ইতিহাস

সুলতানী আমলে ভারতবর্ষে হাদিসচর্চা (পর্ব-১) | প্রফেসর যফরুল ইসলাম ইসলাহী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr
ভাষান্তর :ইমরান রাইহান
১.
দিল্লি সালতানাতের ব্যপ্তি ছিল প্রায় সোয়া তিনশো বছর।[1] এ সময় বেশকিছু রাজবংশ শাসন করেছিল। ভারতবর্ষের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ইতিহাস আলোচনায় এই সময়ের নানা বিষয়ের আলোচনা উঠে আসে। এই সময়কালে হাদিসশাস্ত্রের পঠন-পাঠন ও চর্চা কেমন ছিল তা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করা জরুরী, কারণ এই বিষয়ে নানা ধরনের সংশয় ও ভুল ধারণা ছড়িয়ে আছে। সাধারণত বলা হয়, এই সময়ে হাদিসশাস্ত্র ছিল অবহেলিত, এর দিকে বিশেষ কোনো গুরুত্ব দেয়া হয়নি। এই শাস্ত্রে বড় কোনো কাজও করা হয়নি।
ভারতবর্ষের প্রখ্যাত গবেষক সাইয়েদ সোলাইমান নদভী লিখেছেন, ‘শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীর (১৫৫১-১৬৪২ খ্রিস্টাব্দ) আগে ভারতবর্ষে শুধু মাশারিকুল আনওয়ার ও ইমাম বগভীর মাসাবিহুস সুন্নাহর নুসখা পাওয়া যেত। আলেমরা তাদের দরসে এই দুই কিতাব থেকেই পাঠ দিতেন। শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলভীর সবচেয়ে বড় অবদান তিনি আরব থেকে মিশকাত, মুয়াত্তা, সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম ইত্যাদি হাদিসগ্রন্থ নিয়ে আসেন এবং পাঠ্যক্রমে এই গ্রন্থগুলো অন্তর্ভুক্ত করেন।[2]
অন্যত্র তিনি লেখেন, মুঘল যুগের আগে ভারতবর্ষে হাদিসশাস্ত্রের চর্চা ছিল না। মুহাম্মদ বিন তুঘলকের শাসনামল থেকে এ অঞ্চলে শুধু মাশারিকুল আনোয়ার পড়ানো হত। ভাগ্যক্রমে কেউ যদি মাসাবিহ হাতে পেত, তাহলে তাকে ইমামুল হদিস মনে করা হত।[3]
এ বিষয়ে আরেকজন গবেষকের বক্তব্য হলো, হিজরী সপ্তম শতাব্দিতে পাঠ্যক্রমে আরবী সাহিত্য, নাহু, সরফ, ফিকহ, উসুলুল ফিকহ, মানতেক, তাসাউফ, তাফসির, হাদিস ইত্যাদি পড়ানো হত। এ সময় ফিকহ ও উসুলুল ফিকহের উপর সবচেয়ে বেশি জোর দেয়া হয়। নাহু সরফের বিষয়েও খুব গুরুত্ব ছিল। কিন্তু অবহেলিত ছিল তাফসির ও হাদিসশাস্ত্র। হাদিসশাস্ত্র পড়ানো হত নামকাওয়াস্তে। মাশারিকুল আনওয়ার ও মাসাবিহুস সুন্নাহ ব্যতিত হাদিসের আর কোনো কিতাবই ছিল না এ অঞ্চলে। সিহাহ সিত্তার কোনো কিতাবও পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত ছিল না।[4]
এই বক্তব্যগুলোর সমর্থনে কিছু ঐতিহাসিক বর্ননাও পাওয়া যায়। যেমন, সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির শাসনামলে (১২৯৬ -১৩১৬ খ্রিস্টাব্দ) ৪৬ জন বরেন্য আলেমের মধ্যে মাত্র একজন আলেম মাওলানা শামসুদ্দিন ইয়াহইয়া আওধি হাদিসশাস্ত্রে কিছুটা আগ্রহ রাখতেন।[5]
এই দাবীর পক্ষে আরেকটি বড় প্রমান হলো সুলতানি আমলের বিখ্যাত ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারনীর লেখা। জিয়াউদ্দিন বারনী তার সময়ে যেসব বিষয় পাঠ্য ছিল তার একটি তালিকা দিয়েছেন। সেই তালিকায় হাদিসশাস্ত্রের উল্লেখ নেই।
আরেকটি যুক্তি হলো, সে সময় শিক্ষার উদ্দেশ্য ছিল কাজি ও ফকিহ তৈরী করা। ফলে হাদিস ও তাফসিরের দিকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক যখন মিসরের আব্বাসি খলিফার ফরমান পান তখন তিনি কোরআনুল কারিম ও মাশারিকুল আনওয়ার সামনে রেখে লোকজনের বাইয়াত নেন। এ থেকেও বুঝা যায় তখন হাদিসের আর কোনো গ্রন্থ ছিল না এ অঞ্চলে। সে সময় সুনানে আবি দাউদের একটি মাত্র নুসখার কথা জানা যায়, যা ছিল কাজি মিনহাজুস সিরাজের কাছে।[6]
ভারতবর্ষে হাদিসচর্চার ইতিহাস আলোচনার ক্ষেত্রে এই কথাগুলো ঘুরেফিরে আসে। ফলে বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট পর্যালোচনার অবকাশ আছে। পরবর্তী আলোচনার আগে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা দরকার।
১। সে সময়ের পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তখন পাঠ্যক্রমে কোন বিষয়ের একটি বা দুটি বইকেই অন্তর্ভুক্ত করা হত। এই এক দুটি বইয়ের শরাহ বা তালখিস পড়ানো হত আলাদা করে। অর্থাৎ পাঠ্যক্রমে যদিও একটি বই পড়ানো হত, কিন্তু এর বাইরে ঐ বিষয়ের অন্য আরো অনেক বই পড়ানো হত। সে যুগের পাঠ্যক্রমের বৈশিষ্ট্য ছিল এটি।
২। সে সময়ের শিক্ষাব্যবস্থার আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, তখনকার শিক্ষাব্যবস্থা ছিল ব্যক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা। শিক্ষার জন্য তখন মাদরাসা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়ে শিক্ষক বা উস্তাদের প্রতিই গুরুত্ব দেয়া হত বেশি। অর্থাৎ শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যক্তির প্রভাব ছিল বেশি। আলেমদের ব্যক্তিগত দরসে উপস্থিত হত ছাত্ররা। আলেমরা তাদের নিজের পছন্দমত বিষয়গুলো ছাত্রদের পড়াতেন। এ ধরনের শিক্ষকরা তাদের দরসে সাধারণত কোনো কিতাব নির্দিষ্ট করতেন না। বরং যে কিতাব বা কিতাবের যে অংশ তিনি জরুরি মনে করতেন সেগুলো পড়িয়ে দিতেন। যেমন কেউ হয়তো হাদিস পড়ানোর ক্ষেত্রে সহিহ বুখারি পড়ালেন, আবার কেউ পড়ালেন সহিহ মুসলিম, বা কেউ পড়ালেন মাশারিকুল আনওয়ার। ফলে দেখা যেত, দেশে যদি একশো জন আলেম থাকেন তাহলে তাদের প্রত্যেকের পাঠ্যক্রম ছিল ভিন্ন ভিন্ন। আবার ছাত্ররাও শুধু এক উস্তাদের কাছে পড়তেন না। তারা একের পর এক নানা উস্তাদের কাছে গমন করতেন। নানা ধরনের কিতাবাদি পড়ে ফেলতেন। যেহেতু উস্তাদ ভেদে পাঠ্যক্রম ভিন্ন হত, তাই ছাত্ররা দিনশেষে অনেক ধরনের বইই পড়ে ফেলতেন।
৩। সে সময় ব্যক্তিগত পড়াশোনা ও গবেষণার রীতি ছিল মজবুত। আলেমদের পড়াশোনা কখনোই একটি বা দুটি কিতাবে সীমাবদ্ধ ছিল না তখন, বরং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যত বেশি সম্ভব বইপত্র পড়ে ফেলতেন তারা।[7]
৪। এ কথা সত্য, সমকালীন ইতিহাসগ্রন্থ গুলোতে বারবার মাশারিকুল আনওয়ার ও মাসাবিহুস সুন্নাহর নাম এসেছে। যা দ্বারা এই দুই কিতাবের প্রসিদ্ধি ও গ্রহনযোগ্যতা অনুমান করা যায়। কিন্তু সে সময়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ননায় আরো অনেক হাদিস গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। যা থেকে বোঝা যায় এই দুই হাদিসগ্রন্থ ছাড়াও আলেমদের কাছে আরো কিছু হাদিসগ্রন্থ ছিল। এসব বর্ননা থেকে ‘ভারতবর্ষে শুধু দুটি হাদিসগ্রন্থ ছিল’ এমন দাবীর অসারতাও প্রমানিত হয়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয় হলো, এসব বর্ননা ইতিহাসের নানা গ্রন্থে বিক্ষিপ্তভাবে এসেছে, একসাথে কোথাও আসেনি। এই বর্ননাগুলো পাঠ্যক্রম সংক্রান্ত আলোচনাইয় আসেনি, এসেছে কোনো ঘটনাপ্রসংগে, বা ভিন্ন কোনো বিষয়ের আলোচনায়। ফলে এই বর্ননাগুলো অনেক গবেষকেরও দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।
সুলতানি আমলের বিভিন্ন ইতিহাসগ্রন্থে যেসব হাদিসগ্রন্থের উল্লেখ হয়েছে তার তালিকা নিম্মরুপ-
সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানু আবি দাউদ, মিশকাতুল মাসাবিহ, সুনানু বাইহাকি, মুসতাদরাকে হাকেম, শারহু মাআনিল আসার, মুসনাদু আবি ইয়ালা, মুসনাদু দাইলামি, জামিউল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল, হিসনু হাসিন মিন কালামি সায়্যিদিল মুরসালিন, ফাতহুল বারি, ইমাম নববির শারহু মুসলিম ইত্যাদি গ্রন্থ।
সুলতানি আমলে ভারতবর্ষে সিহাহ সিত্তার উপস্থিতি ছিল না বলে যে দাবী করা হয়, তা নিয়ে কিছুটা পর্যালোচনা করা দরকার।
সুলতানি আমলে লেখা ইতিহাসগ্রন্থ এবং সুফিদের জীবনি ও মালফুজাত নিয়ে লেখা বইপত্রে এমন অনেক বর্ননা পাওয়া যায়, যা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় তখন আলেমদের অনেকের কাছেই সিহাহ সিত্তাহ এবং সহিহাইনের নুসখা ছিল। কয়েকটি উদাহরণ দেয়া যাক।
১। শায়খ মুজাফফর হুসাইন বলখি ছিলেন চতুর্দশ শতাব্দীর একজন বিখ্যাত আলেম। তিনি ছিলেন শায়খ শারফুদ্দিন ইয়াহইয়া মানেরির শিষ্য। দিল্লির বিখ্যাত কোশাকে লাআল মাদরাসায় তিনি শিক্ষকতা করতেন। হাদিসশাস্ত্রে তার দক্ষতা প্রসিদ্ধ ছিল। তিনি নিজের ভাতিজাকে বিশেষভাবে সহিহাইন অর্থাৎ বুখারি ও মুসলিমের দরস দিয়েছিলেন। তিনি ভাতিজাকে সনদ দেয়ার সময় স্পষ্ট করে বলেছেন, অধম তাকে বুখারি ও মুসলিম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়িয়েছি।[8]
শায়খ নিজামুদ্দিন আউলিয়ার জীবনিতে দেখা যায়, তিনি শায়খ কামালুদ্দিন যাহেদের কাছে মাশারিকুল আনওয়ার পড়েছিলেন। কিন্তু তার মালফুজাতের বিভিন্ন বর্ননা থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি সহিহাইনও পড়েছিলেন এবং এই দুই কিতাবের হাদিসগুলো সম্পর্কে তার গভীর জ্ঞান ছিল। একবার তার মজলিসে একটি হাদিসের শব্দ নিয়ে কথা হচ্ছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, এই হাদিসটি সহিহাইনে যে শব্দে এসেছে সেটিই সঠিক।[9]
সুলতানি আমলে সহিহাইনের উপস্থিতি সম্পর্কে চমৎকার একটি বর্ননা এসেছে সিয়ারুল আউলিয়া গ্রন্থে। নিজামুদ্দিন আউলিয়া একদিন তার মজলিসে বলছিলেন, শহরে একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি আছেন। একবার তার ছেলে কোনো এক অপরাধে গ্রেফতার হয়। তখন ওই ব্যক্তি এক হাতে কোরআনুল কারিম ও অন্য হাতে সহিহাইন নিয়ে কান্না করে দোয়া করতে থাকে। তার এই দোয়ার বরকতে কিছুদিন পর তার ছেলে মুক্তি পায়।[10] এই বর্ননা থেকেও সহিহাইনের উপস্থিতির প্রমান পাওয়া যাচ্ছে।
সে সময় কিতাবাদি উপহার দেয়ার প্রচলন ছিল। শায়খ যাইনুদ্দিন ছিলেন চতুর্দশ শতাব্দির একজন আলেম। তিনি শায়খ ইয়াহইয়া মানেরির শিষ্য ছিলেন। তিনি সহিহ মুসলিমের একটি অনুলিপি তৈরী করে তার শায়খকে উপহার দেন।[11]
পঞ্চদশ শতাব্দির বিখ্যাত আলেম শাইখুল ইসলাম শায়খ মুইজ বিহারির কাছে উৎকৃষ্ট কাগজের তৈরী সহিহ মুসলিমের একটি চমৎকার নুসখা ছিল। এটি তিনি তার ছেলে শায়খ হুসাইনকে উপহার দেন। মাঝে মাঝে পড়ার দরকার হলে তিনি ছেলের কাছ থেকে এটি চেয়ে নিতেন।[12]
গুজরাটের বিখ্যাত আলেম ওয়াজিহুদ্দিন মালেকির কাছে ফাতহুল বারির নুসখা ছিল। তিনি এটি গুজরাটের আমির মুখাতব আলি খানকে উপহার দেন।[13]
বাংলা অঞ্চলও হাদিসচর্চা থেকে শুন্য ছিল না। এখানে সুলতান আলাউদ্দিন হুসেন শাহের শাসনামলে (১৪৯৯-১৫২০ খ্রিস্টাব্দ) মাওলানা মুহাম্মদ বিন ইয়াজদা বখশ নামে একজন আলেম তিন খন্ডে সহিহ বুখারির একটি অনুলিপি তৈরী করেন। তিনি এই নুসখা সুলতানকে উপহার দেন। এই নুসখাটি বর্তমানে পাটনার খুদা বকশ লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত আছে।[14]
এখানে আরেকটি তথ্য উল্লেখ করা যায়। সাইয়েদ সোলাইমান নদভী গাজিপুরের একটি প্রাচীন কুতুবখানা পরিদর্শন করে কিতাবের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছিলেন। সেখানে সহিহ বুখারি, শামায়েলে তিরমিজি এই কিতাবগুলও ছিল। প্রতিটি কিতাবের অনুলিপি সুলতানি আমলে প্রস্তুত করা হয়েছিল।[15]
ফিরোজ শাহ তুঘলকের শাসনামলে মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি নামে একজন বিখ্যাত আলেম ছিলেন। দরস-তাদরিসেই তিনি নিজের সময় ব্যয় করতেন। সে সময়ের সুবচেয়ে বড় মাদরাসা, ফিরোজশাহী মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ছিলেন তিনি। তার সম্পর্কে সে সময়ের একজন কবি মাওলানা মুতাহহার লিখেছেন, তিনি সুনানে তিরমিজি, সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে নাসাই ও সুনানে বাইহাকির ব্যখ্যা বিশ্লেষনে দক্ষ ছিলেন।[16]
এ থেকে বুঝা যায় সে সময় এই কিতাবগুলোর পঠন-পাঠনের রেওয়াজ ছিল। সে সময়ের আলেমদের অনেকেই হাদিস পড়ানোর সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন। যেমন শায়খ নিজামুদ্দিন যফরাবাদি, শায়খ কামালুদ্দিন যাহেদ, শায়খ শামসুদ্দিন ইয়াহইয়া আউধি, শায়খ জামালুদ্দিন, শায়খ জালালুদ্দিন মাখদুম (ইনি চার বছর দিল্লিতে অবস্থান করে হাদিস পড়ান)[17], শায়খ জামালুদ্দিন মুহাদ্দিস (সুলতান কুতুবুদ্দিনের আদেশে ইনি কাশ্মির গিয়ে হাদিস পড়ান)[18], শায়খ শারফুদ্দিন ইয়াহইয়া (তিনি বিশেষভাবে ইমাম নববীর লিখিত সহিহ মুসলিমের ব্যখ্যাগ্রন্থ পড়তেন),[19] সাইয়েদ মুহাম্মদ হুসাইনি গেসুদারাজ, ওয়াজিহুদ্দিন মালিকি, শারফুদ্দিন আবু তাওয়ামা বুখারি।[20]
সিন্ধ অঞ্চলে যারা হাদিস পড়াতেন তাঁদের মধ্যে আবু মাশার সিন্ধির নাম সর্বাগ্রে। সিয়ার ও মাগাজিতে তার প্রসিদ্ধি ছিল। নানাভাবে তিনি হাদিস প্রচারে অবাদান রাখেন।[21]
সুলতানী আমলের শুরুতে উপমহাদেশে হাদিসচর্চার কেন্দ্র ছিল লাহোর। সামআনি তার কিতাবুল আনসাবে এখানকার বেশ কজন মুহাদ্দিসের কথা উল্লেখ করেছেন।[22] পরে মুলতান, দিল্লী, বিহার, কাশ্মির এসব এলাকায়ও হাদিসচর্চকা শুরু হয় এবং অল্পদিনেই এসব এলাকা প্রসিদ্ধি লাভ করে। মুলতানে হাদিসচর্চা শুরু করেন শায়খ আবুল ফাতাহ রুকনুদ্দিন। তিনি বিশেষভাবে মাশারিকুল আনওয়ার ও মাসাবিহুস সুন্নাহর প্রতি জোর দিতেন।
দক্ষিনাত্যে বাহামনি সালতানাতের সময় ইলমে হাদিসের যে কাজ হয়েছে তাও আলোচনা করা প্রয়োজন। সুলতান প্রথম মাহমুদ শাহের শাসনামলে ইলমে হাদিসের ব্যাপক প্রসার হয়। তিনি মুহাদ্দিসদেরকে নানা ধরনের সুবিধা দিয়েছিলেন, যা তাঁদের কাজে গতি এনেছিল।
তথ্যসূত্র
————————-
[1] ১২০৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ
[2] মাকালাতে সোলাইমান, ২/৭৫ – সাইয়েদ সোলাইমান নদভী। দারুল মুসান্নেফিন, আযমগড়।
[3] মাকালাতে সোলাইমান, ২/৬
[4] ইলমে হাদিস মে বররে আজিম পাক ও হিন্দ কা হিসসা, ৭৫-৮৬ – মুহাম্মদ ইসহাক। মারকাজি মাকতাবা ইসলামি। দিল্লি। এছাড়া দেখুন একই গ্রন্থের ১২ ও ১০৩ পৃষ্ঠা।
[5] প্রাগুক্ত, ৭৫
[6] তারিখে ফিরোজশাহী, ৪৯৫ – জিয়াউদ্দিন বারনী। এশিয়াটিকক সোসাইটি অফ বেংগল, কলকাতা, ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দ।
[7] এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন এই লেখকের লেখা ‘তালিম আহদে ইসলামি কে হিন্দুস্তান মে’ গ্রন্থটি।
[8] মাখদুমুল মুলক শায়খ শারফুদ্দিন ইয়াহইয়া আওর ইলমে হাদিস – শায়খ নাজমুদ্দিন ফেরদৌসি। মাআরিফ, পৃ- ২৯৮। এপ্রিল ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ। দারুল মুসান্নেফিন আযমগড়।
[9] ফাওয়ায়েদুল ফাওয়ায়েদ, ১৭৭ – সংকলন- আমির হাসান সিজ্জি। লাহোর, ১৯৬৬।
[10] সিয়ারুল আউলিয়া, ৪৩৯ – সাইয়েদ মুহাম্মদ বিন মুবারক কিরমানি। লাহোর, ১৯৭৮।
[11] নুজহাতুল খাওয়াতির, ২/৪৬ – সাইয়েদ আবদুল হাই হাসানি নদভী। দাইরাতুল মাআরিফ, হায়দারাবাদ, ১৩৫০ হিজরী।
[12] তৈমুরী আহদ সে পেহলে হিন্দুস্তান মে ইলমে হাদিস কা রেওয়াজ – মুহাম্মদ এজাজ হাসান খান। মাআরিফ, অক্টোবর, ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দ। পৃ- ২৫১
[13] ইলমে হাদিস মে বররে আজিম পাক ও হিন্দ কা হিসসা, ১২২
[14] মাকালাতে সুলাইমান, ২/৭৬
[15] প্রাগুক্ত, ২/৭৭
[16] দিওয়ানে মুতাহহর কর- ডক্টর ওয়াহিদ মির্জা। ওরিয়েন্টাল কলেজ লাহোর সাময়িকী। মে ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দ। পৃ-১৩৭
[17] ইলমে হাদিস মে বররে আজিম পাক ও হিন্দ কা হিসসা, ১০২
[18] প্রাগুক্ত, ১০০
[19] নুজহাতুল খাওয়াতির, ১/১২৫
[20] প্রাগুক্ত, ১/১২৫
[21] K. A. Nizami, Some Aspects of Religion and Politics in India During the Thirteenth Century, Delhi, 1974, p-153 (Eith reference to Surur al-Sudur, MS, pp-73-74)
[22] কিতাবুল আনসাব, ৪৯৭ – আবদুল করিম সামআনি। লেইডেন, ১৯১২ খ্রিস্টাব্দ।
(চলবে)

Facebook Comments

Write A Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Pin It
error: Content is protected !!
%d bloggers like this: