আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সম্পর্কে শিয়াদের আকিদা-২ | মাহদি হাসান কাসেমি

শিয়াদের আকিদা

কিতাব: কাশফুল আসরার
মূল: সাইয়্যেদ হুসাইন আল-মুসাওয়ি (শিয়া মুজতাহিদ আলেম)

শিয়ারা সমস্ত সাহাবায়ে কিরাম রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈনদের অত্যাধিক পরিমাণ গালি ও অভিসম্পাত করে থাকে। বিশেষত হযরত আবু বকর, হযরত উমার ও হযরত উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহুম এবং হযরত আয়শা ও হযরত হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহুমাকে ক্রোধ ও অভিসম্পাতের স্বীকার বানায়।

শিয়াদের মধ্য প্রচালিত একটি বদদোয়া রয়েছে: হে আল্লাহ! আপনি কোরাইশ বংশের দুই ভূত আবু বকর ও উমার এবং তাদের দুই তাগূতকন্যা আয়শা ও হাফসার ওপর অভিশাপ বর্ষণ করুন।

এই বদদোয়া শিয়াদের সব নির্ভরযোগ্য গ্রন্থেই রয়েছে। বিশেষত ইমাম খমিনি প্রতিদিন বাদ ফজর এ বদদোয়া করতেন।

হামযা বিন মুহাম্মদ তাইয়্যার বলে: আমরা আবু আবদুল্লাহর কাছে বসা ছিলাম। তিনি তখন বললেন: আল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আবু বকরের ওপর রহমাত বর্ষণ করুক। একবার সে আমীরুল মুমিনীন আলি আলাইহিস সালামকে বলেছিলো: আপনি হাত বাড়ান, আমি আপনার হাতে বায়াত গ্রহণ করবো। তখন তিনি বললেন: এটা কি বাস্তব? সে বললো: কেনো নয়? যখন তিনি হাত বাড়ালেন, তখন মুহাম্মদ ইবনু আবু বকর বললো: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই সে ইমাম যার আনুগত্য ফরয। আমার পিতা আবু বকর তো জাহান্নামি। (রিজালে কাশশি—৬১)

এ কথা সবারই জানা থাকা প্রয়োজন যে, ইরানের কাশান শহরে বাগি মেইনরোডের পাশে আলি গরার আল জুনদির একটি মাকবার রয়েছে। যেখানে নামহীন একটি কবরও আছে। আমার ধারণা এটাই দ্বিতীয় খলিফা হযরত উমার রদিয়াল্লাহু আনহুর শাহাদাতকারী অগ্নিপুজোক আবু লু’লু’ ফাইরুযের কবর। যে কবরখানা বাবা সুজাউদ্দিনের দরবার নামে প্রসিদ্ধ।

চিন্তে করুন: উমার রদিয়াল্লাহু আনহু এর হত্যাকারীকে শিয়ারা কি উপাধী দিয়ে রেখেছে? যে কবরের দেয়ালে লেখা রয়েছে: মরগ বর আবু বকর, মরগ বর উমার, মরগ বর উসমান বা আবু বকর, উমার ও উসমানের উপর মৃত্যু হোক।

এটা এমন একটা কবর—ইরানবাসী যা অত্যাধীক যিয়ারত করে থাক। এবং ঢের ধন সম্পদ দিয়ে থাকে। আমি স্বয়ং সে কবর দেখেছি। ইরানের মন্ত্রীপরিষদের পক্ষ থেকে তার সংস্কারও করা হয়েছে। সে সঙ্গে সেখানে কবরাকৃতির একটি প্রেসও নির্মাণ করেছে। যেখান থেকে সংবাদ পত্র ও কিতাবাদী প্রচারের কাজ করা হয়।

কুলায়নি আবু জাফর থেকে বর্ণনা করে: আবু বকর ও উমার যখন মৃত্যু বরণ করেছিলো, তখন তারা না তাওবা করেছিলো না আমিরুল মুমিনের সঙ্গে কৃত কর্ম স্মরণ করেছিলো! তাদের ওপর আল্লাহ, ফিরিশতা এবং সমস্ত মানুষের লা’নত বর্ষিত হোক। (রওযাতুল কাফি—৮/৩৪৬)

আলি ইবনু ইউনুস আল বায়াযি বর্ণনা করে: উসমান নংপুষ ছিলো, যার সঙ্গে লোকজন উপহাস করতো। (আস সিরাতুল মুসতাকিম—২/৩০)

ইবনে রজব আল বারাসি বলে: আয়শা খিয়ানত করে চল্লিশ দিনার জমা করে রেখেছিলো। (মাশারিকু আনওয়ারিল ইয়াকিন—৮৬)

এ কারণেই প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, যদি খোলাফায়ে রাশিদিনদের মধ্যেই এ বদ অভ্যাস থেকে থাকে, তবে আমিরুল মুমিনিন আলি কেনো তাদের হাতে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন? কেনো এতদীর্ঘদিন তাদের রাজত্ব সহ্য করেছেন? তবে কি আলি তাদের ভয় পেতেন?

সাইয়্যেদ জাযায়িরির উক্তিমতে যদি উমার ফারুক রদিয়াল্লাহু আনহুর পিঠে এমন কোনো অসুস্থতাই থাকতো, যার কোনো চিকিৎসা নেই, তবে আমিরুল মুমিনীন কেনো তার মেয়ে উম্মে কুলসুমকে তার সঙ্গে বিয়ে দিলেন? সে অসুস্থতা সত্ত্বেও কি তিনি তার সঙ্গে সহবাস করতে সক্ষম ছিলেন? উমার রদিয়াল্লাহু আনহুর অসুস্থতা আমিরুল মুমিন জানলেন না, অথচ জাযায়িরি সাহেব জেনে গেলেন! বড় বিস্ময়কর কথা এটা! এ সম্পর্কে এরচেয়ে বেশি কিছু বলার সাহস নেই আমার।

কুলায়নি বলে: শিয়ারা ছাড়া সমস্ত মানুষই যিনাকারী পুরুষ ও যিনাকারিনী মহিলার সন্তান। (রওযাতুল কাফি—৮/১৩৫)

এ কারণেই তাদের কাছে আহলুস সুন্নাতের অনুসারীদের হত্যা করা এবং তাদের ধনসম্পদ লুট করা জায়েয আছে।

দাউদ বিন ফারকাদ বলে: আমি আবদুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, আহলুস সুন্নাতের অনুসারীদের হত্যা করার ব্যপারে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন: তাদের হত্যা করা জায়েজ। বরং তোমরা এ প্রচেষ্টা করবে যে, তাদের দেয়ালের নিচে চাপা দিয়ে কিংবা পানিতে চুবিয়ে হত্যা করতে। যেন কোনো সাক্ষি না থাকে। (ওসায়েলুশ শিয়া—১৮/৪৬৩, বিহারুল আনওয়ার—২৭/২৩১)

এ রেওয়াতের হাশিয়ায় খমিনি লেখে যে, যদি সম্ভব হয়, তবে তাদের সম্পদ লুট করে আমাদের খুমুস বা এক পঞ্চমাংশ দান করবে।

সাইয়্যেদ নিয়ামাতুল্লাহ জাযায়িরি বলে: আলি ইবনু ইয়াকতিন নামক এক বুদ্ধিমান মন্ত্রী একবার আহলুস সুন্নাতের অনুসারী প্রায় পাঁচশ লোকের একটি দলকে জেলে বন্দি করে। অতঃপর তার দাসদের নির্দেশ দিয়ে সে জেলের সাদ ভেঙে ফেলে। ফলে তারা সকলেই মারা যায়। (আল আনওয়ারুন নুমানিয়্যাহ—৩/৩০৮)

আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সম্পর্কে শিয়াদের আকিদা ১ম পর্ব

Facebook Comments