আকিদা

শিয়াদের কুফর : ধুম্রজাল ছেড়ে বাস্তবতা (পর্ব-১) | জিয়াউর রহমান ফারুকি রহ.

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

আমার ভায়েরা!

শিয়াদের বিষয়ে ওলামায়ে কেরামের ফতোয়া এটা কোনো নতুন বিষয় নয়৷ মাওলানা হক নেওয়াজ শহিদ রহ. শিয়াদের বাজারে, রাস্তা-ঘাটে, বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে ও চৌরাস্তায় প্রকাশ্যে কাফের বলেছে। এবং এই বিষয়ে তার কাছে অনেক মজবুত দলিল ছিলো। বিষয়টি তাঁর ইমানী গায়রাতের পরিচয় ছিলো। আর তিনি কোনো নতুন কাজ করেননি। তিনি এমন কোনো দলকে কাফের বলেননি, যারা আসলেই কাফের নয়।

 

শিয়াদের কুফর কুরআন দ্বারা প্রমাণিত। আমার উস্তাদগণ উপস্থিত আছেন। ইমাম মালেক রহ. শিয়াদের দলগতভাবে কাফের লিখেছেন। এবং দলিল হিসেবে ঐ আয়াতটিই পেশ করেছেন যা কিছুক্ষণ পূর্বে ক্বারী আব্দুল লতিফ সাহেব তেলাওয়াত করেছেন।

ليغيظ بهم الكفار

এই আয়াতকে সামনে রেখে ইমাম মালেক রহ. শিয়াদের কুফরের ঘোষণা করেছেন৷

ইমাম আব্দুল কাদের জিলানি রহ. ‘গুনইয়াতুত তালেবিন’ কিতাবে শিয়াদের কুফরের ঘোষণা করেছেন।

 

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. শুধু কাফেরই বলেননি, আরো শক্তভাষায় স্পষ্ট করে বলেছেন —পুরো দুনিয়ায় শিয়া এমন এক কাফের সম্প্রদায় যাদের তাওবা কবুল হবে না৷

শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া রহ. একটি বড় চমৎকার কিতাব লিখেছেন ‘মিনহাজুস সুন্নাহ’ নামক। যা চার খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। আমি আশা রাখি আহলে ইলম হযরত কিতাবটি পড়েছেন। এই কিতাব পুরো উম্মতে মুসলিমার পক্ষ থেকে ফরজে কিফায়ার মর্যাদা রাখে। এই বইতে শাইখুল ইসলাম শিয়াদের কাফের হওয়ার ঘোষণা তো স্পষ্ট ভাষায় বলেননি৷ কিন্তু শিয়াদের জন্যে কাফেরদের থেকে আরো কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেহেতু এই কিতাবটি একজন শিয়ার রদে লেখা হয়েছে, তাই এখানে স্পষ্ট কুফরের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু শাইখুল ইসলামের অপর কিতাব ‘আসসারিমুল মাসলুল আলা শাতিমির রাসুল’ কিতাবে প্রকাশ্যে শিয়াদের কুফরের ঘোষণা করেছেন এবং মুরতাদ ও মুনাফিক লিখেছেন।

 

আমার ভায়েরা!

আমি এই বলতে চাচ্ছি—ইমাম মালেক রহ., ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. এমনকি ইমাম আবু হানিফা রহ. এই কথাটি বলেছেন—

من أنكر صحبة أبي بكر فهو كافر،

(যে ব্যক্তি আবু বকর রা.-র সাহাবি হওয়াকে অস্বীকার করবে সে কাফের)

এরপর শিয়াদের কুফরের বিষয়ে কোনো তাওয়াক্কুফ করা উচিত নয়৷

এখন একটি কথা কিছু মানুষ বলে— যে ইমাম আবু হানিফা বলেছেন—আহলে কিবলাকে কাফের বলা যাবে না।

ইমাম সাহেবের এই কথাকে তারাই দলিল বানায় যারা শিয়াদের মুসলমান বলে ঘোষণা করে থাকে। তারা বলে—দেখুন, ইমাম আবু হানিফা রহ. বলছেন, ‘আহলে কিবলাকে কাফের বলা যাবে না৷’

আমার ঐ ভাইদের এই কথা জানা নেই আহলে কিবলার যে পরিভাষা ইসলামে প্রচলিত রয়েছে তা কী জন্যে? তার কী উদ্দেশ্য?

