নীড়ে ফেরার গল্প-৪ | মালিহা (ছদ্মনাম)

নীড়ে-ফেরার-গল্প

“নীড় হারা পাখি  তন্নতন্ন করে
খুঁজে ফেরে তার আশ্রয়স্থল।
অতঃপর সে ধন্য হয় তার বাসা পেয়ে।
তবে আমিতো খুঁজিনি আমার নীড়
তবুও তো রহমান আমাকে টেনে নিয়েছেন
তাঁর দয়ায়।
পথ ভুলো পথিক কে দিয়েছেন পথের সন্ধান।
এর চেয়ে বড় পাওয়া কি হতে পারে আমার!”

পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে আমার অবস্থান চতুর্থ।তথা কথিত আধুনিক চার পাঁচটা পরিবারের সন্তানেরা যেভাবে বড় হয়, আমিও তার বহির্ভূত নই।আমার দুনিয়া জুড়ে আমার পরিবার আর শুধুই আমার স্কুল। খুব পড়াশোনা করতাম। কোনো ক্লাসেই প্রথম ছাড়া দ্বিতীয় হইনি।স্বপ্ন একটাই যে কোনো মূল্যে ডাক্তার আমাকে হতে হবে এবং হতেই হবে।ছোট বেলা থেকে সেভাবেই পড়াশোনা করেছি।  সবকিছুতেই চ্যাম্পিয়ন। স্কুলে কোনো প্রোগ্রামের এরেঞ্জ হলে সবাই আগে থেকেই বলে দিতো, এ আর নতুন কি চ্যাম্পিয়ন তো মালিহা ই হবে। আমাকে না জানিয়েই স্যারেরা সবকিছুতে আমার নাম দিয়ে দিতো।প্রতি বছর বিতর্ক প্রতিযোগিতায় ও শ্রেষ্ঠ বক্তা উপাধি পেতাম।একনামে পরিচিত ছিলাম আশেপাশে। আমার চলাফেরা,কথাবার্তা এমন ছিলো যে, কোনো ছেলে সরাসরি আমার সাথে কথা বলার সাহস দেখাতো না।

আলহামদুলিল্লাহ,রহমানের দয়ায় ছন্নছাড়া অবস্থায় ও পুরোপুরি  ফ্রি মিক্সিং থেকে বেঁচে গিয়েছি৷ সবকিছুতে চ্যাম্পিয়ন হলেও কোথায় যেন একটা গ্যাপ থেকেই গিয়েছিলো।ধর্মীয় জ্ঞান ছিলো শূন্যের কোটায়। ধর্ম কর্ম বলতে বুঝতাম সময় পেলে সালাত আদায় করা,ভালো লাগলে রমজানে সিয়াম রাখা আর একটু আধটু মাথায় কাপড় দেওয়া। সত্যি বলতে কি কেউ কখনো আমার হাতটা ধরে বলেনি, মালিহা তুমি যেটা করছো এসব ঠিক না,আল্লাহ তোমাকে এজন্য সৃষ্টি করেন নি। কেউ কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝায় নি, তুমি যেটা করছো এর শেষ কেবল ই অন্ধকার।  কেউ বলেনি এ পথ গিয়ে মিলিত হয়েছে জাহান্নামের সাথে৷ আমি আমার আধুনিক পরিবার থেকেও কখনো এই শিক্ষা টা পাইনি। তবুও আলহামদুলিল্লাহ। কে জানতো পথভোলা এই পাপি মানুষ টার জন্য আল্লাহ এমন কিছুর অপেক্ষায় রেখেছেন।আমাদের পরিবারের সবার একে অপরের  সাথে সম্পর্ক টা ছিলো খুব মজবুত।আপুরা শশুর বাড়ি থেকে আমাদের বাসায় এলে রাতের খাবার টা আমরা আলাদা প্লেটে খেয়েছি এর নজির নেই বললেই চলে। ভাই বোনদের মধ্যে খুব মিল আমাদের৷ বড় দুই বোনের পরে আমার যে ভাইয়া টা, ও আমাকে খুব ভালোবাসতো।খুব ঝগড়া, মারামারি ও হতো ওর সাথে।  পিঠাপিঠি ছিলাম, এজন্যই হয়ত এমন টা হতো। মাধ্যমিক এর টেস্ট পরীক্ষার সপ্তাহ খানেক আগে কচিং এ মন বসছে না একটুও। কেমন যেন উদাস উদাস লাগছে। কচিং শেষে প্রাইভেট টা আর পড়া হলো না। স্যার কে ভালো না লাগার কথাটি বলে চলে এলাম। স্কুল থেকে আমাদের বাসার দূরত্ব প্রায় ৩ কিঃমিঃ। অটোর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। পাশে থাকা অনেক জন ড্রাইভার কোনো একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলো। হঠাৎ করে তাদের মধ্যে একজন আমাকে বলে উঠলো, তোমার ভাইয়া নাকি মারা গেছে?

