আকিদা

আশআরী এবং আছারী আক্বীদা পন্থীদের মৈত্রী বন্ধন! পর্ব:১ | শাইখ আব্দুল্লাহ আল মামুন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

ইমাম ইবনু কাসীর রহিমাহুল্লাহ মাযহাবে শাফেয়ী ও ফুরুয়ী আক্বীদার ক্ষেত্রে তিনি আহলুস সুন্নাহ ওয়া জামাতের অধিকাংশ মুহাদ্দিস, ফুক্বাহা ও সালেহীনদের মত ইমাম আবুল হাসান আল আশআরী রহিমাহুল্লাহ’র অনুসারী ছিলেন, এতদ্বসত্ত্বেও তিনি হাম্বলী মাযহাবের প্রখ্যাত ফক্বীহ, মুহাদ্দিস এবং ফুরুয়ী আক্বীদায় ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল রহিমাহুল্লাহ তথা আছারী আক্বীদার অনুসারী ইমাম ইবনু তাইমিয়া রহিমাহুল্লা’র ছাত্র ছিলেন। ছাত্র এবং উস্তাদ তারা একে অন্যকে খুব মর্যাদার নজরেই দেখতেন।
.
একবার ইমাম বুরহানুদ্দীন ইবনুল কাইয়্যিম আল জাওযিয়্যাহ রহিমাহুল্লাহর সাথে ইমাম ইববনু কাছীর রহ:’র মিষ্টি ও হাস্য রসাত্মক ঝগড়া হল!….
.
ইমাম ইবনু হাজার আল আসক্বালানী আশ শাফেয়ী আল আশআরী রহিমাহুল্লাহ, বর্ণনা করেন-

ومن نوادره انه وقع بينه وبين عماد الدين بن كثير منازعة في تدريس الناس فقال له ابن كثير انت تكرهني لأنني أشعري فقال له: لو أن ما بين رأسك الى قدمك شعر (يعرض هنا بالاشعرية) ما صدقك الناس في قولك انك أشعري وشيخك ابن تيمية
“এবং ইবনুল কাইয়্যিম রহ: এর আজীব ও গরীব ঘটনার মধ্যে অন্যতম একটি হচ্ছে, একবার ইবনু কাসীর রহঃ’র সাথে লোকদের তাদরিস সংক্রান্ত কোন এক বিষয়ে (মিষ্টি) ঝগড়া লাগল! ইবনু কাছীর রহঃ ইবনুল কায়্যিমক কে বললেন-
আপনি আমাকে এ জন্য অপছন্দ করেন যে, আমি আশআরী আক্বীদার!!? ইবনুল ক্বায়্যিম রহঃ বললেন- যদি তোমার মাথা হতে কদম পর্যন্ত শা’র(তথা চুল) থাকে!* তবুও মানুষ তোমার একথা বিশ্বাস করতে চাইবেনা যে, তুমি আশআরী!অথচ তোমার শায়খ হচ্ছে ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ:।”
.
(দুরারুল কা-মেনাহ ১/৫৮)
.
* এখানে ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ আশ’আরী শব্দের শা’র অংশটুকু মজা করার অর্থে উল্লেখ করেছেন যার অর্থ হচ্ছে চুল!!!
.
সালাফদের যুগে আশ’আরী, মাতূরীদি ও আছারী আক্বীদার মাঝে ফুরুয়ী আক্বীদার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে মতভেদ ছিল কিন্তু কিন্তু মৌলিক আক্বীদায় তারা এক ছিলেন।তারা পরস্পরকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অন্তর্ভুক্ত মনে করতেন, একে অন্যকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত থেকে খারেজ(বের) করতেন না।ইসলামী ইতিহাস গ্রন্থ গুলো এটিই সাক্ষ্য দেয় যে, তারা প্রত্যেকেই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের সাহায্যকারী ছিলেন।
.
একথা অনস্বীকার্য নয় যে, উম্মাহর জমহুর (অধিকাংশ) ফুক্বাহা মুহাদ্দিস, মুফাসসির, মুয়াররীখীন(ঐতিহাসিকগন), উলামা এবং সালেহীন ফুরুয়ী আক্বীদার ক্ষেত্রে আশ’আরী কিংবা মাতূরীদি ছিলেন।

সুতরাং তাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত ও ফিরক্বায়ে নাজিয়াহ( মুক্তি প্রাপ্ত দল) থেকে বের করে দেওয়া মানে এই উম্মাহ ইলম, আমলের বৃহৎ যাখীরাহ তথা ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হবে। বরং বলা যায় একেবারে শূণ্য হয়ে যাবে।
(চলবে ইনশাআল্লাহ)

শাইখ আবদুল্লাহ আল মামুন সমগ্র

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: