ইহুদি রাজত্ব কায়েম করা।

তুর্কি খলিফা মুহাম্মাদ রাবঈ (শাসনকাল ১৬৪৮-১৬৮৭) যখন পূর্ব ইউরোপের পোল্যান্ড, অস্ট্রিয়ার মতো দেশগুলোতে যুদ্ধরত ছিলেন, তখন শাবাতি যিবি নামক এক ইহুদি কস্তুনতুনিয়ায় মাসিহে মাওউদের দাবি করে ঘোষণা দেয় যে, সে আল্লাহর পক্ষ থেকে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের গোলামির জিঞ্জির থেকে ইহুদি জাতিকে মুক্তি দিতে এসেছে। শাবাতি ইউরোপের তুর্কি শহর স্যালোনিকা, গ্রীস, ইতালি, লেগহর্ন হয়ে ত্রিপোলি ও শাম অতিক্রম করে অবশেষে বাইতুল মাকদিস পৌঁছায়। এই সফরে ইহুদিরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা প্রদান করে। মাসিহে মাওউদের আগমনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে তারা প্রদীপ জ্বালায়। নাথান নামক এক ইহুদি ইলিয়াস নবি হওয়ার দাবি করে মাসিহে মাওউদের আগমনের ঘোষণা করে। আলেপ্পো ও দামেশক সহ অন্যান্য অঞ্চলের ইহুদিদের একটি বড় দল জামাআতবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনে যাবার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ইতালি, নেদারল্যান্ড ও জার্মানির ইহুদিরাও নিজেদের সহায় সম্বল বিক্রি করে মাসিহে মাওউদকে ফিলিস্তিনে হিজরত করানোর বন্দোবস্ত করে।[16]

শাবাতির বিপজ্জনক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে তুর্কি বাদশাহ তাকে কারাগারে প্রেরণ করেন। সে কারাগারে থাকাকালে এই আন্দোলন চালিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেন আনহামা কোহেন। কিছুদিন বন্দি থেকে শাবাতি বাদশাহর সঙ্গে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাতকালে সে মাসিহের দাবি থেকে ফিরে আসে এবং মুনাফিকের বেশ ধারণ করে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়। বাদশাহ ইহুদিদের চালাকি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত ছিলেন। এমনকি তার আন্দোলন উদ্দেশ্য সম্পর্কেও জানতেন। সে সঙ্গে এ ব্যাপারেও জ্ঞাত ছিলেন যে, ইউরোপের বাদশাহরা এ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তাদের রাষ্টদূতদের মাধ্যমে তাকে গোপন নির্দেশনা দেয় এবং তাদেরকে তার সঙ্গ দেওয়ারও নির্দেশ দেয়। এ মুহূর্তে শাবাতিকে মুক্তি দেওয়া ছিল একটি কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ। তাই বাদশাহ তাকে বেলগ্রেডে নজর বন্দি করে রাখলেন। ১৬৮৭ সালে সে এ অবস্থায় ইন্তেকাল করে।[17]

এরই ধারাবাহিকতায় ১৭৭৪ সালে রিচার্ড ব্রাদার্স মাসিহে মাওউদের দাবি করে। যে ‘ইহুদিদের হালাত ও খোদাপ্র্রদত্ত ভবিষ্যৎ ইলম’ সম্পর্কে একটি বই সংকলন করে। যেখানে ইহুদি রাজত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও উত্থাপিত হয়। এর অর্ধশতাব্দী পর ১৮৪১ সালে জে. এন. টম মাসিহে মাওউদের দাবি করে এবং নিজেকে ইহুদিদের মুক্তিদাতা, জেরুজালেমের বাদশাহ ও সন্ন্যাসীদের হাকিম বলে প্রচার করে। পরবর্তীতে যে ইংরেজ সৈন্যদের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যু বরণ করে।