তিজারাহ শপ
খুব রাগ হলো তার কথা টা শুনে। কোনো জবাব দিলাম না তার প্রশ্নের।মনে মনে ভাবলাম, আজ বাসায় গিয়ে ভাইয়াকে বলবো লোকটাকে যেন আচ্ছা মতো বকা দেয়।কেন শুধু শুধু এমন একটা কথা বললো আমাকে। তার কথাটা অবিশ্বাস করলেও কেন যেন শান্তি পাচ্ছিলাম না অন্তরে। মনের মধ্যে কেমন যেন আনচান করতে শুরু করলো। আজ কেন যে এতো ধীরেধীরে চলছে অটো! রাস্তা থেকে একটু ভিতরের দিকে আমাদের বাসা। অটো থেকে নেমেই দেখলাম রাস্তা গমগম করছে মানুষের আনা গোনায়। সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে। সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করার সময় নেই আমার। বেশ দ্রুত হেটে হেটে একপ্রকার দৌঁড়ে বাসায় দিকে এলাম। আমাদের উঠোনে মানুষে ভরপুর। বুকের মাঝে কেঁপে উঠলো এতো মানুষ দেখে। সবাইকে ঠেলে ঘরে ঢুকে দেখি আমার মা হাত পা ছেড়ে বসে আছে ফ্লোরে৷ মায়ের অবস্থা দেখে ঘাড় থেকে স্কুল ব্যাগ টা পরে গেলো। কান্নার আওয়াজ পেয়ে অন্যরুমে গিয়ে দেখি আমার মেজো আপুর অবস্থা আরো খারাপ। ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা আপু চিৎকার করে কাঁদতে চেয়েও কাঁদতে পারছে না। এখনো আমি কিছুই জানিনা। সবাইকে ধরে ধরে জিজ্ঞেস করছি, কি হইছে? ভাইয়া কই? কথা বলছো না কেন?  প্লিজ কেউ কিছু বলো আমাকে। কিন্তু না কেউ কিছু বলছে না আমায়। ইতোমধ্যে বৃষ্টি যেন তুফানের আকার ধারণ করেছে। হঠাৎ করে কানে একটা কথা ভেসে আসলো,”এই বৃষ্টির মধ্যে কবর খনন করবে কিভাবে, কি যে হবে”
মুহুর্তের মধ্যে থমকে দাঁড়ালো আমার পৃথিবী।

কবর, কার জন্য?

হাজারো প্রশ্ন যখন আমার মাঝে বিরাজমান তখন আর বুঝতে বাকি রইলো না,ভাইয়া আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে আমাদের মায়া ত্যাগ করে চলে গেছে বহু দূরে। যেখান থেকে ফিরে আসা অসম্ভব। অনেক কাঁদলাম, এতোটা হয়ত কোনোদিন কাঁদিনি। খুব করে ডাকলাম ভাইয়াকে, কিন্তু না সেদিন কোনো কথার ঝুড়ি ছিলোনা ভাইয়ার মুখে। আমার চোখের সামনেই ভাইয়ার কাফন দাফন কমপ্লিট হলো। কে জানতো ভাইয়ার মৃত্যুটাই আমার জন্য ভালো দুঃখ হিসেবে ধরা দিবে! এটাই হয়ত আমার রবের পক্ষ থেকে জান্নাতের দিকে আমার প্রতি তাঁর প্রথম ধাক্কা ছিলো। সারাক্ষণ ভাবতাম ভাইয়া তো কি সুন্দর হেসে খেলে বেড়াচ্ছিলো কিন্তু হঠাৎ করে কি হলো,আর এখন ই বা কি হচ্ছে ওর সাথে। খুব করে মাথায় চেপে বসলো আমিও যেহেতু মানুষ তাহলে তো আমারো একদিন এভাবেই চলে যেতে হবে! তখন কি হবে আমার সাথে!

ভাইয়ার মৃত্যুটা আমাকে শুধু চিন্তার জগতেই পাঠিয়েছে তবে চেঞ্জ করতে পারেনি এখনো। স্যারদের নিষেধ সত্ত্বেও সবাইকে অবাক করে টেস্ট পরীক্ষায় এটেন্ড করি এবং সেবার ও আমার স্থান কেউ দখল করতে পারেনি। ধীরে ধীরে শেষ হলো এসএসসি এক্সাম। আজ রেজাল্ট দিবে, দুনিয়ার জন্য খুব করে ডাকছিলাম আল্লাহ কে। ভালো রেজাল্টের জন্য সিয়াম ছিলাম সেদিন। সময় তখন দুপুর প্রায় ১২ টা। একটা স্যার কল করে বললেন, মালিহা আমাদের স্কুল থেকে শুধু একটাই জিপিএ ৫ এসেছে। আর কিছু বলার আগেই কল টা কেটে গেলো। বুঝতে আর বাকি রইলো না, আমি হয়ত হেরেই গেলাম। কিন্তু না কিছুক্ষণ পরেই প্রধান শিক্ষক কল করে স্বাগত জানালেন। জানালেন সব গ্রুপ মিলে শুধু সাইন্সেই একটা জিপিএ ৫ এসেছে আর সেইটা তুমি পেয়েছো। খুশিতে মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিলাম। তখন ও আমার স্বপ্ন আকাশচুম্বী। যে কোনো মূল্যে ডাক্তার হতেই হবে। ইন্টারে কোথায় ভর্তি হবো এটা নিয়ে হাজারো পরিকল্পনা।শেষমেশ সিদ্ধান্ত হলো ফরিদপুর সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজে ভর্তি হবো। কিভাবে যে মহিলা কলেজের চিন্তা মাথায় এলো এটা আল্লাহ ই ভালো জানেন। সব ই তাঁর দয়া।

ভর্তির উদ্দেশ্যে রওনা আর তারপর আব্বুর বন্ধুর বাসায় ওঠা। ওখান থেকেই ফরিদপুর যাওয়ার প্লান। প্রথমে একটুও মন টানেনি আব্বুর বন্ধুর বাসায় যেতে। তবুও কেন যেন না করিনি আর করবোই বা কিভাবে? না করার যে কোনো উপায় নেই। কারন আমার মালিক চেয়েছেন আমি সেখানে যাই। সারা বিকেল বেশ আনইজি লাগার মধ্য দিয়ে অতিক্রম হলো। তবে একটা বিষয়ে খুব কৌতূহল, বারবার পর্যবেক্ষণ করছি। আংকেল(আব্বুর বন্ধু) এর বড় মেয়ে কেমন যেন সবার চে আলাদা। বড় ওড়না দিয়ে সবসময় পেচিয়ে রাখে নিজেকে। আহ! কি মায়া তার প্রতিটা কথায়৷ খুব ভাব জমে গেলো তার সাথে। মন্ত্রমুগ্ধের মতো অবাক হয়ে শুনছি আপুর প্রতিটা কথা। দিলের দাওয়াত টা প্রথমে দিয়ে তারপর শুরু করলেন দ্বীনের দাওয়াত। খুব ইমপ্রেস হয়ে পরলাম আপুর দিকে। তার কাজ কর্মের দিকে। সেদিন রাতে তার সাথেই ঘুমানোর ব্যবস্থা হলো। কিন্তু ঘুম নেই আমার চোখে। অন্তরের অন্তর্স্থল থেকে অনুধাবন করছি তার কথার মানে গুলো। তিনি আমাকে আমার জীবনের উদ্দেশ্য বুঝালেন। আমি যে ভাবে লাইফ লিড করছিলাম তার পরিনতি বুঝালেন। আলহামদুলিল্লাহ, অশ্রুভেজা চোখে সব শুনছিলাম। ফজরে দুজনে একসাথে সালাত আদায় করলাম। বারবার তাকে একটা প্রশ্ন ই করছিলাম, আপু আমি কি পারবো নিজেকে চেঞ্জ করতে?  আপুর উত্তর একটাই, “অবশ্যই পারবে ইনশাআল্লাহ” তার মোবাইল থেকে ব্লুটুথ দিয়ে মায়ের মোবাইলে আইতুল কুরসি টা নিলাম। তখন মোবাইল ইউজ করতাম না। তার মোবাইল নাম্বার টা ও টুকে নিলাম। পরদিন সকালে তিনি নিজের হাতে হিজাব পরিয়ে দিলেন আমায়।

ভর্তি শেষে বাসায় চলে এলাম। কিন্তু আমার মন পরে রইলো আপুর সেই মধুমিশ্রিত কথা গুলোর দিকে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আর কখনোই মাথার কাপড় ফেলবো না। পাতলা জর্জেটের ওড়না গুলো আর ইউজ করলাম না। কেমন যেন পাগলের মতো হয়ে যাই। তখনও ইসলাম সম্পর্কে কিছুই জানিনা,বুঝিনা। শুধু জানি অনেক বেশি গুনাহ করে ফেলেছি। মায়ের মোবাইল থেকে প্রায় সারাক্ষণ আইতুল কুরসি শুনতে শুরু করি। তিলাওয়াত টা ছিলো ক্বারি রশিদ আল আফাসির। অর্থ না বুঝেই শুনতাম। কেমন যেন কলিজায় গিয়ে কড়া নাড়তো প্রতিটি শব্দ।একদিন দুপুরের খাবার শেষ করে তিলাওয়াত টা শুনতে শুনতে শুয়ে পরি। আমি এখনো জানিনা তখন কি ঘুমিয়ে পরেছিলাম কিনা। স্মরণ হলে আজ ও শরীরে কাটা দিয়ে ওঠে।মোবাইল আমার হাতেই আছে।তিলাওয়াত শুনতে শুনতে কখন যেন চোখ টা লেগে গেলো। হঠাৎ দেখি মোবাইল এর এক পাশ দিয়ে ছোট ছোট বৃত্তাকার আলো বেরোচ্ছে। আলো গুলো কিছুদুর গিয়ে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। আমি বসে পরলাম। ডান হাত টা পেতে দিলাম। আলো গুলো আমার হাতে এসে মিশে যাচ্ছে। এরকম কত সময় হয়েছে আমার মনে নেই। হঠাৎ করে আমি স্বাভাবিক হলাম। এখন দেখি কিছুই নেই। আলহামদুলিল্লাহ।  আল্লাহ ই জানেন ওটা কি ছিলো। হয়ত অনেকের কাছে এটা নিছক কল্পনা মনে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে এটা কোনো কল্পনা ছিলো না। কারন মহান রবের দয়ায় আমার সাথে ঘটে যাওয়া এরকম অনেক ঘটনার মধ্যে এটা একটা মাত্র। আরশের অধিপতি চাইলে সবই সম্ভব।

সুবহানাল্লাহুল আযিম। নিজেকে চেঞ্জ করতে শুরু করি। পরিবেশ আমার অনুকূলে ছিলো না। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে থাকি। কিছুদিনের মধ্যে কলেজ হোস্টেলে উঠি। আলহামদুলিল্লাহ, সেখান কার সবাই মেয়ে৷এমন কি রাঁধুনিরা ও। আমার বাসায় তখন আমার মা একা ছিলো বলে আব্বু মাকে আব্বুর কাছে নিয়ে যায়। আব্বু যেখানে ছিলো তার পাশেই থাকতো সেই আপুরা। ছুটিতে বাসায় গেলেই আপুর সাথে দেখা করি। আজ দ্বিতীয় বার আপুর সাথে দেখা করি তবে এবার আপু একা নন সাথে একটা আন্টিও আছেন।তারা দুজনেই আমাদের বাসায় এলেন। আন্টি আমাকে আরো গভীর ভাবে বুঝালেন। আন্টির কাছে আমি শিক্ষা পেলাম আমরা যেমন মাছের কাটা বেছে খাই তেমন ভাবে আমাদের আমল ও বেছে বেছে করতে হবে,নাহলে বিপদে পরে যাবো। তিনি আমাকে শিক্ষা দিলেন সুরা নাহলের ৪৩-৪৪ নং আয়াত। “তোমরা জানলে ওয়ালা ব্যাক্তিদের থেকে জানো এবং দলিল সহকারে জানো”।

আলহামদুলিল্লাহ পুরোপুরি রুপে দ্বীনের পথে বিচরণ করতে শুরু করি। সেই আন্টি আমার জীবনের আলোক মশাল। আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আমিন।

নিজেই লেগে গেলাম ঘাটাঘাটি করতে। বুখারী শরীফের তাফসির ও কয়েক টা হাদিসের তাফসির সংগ্রহ করি। আন্টি আমার হাতে তুলে দেন আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ বই,মানবতার সমাধান আল কুরআন। তাইসিরুল কুরআন যতই পড়ি ততই অবাক হই। আল্লাহু আকবার, সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ। নতুন নতুন বিষয়ে জানতে পারি। জান্নাত জাহান্নামের পরিচয় পাই। বুঝতে পারি কারা হবে জান্নাতের অধিবাসী আর কারা হবে জাহান্নামের।জান্নাতের বর্ণনায় আনন্দে আত্মহারা আর জাহান্নামের বর্ণনায়  ভয়ে কেঁদে ওঠে অন্তর।  মনে পরে যায় অতিতে করা গুনাহ গুলোর কথা।কান্না যেন  আমার জীবন সংগী হয়ে গেলো।একা থাকতেই বেশি পছন্দ করতাম তখন।এমন রাত খুব কম ই ছিলো যে রাতে সালাতুল লাইল আদায় করে অঝোরে কাঁদিনি। আমার রুম ছিলো ৪র্থ ফ্লোরে।আর সালাতের রুম ৩য় ফ্লোরে।খুব শুক্রিয়া আদায় করতাম যখন তাহাজ্জুদ আদায় করতে যাওয়ার সময় দেখতাম বেলকুনিতে মেয়েরা মগ্ন আছে মোবাইলে যেনা নামক ব্যভিচারে আর আমি সেখানে আলাদা হয়ে তাহাজ্জুদ আদায় করতে যাচ্ছি। খুশিতে চোখে অশ্রু চলে আসতো। মহান রব রহমত না করলে আমিও হয়ত তাদের দলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

ইতোমধ্যে দ্বীনি বোনদের তালিকা ও বেড়ে যায়। কন্টিনিউ যোগাযোগ রাখি সবার সাথে। দ্বীনি তালিম করি। রুমের বাকি ৫ জন কে নিয়ে প্রতিদিন কিছু না কিছু আলোচনা করি। আমার ডেক্সে এখন হাদিস কুর’আন এর সমাহার। বই পড়তে বসলে বারবার চোখ চলে যায় হাদিস কুর’আন এর দিকে। সাথে সাথে বন্ধ করে ফেলি টেস্ট বুক। মিতালি গড়ে তুলি আল্লাহর বানির সাথে। বেলকুনিতে একটা জায়গা আছে যেখান থেকে আকাশ টা খুব ভালো দেখা যায়। ওইটা আমার প্রিয় একটা জায়গা। সময় পেলেই ওখানে গিয়ে আল্লাহর সাথে কথা বলতাম। খুলে বলতাম মনের যত আনন্দ হাসি আর কান্না। আহ! কত মধুর লাগে আমার রবের সাথে কথা বলতে। আমার বিশ্বাস ছিলো আমার প্রতিটা কথার জবাব আসে আরশিল আজিম থেকে। আল্লাহ ও আমার সাথে কথা বলেন। এ প্রনয় যেন সমস্ত ভালোবাসাকে হার মানায়। ইতোমধ্যে আমার বাসার সবাই বুঝতে পেরেছে আমি দুনিয়াবি পড়াশোনা সেভাবে করছিনা। ইচ্ছে থাকলেও উপায় ছিলো না। কারন তখন অসম্ভব ছিলো দুনিয়া আর আখেরাত কে নিয়ে একত্রে আগানো। বাসার সবাই বেশ নারাজ আমার কর্মকান্ডে। প্রথম দিক দিয়ে বাসার মানুষের কাছেও অনেক ধরনের কথা শুনেছি, আর আশেপাশে তো আছেই আলহামদুলিল্লাহ।

