সংকলন
আব্দুল্লাহ তালহা নাসীহা পীর জুলফিকার আহমেদ নকশবন্দী লেখক

ফকীরের নসিহত-১ | রিযকে বরকত লাভের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আমল

যুবক ভাইয়েরা ভালো করে শুনুন। যে ব্যক্তি হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় ঘরে প্রবেশ করে এবং সহাস্য বদনে ঘরের মানুষদের সালাম দেয় আল্লাহর তার রিযকে বরকত দান করেন।

কিন্তু অনেকেই এটা করতে পারে না। ঘরে প্রবেশ করে গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারা নিয়ে। সালাম দিবে কী! সে ঘরে ঢুকতেই সবাই তটস্থ হয়ে যায়। ঘরে ঢুকে নম্র ভাষায় কথা বলে না। রাগত স্বরে কথা বলে।

এটা শয়তানের শক্ত ধোকা। কারণ, সে চায় না আমাদের ঘরে বরকত আসুক।
.
উম্মাহাতুল মুমিনিন বলেন, আল্লাহর রাসূল হাসিমুখে ঘরে প্রবেশ করতেন আর সবাইকে সালাম দিতেন।

আমরা ঘরে প্রবেশ করে সালাম দেই না। বিবিকে সালাম দেই না।
অথচ হাদিসের স্পষ্ট ভাষ্য যে ব্যক্তি হাসিমুখে ঘরে প্রবেশ করে এবং সালাম দেয় তার যিম্মাদার খোদ আল্লাহ তাআলা হয়ে যান। অর্থাৎ তার রিযক আল্লাহ পৌঁছাবেন।

সুতরাং, ঘরে প্রবেশ করে হেসে স্ত্রী-বাচ্চাদেরকে সালাম দিন।
.
রিযক লাভের আরেকটি চাবি হলো, পিতা-মাতার বাধ্যগত হওয়া।

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, পাঁচ কারণে আল্লাহ রিযকে বরকত দান করেন,
এক: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে।
দুই: যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে তাদের হক আদায় করে।
তিন: যে ব্যক্তি সবসময় ওযু অবস্থায় থাকে তার রিযকে।
চার: যে ব্যক্তি মাতা-পিতার আনুগত্য করে।
.
হাঁ ভাই! সবসময় ওযু অবস্থায় থাকলেও রিযকে বরকত লাভ হয়।

একবার একটি বিবাহের অনুষ্ঠানে জনৈক সাহাবি আল্লাহর রাসূল সা.কে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সর্বাবস্থায় আয়-রোজগারের সংকটে থাকি। কী করব?
আল্লাহর রাসূল সা. তাকে বললেন, সবসময় পবিত্র থাকো। তাহলে আল্লাহ তোমার রিযকের সংকীর্ণতা দূর করে দিবেন।
তাই এখন থেকে নিয়ত করুন, সর্বাবস্থায় পবিত্র থাকব। ওযু অবস্থায় থাকব। টয়লেটে গেলে ওযু করেই বের হবেন। নামাজের সময় হোক বা না হোক ওযু করবেন। যখনই ওযু চলে যাবে তখনই ওযু করে নিবেন।
যে বান্দা সবসময় ওযু অবস্থায় থাকে আল্লাহ তার রিযকে বরকত দান করেন।
.
রিযকে বরকত লাভের পঞ্চম ওসিলা হলো চাশতের নামাজ পড়া।
দিবস যখন দশটা বা এগারটা বাজে অর্থাৎ সূর্য কিছুটা উপরে উঠে যায়, সূর্যের উষ্ণ তাপ গায়ে লাগে তখন নফল নামাজ পড়াকে চাশতের নামাজ বলে।

অনেক সময় যে সকল ভাই কাজকর্মে ব্যস্ত থাকেন তাদের পক্ষে সেই সময় চাশতের নামাজ পড়া কঠিন।
তো আমাদের বুযুর্গগণ বলেছেন, যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পর এশরাকের নিয়তে দু‘রাকাত এবং চাশতের নিয়তে দু‘রাকাত পড়ে নেয় সেও চাশতের নামাজ পড়ার সওয়াব পাবে। এর ওসিলায় তার রিযকেও বরকত নাযিল হবে।
এটা তো সবাইই করতে পারে? কী বলেন!!
আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দান করুন।

>> পীর যুলফিকার আহমাদ নাকশবন্দী হাফিজাহুল্লাহর টুকরো বয়ান

Facebook Comments

Related posts

দরসে তাফসিরুল কুরআন-১ | মাওলানা মানজুর মেঙ্গল দা.বা.

সংকলন টিম

থানভীর পরশে -১ম পর্ব | ইমরান রাইহান

সংকলন টিম

ফাতিমা আল-ফিহরি | পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

সংকলন টিম

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

error: Content is protected !!