ইতিহাসের দীর্ঘ এই আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণ হয় যে, মাসিহে মাওউদ নামক মতবাদ ও চিন্তাধারা ইহুদিদের কল্পনা মাত্র। তাদের কথিত এ মুক্তির আন্দোলন মুসলমানদের সঙ্গে হীন ষড়যন্ত্র ও শত্রুতার ভিত্তি হিসেবেই পরিগণিত। মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানীর মাসিহে মাওউদের ভিত্তিও ঠিক এর উপরই। যে সম্পর্কে পূর্ণরূপে জানতে হলে আমাদের ‘অ্যাংলো-ইসরাঈলিজম’-কে অধ্যায়ন করতে হবে।

অ্যাংলো-ইসরাঈলিজম

অ্যাংলো-ইসরাঈল অ্যাসোসিয়েশন ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত একটি ইহুদি ব্রিটিশ সংগঠন। যার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন জ্যাকব ওয়েলি। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য ছিলো কূটনীতিক উপায়ে ইহুদিদের সামাজিক, নৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক অগ্রগতি এবং ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের সুরক্ষা প্রদান করা।[18]

তারা তাদের এই স্বার্থ বাস্তবয়ানের জন্যই ধর্মীয় যতোসব আজগুবি ইতিহাস রচনা শুরু করেছিল। যার ফলাফল ছিলো পূর্বে উল্লেখিত সব কল্পকথা। যেসব বানোয়াট ইতিহাস ইউরোপ ও আমরিকায় তারা বেশি করে প্রচার করেছিলো। তাদের ধর্মীয় এসব আধা ইতিহাস রচনার জন্য কিছু বই প্রসিদ্ধিও লাভ করেছিলো। যার কয়েকটা হলো: ডব্লিউ. কারপেন্টার লেখিত সি.পি.আই স্মার্থ, আমেরিকার ডব্লিউ. এইচ. পুল লেখিত জি. ডব্লিউ. গ্রিন, ইসরাঈল ইহুদিদের উত্তরাধিকার বিষয়ে জন ভিসন এবং ইংরেজ জাতির সঙ্গে গুম হওয়া দশ কবিলার সাদৃশ্যতা সম্পর্কে এফ.আর. এডওয়ার্ড হাইনসের বই উল্লেখযোগ্য। যেসব বইতে পৃথিবীর বড় বড় বিভিন্ন জাতিকে নিজেদের বংশ সাব্যস্ত করা ছাড়াও হযরত ঈসা আলাইহস সালামের আগমন ও খিস্টানদের আকিদা খারাপভাবে উপস্থাপন করেছিলো। বিশেষত তারাই সর্বপ্রথম ঈসা আলাইহিস সালামের মৃত্যু ও তার কবরের কথা উল্লেখ করেছিলো। ‍ডাচ টাওয়ার সোসাইটি নিউইয়ার্ক থেকে উইক নামক বই এজন্যই প্রকাশ করেছিল।

সে সব বইতে তারা এটাও বুঝাতে চেয়েছিলো যে, পৃথিবীর পুরনো সব দর্শন ও দুর্লভ সুক্ষ্মশাস্ত্র, রাজনৈতীক ও অর্থনৈতিক চিন্তাধারা, জাতির জন্য অগ্রণী পদক্ষেপ, সভ্যতা ও আচার ব্যবহার—মোটকথা জীবন চলার পথে প্রয়োজনীয় সব বিষয়ে আজও তাদের অবদানের ছাপ বিদ্যমান। এসব কল্পকথা সামনে আনার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল তাদের অত্যাচারিত ও মাযলুম হওয়াকে প্রমাণ করে রাজনৈতিক চালে সফল হওয়া। এ কারণেই পৃথিবীবাসীকে সম্বোধন করে তারা এ আহ্বান জানিয়েছিল যে,“ইহুদি জাতি মানুষের নিকট রহমত হিসেবে আবির্ভূত এক মাজলুম সম্প্রদায়—যারা আড়াই হাজার বছর ধরে দেশান্তরিত হয়ে আছে, সামান্য এক টুকরো ভূমি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, ইহুদি ব্যতীত সব জাতিই যাদের দাবিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে—বিশ্ববাসীর উচিত তাদের রাজত্ব কায়েমের অধিকার প্রদান করা।”[19]

মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি তাদের এসব বই সামনে রেখেই ভারতবর্ষের কয়েকটা গোত্রকে ইহুদিদের বংশধর বলে উল্লেখ করে। সে সঙ্গে হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ওফাত ও তার কবরের কথাও উল্লেখ করে। যেসব দেখে খোদ খ্রিস্টানবিশ্বও বিস্মিত হয়ে ‍গিয়েছিল। তখন সে অ্যাংলো ইসরাঈলিজমের ইহুদিদের রচিত এসব বইকেই দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছিল।

মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি সর্বপ্রথম ঈসা আলাইহিস সালামের কবর  গালিলে (ফিলিস্তিনে) রয়েছে বলে দাবি করেছিল। কিছুদিন পর এই কবরই ত্রিপোল্লি হবার দাবি করে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ওহির মাধ্যমে তাকে কাশ্মিরের শ্রীনগরের মহল্লায়ে খানিয়ার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়।[20]

এই দাবির সাপক্ষে মির্জা সাহেব যে ইতিহাস সামনে আনে, তার সারমর্ম হলো: খ্রিস্টপূর্ব ৭২১ সালে সালমান্দার বনি ইসরাঈলের উপর আক্রমণ করে তাদের দশ কবিলাকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেন। এই সম্প্রদায় তখন ভারতে চলে আসে। বিশেষত পূর্বাঞ্চলে বসবাসরত আফগান ও কাশ্মিরিরা তাদের বংশধর। তারা এটাও দাবি করে যে, এই সম্প্রদায় খ্রিস্টপূর্ব ৫৭৬ সালে লাপাত্তা হয়ে যায়। আর ঐ লাপাত্তা সম্প্রদায়ের ইসলাহ ও আত্মশুদ্ধির জন্য মাসিহ ‘ইওয়াযে আসিফ’ তথা চিন্তিত মাসিহ নামধারণ করে ভারতে আসে এবং শ্রীনগরে ইন্তিকাল করে।[21]

লাহোরের  মির্জাখ্যাত খাজা নাজির আহমাদের দাবি অনুযায়ী, বিবি মারইয়ামও তাদের সঙ্গে এসেছিল। পরবর্তীতে তিনি মেরিতে ইন্তিকাল করেন। আর তার নামেই এ শহর প্রসিদ্ধি লাভ করে।

মির্জা সাহেব মূলত এসব ইতিহাস অ্যাংলো ইসরাঈলিজামকে খুশি করার জন্যই এনেছিলো। ‘দরাযে হাকিকত, মাসিহ হিন্দুস্তান মে ও ইতমামে হুজ্জাত’ আজও যার প্রমাণ বহন করে। এমনকি তার অনুসারীদের থেকেও মৌলভি শের আলির উপরোক্ত বিষয়ে লিখিত রিসালায়ে রেওয়াউ কাদিয়ান(১৯০২ থেকে ১৯০৯ পর্যন্ত ছাপা), মুফতি মুহাম্মাদ সাদিকের কবরে মাসিহ, কাযি মুহাম্মাদ ইউসুফের ঈসা দর কাশ্মির, খাজা নাজির আহমাদের জেসুস ইন হ্যাভেন অন আর্থ, জালালুদ্দিন শামসের ওয়্যার্ড ডিজেনেরেস ডে এবং মুমতাজ ফারুকির কাসরে সালিব—এসব বইয়ে সেসব রেফারেন্স এনেছে, যা অ্যাংলো-ইসরাঈলিদের বইসমূহে বিদ্যমান।

শেষ মহর

এতক্ষণ যেসব বিষয়ে আলোচনা করেছিলাম, তার দ্বারা এটাই অনুধাবিত হলো যে, মাসিহে মাওউদ বলতে ইসলামে কিছুই নেই। বরং এর পুরোটাই হলো কল্পনাপ্রসূত এক ইহুদি মতবাদ। যা অ্যাংলো ইসরাঈলের ইহুদিরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা ও রাজনৈতিক গেম খেলার জন্য রচনা করেছিলো। আর মির্জা সাহেবও এই অ্যাংলো ইসরাঈলিজামকে পরিচিত করার লক্ষ্যেই তার বইতে এসব উল্লেখ করেছিলো। সর্বশেষ একটা ঘটনা উল্লেখ করে আমার এ লেখার ইতি টানতে চাই। যার পরে গোলাম আহমাদ কাদিয়ানিকে ইহুদিদের তৈরি প্রোডাক্ট অনুধাবন করতে কোনো কষ্ট হবে না আশাকরি।

অ্যাংলো ইসরাঈল এসোসিয়েশন-এর পরে ১৮৯৭ সালে থিউডর হার্জেল ফিলিস্তিনে তাদের রাজত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য জায়ানিজাম গঠন করেছিলেন। যেটা ছিলো বিশ্বব্যপী ছড়িয়ে যাওয়া এক ইহুদি সংগঠন। এ সংগঠনেরই অষ্ট্রিয়ার এক আঞ্চোলিক নেতা ছিলো অ্যালেকজাণ্ডার ডুয়ি। ১৯০২ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশবাদের সেক্রেটারি জোসেফ চেম্বারলাইন যখন থিউডোর হার্জেলকে উগাণ্ডায় ইহুদি রাজত্বের প্রস্তাব দিয়েছিল, সে সেটা প্রত্যাখ্যান করেছিলো।[22]

কিছু কিছু নেতা তখন এ প্রকল্পকে সমর্থন জানিয়েছিলো। যাদের সম্পর্কে জায়ানিস্ট নেতা ওয়েজম্যান স্বীয় আত্মজীবনীতে লেখে: “কিছু কিছু ইহুদি ব্যবসায়ী জোসেফ চেম্বারলাইনের মতের পক্ষেই ছিল, কিন্তু অধিকাংশ ইহুদিরাই ছিল তাদের পূর্বপুরুষদের জন্মভূমির বিপরীতে এই পরিকল্পনার পূর্ণ বিরোধী।”[23]

১৯০৩ সালে বিশ্বজায়ানিস্ট কংগ্রেসকে আবারো যখন আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রিয়া, আর্জেন্টিনা ও অ্যাঙ্গোলা প্রমুখ দেশে রাজত্ব প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিলো, তারা সেটাকেও প্রত্যাখ্যান করেছিলো। তখনও  কিছু কিছু নেতা এ দাবির পক্ষেই ছিল। অ্যালেকজাণ্ডার ডুয়ি ছিলো তাদেরই একজন। এজন্যই সে আমেরিকার শিকাগো শহর ও তার আশপাশের অঞ্চলকে ইহুদি শহর বানানোর কার্যক্রমকে বেগবান করেছিল। এমনকি সেই সর্বপ্রথম খ্রিস্টান আপাস্টেট চার্চে জায়নিজামের ভিত্তি রেখেছিল। তার দাবি ছিল—এই নতুন শহর থেকে সে শুধু একটি জেলা না,একটি জাতি, একটি উপমহাদেশ, অর্ধ দুনিয়া ও পুরো বিশ্বকেই নিয়ন্ত্রণ করবে।[24] ডুয়ি জায়নিজমের ওই শহরের জেনারেল, উপদর্শক ও  ইহুদিবাদের শেষ নবি মালাকির সঙ্গী বলেও দাবি করেছিলো। ১৯০১ সালে মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি যখন নিজেকে নবি দাবি করে, তখন ডুয়িও আমেরিকায় ইলিয়াস নবির দাবি করেছিলো। ইহুদিদের আকিদামতে মাসিহে মাওউদের পূর্বে যার আত্মপ্রকাশ ঘটবে।

ডুয়ির এই আন্দোলনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার লোক একত্রিত হয়েছিল। আর সেও এমন বিলাসিতায় মত্ত হয়ে উঠেছিল যে, যে শিকাগো শহরে থিয়েটার, নাট্যশালা, ধূমপান, শূকর খাওয়া ও মদ পান শাস্তিযোগ্য কঠিন অপরাধ ছিল, ডুয়ি সেখানে সেটাই করে বসে। তখনই জায়ানিস্ট নেতাদের মনে এই ভয় ঢুকে যায় যে, তাদের ফিলিস্তিন রাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্থানে না যেন আমরিকাই নিজেদের রাজ্য বনে যায়। এ জন্যই তারা তাকে দমানোর জন্য তাদের কাদিয়ানের মাসিহে মাওউদের শরাণাপন্ন হয়। যেন সে তাকে বাহাছ মুবাহাছার মধ্যে লিপ্ত রেখে তার মনযোগ ঘুরাতে সক্ষম হয়।

এ লক্ষ্যেই মির্জা গোলাম আহমাদ ১৯০২ সালে ডুয়িকে আধ্যাত্মিক মোকাবেলার চ্যালেঞ্জ দেয়। সে এদিকে ভ্রুক্ষেপ না করলে মির্জা সাহেব ১৯০৪ সালে পূণরায় মোকেবেলার দাওয়াত দেয়। এবারো সে নিশ্চুপ থাকে।[25] ফলে ইহুদিরা আমরিকার সর্বাধিক পঠিত ৩২টি পত্রিকায় এই উস্কানি দিয়ে সংবাদ প্রচার করে জনগণকে প্রভাবিত করে যে, ডুয়ি ইহুদি রাজ্য প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আন্তরিক ও একনিষ্ঠ কর্মী নয়। সে তো এক মুহাম্মাদি মাসিহের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করারই সামর্থ্য রাখে না।

অথচ সে দাবি করে যে, সে পৃথিবীর সব ইহুদিদের একত্রিত করে মুসলিমদের ধ্বংস করবে! এরপরই জায়ানিজাম তার ওপর ফাণ্ডের অপব্যবহার ও নারী কেলেঙ্কারীর অপবাদ দিয়ে জায়নিজমের জেনারেল ও উপদর্শক পদ থেকে অপসারিত করে। ১৯০৭ সালে ডুয়ি ইন্তেকাল করলে[26] মির্জা গোলাম আহমাদ এটাকে তার নবুওয়াতের আলামতরূপে প্রকাশ করে।[27]

পাঠক! এতক্ষণে নিশ্চয় বুঝেই গিয়েছেন যে, ইহুদিরা তার দ্বারা কি কুটচাল চেলেছিল। এমনকি নিজেদের স্বার্থ মোতাবেক না হওয়ায় তাদেরই স্বজাতি একজনের আন্দোলনকে তার দ্বারা ব্যার্থ করে দিয়েছিল। যে কিনা তার মাসিহে মাওউদ ও নবুওয়াতের দাবির প্রক্কালে ইলিয়াস নবি হওয়ারও দাবি করেছিল। আর সেও সতুস্ফূর্তভাবে এ কাজের সুষ্ঠ আঞ্জাম দিয়েছিল। ইহুদি সম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় এ মহান খেদমতের ফলে পাঞ্জাবের অর্থ বিষয়ক কমিশনার উইলসন এবং গুরুদাসপুরের ইহুদি ডেপুটি কমিশনার সি.এম.কিং. স্বশরীরে কাদিয়ান এসে তাকে ধন্যবাদও জানিয়েছিল।