যদি তারা বলে যে, আহলে কিবলা দ্বারা উদ্দেশ্য যারা কা’বার দিকে ফিরে নামাজ পড়ে, কা’বাকে নিজেদের কিবলা মানে ‘আহলে কিবলা’ বলতে এটাই উদ্দেশ্য। তাহলে আমি তাদের কাছে প্রশ্ন করবো—আবু জাহেল আর আবু লাহাবের কিবলা কোথায় ছিলো? তাদের কিবলাও তো এই কা’বা শরীফ ছিলো। তারাও তো কা’বার দিকে ফিরে তাদের নামাজ আদায় করতো। তাওয়াফ করতো কা’বাকে কেন্দ্র করে। আপনারা কিতাব মুতালাআ করেন।

 

তো, ‘আহলে কিবলা’ এই পরিভাষা দ্বারা উদ্দেশ্য সেটাই যা ইবনে তাইমিয়া রহ. বলেছেন—

اعلم أن المراد بأهل القبلة الذين اتفقوا ما هو بضروريات الدين،

আহলে কিবলা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো— যারা জরুরিয়্যাতে দ্বীনকে স্বীকার করে। কিন্তু শিয়া এমন এক কাফের, যারা জরুরিয়্যাতে দ্বীনের অস্বীকারকারী৷ আমি এখানে ভুমিকাস্বরূপ দুই একটি কথা বলে আমার আলোচনা পর্ব শুরু করবো৷

 

‘আহলে কিবলা’ এটা আসলে তেমন কোনো আহামরি দলিলই নয়। কাদিয়ানিদের যারা কাফের বলে তাদের বিরোধিতা এটা বলেই করা হয় ‘কাদিয়ানীরাও তো আহলে কিবলা’! আপনারা তাদের কেনো কাফের বলেন? ওলামায়ে কেরাম এই কথার খন্ডনেও দলিল দিয়েছেন। এটা তেমন কোনো বিষয় নয়।

 

ইমাম ইবনে তাইমিয়ার পর মুজাদ্দিদে আলফে সানী রহ. ‘রদ্দুর রাফিজা’ নামের কিতাব লিখে শিয়াদের প্রকাশ্যে কাফের হওয়ার ঘোষণা করেছেন।

শাহ ওলিউল্লাহ রহ. ‘ইজালাতুল খফা’ নামক কিতাবে শিয়াদের কুফরের ঘোষণা দিয়েছেন এবং শিয়াদেরকে খতমে নবুওয়াতের মুনকির বলেছেন। এক জায়গায় নয়৷ বারো জায়গায় শিয়াদের খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী বলেছেন। এবং শেষে অসিয়্যাতে বলে গিয়েছেন এই বলে—দুনিয়ার যে ব্যক্তি আমাকে মানবে আমি তাকে অসিয়্যাত করছি, সে কখনোই যেনো শিয়াকে মুসলমান না বলে। কারণ শিয়ারা খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী৷

আর শাহ নেয়ামাতুল্লাহর ঐ স্বপ্ন ‘ফয়জুল হারামাইন’-এ আজও উল্লেখ আছে। তিনি বলেন—আমি স্বপ্নে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখলাম। জিজ্ঞাসা করলাম ইয়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! ‘শিয়াদের ব্যাপারে আপনার কী মতামত?’

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেন—শিয়াদের কুফরি বুঝার জন্যে তাদের ‘ইমামতের আকিদা’ পড়ে নেওয়াই যথেষ্ট।

 

শাহ সাহেব বলেন—আমি আগামীদিন সকালে উঠেই শিয়াদের ‘ইমামতের আকিদা’ পড়া শুরু করলাম। আর আমি এই ফলাফলে পৌঁছলাম যে, শিয়ারা খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারীই নয়; বরং খতমে নবুওয়াতের দুশমন। এক মূহুর্তের জন্যেও তাদের খতমে নবুওয়াতের উপর ইমান নেই।’

 