বাসার সবাইকে খুব করে বুঝাতে শুরু করি৷ মোনাজাত পরিপূর্ণ করি তাদের হেদায়েত চেয়ে। আলহামদুলিল্লাহ তারা কখনো বোঝে আবার কখনো অবুঝের মতো আচরন করে৷ মায়ের কোলে মাথা রেখে,চুলে বিলি কেটে আদরের ছলে বুঝিয়েছি। হোষ্টেলে বসে নিজেকে ধরে রাখাটা খুব কষ্টকর ছিলো। প্রায় প্রতিদিন ই কোনো না কোনো পার্টি লেগেই থাকে৷ পহেলা বৈশাখ বা ১ লা ডিসেম্বরে আলাদা ভাবে খাবার আসতো হোষ্টেলে। আলহামদুলিল্লাহ কখনোই গ্রহণ করিনি সেসব খাবার৷ না খেয়ে থেকেই খুব তৃপ্তি পেয়েছি। আমাদের রুমের কেউ কেউ দ্বীন বুঝলেও কাজের বেলায় তার প্রমান পেতাম না। আল্লাহর কাছে খুব করে সাহায্য চাইতাম এসব থেকে মুক্তি পেতে।আলহামদুলিল্লাহ রুমের এক পাশে বেডের ব্যবস্থা করি। সারাক্ষণ পর্দা দিয়ে চারপাশ ঘেরাও করে রাখি। প্রথম প্রথম এসব খুব বেশি সহজ ছিলো না আমার জন্য। সবার মাঝে থেকে নিজেকে আলাদা রাখাটা কতটা কষ্টকর এটা কেবল ভুক্তভোগীরা ই ফিল করতে পারে। নেকাপ, হাত মোজা, পা মোজা পরিহিতা অবস্থায় ক্লাসে যাওয়ার দরুন অনেক বকা শুনেছি শিক্ষক, শিক্ষিকাদের থেকে। কোনো কোনো ম্যাম তো জংগি উপাধি ই দিয়ে দিয়েছিলেন। পরীক্ষা হলেও এক্সট্রা গার্ডের শিকার হতাম,বেশি কথা তো আছেই। খুব মন খারাপ হতো তাদের এমন ব্যবহারে। জানালার বাইরে আকাশের দিকে তাকিয়ে অশ্রুবিষর্জন ছাড়া কিছুই করার ছিলো না আমার। আল্লাহর কাছে এই অশ্রুর বিনিময়ে হলেও জান্নাত প্রার্থনা করতাম।

একদিন কলেজে খুব বড়সড় অনুষ্ঠানের আয়োজন হলো। আলহামদুলিল্লাহ এসব থেকে সবসময়ই নিজেকে হেফাজতে রাখার চেষ্টা করতাম। রুমে সার্চ করতে এলে অসুস্থতার দোহাই দিয়ে থেকে যেতাম। পুরো চার তলা বিল্ডিংয়ে আমি ছাড়া অন্যকোনো প্রাণী আছে বলে জানা ছিলোনা আমার। সবাই খুব সেজেগুজে অনুষ্ঠানে এটেন্ড করে। সবাই যখন আনন্দ উল্লাসে মগ্ন ঠিক তখন ই আমি নামক প্রাণী টি জানালার গ্রিল দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দুটি হাত বাড়িয়ে দিয়ে অঝোরে কেঁদে যাচ্ছি আমার রবের দরবারে। জীবনে এমন দিন না এলে অজানাই থেকে যেত কান্না ও মানুষের প্রশান্তির কারন হতে পারে। অতিতের পাপের কথা স্মরণ হওয়ায় দুঃখ আর বর্তমানে নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসেবে তুলে ধরার আনন্দে অশ্রু যেন বাধ মানছে না। আহ! এ যে এক অনন্য প্রশান্তি। অনন্য ভালো লাগা। যতই কাঁদছি ততই ভালো লাগছে। আজ এই অশ্রুকে বাধা দেওয়ার মতো কোনো শক্তি নেই, নেই কোনো পরাধিনতা। হঠাৎ পিছনে তাকিয়ে দেখি রুমের দরজা খোলা। ভাবকাম হঠাৎ করে কেউ চলে আসতে পারে, দেখে ফেলতে পারে আমার আর আমার রবের এই ভালোবাসার দৃশ্য।  তাই দরজা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে খাট থেকে কিছুটা লাফ দিয়ে নামতে গেলাম। খেয়াল করিনি খাটেন নিচের বটিটা কিছুটা বাইরের দিকে ছিলো। ডান পা পরলো গিয়ে বটির উপর।আল্লাহু আকবার বলে স্বজোরে একটা চিৎকার দিলাম। পায়ের দিকে তাকানোর সাহস পাচ্ছিনা। চোখ বন্ধ করে ফেলেছি। বারবার আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি। খুব সাহস করে তাকালাম পায়ের দিকে। মাঝ বরাবর অনেক খানি কেটে গেছে। রক্ত ঝরছে অঝোরে। তবে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হচ্ছে বিন্দুমাত্র ব্যথা ছিলোনা।  সাথেসাথে শুক্রিয়া সিজদা দিলাম। মন উজাড় করে কথা বললাম আমার প্রভুর সাথে। অতিতের গুনাহ নিয়ে যখন ই কষ্ট হতো তখন ই কুরআন টা খুলে পড়তে শুরু করতাম। তখন ই ভেসে আসতো সুরা আন নিসার ১১০ নং আয়াতের মতো আয়াত সমূহ।