[1] জে এইচ সোয়েন, হিস্টোরি অফ ওয়ার্লড সিভিলাইজেইশন, দিল্লি—১২২পৃষ্ঠা।

[2] ডব্লিউ এন, দিস দি হিস্টোরি অফ ওয়ার্ল্ড, লন্ডন, ইসরাঈল অধ্যায়।

[3] ফিলিপ কে হাই, হিস্টোরি অফ সিরিয়া, ২০ পৃষ্ঠা

[4] বিস্তারিত পড়ার জন্য ইনসাইক্লোপিডিয়া বারটেঙ্কা, যেওনেযাম অধ্যায় দ্রষ্টব্য।

[5] ফিলিপ হাই, তারিখে শাম—২০ পৃষ্ঠা

[6] ইনসাইক্লোপিডিয় আমির ইয়াকিন্না, ইহুদিবাদ ও জায়ানিজাম অধ্যায়।

[7]এডলফ কেয়ার্ড, দ্যা পাঠানস, ম্যাকলিন লন্ডন,  ইনসাইক্লোপিডিয়, বারটেঙ্কা কাশ্মির অধ্যায়।

[8] ডা. ডব্লিউ এফ এল ব্রাইট, আরব্লোজি, প্লাস্টাইন, পলিকন ১৯৬৩—পৃ.২৩০।

[9] টি আর গ্লোডার, দি ইনিস্টিট সেন্ট ওয়ার্ল্ড, লন্ডন, পৃ. ১৯৩

[10] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস  মাসাহিয়্যান শব্দের আলোচনায়।

[11] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস  মাসাহিয়্যান শব্দের আলোচনায়।

[12] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস মাসিহ শব্দের আলোচনায়।

[13] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস পেস্টাইনের আলোচনায়।

[14] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস

[15] এডলফ কেয়ার্ড, দ্যা পাঠানস, ম্যাকলিন লন্ডন, ৯ পৃষ্ঠা

[16] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস মাসিহ শব্দের আলোচনায়।

[17] রফিকদাহ ওয়ারি, আইম্মায়ে তালবিস, লাহোর।

[18] Anglo-Jewish Association (AJA), AJA Annual Report (1870–to date); Year Book of the Anglo-Jewish Association (1950–51)

[19] ইনসাইক্লোপিডিয়া অফ রিলিঞ্জ এন্ড ইথিকস, অ্যাংলো ইসরাঈলজম শব্দের আলোচনায়।

[20] মির্জা গোলাম আহমাদ রচিত “মাসিহ হিন্দুস্তান মে’ এবং ‘আল হুদা’ প্রমুখ বই দ্রষ্টব্য।

[21] মির্জা গোলাম আহমাদ রচিত ‘বারাহিনে আহমাদিয়্যাহ’ পঞ্চম অধ্যায়: পৃ. ১৮০

[22] জায়নিজম, ইনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা ।

[23] নিক্কি তি না—২২ পৃষ্ঠা

[24] জালালুদ্দীন শামস রচিত ‘সাদাকতে হযরত মাসিহে মাওউদ’ রবওয়া, পৃ. ৯৬

[25] মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি রচিত হাকিকতুল ওহি, প্র. ১৯০৭—এই নামে  প্রকাশিত পত্রিকা এবং তার মুকাবেলায় লেখিত প্রবন্ধগুলো বিস্তারিত দ্রষ্টব্য।

[26] ডুয়ির জীবন ও তার আন্দোলন নিয়ে বিস্তারিত জানতে ডিকশনারী অফ আমেরিকান বায়োগ্রাফি, এল জনসন এন্ড ডুমা, নিউইয়ার্ক প্র. ১৯৫৯ পৃ. ৪১৪ এবং উয়েস্টারয বায়োগ্রাফিকল ডিকশনারি, আমেরিকা, প্র. ১৯৬৪ দ্রষ্টব্য।

[27] এই বিষয় আরো বিস্তারিত জানতে পড়ুন করাচি থেকে প্রকাশিত মাসিক আল বালাগ ১৯৭৩ সালের এপ্রিল সংখ্যা।

Facebook Comments