কেমন ছিল সালাফদের কুরআন তিলাওয়াতের ইশক|| আব্দুল্লাহ বিন বশির

ishk
এই উম্মাহের জন্য আল্লাহর অনেকগুলো রহমতের মধ্যে বিশেষ এক রহমত হলো মহামান্বিত এই কুরআন। মুসলিমদের শত উত্থান-পতনে, শত্রুদের শত কুচক্রীর সত্ত্বেও যা নিজ মহিমায় ইসলামের সত্যতার প্রমান বহন করে রেখেছে তা হলো আল-কুরআন। তাই মুসলিম উম্মাহ এই কুরআনের পঠন-পাঠনে দিয়েছেন অনেক গুরত্ব।
এই কুরআনেরই এমন এক মহান মর্যাদা রয়েছে যে, যার প্রতিটি হরফে আল্লাহ বান্দার জন্য রেখেছে নেকি। চাই সে তা বুঝোক বা না বুঝোক।
কুরআনের এই মহান শান খুব ভালো করে বুঝার কারণেই আমাদের সালাফগন কুরআন তিলাওয়াত করেছেন এমন বেশি পরিমান যে, এই জামানায় আমাদের কাছে যা অসম্ভব বলেই মনে হয়। আমাদের কম হিম্মত ও আমলে গাফলতির পরিমান এতই বেশি যে, আমরা এই জামানায় কুরআনের সে তিলাওয়াতের ভাবনাও ভাবতে পারিনা।
কিন্তু কোনো কোনো ভাইকে দেখা যায় যায় তারা নিজেদের উপর ধারণ করে এবং নিজেদের সময়ের বিবেচনায় কোনো কোনো সালাফের ব্যাপারে খুব বাজে মন্তব্য করে বসেন যে, এভাবে একরাতে একখতম কুরআন পড়া অসম্ভব। এগুলো সব বানোয়াট কথাবার্তা। তারপর দলিলস্বরূপ বিভিন্ন অংকের হিসেব খুলে বসেন, প্রতি পারা পড়তে এত সময় লাগলে এভাবে পড়া সম্ভব নয়! আল্লাহ এই সমস্ত ভাইদের হিফাজত করুক। সময়ের বরকত ও আল্লাহ পক্ষ থেকে তাওফিকের বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা থাকার কারণেই এমন মন্তব্য হয়তো তারা করে থাকেন।
উপরের এই আপত্তির খণ্ডনে কিছু লেখার ইচ্ছে নেই। এই প্রবন্ধে আমরা শুধু এমনকিছু মনীষীদের আলোচনাই করবো যারা খুব অল্প সময়ে অধিক পরিমান কুরআন খতম করতেন। কেউ দুই রাকাত নামাজে এক রাতে পুরো কুরআন খতম করতেন কেউ বা কিছু বেশি সময়ে আর কেউ কেউ একই দিনে একাধিক খতমও করেছেন।
১. হযরত উছমান ইবনে আফফান রা.
প্রতিটি সাহাবা রা. ছিলেন কুরআনের আশেক। কুরআনের শিক্ষা মানুষের মাঝে রোপণে সদা ব্যস্ত থাকলেও শুধু কুরআনের তিলাওয়াতেও উনাদের ছিলেন এক বিশেষ আগ্রহ। সকল সাহাবাই জীবনের সকল ব্যস্ততার মাঝেও কুরআন তিলাওয়াতে ছিলেন সদা উদগ্রীব। তবে সকলের মাঝে কুরআনের প্রতি বিশেষ এক আগ্রহ ছিলেন যাদের তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইসলামের তৃতীওয় খলিফা জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত হযরত উছমান রা.। তিনি ঐ সকল মহামনীষীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা একরাতে পুরো কুরআন পড়ে ফেলতেন।
আব্দুর রহমান আততাইমী বলেন, আমি এশার নামাজ পড়ে আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলাম এমন সময় এক লোক এসে নামাজে দাঁড়িয়ে গেলো। আমি লক্ষ্য করে দেখি উছমান ইবনে আফফান রা.। তিনি সুরা ফাতিহা দিয়ে শুরু করলেন এবং পুরো কুরআন খতম করে সালাম ফিরিয়ে জুতা নিয়ে চলে গেলেন। আমার মনে নেই এই দুই রাকাতের আগে পরে তিনি অন্যকোনো নামাজ পড়েছেন কি না।(১)
ইবনে সিরিন রহ. বলেন, ‘উছমান রা.কে হত্যা করার জন্যে যখন সকলে ঘিরে ধরলো। তখন তার স্ত্রী সকলকে বললো—তোমরা যদি চাও তাকে হত্যাও করতে পারো আবার ছেড়েও দিতে পারো। কিন্তু মনে রেখো তিনি পুরো রাত এক রাকাত নামাজে কুরআন খতম করতেন।(২)
হযরত উছমান রা. কুরআনের কেমন আশেক ছিলেন তা তার মৃত্যুর সময়ের একটি ঘটনা থেকেও আন্দাজ করা যায়। যখন এই মহান সাহাবীকে হত্যা করার জন্য বিদ্রোহীরা তাঁর ঘরে ঢুকে যায় তখন তিনি কুরআন তিলাওয়াত রত ছিলেন। তাঁকে যখন আঘাত করা হয় রক্তের প্রথম ফোঁটা তার খোলা কুরআনের পাতায় গিয়ে পরে। আর যে আয়াতের উপর রক্তের ফোঁটাটি ছিলো সেটি হলো—
ﵟ‌فَسَيَكۡفِيكَهُمُ ‌ٱللَّهُۚ وَهُوَ ٱلسَّمِيعُ ٱلۡعَلِيمُ ١٣٧ﵞ
তাদের জন্যে আপনার পক্ষ থেকে আল্লাহই যথেষ্ট (সুরা বাকারাহ ১৩৭)।(৩)
২. উবাই ইবনে কাব রা.
সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে কুরআনের অন্যতম আশেক ছিলেন হযরত উবাই ইবনে কাব রা.। এবং ছিলেন সবচ্যে বড় কারী। স্বয়ং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যার ব্যাপারে সাক্ষি দিয়েছেন যে, উবাই হলো সবচয়ে বড় কারী।(৪)
হযরত উবাই ইবনে কাব রা. একমাত্র সাহাবী আল্লাহ তায়াল যার নাম নিয়ে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদেশ করেছেন তার থেকে কুরআন শুনার জন্যে।(৫)
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যামানায় যে কয়জন সাহাবা কুরআন জমা করার কাজ করেছেন তাদের মধ্যেও অন্যতম ছিলেন তিনি।(৬)
এই উবাই ইবনে কাব রা.-র কুরআন খতমের অভ্যাস ছিলো তিনি আট রাত্রে কুরআন খতম করতেন। তিনি নিজেই তার কুরআন পড়ার বিবরণ দেন,
أما أنا فأقرأ القرآن في ثماني ليال
আমি আট রাতে পুরো কুরআন একবার শেষ করি। (৭)
৩. তামিম আদদারি রা.
হযরত তামিম দারি রা.ও সেসকল সাহাবাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা খুব অল্পসময়ে কুরআন খতম করতেন। আবু মুহাল্লাব রহ. বলেন, হযরত তামিম দারি রা. সাত রাতে এক খতম কুরআন পড়তেন।(৮)
অন্য আরেকটি রেওয়ায়েতে পাওয়া যায় তামিম দারী রা. এক রাতেই কুরআন পড়তেন। খারিজা ইবনে মুসআব বলেন, ‘এক রাকাতে পুরো কুরআন যারা খতম করতেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন, তামিম আদদারি রা.।(৯)
এখানে দুটি বর্ণনায় পরস্পর কোনো বিরোধ নেই। সাত রাত্রে এক খতম পড়া হয়তো উনার নিয়মিত আমল ছিলো। আর কখনো হয়তো কুরআনের মহব্বতে এক রাত্রে পুরোটা শেষ করেছেন। সেটার কথাই দ্বিতীয় বর্ণনায় আছে। আল্লাহু আ’লাম।
৪. সাইদ ইবনে জুবায়ের রহ.
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-র বিশিষ্ট শাগরেদ ছিলেন হযরত সাইব ইবনে যুবায়ের রা.। নিজ যামানায় ইলম ও আমলে এত বেশি মাকবুলিয়্যাত পান যে, সাধারণ জনগণ থেকে নিয়ে শাসকরাও পর্যন্ত উনাকে সমীহ করে চলতেন। হাজারো তালেবে ইলম দূর-দূরান্ত থেকে সফর করে উনার কাছ থেকে হাদিস শ্রবণের জন্য আসতেন। বিশেষ করে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-র ইলম অর্জনের জন্য যামানার বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উনার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। কুরআন তিলাওয়াতের বড় আশেক ছিলেন। উনি কেমন কুরআন তিলাওয়াতের প্রতি আশক্ত ছিলেন তা উনার নিজের বক্তব্য থেকেই বুঝা যায়। তিনি বলেন, ‘হুসাইন রাযিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার পর থেকে কুরআন তিলাওয়াত ব্যতীত কখনো আমার দু’রাত অতিবাহিত হয়নি। কেবল মুসাফির বা অসুস্থ হলে এর ব্যত্যয় ঘটত।’(১০)
কখনো এমন হতো যে একরাতেই এক খতম কুরআন খতম করে ফেলতেন। তিনি নিজেই বলেন, ‘আমি কাবার সামনে এক রাকাতে পুরো কুরআন পড়েছি।(১১)
ইবনে মুবারক রহ. বলেন, যারা এক রাকাতে কুরআন খতম করেন তাদের মধ্যে একজন হলেন সাইদ ইবনে জুবায়ের রা.।(১২)
৫. ইমাম আবু হানিফা রহ. (মৃত্যু ১৫০ হি.)
ইমাম আবু হানিফা রহ.-র অধিক পরিমান কুরআন তিলাওয়াতের বিষয় উনার যামানাতেই প্রসিদ্ধ ছিলো। স্বভাবিক অবস্থায় তো প্রচুর তিলাওয়াত করতেনই যখন রমজান আসতো তখন তিলাওয়াতের আগ্রহ ও কুরআএর প্রতি ইশখ আরো বেড়ে যেতো। ইয়াহইয়া ইবনে নসর রহ. বলেন, ‘কোনো কোনো রমজানে এমন হতো যে, ইমাম আবু হানিফা পুরো রমজানে ৬০ খতম কুরআন পড়তেন।’(১৩)
ইমাম সাহবের এই অত্যাধিক তিলাওয়াতের কারণে উনার যামানার লোকেরা হিসেব করতে আগ্রহী হয়ে উঠলো ইমাম আবু হানিফা রহ. জীবনে কত খতম কুরআন তিলাওয়াত করেছেন! কেউ কেউ হয়তো হিসেব করেছেনও। কিন্তু এই হিসেব কী আর কোনোভাবে সম্ভব! তাও যাহাবি রহ. এরকম একটি অস্পষ্ট ক্বওল তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন— বর্ণনা করা হয় যে ইমাম আবু হানিফা রহ. সাত হাজার কুরআন খতম করেছেন।(১৪)
ইমাম আবু হানিফা রহ.-র এক রাতে কুরআন শরীফ খতমের ঘটনা এত বেশি রেওয়ায়েত থেকে প্রমাণিত যে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। এই বিষয়ে শুধু উনার শাগরেদরাই নয়, সহপাঠিরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিশিষ্ট মুহাদ্দিস মিসআর ইবনে কিদাম রহ. বলেন, মিসআর ইবনে কিদাম রহ. বলেন, ‘আমি একবার মসজিদে প্রবেশ করে দেখলাম একলোক খুবই মধুর সুরে নামাজে কুরআন তিলাওয়াত করছে। আমি সেখানে অবস্থান করে তার সেই সুমধুর তিলাওয়াত শুনতে লাগলাম। যখন সে যখন সে কুরআনের সপ্তমাংশ পড়ে ফেললো আমি ভাবলাম এবার সে রুকু দিবে। কিন্তু সে পড়তেই থাকলো। যখন এক তৃতীয়াংশ পড়ে ফেললো। আমি ভাবলাম এবার রুকু দিবে। কিন্তু পড়তে পড়তে সে কুরআনের অর্ধেকে পৌঁছে গেলো। এভাবে এক রাকাতে পুরো কুরআন পড়ে ফেললো। এবার আমি অবাক হয়ে একটু ভালো করে লক্ষ্য করে দেখি লোকটি আবু হানিফা।(১৫)