এখন আপনারাই সিদ্ধান্ত নিন, খতমে নবুওয়াতের অস্বীকারকারী মুসলমান? আপনার ফায়দা হতে পারে, উদাহরণ স্বরূপ আপনার ভোট দরকার তাই আপনি শিয়াকে কাফের বললেন না। অথবা উদাহরণ স্বরূপ আপনার রাজনৈতিক সফলতা আসছে না। এখন শিয়াদের সাথে সম্পর্ক করতে হবে, তাই বললেন শিয়ারা কাফের নয়। অথবা আল্লাহ মাফ করুক, আপনি এতটাই বুঝদিল যে, আপনি ভাবছেন শিয়ারা যেভাবে তাদের বিরুদ্ধাচারীদের হত্যা করে, আপনাকেও হত্যা করবে। এই জন্যে কাফের বলছেন না। সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ।

 

আপনি শিয়াদের অতংকে হোক, তাদের হিটলিস্টে যাওয়ার ভয়ে হোক, ভোট নেওয়া লাগবে সে জন্যে, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বা দোকানদারি চলানোর জন্যে হোক—এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। কিন্তু স্পষ্ট দলিল ও ফিকিরের দুনিয়ায় পুরো দুনিয়ার কোনো আলেম এই কথার খন্ডন কখনোই করতে পারবে না—এই দুনিয়ার সবচে জঘন্য কাফের। আর এই বিষয়ে যে সন্দেহ ও দোদুল্যমানতা ছিলো তাও দূর করে দিয়েছেন ঐ মর্দে মুমিন, যাকে আমরা মুফাক্কিরে ইসলাম মনজুর নোমানী নামে জানি৷ যিনি শিয়াদের বিপরীত মুসলমানদের ঘরানা থেকে ফতোয়া প্রকাশ সন্দেহের শেষবিন্দুটাও দূর করে দিয়েছেন৷

 

আমার ভায়েরা!

আরো একটি কথা আমি আপনাদের বলতে চাই। শিয়াদের কুফর সম্পর্কে একদম শুরু জামানা থেকে তাদের কুফরির যত কারণ বর্ণনা করা হয়েছে, তার কারণেই শিয়াদের আসল কুফরি আকিদাগুলো পর্দার অন্তরালে রয়ে গেছে৷ শিয়াদের কুফরির সবচে বড় কারণ এটা বর্ণনা করা হয়েছে যে শিয়ারা ‘শায়খাইন’ আবু বকর ও ওমর রা.কে অস্বীকার করে৷ আর এই কারনেই শিয়ারা ‘তাকিয়া’-র চাদরে নিজেদের ঢেকে বিভিন্ন স্থানে ও শতাব্দীতে বাঁচিয়ে এসেছে৷ উদাহরণস্বরূপ, শিয়ারা প্রত্যেক শতাব্দীর মুসলিম বাদশাদের কাছে গিয়ে বলতো- ‘আমরা মুসলমান’। ‘তোমরা তো আবু বকর আর ওমরকে মানো না’। তখন তারা বলতো— ‘জি, আমরা তাদের মানি। তবে আলি রা.-র পর তাদের মর্যাদা মানি’।

 

ব্যস, আলোচনা সেখানেই শেষ। কিন্তু শিয়াদের যত আসল কুফরী আকিদা আছে সেটাতে অন্ধকারে রাখা হয়েছে। কেন?

১. তাদের সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব ছিলো আমাদের। অথবা

২. তাদের তাকিয়ার কারণে।

 

শিয়াদের আসল কুফরিগুলো যদি প্রথম যামানা থেকেই স্পষ্ট করে প্রকাশ করে দেওয়া হতো তাহলে তারা দুনিয়ার কোনো শতাব্দীতে, কোনো ভুখন্ডে, কোনো মুসলিম বাদশাহর কাছে মুসলিম হিসেবে স্বীকৃতি পেতো না। আর তাদের অবস্থা ঠিক তেমনই হতো যা বর্তমানে ইহুদী খ্রিস্টান, হিন্দু ও শিখদের।

কিন্তু কুফরির আসল কারণগুলো বলা হয়নি। সাহাবাদের তাকফির ও গালি দেওয়া ছাড়াও তাদের অনেক কুফরি আকিদা আছে।

 

ভায়েরা আমার!

ভুমিকা স্বরূপ আরেকটি কথা বলি। রাজনৈতিকভাবেও যদি দেখি তাহলে দুনিয়ার কোন জামানায় এই শিয়ারা মুসলমানদের নুন্যতম কী উপকার করেছে?

