ফাতিমা আল-ফিহরি | পৃথিবীর সর্বপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা

ফাতিমা আল-ফিহরি

পশ্চিমারা জনসাধারণের মনে ইসলামফোবিয়া তথা ইসলাম ভীতি জাগ্রত করতে বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বুলি ব্যবহার করে থাকে। তন্মধ্য হতে একটি হচ্ছে, ‘ইসলামে নারী স্বাধীনতা নেই, ইসলাম নারীদেরকে পিছিয়ে রেখেছে সর্বক্ষেত্রে’। আসলেই কি তাই? আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) এর কথা তো আমরা সকলেই জানি। কতইনা বিদ্বান মহিলা ছিলেন তিনি! সবচেয়ে বেশী হাদীস বর্ণনাকারী সাহাবাগণের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থান তারই দখলে। জ্ঞান-গরিমায় তিনি ছিলেন অতুলনীয়া। বহু ফকীহ এবং বিদ্বান সাহাবী বিভিন্ন জটিল বিষয়ে সমাধানের জন্য ছুটে গিয়েছেন তাঁর কাছে। যুগের পরিক্রমায় ইসলাম নারীদের উন্নতি এবং অগ্রগতির পথে কখনোই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

ইসলামের শুরুলগ্ন থেকে এ পর্যন্ত বহু মহীয়সী নারী নিজেদের মহৎ গুণাবলী এবং জ্ঞান-গরিমায় সমাদৃত হয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। কালের পরিক্রমায় তাঁরা অবদান রেখেছেন পৃথিবীর সভ্যতায়। এমনই এক মহীয়সী নারীর গল্প শোনাব আজ। এই মহীয়সী নারী হলেন প্রখ্যাত মুসলিম সেনাপতি, তিউনিসিয়া বিজেতা এবং কাইরাওয়ান শহরের প্রতিষ্ঠতা উকবা ইবনু নাফের বংশধর। তাঁর নাম ফাতিমা আল-ফিহরি। তাঁর উপাধি ছিল উম্মুল বানীন। এই মহীয়সী নারীই হলেন বিশ্বের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা।

আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা দুটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যামব্রিজ এবং অক্সফোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল যথাক্রমে ১২০৯ এবং ১০৯৬ সালে। তবে পুরো বিশ্বের তো বটেই, এগুলোর কোনোটিই ইউরোপেরও প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। ইউরোপের সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়, ইতালির বোলোগনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১০৮৮ সালে। তারও প্রায় একশ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মিসরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু আল-আজহারেরও  অনেক আগে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে এগারোশ’ বছর পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মরক্কোর কারাউইন ইউনিভার্সিটি। যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন ফাতিমা আল-ফিহরি। ইউনেস্কো এবং গিনেজ বুক অফ ওয়ার্ল্ডের রেকর্ড অনুযায়ী এটিই হচ্ছে বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয় এবং ডিগ্রী প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, যা এখন পর্যন্ত একটানা চালু আছে।

ফাতিমা আলফিহরির পরিচয়

ফাতিমা সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য জানা যায় না, এমনকি তার প্রতিষ্ঠিত কারাউইন লাইব্রেরিতেও না। ধারণা করা হয়, তার উপর লিখিত পাণ্ডুলিপিগুলো কারাউইন লাইব্রেরির ১৩২৩ সালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে পুরাতন যে উৎসে ফাতিমার বিবরণ পাওয়া যায়, সেটি হলো চতুর্দশ শতকের ইতিহাসবিদ ইবনে আবি-জারার লেখা ফেজ শহরের ইতিহাস ‘রওজাতুল কিরতাস’ তথা  The Garden of Pages। পরবর্তীতে বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুনও ফাতিমার কথা লিখেছেন, কিন্তু তাতে ইবনে আবি-জারার বর্ণনাই প্রতিধ্বনিত হয়েছে।

তাঁর পুরো নাম ফাতিমা বিনতে মুহাম্মদ আল-ফিহরিয়্যাহ আল-কারশিয়্যাহ। প্রণিধানযোগ্য মত অনুযায়ী তিনি ৮০০ খ্রিষ্টাব্দে তিউনিসিয়ার কাইরাওয়ান শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন আরবীয় বংশোদ্ভুত তিউনিসীয় নাগরিক। তাঁর নাম ছিল মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-ফিহরি। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধনাঢ্য একজন ব্যক্তি। তাঁর শুধুমাত্র দুইটি মেয়ে ছিল। ফাতিমা এবং মারইয়াম। উত্তমরূপে পরিপূর্ণ শিষ্টাচারের সাথে তিনি তাদের লালনপালন করেছিলেন।

ফাতিমার পরিবার কাইরাওয়ান শহর থেকে মরক্কোর প্রসিদ্ধ শহর ফেজে হিজরত করেছিলেন। কাইরাওয়ান শহরের গোড়াপত্তন হয়েছিল আনুমানিক ৬৭০ খ্রিষ্টাব্দে। উমাইয়া শাসক মুয়াবিয়া (রাঃ) এর সময়কালীন মুসলিম সেনাপতি, তিউনিসিয়া বিজেতা উকবা ইবনু নাফের হাতে। নবম শতকের শুরুর দিকে শহরটি হয়ে উঠেছিল ইসলামী শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। সামরিক দিক থেকেও শহরটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি।

কিন্তু তা সত্ত্বেও এই শহরে বসবাসরত আল-ফিহরি পরিবারসহ অনেকেই ছিল আর্থিকভাবে অসচ্ছল। ফলে ফাতিমার জন্মের কয়েক বছর পর নবম শতকের শুরুর দিকে কাইরাওয়ান শহরের বেশ কয়েকটি পরিবার একত্রে শহরটি ছেড়ে ভাগ্যের অন্বেষণে পাড়ি জমায় ইসলামিক মাগরেবের প্রসিদ্ধ শহর, মরক্কোর ফেজের উদ্দেশ্যে।

মরক্কোতে তখন ইদ্রিসিয়া সাম্রাজ্যের শাসনামল চলছিল। ইদ্রিসিয়াদের রাজধানী ফেজ শহর তখন হয়ে উঠেছিল ক্রমবর্ধমান উন্নত একটি শহর। তখন ইদ্রিসীয়দের সিংহাসনে ছিলেন ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মদ ইবনু ইদ্রিস। তিনি ছিলেন খুবই ন্যায়পরায়ন, দয়ালু এবং প্রজাবৎসল একজন শাসক। তার ন্যায়পরায়ণতা এবং ফেজ শহরের ক্রমবর্ধমান উন্নতি ও প্রাচুর্যের কথা শুনে  বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ধর্ম, বর্ণ ও পেশার মানুষ সেখানে এসে বসতি স্থাপন করতে শুরু করে। বিদেশ থেকে আগত অভিবাসীদেরকে সুলতান ফেজ নদীর তীরের ঢালু জমিতে বসবাস করার ব্যবস্থা করে দেন। কাইরাওয়ান থেকে আসার কারণে ফেজে বসতি গড়া এই অভিবাসীদের পরিচয় হয় কারাউইন, তথা কাইরাওয়ানের অধিবাসী নামে।

ফেজে এসে মুহাম্মদ আল-ফিহরির ভাগ্য প্রসন্ন হয়। প্রচণ্ড পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। সন্তানদের জন্য সুশিক্ষার ব্যবস্থা করেন। ফাতিমা আল-ফিহরি এবং তার বোন মারিয়াম আল-ফিহরি  আরবি ভাষা, ইসলামিক ফিক্‌হ এবং হাদিস শাস্ত্রের উপর পড়াশোনা করেন

প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর এই ফেজ শহরেই ফাতিমার বাবা তাঁকে বিয়ে দেন। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছরের মাথায়ই ফাতিমাদের পরিবারে দুর্যোগ নেমে আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর বাবা, ভাই এবং স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। রয়ে যান কেবল এতিম দুই বোন ফাতিমা এবং মারিয়াম। বাবার রেখে যাওয়া বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উত্তরাধিকার হন তাঁরা।

বিশ্বের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয় কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার গল্প

উত্তরাধিকার সূত্রে বিশাল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন দুই বোন ফাতিমা এবং মারইয়াম। তাঁরা এই বিশাল সম্পদকে পার্থিব বিলাসিতার পিছনে ব্যয় না করে পিতার রুহের মাগফিরাত এবং ধর্মীয় ও মানবিক কল্যাণের লক্ষ্যে ব্যয় করার ইচ্ছেপোষণ করেন। তাদের পরহেজগারিতা এবং মহত্ত্ব ছিল সুবিদিত। সে সময় ফেজ শহরের সুখ্যাতি দিন দিন বেড়েই চলেছিল। দুনিয়ার চতুর্দিক হতে লোক সমাগম হচ্ছিল সেখানে। কানায় কানায় ভরে উঠেছিল ফেজের জামে মসজিদের প্রাঙ্গন মুসল্লিগণের পদচারনায়।

ফাতিমা এবং মারইয়াম লক্ষ্য করলেন ফেজের জামে মসজিদে মুসল্লিগণের আর সংকুলান হচ্ছে না। তাই তাঁরা পিতার রেখে যাওয়া সম্পদ দিয়ে মসজিদ নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন। ২৪৫ হিজরি মোতাবেক ৮৫৯ খ্রিষ্টাব্দে কাছাকাছি সময়ের মধ্যে তাঁরা দুই বোন দুটি মসজিদ নির্মাণ করেন। মারইয়াম নির্মাণ করেন মাসজিদে আন্দালুস। আর ফাতিমা নির্মাণ করেন কারাউইন মসজিদ।

ঐতিহাসিক ইবনু আবি জারার বিবরণ থেকে জানা যায়, ফাতিমা প্রথমে তাঁর মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করতে শুরু করেন এবং এরপর ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বরের ৩ তারিখে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেন। সেটা ছিল পবিত্র রমজান মাসের এক শনিবার। ফাতিমা শুধু মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ দান করেই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি। তিনি নিজে সার্বক্ষণিকভাবে উপস্থিত থেকে এর নির্মাণকাজ তদারকি করেছিলেন। এবং শুরুর দিন থেকে শুরু করে নির্মাণ শেষ হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি দিন তিনি রোজা রেখেছিলেন

তিনি মসজিদের নির্মাণে কোনো সন্দেহের অনুপ্রবেশ হোক তা চাননি। তাই তিনি আবশ্যক করেছিলেন, মসজিদের জন্য ক্রয়কৃত জমি খনন করেই মসজিদের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচা মাল এবং পাথর সরবরাহ করা হবে।

কিছু বর্ণনা অনুযায়ী, মসজিদটির নির্মাণ সম্পন্ন হতে সময় লেগেছিল ১৮ বছর, যদিও অন্য কিছু বর্ণনা থেকে ১১ বছর এবং ২ বছরের বর্ণনাও পাওয়া যায়। যেদিন নির্মাণ শেষ হয়, সেদিন তিনি নিজের নির্মিত মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে নামাজ আদায় করেন এবং আল্লাহ্‌র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জন্মভূমি কাইরাওয়ানের নামানুসারে তিনি মসজিদটির নাম রাখেন কারাউইন মসজিদ।

এই মসজিদটিই হয়ে উঠে বিশ্বের সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ধাপ। ৮৭৭ হিজরিতে ফাতিমার জীবদ্দশাতেই মসজিদ প্রাঙ্গনে ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি ব্যাকরণ, গণিত, চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, ইতিহাস, রসায়ন, ভূগোলসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান শুরু হয়। তবে মোরাবেতীন সাম্রাজ্যের সময় থেকে  মসজিদটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার দিকে প্রাথমিক যাত্রা শুরু করে এবং মুর বংশের শাসনকাল থেকে তা পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় বিষয়ের উপর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য ডিগ্রী প্রদানকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেই এটিই প্রাচীনতম। যা এখনও টিকে আছে এবং গত সাড়ে এগারোশ’ বছর ধরে একটানা শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে মানুষকে আলোকিত করে আসছে।

