Archive

December 2020

Browsing

 হেদায়েত ! সে তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার পক্ষ থেকে এক অশেষ নেয়ামত। ভ্রান্তিবিলাস অনুধাবন করে ফিরে আসা প্রত্যেকের জীবনেই থাকে কিছু গল্প। হ্যাঁ, সেই নীড়ে ফিরে আসার গল্পই লিখতে বসেছি আজ। অন্ধকার জগতের তলদেশে ডুবে যাওয়ার পূর্বে একদিন আমার রব্ব আমায় অনুগ্রহ করে হেদায়েতের সেই সুশীতল ছায়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। নাহ, শুধুমাত্র স্মরণ করিয়ে দিলে বোধহয় আলোর দিশা কে চিনতে পারতাম না। আমার রব্ব আমায় তাঁর সন্তুষ্টির পথ চেনার তাওফিক করে দিয়ে আগলে নিয়েছেন তাঁর কাছে।   সুদীর্ঘ অনেকগুলো বছর কেবল দুনিয়ায় হাসিঠাট্টার মাঝে জীবন অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছিল। রিজিকের এত সম্ভার, হাসি-আনন্দের মাঝেও মন ব্যাকুলতায় ভুগতো। স্কুল, কলেজ আর অবশেষে স্বপ্নের পাবলিক ভার্সিটির সাথে দেখা হয়েছিল বটে। এই রঙ-ঢঙের মহলে বন্ধু-বান্ধব, গান-বাজনা, আড্ডা বেশ জমতো; কিন্তু কোথাও একটা ফাঁক ছিল। অশান্তি, শূন্যতা আর বড্ড অস্থিরতা তবুও ঘিরে ধরতো আমায়। সময় করে পাঁচ বেলা রব্বের ডাককে অগ্রাহ্য করলেও দুঃখে পতিত হলে রব্বের সান্নিধ্যেই ফিরে যেতাম। কান্নাকাটি করে অবশেষে দুঃখ ঘুচে গেলে আমার জীবনেও রব্বের প্রয়োজন ফুরিয়ে যেত। মূলত রবের প্রয়োজন ফুরাতো না; ভুলে যেতাম আমার রব্বকে কাকুতি-মিনতি করে স্মরণের সেই দিনগুলো; আর কঠিন বিপদের কথা।   বেশ অনেকদিন অস্থিরতায় মনটা তিক্ত হয়ে গিয়েছিল। গান শুনলে নাকি প্রশান্তির দেখা মেলে সেই মোহে রবীন্দ্র সঙ্গীত শুনতাম। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই আবার আগের মতন মন অস্থির হয়ে যেতো। মাঝেমধ্যে ভাবতাম, হাসিঠাট্টা, গান আর এই ভার্সিটির প্রাঙ্গনই কি দুনিয়ায় সব? আর যদি সব-ই হবে তবে মন এতকিছুর মাঝেও শূন্যতায় ভুগে কেন! আম্মুর কথা খুব করে মনে পড়ত – কান্না করতাম। বাসায় সৎ মায়ের করা ঝামেলা দেখে মন বিষিয়ে উঠতো আর চাইতাম দুনিয়া ত্যাগ করতে। পরক্ষণেই মায়ায় পড়ে যেতাম দুনিয়ার। সেই একাকীত্বতা থেকে তাহাজ্জুদ প্রায় প্রতি রাতের অভ্যাস হয়ে গেলো জীবনে। আমি ভাবতাম, আম্মুর মতন আমিও কি হুট করে আল্লাহর কাছে চলে যাব? আমার জীবনে তো ভাল কাজ খুবই কম – এই ভয় লাগতো। এসব ভেবে মাঝেমধ্যে সালাতে দাঁড়াতাম আর কাঁদতে কাঁদতে শান্তি খুঁজতাম। এই জায়নামাজে পরম দয়ালুর সামনে মাথা নুইয়ে যে এত প্রশান্তি – সেই কয়েকদিনে বেশ টের পেয়েছিলাম। জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে মন বেশ ভাবাতো আমায়।  