একটা তো হলো—হযরত ওমর ফারুক রা.কে ছুরিকাঘাতকারী শিয়া, হযরত উছমান রা.কে শহিদকারী শিয়া৷ এটাও কিছুক্ষণের জন্যে একদিকে রাখুন।

 

সালাউদ্দিন আইউবী রহ.-এর সাথে গাদ্দারী কে করেছে? আমাকে কি একটু বলবেন? সালাহউদ্দিন আইউবী খ্রিস্টানদের সাথে যুদ্ধে লড়ছিলো আর সেই খ্রিস্টানদের কাতারে গিয়ে শিয়ারা ঢুকে গেছে!

ইবনে আলকামী কে? যে বাগদাদে চেঙ্গিস খান ও হালাকু খানকে ডেকে এনে মুসলমানের সম্রাজ্যকে তছনছ করে দিয়েছে।

যখন ইমাম ইবনে তাইমিয়া তাতারীদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দিয়েছেন তখন তাতারীদের সাথে মিলেছে কারা?

সুলতান টিপু যখন ময়দানে আসলো তখন মির সাদিকটা কে?

নবাব সিরাজউদ্দৌলা যখন আসলো তখন মির জাফর কে?

 

আচ্ছা রাখুন পুরান শতাব্দীর কথা। আজ আফগানিস্তানে যখন ১৩ বছর যাবৎ যুদ্ধ চলছে, পনেরো লক্ষ মুজাহিদ শহিদ হয়েছে, দুই দফা মুজাহিদগণ কাবুল বিজয়ের দারপ্রান্তে ছিলো, তখন বাঁধা সৃষ্টি করেছে এই শিয়ারাই। আর বর্তমান এখন যেই অবস্থানে আছে তা হলো— মুজাহিদদের ব্যাপারে আমেরিকার যে পজিশন ইরানেরও ঠিক একই পজিশন। আমেরিকা বলে জাহের শাহের সাথে সন্ধি করো, ইরানও বলে জাহের শাহের সাথে সন্ধি করো৷ এর অর্থ দাঁড়ায় যে পনেরো লক্ষ মুজাহিদ শহিদ হয়েছে তাদের রক্ত মূল্যহীন, তা বিফলে গেলেই বা কী!? আফগানের ময়দানে জিহাদে ইসলামের সবচে বড় বাধা হলো ইরান। তারা পাঁচটা কাগুজি সংগঠন বানিয়েছে। যারা প্রতিটি পদে-পদে মুজাহিদদের জন্যে বাধা সৃষ্টি করছে।

 

ভায়েরা আমার!

আমি আজকের আলোচনায় যে বিষয়টা স্পষ্ট করতে চাই তা হলো—শিয়াদের কুফর শুধু আবু বকর ও ওমর রা.-র বিরোধিতার কারণে এই কথাই বলা হয়েছে। অথচ শিয়াদের কুফরির এর থেকেও বড় বড় কারণ রয়েছে। যেমন ‘আকিদায়ে বাদাহ’। আচ্ছা আমি ধরে নিলাম এটাতে ব্যাখ্যার সুযোগ আছে। ওলামায়ে কেরাম বলছেন—এই আকিদায় ব্যাখ্যার সুযোগ আছে।

 

‘আকিদায়ে রাজয়াত’ কেয়ামতের আগেই মূর্দারা জীবিত হতে পারবে। এটাও শিয়াদের আকিদা। আমি বলবো ঠিক এটাতেও ব্যাখ্যার সুযোগ আছে। কিন্তু শিয়াদের সেই সমস্ত কুফরিগুলো যেগুলোতে তাবিলের কোনো সুযোগ নেই, সেগুলো উম্মাতে মুসলিমার সামনে আনা ফরজ। যাতে যেসব শিয়ারা তাকিয়ার চাদরে নিজেদের কুফরি লুকিয়ে উম্মাতে মুসলিমার প্রত্যেক স্তরে ঢুকে গেছে, তাদের তাকিয়ার সেই চাদর সরিয়ে দিয়ে নগ্ন করে চৌরাস্তায় ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

করা দরকার কি না?