এতো উনার সহপাঠির বক্তব্য। উনার যারা একান্ত শাগরেদ ছিলেন, সর্বদা তার আশপাশে ছিলেন। সেসকলের মধ্যে ইমাম সাহেবের শীর্ষ শাগরেদ ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন, ‘ ইমাম আবু হানিফা রহ. এক রাকাতে পুরো কুরআন খতম করতেন।’(১৬)
এই কথাটা আরেকটু ব্যাখ্যা করে ইমাম সাহেবের আরেক শাগরেদ আসাদ ইবনে আমর বলেন, ‘এই কথা সংরক্ষণ আছে যে ইমাম আবু হানিফা রহ. চল্লিশ বছর এশার অজু দিয়ে ফজর পড়তেন। এবং অধিকাংশ রাত্রে এক রাকাতে পুরো কুরআন পড়তেন।(১৭)
এভাবে কুরআন খতম ইমাম আবু হানিফা রহ. মাঝে মাঝের কোনো আমল ছিলোনা যে, জীবনে একবার করেছেন তাই শাগরেদগন বলছেন বরং কুরআন তিলাওয়াতের এই ইশক উনার প্রায় নিয়মিতই ছিলো। যা উনার সোহবতে থাকা অন্য আরেক শাগরেদের বক্তব্য থেকে স্পষ্টতই বুঝা যায়। আব্দুল হামিদ আল-হিম্মানি রহ. বলেন, ‘আমি ছয় মাস ইমাম আবু হানিফার সোহবতে ছিলাম। তিনি এশার অজু দিয়ে ফজর পড়তেন। এবং পুরো রাত এক রাকাতে কুরআন খতম করতেন।(১৮)
ইমাম আবু হানিফার ইবাদত সংক্রান্ত কিছু আপত্তি :
ইমাম আবু হানিফা রহ. অনেক বেশি ইবাদত গুজার ছিলেন। তাঁর এই ইবাদত অনেকটা বিস্ময়কর পর্যায়ের। যার কারণে কিছু অবুঝ মানুষকে দেখা যায় ইমামে আজমের ইবাদতের আলোচনা নিয়ে ঠাট্টা করেন যে—এগুলো হানাফিদের বানানো কথা! আবার অনেকে সরাসরি অপবাদ না দিলেও বিশ্বাস করতে চান না। নিজের আমল নিজের সময় দিয়ে ইমাম আজমের আমলকে যাচাই করতে থাকেন। সম্ভবত এই সকল ব্যক্তিদের আপত্তিগুলোর দিকে লক্ষ্য করেই শাফেয়ী মাজহাবের ইমাম যাহাবী রহ. ‘আবু হানিফার ইবাদত’ এই অধ্যায়ে আলোচনা শুরু করার পূর্বেই সকলের মুখ বন্ধ করে দিয়ে বলেছেন — ‘ইমাম আবু হানিফার রাত জেগে কিয়াম করা, তাহাজ্জুদ পড়া ও বেশি বেশি ইবাদত করার বিষয়ে এত বেশি বর্ণনা আছে যে যা মিথ্যা হওয়া অসম্ভব।(১৯)
অনেক ভাইকে আবার এই আপত্তি করতেও দেখা যায়–ইমাম আবু হানিফা রহ. যদি রাতভর নামাজই পড়তেন তাহলে তার স্ত্রীর হক আদায় কিভাবে করতেন? আসলে আমাদের একটা বড় সমস্যা হলো আমরা নিজেদের অবস্থার উপর খাইরুল কুরুন বা যামানার শ্রেষ্ঠ বুজুর্গদের যাচাই করি। যেটা নিজেদের জন্যে দেখি অসম্ভব, ভাবি, সেটা অন্যের জন্যেও অসম্ভব! আসলে বিষয়টি এমন নয়। এই যামানাতেও এরকম বহু নেককার মেয়ে পাওয়া যাবে যারা তাদের স্বামীর দ্বীনি খিদমাতের কারণে স্বামীর উপর তাদের সমস্ত হক মাপ করে দিয়েছেন।
ইমাম আবু হানিফা রহ.-র এক বাদির স্বীকারোক্তিটাই বলি, যার থেকে ইমাম আবু হানিফা রহ.-র সন্তানও হয়েছে। তিনিই তো ভালো বলতে পারবেন ইমাম আজম ঘরে কিভাবে কাটাতেন। ইমাম আবু হানিফার বাদি বলেন, ‘আমি যখন থেকে তাঁকে চিনি কখনোই রাত্রে তাকে বিছানায় পিঠ লাগাতে দেখিনি। তিনি গ্রীষ্মকাল হলে যোহর এবং আসরের মধ্যবর্তী সময়ে ঘুমাতেন। আর শীতকালে রাতের প্রথম ভাগ অর্থাৎ সন্ধ্যার সময় ঘুমাতেন।(২০)
আশা করি ঘরের এরকম খাস বাদির সাক্ষ্যর পর তিনি কিভাবে স্ত্রীর হক আদায় করতেন তা নিয়ে আর সংশয় থাকবে বলে মনে হয়না।
৬. আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি রহ. (মৃত্যু ১৯৮ হি.)
বিশিষ্ট মুহাদ্দিস ওয়াকি ইবনুল জাররাহ রহ.র সমসাময়িক আব্দুর রহমান ইবনে মাহদিকে অনেকেই শুধুই একজন মুহাদ্দিস হিসেবেই চিনে। কিন্তু ইলমের এই মহান সাধক ছিলেন অনেক বেশি ইবাদতগুজার একজন মানুষ। উনার আমলের নমুনা কি ছিলো তার ছোট্ট বিবরন তাঁর স্ত্রী থেকেই শুনা যাক। আলি ইবনে মাদিনী রহ. বলেন, আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি রহ.-র মৃত্যুর পর আমি তার পরিবারের খোঁজ-খবর নিতে তার বাড়িতে যাই। তার ঘরে কিবলার দিকে করা একটি বালিশ দেখতে পেলাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম—‘এটা এই অবস্থায় কেনো?’ তাঁর স্ত্রী বললেন, ‘উনি রাতভর নামাজ পড়তেন। কখনো যদি অনেক বেশি ঘুমের চাপ পড়তো তখন এই বালিশটায় হেলান দিয়ে হালকা ঘুমিয়ে নিতেন।(২১)
এই রাত জেগে ইবাদতের মাঝে যে কাজটি অত্যাধিক করতেন তা হলো, কুরআনের তিলাওয়াত। নিজ যামানার শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস আলি ইবনে মাদিনী রহ. বলেন, ‘আব্দুর রহমান ইবনে মাহদি রহ.-র আমল ছিলো প্রতি রাতে অর্ধেক পরিমান কুরআন পড়তেন৷ এভাবে প্রতি দুই রাতে এক খতম কুরআন শেষ করতেন।(২২)
আল্লাহ আমাদের সালাফদের কুরআনের ইশকের কিছুটা হলেও দান করেন এবং এভাবে হিম্মতের সাথে অল্প হলেও তাদের অনুসরন করার তাওফিক দান করেন। আমীন।
টিকা:
১] হিলয়াতুল আউলিয়া ১/৫৬
২] হিলয়াতুল আউলিয়া ১/৫৬
৩] সিয়ারু আলামিন নুবালা ২৮/২০৭
৪] সুনানে তিরমিজি হাদিস নং ৩৭৯৩
৫] সহিহ বুখারী ৪৯৫৯
৬] সিয়ারু আলামিন নুবালা ১/৩৯১
৭] তাবকাতে ইবনে সাদ ৩/৩৭৯, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১/৩৯৮
৮] তাবকাতে ইবনে সাদ ৩/৩৭৯
৯] মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা-ইমাম যাহাবী রহ. পৃ. ২২
১০] তাবকাতে ইবনে সাদ ৬/২৭০
১১] তাবকাতে ইবনে সাদ ৬/২৭০
১২] আল-মাদখালুল মুফাসসাল ইলাল ফিকহিল হানাফি ২৩৪পৃ.
ইবনে মুবারক রহ.-র এই বক্তব্যটি আমি সলাহ আবুল হাজ্জ হাফিজাহুল্লাহর কিতাবে পাই। সেখানে উনি যে হাওয়া দিয়েছেন সেটা মুরাজায়াত করতে পারিনি। তবে ইমাম যাহাবী রহ. এই একই বক্তব্য খারিজা ইবনে মুসআব রহ. থেকে তার কিতাব ‘মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা’তে উল্লেখ করেছেন।
১৩] মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা- ইমাম যাহাবি রহ. পৃ.২৩
১৪] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৪০০
১৫] মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা – ইমাম যাহাবিপৃ.২২.
১৬] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৪০০
১৭] তারিখে বাগদাদ ১৩/৩৫৩
১৮] সিয়ারু আ’লামিন নুবালা ৬/৪০০
১৯] মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা- ইমাম যাহাবি পৃ.২০
২০] মানাকিবুল ইমাম আবু হানিফা – ইমাম যাহাবিপৃ.২৩
২১] সিয়ারু আলামিন নুবালা ৯/১৯৯
২২] তাহজিবুল কামাল ১৭/৪৪১, সিয়ারু আলামিন নুবালা

Facebook Comments