“যে মন্দ কাজ করে কিংবা নিজেই নিজের ওপর জুলুম করে, তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তার ব্যাপারে আল্লাহ ক্ষমাশীল এবং করুণাময়।” (৪:১১০)

কলেজ থেকে বাসায় যাওয়া আসার সময় অনেক গুলো বই রাখতাম ব্যাগে। আমার পাশের সিটে সবসময়ই কোনো না কোনো মেয়েই বসতো আলহামদুলিল্লাহ।প্রথমে দিলের দাওয়াত তারপর দ্বীনের দাওয়াত দিয়ে একটা করে বই হাদিয়া দিতাম তাদের।

একটা সময় ফিল করলাম দ্বীনের পথে পুরোপুরিভাবে অটল থাকতে বিয়ের প্রয়োজন। কিন্তু আমার বাসায় সে ব্যাপারে বেখেয়াল ছিলো। সত্যি বলতে আমি মনে করি দ্বীনের পথে ফিরে আসা প্রতিটি বোনের জন্য সবচে বড় পরীক্ষা হচ্ছে বিয়ে। এখানে এসেই অনেক ফেল হয়ে যায়। লজ্জা সরমের মাথা খেয়ে পরিবারের কাছে জানালাম বিয়ের ব্যাপারে।যেমন ছেলে পছন্দ তেমন টা অবগত করলাম তাদের। কিন্তু ওই যে ইমান এনেছি বললেই কি আল্লাহ আমাকে ছেড়ে দিবেন? ইমানের ঘনত্ব মাপার জন্য পরীক্ষা তো আসবেই।

দেখাদেখির ভিড়ে বড্ড বেশি ক্লান্ত হয়ে গেলাম আমি। তবুও মিললো না মনের মতো পাত্র।সবার সামনে যেতে বাধ্য হওয়া,না গেলে বকা শোনা। আহ! আমার রব ই জানেন আমার অবস্থাটা।  বিভিন্ন শায়েখদের সাথেও কথা হতো। নিজের পরিস্থিতির কথা তুলে ধরি তাদের কাছে। সাহায্য চাই খুব করে৷ তারা ও ছেলে দেখতে শুরু করে৷ কিন্তু না কোথাও মিলছে না। সত্যি ই খুব ক্লান্ত লাগছিলো নিজেকে।দুনিয়াবি চাকচিক্যের কাছে হেরে গিয়ে আমার চাওয়া পাওয়া সবার কাছে দুর্বল হতে শুরু করলো।কিন্তু আল্লাহ কে ডাকতে কখনোই পিছপা হইনি আমি। আমার প্রতিটি মোনাজাতে বাচ্চাদের মতো কেঁদে কেঁদে উত্তম জীবনসঙ্গী চাইতাম।এমন কাউকে চাইতাম দ্বীনের পথে হাটতে গিয়ে কখনো যদি হোছট খাই কোনো শক্ত পাথরে তখন সে যেন আমার হাত টি ধরে বলে “ভয় পাচ্ছো কেন?আমি তো আছি।এপথে হাটতে গিয়ে কখনো যদি ক্লান্তি তোমায় স্পর্শ করে তখন নাহয় আমার পায়েই হেটো।” যখন শায়েখদের সাথে বিয়ের প্রস্তাব আসতো খুশিতে আত্মহারা হয়ে যেতাম। তাহাজ্জুদে গিয়ে লুটিয়ে পরতাম। কখন যে ফজর হয়ে যেত টের ই পেতাম না। সবকিছুই ঠিকঠাক কিন্তু শেষে গিয়ে কোনো এক কারনে ভেঙে যেতো সব ই। দেখতে যে খারাপ ছিলাম তেমন টা নয়। দেখে মোটামুটি সবাই ই পছন্দ করতো আলহামদুলিল্লাহ।  তবে ওই যে তকদ্বীর! যার যেখানে তকদ্বীরে  আছে সেখানেই যেতে হবে।

দেখাশোনার মাঝে আমার ইন্টার পরীক্ষা শেষ হলো। বলতে গেলে না পড়েই এক্সাম দিয়েছিলাম।
আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর দয়ায় রেজাল্ট খুব বেশি ভালো না হলে খারাপ ও হয়নি খুব একটা।

ইন্টার কমপ্লিট করে কোনো কচিং এ ভর্তি হই নি। কারন দুইটা একত্রে  চালিয়ে যাওয়ার মতো সময় বা ইচ্ছে কোনোটাই ছিলোনা আমার।পরিবারের সবাই কে খুব কষ্টে ম্যানেজ করে মাদ্রাসায় ভর্তি হলাম। কুরআন টা শুদ্ধ করে তিলাওয়াত শেখার জন্য। পাশাপাশি অনার্সেও ভর্তি হলাম।  বিয়ের কথা বার্তা যেখানেই হয়, কোনো না কোনো কারনে ভেঙে যায়। তবে ধৈর্য্য হারা হইনি আমি। সমানে চেয়ে গেছি৷ মালিকের দয়া হতে নিরাশ হইনি।

কোনো ছেলেপক্ষ আসার আগে সালাত আদায় করে রবের সাহায্য চেয়ে তারপর সামনে যেতাম। যখন ছেলে ছাড়া অন্য কারো সামনে যেতে হতো কলিজাটা যেন ছিড়ে যেত। অন্তরের রক্ত খরন এর সাক্ষি ছিলো একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা।  এমন একটা অবস্থা হয়ে গিয়েছিলো যে ছেলে পক্ষ আসার কথা শুনলে আমি ভয় পেয়ে যেতাম৷ না জানি কার কার সামনে যেতে হবে। সবসময় চাইতাম আমার গায়ের রঙ টা ও যেন কেউ বুঝতে না পারে আর সেখানে….

মা জানালো আজ সন্ধার পরে কোনো এক ছেলে পক্ষ আসবে। কি আর করা তাদের সামনে আমার যেতেই হবে। কিন্তু খুশির খবর ছিলো সেদিন কোনো পুরুষ আসেনি। ছেলের মা,বোন আর কাকী এসেছিলেন। খুব পছন্দ করলেন তারা৷ বলে গেলেন পরদিন ছেলে আসবে। ও হ্যা আরেক টা কথা যে ই দেখতে আসতো না কেন দ্বীনের ব্যাপারে আগে ক্লিয়ার হয়ে নিতাম,তাতে বিয়ের কথা আগাক বা না আগাক। যা হবার হবে আল্লাহ ভরসা। বিভিন্ন প্রশ্ন করতাম, ছেলের আকিদা,দ্বীনদারিত্ব সব বিষয়ে জানতে চাইতাম, আমাকে পূর্ণ পর্দায় রাখার এবিলিটি আছে কিনা। সব জিজ্ঞেস করতাম। বৈপরীত্য দেখা দিলে নিজেই না করে দিতাম। অবশ্য এসব নিয়ে কম কথা শুনতে হয়নি। তবুও এই ব্যাপারে আমি ছিলাম নো কম্প্রোমাইজ টাইপের।তো ওই ছেলের মা,বোন আমার এসব প্রশ্ন শুনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলেন৷ ভেবেছিলেন আমি কোনো দল  করি কিনা। তাই পরের দিন সেই ছেলে তার একটা হুজুর টাইপ বন্ধুকে সাথে নিয়ে এলেন আমাকে জাষ্টিফাই করার উদ্দেশ্যে।  অনিচ্ছে সত্ত্বেও তাদের সামনে যেতে হয় আমার। হুজুর ছেলেটা বিভিন্ন প্রশ্ন করে আমায়।আমিও ছেলের সম্পর্কে জানতে চাই। সেদিন চলে যায় তারা।

খুব কান্না করেছিলাম সেদিন। আল্লাহর কাছে এমন একটা পরিবেশ দাবি করেছিলাম যেখানে থেকে পরিপূর্ণ ভাবে আমি আমার রবকে  ডাকতে পারবো। মনের মতো করে পালন করতে পারবো মালিকের আদেশ নিষেধ গুলো।

সেই ছেলে বাসায় গিয়ে জানায় তার ও পছন্দ হয়েছে। আমাদের বাসা থেকেও খুব পছন্দ করে ছেলেকে৷ যদিও আমার পছন্দ হয়নি বললেই চলে।  তবে এতো জায়গা দেখার পরে আব্বুর মুখের উপর আমি আর না করতে পারি নি। বিয়ের কথা বার্তা অনেকদূর এগিয়ে গেলো। খুব কষ্ট পাচ্ছিলাম মনে মনে। ওই যে একটা কথা আছেনা, বান্দার চেষ্টা যেখানে শেষ রবের সাহায্য সেখানে শুরু। আলহামদুলিল্লাহ আমার রব ও আমাকে সাহায্য করলেন। অজানা কারনে ভেঙে গেলো বিয়েটা। তখন সেই হুজুর টাইপ এর ছেলেটা হয়ত তার মাকে আমার ব্যাপারে বলেছিলেন। তার মা আর বোন আমাকে দেখার উদ্দেশ্যে এলেন তবে তার জন্য নয়। তার মেজো ভাইয়ার জন্য। তিনি ছিলেন সবার ছোটো। যখন সে জানতে পারে তার মা তার মেজো ভাইয়ার জন্য আমাকে দেখেছে তখন নাকি ছেলেটা বলে যে আমাকে তার নিজের ই পছন্দ হয়েছে। কিছুদিন পরে ওর মাকে নিয়ে আবার সে আমাদের বাসায় আসে।সাথে অন্য কোনো ছেলে ছিলো না।তার মা ও খুব পছন্দ করেন। তার কথা বার্তা গুলো  অসম্ভব রকম ভালো লেগেছিলো। তাকে নিয়ে ইস্তেখারা সালাত আদায় করি।  আলহামদুলিল্লাহ, সুম্মা আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো একটা স্বপ্ন দেখি। এক শায়েখ কে স্বপ্নের ব্যাপারে জানাই। তিনিও খুব খুশি হন। সামনের দিকে আগাতে বলেন। আলহামদুলিল্লাহ। রমজান মাসে কোনো এক জুমা বারে আমার বাবা আর তাঁর বাবার উপস্থিতি তে মসজিদে খুব সহজ ভাবে সম্পন্ন হয় আমাদের বিয়েটা। সব ই যেন স্বপ্নময়। সবদিক দিয়ে রহমান আমাকে এতো দয়া করবেন তা ছিলো শুধুই স্বপ্ন। আল্লাহর কাছে যেমন টা চেয়েছি তিনি(হাজবেন্ড) হয়ত তারচেয়েও বেশি। হয়ত তিনি মানুষের কাছে স্পেশাল কেউ নন তবে রবের কাছে হয়ত খুব স্পেশাল কেউ। কারন তার প্রতিটি কথা খুব ভাবিয়েছে আমায়।গভীর ভাবে ভাবিয়েছে।

একটা আয়াতের কথা মনে পরে গেলো যেটা না বললেই নয়।
“শীঘ্রই তোমার রব তোমাকে এতো দিবেন তুমি খুশি হয়ে যাবে”

(আদ্ব-দ্বুহা আয়াত ৫)

বিয়ের আগে পিরিয়ড এ খুব সমস্যা ছিলো। আধমরা হয়ে যেতাম প্রতিবার। অনেক গাইনোলজিষ্ট কে দেখিয়েছি। সবার কথা ছিলো একটাই, “বিয়ের পরে যদি বাচ্চা হয় তারপর এটা ঠিক হবে।” অর্থাৎ বাচ্চা হওয়া নিয়ে সন্দিহান ছিলেন তারা। তবে আমি আমার রবের দয়া হতে নিরাশ হইনি। দ্বীনের পথে ফিরে আশার পর আমার একটা দোয়া ছিলো প্রতিটি মোনাজাতে।

“উম্মাহ কে এখনো তেমন কিছুই দিতে পারিনি। তবে খুব স্বপ্ন একঝাক দ্বায়ী ইল্লাল্লাহ উপহার দিবো তাদের। যাদের কে খুব বেশি প্রয়োজন বর্তমান এই মুসলিম উম্মাহর। হে আরশের অধিপতি আমার মাধ্যমে শত শত উমর বিন  খাত্তাব, খালিদ বিন ওয়ালিদ কে পাঠান আপনি বর্তমান রোগাক্রান্ত বিশ্বে।”

বিয়ে হয়েছে ৭ মাস আর আল্লাহর দয়ায় নতুন মেহমান এর উপস্থিতি অনুভব করছি ৬ মাস।
আলহামদুলিল্লাহ।

“বান্দা তুমি যা ই বলো লাভ তো কিছু নাই, আল্লাহ চাইলে সব ই সম্ভব জেনে রাখো ভাই।” আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো একটা পজিশনে আছি এখন। যতটুকু পরীক্ষা আছে এটা তো থাকবেই। কারন এটা তো দুনিয়া। এটা তো জেলখানা।যার সাথে বিয়ে  হইছে তার মতো একটা চরিত্র ই ছিলো আমার স্বপ্নের রাজপুত্র। যে আমাকে তার ঘোড়ার নিয়ে টগবগ  করে এগিয়ে চলবে জান্নাতের পথে ইনশা আল্লাহ। আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা যে সুধা আমাকে পান করিয়েছেন সত্যিই আমি চির কৃতজ্ঞ আমার রবের প্রতি। এরকম একটা জীবন পাবো এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। আলহামদুলিল্লাহ খুব প্রশান্তির সাথে বেঁচে আছি। সত্য আমার রব, সত্য তাঁর ওয়াদা।

“নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে।”
(সূরা ইনশরিাহ ৯৪, ৫ এবং ৬)

 

Facebook Comments