 

আর শিয়াদের এই নগ্ন করার পুরো দোষ যার উপরে বর্তাবে সে হলো খোমেনি।

আমি যদি আজ বলি—শিয়া তোমরা তাকিয়া করো, তাহলে তারা বলে আমি বিদ্বেষ রাখি ৷ আমি যদি বলি তোমরা আবু বকর ও ওমর রা. কে গালি দাও, তাহলে বলে আমি ফাসাদ সৃষ্টি করছি৷ আমি বলি—হে শিয়া! তোমরা আকিদায়ে বাদাহতে আল্লাহকে মিথ্যুক বলো। তারা বলে—না না, আমরা এমনটা বলি না। আমি বলি—তোমরা তোমাদের ইমামদের থেকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কম মর্যাদার বলে থাকো, তারা বলে এটা আমাদের আকিদা নয়।

 

কিন্তু আমার ভাইয়েরা! শিয়ারা হলো সে সম্প্রদায় যারা প্রত্যেক যামানায় তাকিয়া করে এসেছে।

এখানে একটি প্রশ্ন, ঐ প্রশ্ন উল্লেখ করে আমি উত্তর দিবো যাতে বুঝতে আমাদের সুবিধা হয়।

আমাদের উপর এই প্রশ্ন করা হয়—ফারুকি সাহেব! এর কী কারণ? আজ থেকে দশবছর পূর্বেও তো খতমে নবুওয়াতের প্রতিটি কনফারেন্সে শিয়ারা উপস্থিত থাকতো। আর আজ তুমি তাদের বলছো কাফের!? প্রত্যেকটি আন্দোলনে শিয়া! পাকিস্তান বানানোর সময় শিয়া! খতমে নবুওয়াতের আনদোলনে শিয়া!! আর আজ তারা নিকৃষ্ট কাফের হয়ে গেছে!? এটার কী কারণ?

আমার প্রশ্ন ঠিক আছে? এই প্রশ্ন আছে কিনা সমাজে? আর আজ যে তোমরা শ্লোগান তুলছো— ‘কাফের কাফের শিয়া কাফের’ এটা তোমাদের জোরজবরদস্তি ও শক্তমতের কারণে বলছো। আজ থেকে দশবছর পূর্বে তো এই কথা বলা হতো না। আজ কেনো বলা হচ্ছে? কী এমন প্রয়োজন দেখা দিয়েছে?

 

এবার একটি মৌলিক কথা মুখস্থ করে নিন৷ ‘উসুলে কাফি’ শিয়াদের মৌলিক একটি ধর্মগ্রন্থ। সেখানে আলি রা. থেকে রেওয়ায়েত আছে। ইমাম জাফর সাদেক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমিরুল মুমিনীন আ. বলেন—দুনিয়াতে আমার অনুসরণকারী যত শিয়া আছে তাদের কাছে আমার এই অসিয়্যাত পৌঁছিয়ে দেও, যে ব্যক্তি নিজের মাজহাব লুকিয়ে রাখবে সে ইজ্জত পাবে। আর যে প্রকাশ করবে সে বেইজ্জতি ও লাঞ্ছিত হবে।’

 

এটাই হলো—শিয়াদের মৌলিক উসুল। ‘উসুলে কাফি’তে আছে। আর শিয়া চৌদ্দশত বছর পর্যন্ত এই উসুল অনুযায়ী চলছে। কেনো? কারন ছাপাখানা তো এক দেড়শো বছর থেকে শুরু হয়েছে৷ এর আগে সবকিছু কলমে লেখা হতো। আর শিয়াদের যত মৌলিক কিতাবাদি তার সবটাই এর পূর্বে লেখা হয়েছে৷ এই ‘উসুলে কাফি’ এটা কলমে লেখা হয়েছে৷ ফুরুয়ে কাফি হাতে লেখা হয়েছে। ‘তাহজিবুল আহকাম’, ‘আল ইস্তেবছার’ শিয়াদের এই চার কিতাব যাকে তারা ‘সিহাহে আরবায়া’ এবং ‘কুতুবে আরবায়া’ বলে।

 