ফাতিমার প্রতিষ্ঠিত কারাউইন মসজিদ এবং কারাউইন ইউনিভার্সিটিকে কেন্দ্র করে ফেজ হয়ে উঠতে থাকে আফ্রিকার ইসলামী শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র। বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রসিদ্ধ উলামায়ে কেরাম সেখানে অধ্যয়ন করেছেন। তন্মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত মালেকী ফকিহ আবু ইমরান আল-ফাসী। তৎকালীন প্রসিদ্ধ গণিতবিদ আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উসমান, আবু বকর ইবনু ইয়াহইয়া ইবনুয যায়ে এবং প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আবদুর রহমান ইবনু খালদুন প্রমুখ। শুধু মুসলমান নয়, মধ্যযুগের অনেক খ্যাতিমান ইহুদি এবং খ্রিস্টান মনীষীও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন। এর ছাত্রদের মধ্যে একজন ছিলেন পোপ দ্বিতীয় সিলভাস্টার, যিনি এখান থেকে আরবি সংখ্যাপদ্ধতি বিষয়ে ধারণা লাভ করে সেই জ্ঞান ইউরোপে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন এবং ইউরোপীয়দেরকে প্রথম শূন্যের (০) ধারণার সাথে পরিচিত করেছিলেন।

কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীনতম লাইব্রেরী

পুণ্যময়ী ফাতিমা আল-ফিহরি মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি লাইব্রেরীও প্রতিষ্ঠা করেন। যা পরবর্তীতে কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসে। কারাউইন ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিটিকেও বিশ্বের প্রাচীনতম লাইব্রেরি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আগুনে পুড়ে বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি নষ্ট হয়ে যাওয়ার পরেও এখনও এতে প্রায় ৪,০০০ প্রাচীন এবং দুর্লভ পাণ্ডুলিপি আছে। এর মধ্যে আছে নবম শতকে লেখা একটি কুরআন শরিফ, হাদিসের সংকলন, ইমাম মালিকের গ্রন্থ মুয়াত্তা, ইবনে ইসহাকের লেখা রাসুল (সা)-এর জীবনী, ইবনে খালদুনের লেখা কিতাব আল-ইবার এবং আল-মুকাদ্দিমার মূল পাণ্ডুলিপিসহ বিভিন্ন দুষ্প্রাপ্য গ্রন্থ

এই পুন্যাত্মা মহীয়সী ২৬৫ হিজরি মোতাবেক ৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে গমন করেন। কিন্তু পৃথিবীতে রেখে গেছেন তার অমর কীর্তি। যা তাকে আজও পৃথিবীর ইতিহাসে অবিস্মরণীয় করে রেখেছে এবং তাঁকে বানিয়েছে দোয়ার পাত্র।

শেষ করব তাঁর সম্পর্কে করা ইবনে খালদুনের মন্তব্য দিয়ে, ‘তিনি যেন পরবর্তী বড় বড় শাসকদেরকে আঙ্গুল উঁচিয়ে দেখিয়ে গেলেন যে, এটি হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে যাকে ইচ্ছা তাঁকে এই মর্যাদা দান করেন। মহান আল্লাহ তা’আলা যখন কোনো জাতির উন্নতি এবং সমৃদ্ধি চান, তাঁদের জন্য খুলে দিতে চান সৌভাগ্যের দুয়ার, তখন তাদের মধ্য হতে কিছু মহৎ ব্যক্তি এবং মহীয়সী নারীগণকে প্রস্তুত করেন। তাঁরা সমাজে জাগিয়ে তুলেন কল্যাণের নব স্রোতধারা’।

তথ্য কৃতজ্ঞতাঃ আল-জাজিরা, রোর বাংলা এবং আরো কিছু আরবী ওয়েবসাইট।

Facebook Comments