আকিদা

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সম্পর্কে শিয়াদের আকিদা-৩ | মাহদি হাসান কাসেমি

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr

কিতাব: কাশফুল আসরার
মূল: সাইয়্যেদ হুসাইন আল-মুসাওয়ি (শিয়া মুজতাহিদ আলেম)

আমরা ইতিহাস পাঠ করলে হালাকু খানের কথা জানতে পারি। যে বাগদাদে এ পরিমাণে মুসলমান হত্যা করেছিলো যে, দজলা নদিতে পানির বদলে রক্ত প্রবাহিত হওয়া আরম্ভ হয়েছিলো। এ পরিমাণই বিভিন্ন ফনের কিতাব সমুদ্র নিক্ষেপ করে নষ্ট করে দিয়েছিলো। এ সব হত্যা ও নিকৃষ্টতম কাণ্ড কায়সার তুসি এবং মুহাম্মদ বিন আলকামি এর পরামর্শে হয়েছিলো। যারা উভয়ে শিয়া এবং আব্বাসীয় খলিফার মন্ত্রী ছিলো। রাজ দরবারে তাদের যথেষ্ঠ প্রভাব ছিলো। কিন্তু আহলুস সুন্নাতের অনুসারীরা এ শাসনস্ত হওয়ার তাদের এ খিলাফত পছন্দ ছিলো না। তাই তারা হালাকু খানের সঙ্গে গোপনে চিঠি আদানপ্রদান করতো। ফলে সে বাগদাদ প্রবেশ করে আব্বাসীয় খিলাফতকে ধুলিস্ম্যাত করে দিয়েছিলো। এ শাসনের পরিসমাপ্তি ঘটার পরই তারা দুজন হালাকু খানের মন্ত্রী হয়েছিলো। অথচ হালাকু খান ছিলো একজন বেদ্বীন। কাফির।

এ কারণেই ইমাম খমিনি কায়সার তুসি ও মুহাম্মদ বিন আলকামির ওপর সন্তুষ্ট ছিলো। তাদের এই নিকৃষ্ট কর্মকে দ্বীন ইসলামের বড় খিদমত বলে অবহিত করেছিলো। আমরা এ অধ্যায়টাকে নিয়ামাতুল্লাহ জাযায়িরির কথা দ্বারাই শেষ করবো। যিনি আহলুস সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীদের সঙ্গে তাদের অবস্থানের সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়েছেন:

–শিয়া ইমামিয়াগণ এ কথার ওপর ঐক্যমত যে, আহলুস সুন্নাত কাফির। এমনকি তারা ইহুদি খ্রিস্টানদের থেকেও নিকৃষ্টতম। আর নাসিবি (আহলুস সুন্নাত) হওয়ার সবচেয়ে বড় আলামত হলো আলির ইমামতের ওপর অন্যকারো ইমামতকে প্রাধান্য দেওয়া। (আল আনওয়ারুন নুমানিয়্যাহ—৩০৬)

মোটকথা: শিয়াদের কাছে সুন্নীরা কাফির এবং নাপাক। এমনকি ইহুদি খ্রিস্টানদের থেকেও নিকৃষ্ট। যাদের কোনো আকিদা, আমল কিংবা কথা—কোনোটারই সমর্থক হওয়া সম্ভব নয়। না প্রভুর ক্ষেত্রে, না নবি না ইমাম। সে সঙ্গে সাহাবায়ে কিরামদের ওপর অভিসম্পত ও তিরস্কারের অগ্নিবর্ষণ করা একান্ত কর্তব্য। অথচ আল্লাহ তাআলা কুরআনে কারিমে তাদের প্রশংসা করেছেন। তারা দাওয়াত কিংবা জিহাদ—সর্বক্ষেত্রেই রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলেন। রাসুলের সঙ্গে কাফিরকতৃক সর্বদাই পরীক্ষিত হয়েছেন। রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সাহাবায়ে কিরাম রদিয়াল্লাহু আনহুমদের গজওয়া কিংবা সারিয়্যায় শরিক হওয়াই তাদের ঈমান ও মুজাহাদার এত বড় দলিল যে, তার বিপরীতে তাদের ঈমানহীনতার ব্যপারে কোনো ফকিহের কোনো প্রমাণই গ্রহনযোগ্য হবে না।

ইরানে যখন রিযা শাহ পাহলভিকে ক্ষমতাচ্যুত করে খমিনি অধিষ্ঠিত হলো, তখন শিয়া ফকিহদের ফতোয়া মোতাবেক প্রত্যেক শিয়া আলিমের জন্য খমিনির যিয়ারতে ইরান হাজির হওয়া অত্যাবশ্যক ছিলো। কারণ তার প্রচেষ্টায়ই এ যুগে প্রথম শিয়ারাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ইমাম খমিনির সঙ্গে যেহেতু আমার আত্মিক পরিচয় ছিলো, তাই ফরযের মাত্র আমার ওপর একটু বেশিই ছিলো।

ইমাম খমিনির তেহরান আগমনের পর আমি এক-দেড়মাস অন্তর কম বেশি তেহরান চক্কর লাগিয়েছি। ইরাক থেকে উলামাদের যে দল খমিনির সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলো, আমার সাক্ষাত তাদের থেকে আলাদাই ছিলো। সুতরাং বিশেষ এক মজলিসে আমি খমিনির কাছে বসা ছিলাম। তখন সাইয়্যেদ হুসাইন আমাকে বললো: আমাদের ইমামদের অসিয়াত মোতাবেক নাসিবিদের (আহলুস সুন্নাত) রক্ত প্রবাহিত করার সময় এখন চলে এসেছে। তাদের বাচ্চাদের হত্যা করতে হবে আর মহিলাদের জীবিত রাখতে হবে। তাদের ধনসম্পদও শিয়াদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিতে হবে। মক্কা এবং মদিনা ভূমিকে আমাদের নিঃশেষ করতে হবে—কেননা এটা বর্তমান ওহাবিদের আস্তানা বনে গেছে—পরিবর্তে কারবালাকে পূণ্যভূমিরূপে স্বীকৃতি দিতে হবে। নামাজের জন্যও এটাকে কিবলা বানাতে হবে। আমাদের ইমামদের প্রজ্ঞা দ্বারা এ কাজ অতিতাড়াতাড়িই সমাপ্ত করতে হবে। যে ক্ষমতা অর্জনের জন্য বছর বছর আমরা অপেক্ষা করে এসেছি—তা আজ পূর্ণতা লাভ করেছে। কাজেই অপূর্ণ কাজগুলোই আমাদের পূর্ণতায় রূপ দিতে হবে।

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: