নীড়ে ফেরার গল্প-৪৯ । নোমান আব্দুল্লাহ

নোমান আব্দুল্লাহ

পরিবারে কোন মেয়েকে ছেলের বউ করে আনবে,আমাদের সমাজে এটার উদ্দেশ্য হলো, জামাই পরিবারের সকল সদশ্যের কাজ সে মেয়ে আনজাম দিবে।কাপড় কাচবে।উঠান ঝাড়ু দিবে।রান্না করবে।সিজনের ফসলাদি বপন করে উৎপন্ন ফসল ঘরে আনবে।বাড়ির সকলের আবদার রক্ষা করে চলবে।এক কথায় বলা যেতে পারে, একজনের বউ থাকেনা! কেমন যেন বাড়ির বউ হয়ে যায়।গতানুগতিক এমন একজন হলেন আমার মা।বলে রাখা ভালো,যাপিত সমাজে তো পর্দার প্রশ্নই আসেনা! ইসলামের রীতি-নীতিতো দুর কী বাত।সেই মেয়ে কার সাথে পর্দা করবে!।কেউ তার দেবর নামে আপন ভাই!।সমাজের লোকজন তো আপন চাচা!।আর যত মুরব্বি আছে তারা তো নিজ বাপের মতো!।কার সাথে সে পর্দা করবে!?।আম্মুর,দ্বীনের বিজ মাথায় এসেছে নানার বাড়ি থাকতেই।

এদিকে চলমান সমাজের সকল কিছু সইতে হচ্ছে মার।যতদিন দিন যায় অস্থিরতা বাড়ে।এভাবে সময়,দিন,মাস,বছর যেতে থাকে।ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার বিষয়কে সামনে রেখে গ্রাম থেকে শহরে আসেন। চলতে থাকে স্কুলের পড়াশোনা। ছেলে-মেয়ের। আমাদের দাবিদার ধর্মীয় সমাজে বহু আদর্শের লোক পাওয়া যায়।ভিন্ন চিন্তার!ভিন্ন মতের!ভিন্ন পথের!।

একটা জেনারেল ফ্যামিলি যদি দ্বীনের পথে আসতে চায়,প্রথমতঃহয়ত সে প্রথম ধাপেই “আহলুস সুন্নাহ ও পড়াশোনা করাতে।মামা-চাচাদের ও একই সুর। কিছুদিন পর আব্বু স্কুলে নিয়ে আসে।এভাবে দেখা যায়,একই সময়ে স্কুল ও মাদরাসায় ভর্তি ছিলাম।কিছুদিন এখানে,কিছুদিন সেখানে।এভাবে এটারও একটা মিমাংসা হয়।ফলে মাদরাসায় থেকে যাই।এভাবেই আম্মুর হাত ধরে ইলম শিখার পথের সূচণা হয়।পর্দা শুরু করে দেয় আম্মু। যাপিত জীবনে শুরু হয়ে যায় নানান কথা,তিরস্কার।ফেইক রক্তের সম্পর্কগুলো নানান কথা বলতে থাকে।কেউ বলে তুমি কার সাথে পর্দা করছ!?যে কি-না তোমাকে ছোট থেকে চিনে,দেখে!? আত্মীয়-স্বজনের মাঝে পুরুষরা রাগ-জিদের চঠে আমাদের বাসায় আসেই না।তাদের ফ্যামিলিকেও আসতে দেয়না।আজ-অব্দি কোন কোন ফ্যামিলি আমাদের বাসায় আসে নাই।

কারণ,তারা আসলে আম্মু, বোন কেউ দেখা দেয় না,এটা তাদের ইগো তে প্রচুর লাগে।শত কথা,মন্দ,তিরস্কার করুক,আম্মু পর্দা ছাড়বে না।দেখা করবেনা।কর্কশ ভাষায় কথা বলবে।ষষ্ঠ শ্রেণি পর ছোট বোনকে,এসএসসি পর বড় বোনকে মাদরাসায় দিয়ে দেয়।পরকালের ভয়ে,যেন আমরা একথা বলতে না পারি আব্বু-আম্মু দ্বীনি শিক্ষা দেয় নাই। আস্তে আস্তে ফ্যামিলির সদস্য সকল দ্বীনের পথে এসে যায়। আগেই বলেছি জেনারেল ফ্যামিলিরা দ্বীনের পথে আসতে তিনটির কোন একটির সম্মুখীন হতে হয়। হয়তো সোজাই “আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত” পথে চলে আসে।নয়ত অন্য পথে থেকে যায়।আর না হয় ঘুরিয়ে পেচিয়ে আসতে হয়।তৃতীয়টির সম্মুখীন হলাম আমরা। যাপিত জীবনে বহুবিধ আদর্শের লোক দেখা যায়।মওদুদী,সুন্নী,আহলে হাদিস, আরো অনেক।

সকলে সকলের আদর্শকে সঠিক মাপকাঠি প্রমাণ করে। এবং দ্বীনের পথে দাওয়াতের নামে নিজ নিজ দল ভারি করে।এদের সংখ্যা একেবারেই কম নয়।এদের এজেন্ডা মহিলা সেক্টরে কম নয়।আমার আম্মুর সাথে এদের পরিচয় হয়।এদের চাটুকারি কথায় প্রভাবিত হয়।এদেরকে সত্য মনে করে,এ পথে লম্বা সময় কেটে যায় আমাদের।এদের সাথে কাজ করতে থাকি, এদের মত করে সবাইকে দাওয়াত দিতে থাকি।আখের,সময় সময় জানা যায় তাদের দ্বীন।টিভি,ছোট দাড়ি, দেখা দেওয়া,হাত,মুখ খোলা।আমাদের একজন খালা-মনি কে আম্মু এসব জানালে, খালা-মনি আম্মুকে বিভিন্ন বিষয় বুঝাতে থাকে। বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যায়।ফলে জানতে পারে ওদের পথ,মত,চিন্তা !।বুঝে আসে ভুল।পার্থক্য করতে পারে এদের ওদের।ফিরে পাই খনে খনে সত্য,এভাবেই আমরা ফিরে আসি নীড়ে।

শিক্ষার্থীঃ মারকাযুল কোরআন ওয়াস সুন্নাহ মাদরাসা,বাসাবো,ঢাকা

Facebook Comments