এই কিতাবগুলো কলমে লেখা হয়েছে। একটি করে নুসখা তারা লুকিয়ে ফেলেছে। একটি দেশে একটি করে হাতে লেখা নুসখা লুকিয়ে রাখা তেমন কঠিন কিছুই না। হাজার, দেড় হাজার বছরে শিয়াদের কোনো কিতাব ছাপানো বা প্রকাশ্যে ছিলো না। সব লিখিত মাখতুত আকারে ছিলো৷ আর আলি রা. এই কওল তাদের কাছে ছিলো—যে তার মাজহাব লুকাবে সে ইজ্জত পাবে আর যে প্রকাশ করবে সে লাঞ্ছিত হবে। তাই শিয়ারা তাদের সমস্ত মাখতুতগুলো লুকিয়ে রেখেছেন। একটি নুসখাকে যদি দেশে লুকিয়ে ফেলা যায় তাহলে কে এটা খুঁজে বের করবে এদের আকিদা কী? এদের দৃষ্টিভঙ্গি কী? এরা করতে কী চায়? উদ্দেশ্য কী তাদের? এগুলো লুকিয়ে রাখা অনেক সহজ। এটাই ছিলো তাদের মাজহাব। নিজেদের লুকিয়ে রাখো। তুমি যদি কোনো শিয়াকে জিজ্ঞাসা করো—তোমরা কুরআন অস্বীকার করো৷ তারা বলবে মিথ্যা কথা৷ তুমি বলবে তোমরা আবু বকরকে গালি দেও তারা বলবে এটা সত্য নয়। কেনো তারা এটা করতো? কারণ আমাদের দৃষ্টিতে তো সে মিথ্যা বলেছে। কিন্তু তাদের ধর্মমতে তো সে নেকি কামিয়েছে ইমামের কথা মেনে তাকিয়া করেছে। আর তাদের উসুলই হলো—

من لا تقية له لا إيمان له،

যে তাকিয়া করবে না তার ইমান নেই।

 

তার অর্থ হলো সে নিজের মাজহাবের ব্যাপারে মিথ্যা বললে সে নেকি পাবে। কিন্তু তুই কেনো তোর নিজ এরিয়ায়, তোর ভুখন্ডে, তোর আশপাশে শিয়াদের কথা মত বলে দিস যে—তারা তো আল্লাহকে মানে। এরা তো নবিকে মানে। আবু বকরকে মানে। সমস্যা তো নেই।

আরে! এটাই তো তাদের আদেশ ছিলো নিজের মাজহাব লুকাও। তুমি নেকি পাবে।

কিন্তু আমার ভায়েরা!

খোমেনি ফেব্রুয়ারী ১৯৮৯ ক্ষমতায় আসে। ক্ষমতায় এসে সে তৃতীয় যে হুকুম জারি করে তা কোথায়? খোমেনির বিভিন্ন ভাষণ যা ত্রিশখন্ডে ছাপা হয়েছে। ঐ সমস্ত ভাষণের সংকলনে যে তৃতীয় ভাষণ সেখানে স্পষ্ট আছে—ইমামের আদেশ ছিলো মাজহাব লুকাও৷ কিন্তু ১৪ শত বছরের ইতিহাসে আল্লাহ আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছে তা এর আগে আর কোনো শিয়া পায়নি৷ তারা হয়তো মুরতাদ ছিলো অথবা সুন্নিদের সাথে আতাত করে ক্ষমতায় ছিলো। আমি এই সবকিছু থেকে উর্ধ্বে। আমি আলি আ.-র যোগ্য উত্তরসূরি। ইমাম হওয়ার যোগ্য। তাই আমি ইমাম আলি আ.-র সেই হুকুমকে মানসুখ করে দিয়ে এলান করছি। শিয়া! নিজেদের মাজহাবকে প্রকাশ করো৷ প্রথমে মাজহাব লুকানো ইবাদত ছিলো আর এখন মাজহাব প্রকাশ করা ইবাদত।

 

হাজার বছরের তাকিয়ার মাজহাবকে খোমেনি ভেঙ্গে দিলো। সমস্ত মাখতুত নুসখা যা লুকিয়ে রাখা হয়েছে তা প্রকাশ্যে এসে তাদের লুকানো চেহারা প্রকাশ করে চৌরাস্তায় উলঙ্গ করে দিয়েছে৷ উসুলুল কাফি ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। হাক্কুল ইয়াকীনকে ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ শিয়াদের সমস্ত কিতাব যেগুলোতে সাহাবাদের মা-বোনদের গালি দেওয়া হয়েছে ছাপিয়ে দিয়েছে।

 

যেখানে লেখা ছিলো—আল্লাহ মিথ্যা বলে এটাই ছাপিয়েছে।

যেখানে লেখা ছিলো—পয়গম্বর ব্যার্থ হয়েছে। সেটাও ছাপা হয়েছে।

যেখানে লেখা ছিলো—ইমাম মাহদির হাতে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাইয়াত নিবেন সেটাও ছাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যেখানে লেখা ছিলো—আয়েশা রা.-র উপর জিনার হদ কায়েম করা হবে এটাও ছাপিয়ে দিছে।

যেখানে লেখা ছিলো আবু বকর ও ওমর রা.কে রওজা থেকে বের করে পাথর নিক্ষেপ করা হবে। তাদেরকে উলঙ্গ করে মদিনার রাস্তায় রাস্তায় ঘুরানো হবে। তাও ছাপিয়ে দিয়েছে।

যেখানে এটা লেখা ছিলো—আবু বকর কাফের, ওমর কাফের, উছমান মদখোর। ঐ সবকিছু সাড়ে ১৭ লক্ষ ডলার খরচ করে এক বছরে খোমেনি ছেপেছে। উর্দুতে, আরবিতে, ফারসিতে ও ইংরেজিতে।যখম এই সমস্ত কিতাব দুনিয়ার আনাচে-কানাচে পৌঁছে গেলো। তখন এতদিন যারা ইরানী ইনকেলাবের পর খোমেনিকে সালাম দিতো, সম্মান করতো। কিন্তু যখন এই বিষমাখা চেহারা প্রকাশ পেয়ে গেলো তখন সমস্ত মুসলমান খোমিনিকে কাফের ফতোয়া দিয়েছে।

 

আরে!

হক নেওয়াজ জাংভি রহ. তো পাকিস্তানে ছিলো। ইন্ডিয়াতে মানজুর আহমেদ নোমানী সে তো কোনো সিপাহে সাহাবার সদস্য ছিলো না। লেবাননে শায়খ উতাইর তাকফির করলো। সে তো কোনো সিপাহে সাহাবার কেউ ছিলো না৷ মিশরের শায়খ উজাইর তাকফির করলো। সে তো কোনো সিপাহে সাহাবার লোক ছিলো না। মিশর থেকে খোমেনির কুফরের ব্যাপারে কিতাব ছাপানো হয়েছে। বাইরুত থেকে খোমেনির কুফরের ব্যাপারে কিতাব ছাপানো হয়েছে। ইন্ডিয়া থেকে খোমেনির কুফরের বিষয়ে কিতাব ছাপানো হয়েছে।

 

ঐ কুফরগুলোকে যদি হক নেওয়াজ রাস্তার মোড়ে মোড়ে, বাজারে, পার্কে লাগিয়ে থাকে যাতে মানুষের ইমানকে রক্ষা করতে পারে। তাহলে আমাকে বলো—এই কুৎসিত জঘন্য চেহারা প্রকাশ করাতে হক নেওয়াজের নয় বরং কাফের খোমেনির হাত রয়েছে। ঐ শিয়া! হক নেওয়াজকে ভালো মন্দ বলা ছাড়। নিজের বাপের খবরকে গিয়ে গালি দে।

 

আমার ভায়েরা!

আমার কথা বুঝে আসতেছে আপনাদের? এখন বলেন—শিয়াদের চেহারা খুলে তাদের উলঙ্গ কে করেছে? খোমেনি উঠিয়েছে। খোমেনি নিজের দেহকে নিজে উলঙ্গ করেছে। কিন্তু হক নেওয়াজ শরীফের উপর কেন তার রাগ তারা প্রকাশ করলো? এই বিষয়ে আমি আলোচনা করবো। এই তো গেলো কিছু ভুমিকা স্বরূপ কথা৷ এখন আমি মূল আলোচনা শুরু করবো।

(চলবে)

 

নোট : জিয়াউর রহমান ফারুকী রহ. এখানে যতগুলো হাওয়ালা দিয়েছেন আমার যাচাই করার তাওফিক হয়নি। ইনশাআল্লাহ পুরো অডিও লিপিবদ্ধ করে হাওয়ালাগুলো মিলিয়ে পিডিএফ বা অন্যকোনো পন্থায় পেশ করা হবে ইনশাআল্লাহ)

 

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: