আবু আমর কুদামাহ ইবনে মাজউন রাঃ। ইব্রাহিম বিন হানিফ

salaf

একজন অপরিচিত সাহাবী।কিন্তু তার মাকাম এই উম্মাহর শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের স্থানে। তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সব গুনাহ ক্ষমার ঘোষণা প্রাপ্ত বদরী একজন সাহাবী। হযরত উসমান ইবনে মাজউনের ভাই। এবং উম্মুল মু’মিনীন হযরত হাফসা রাঃ এর আপন মামা।
হিজরত পূর্ব ৩২ শনে তার জন্ম। মিনাসসাবিক্বিনাল আওওয়ালীন বা প্রথম তবকায় যারা ইসলামের সুশীতল ছায়ার পরশে ধন্য হয়েছিলেন, তিনিও তাদের একজন। হাবাশা ও ইয়াসরিব দুই মোবরক হিজরতের দুটিতেই তিনি শরীক।

৬৩৭ খ্রীস্টাব্দে তার ব্যাপারে আস্বস্ত হয়ে উমর রাঃ তাকে বাহরাইনের গবর্নর নির্ধারণ করেন। ৬৪০ ঈাসাব্দ পর্যন্ত গৌরবের সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।
জারুদ ইবনে মুয়াল্লা একদিন উমর রাঃ এর কাছে তার বিষয়ে মদ খাওয়ার অবিযোগ করেন। উমর রাঃ তাকে ডেকে পাঠান। তিনি আসেন। তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি অস্বীকার করেন না। বরং তিনি বলেন,আল্লাহ তালাই তো বলেছেন,
ليس على الذين آمنوا و عملو الصالحات جناح فيما طعموا إذا ما اتقوا و آمنوا ثم اتقوا و أحسنوا و الله يحب المحسنين.
যারা ইমান আনে এবং নেক আমল করে তারা যাই খাক না কেন কোন গুনাহ্ নেই। যদি সে তাক্বওয়া অবলম্বন করে, এবং ইমানের উপর অটল থাকে অতপর তাক্বওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তমভাবে আমল করে। আর আল্লাহ উত্তমকর্মীদের ভালবাসেন।

উমর রাঃ তার এই ইজতেহাদকে ভুল প্রমাণ করেন। এবং তার ব্যাপারে সাক্ষীর আশ্রয় নেন। হযরত আবু হুরায়রা রাঃ ও তার নিজের স্ত্রী, বিনতে ওয়ালীদ তার বিপক্ষে সাক্ষী দেয়। অতপর উমর রাঃ তার উপর মদ পানের হদ অর্থাৎ ৮০ টি বেত্রাঘাত বাস্তবায়ন করেন। এবং বাহরাইনের গরবর্নরের পদ থেকে তাকে বরখাস্ত করে দেন।

এমনই বে তাকুল্লুফ ছিলেন আমাদের প্রিয় সালাফ। তিনি চাইলে তাওয়ীলের আশ্রয় না নিয়ে সামান্য মিথ্যার আশ্রশ নিতে পারতেন। এতে তার পদ পদবী বাঁচতো , হদের সম্মুখীনো হতে হতো না। কিন্তু দূনিয়ার সাধারণ পদ পদবী ছিল তাদের পায়ের ধূলা মাত্র। আখেরাত ছিল চূড়ান্ত ও মূল গন্তব্য।

৩২ হিজরিতে তিনি দূনিয়ার সবকিছু ছেড়ে রফিকে আ’লা বা পরম বন্ধুর সান্নিধ্য লাভে ধন্য হোন। তার সন্তান ছিল, উমর, ফাতেমা আয়েশা ও হাফসা।তিন জন স্ত্রীর গর্বে এই চার সন্তান ছিল তার উত্তরসূরী।
আল্লাহ পাক তাদের ভালবাসায় আমাদের হৃদয়গুলোকে পূর্ণ করে দিন। এবং তাদের যে কোন একজনের ওসিলায় ভয়ানক প্রকম্পনের দিনে আমাদের নাজাতের পথ খুলে দিন।

Facebook Comments