যোহরের আজানের সময় যখন ক্লাসের কয়েকটা মেয়ে নামায পড়তে যেতো,  আমারও ইচ্ছে হতো ওদের মতন যেতে। কাউকে হিজাব নিকাবে আবৃত দেখে নিজেকে বড্ড নোংরা লাগতো। মাঝেমধ্যে লোকসমাগম এড়িয়ে চলতাম। কখনো অনলাইনে ইসলামিক পোস্ট পড়ে মৃত্যুকে স্মরণ করতাম। ভয় লাগতো প্রচুর এসব ভাবতে ভাবতে। কিন্তু খানিকটা সময়ের জন্য ছিল আমার সেই অনুধাবন। তখনও শুরু করা হয়নি আল্লাহর আনুগত্য।   বাহিরে একদিন প্রখর রোদে আমি প্রায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতন – অথচ রাস্তায় একটি গাড়িও নেই। চোখ দিয়ে পানি টপটপ করে পরছিল আর আমি জাহান্নামের শাস্তির কথা ভাবছিলাম। ভাবছিলাম হাশরের ময়দানে সূর্য তো অনেক কাছে থাকবে, কী হবে সেদিন আমার? সেদিন ভয়ে ভয়ে বাসায় গিয়ে নামায পরলেও পরের দিনগুলোতে আবার সেই আগের নামাযবিহীন দিনে ফিরে গেলাম। মাঝেমধ্যে দু কিংবা এক ওয়াক্ত মন চাইলে পড়তাম। হিজাব যদিও করতাম কিন্তু হিজাবের শর্ত পালন করতাম না। ফ্রি-মিক্সিং আর প্রোগ্রামে বোরকা ত্যাগ করার মতন বিষয় ছিল সাধারণ আমার কাছে। একদিন সত্যিই উপলব্ধির দ্বার খুলে গিয়েছিল আমার জীবনে। হঠাৎ অনলাইনে জিলবাব-খিমারের অ্যাড দেখে সাহস করে কিনে নিলাম একটা। বেশ এক সপ্তাহ নিজের সাথে যুদ্ধ শেষে মনস্থির করে আমি ভার্সিটিতে এই জিলবাব- নিকাব পরে গেলাম।   প্রথম সেদিন নিকাব পরে ভার্সিটি যাওয়ার পথে আমার এক বান্ধবীর সাথে দেখা হলো।আমি ডাক দিতেই থমকে দাঁড়ালো আমাকে দেখে। জিজ্ঞেস করেছিল, এটা কি পরেছি আমি?! উত্তর দেওয়ার পর বললো, “তোকে কেমন বয়স্ক লাগছে। এগুলা পরেছিস কেন?” উত্তর না দিয়ে হেসে উড়িয়ে দিলাম কথাটা। যদি আমি হেসেই সব উড়িয়ে দিতে পারতাম তবে মন্দ হতোনা। তবে তা হয়নি..   বন্ধু-বান্ধব, পুরো ক্লাসজুড়ে এত কথার ভীড়ে নিজেকে সামলে নিতে ব্যর্থ হয়েছিলাম। এত কথা হৃদয় ভেঙে দিয়েছিল আর আমার হেদায়েতের পথ থেকে যেন বিচ্যুতির দিকে ডাকছিল। “কিরে, ঘোমটা দিছো কেন? কি রহস্য! ” ওই তোর বিয়ে হয়েছে নাকি? এসব হঠাৎ কেন? “, “বাসা থেকে চাপ দিয়া এগুলা পরাইছে নাকি তোরে? “, এখন তো ঘোমটার নিচে অকাজ করতে সুবিধা হবে।” পুরনো জীবনের হাজারো কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খোঁচা মারতে একটা বারও পিছুপা হতোনা তারা। নিকাবের অন্তরালে আমার সেই দিনগুলোর অশ্রু সবার আড়ালেই থেকে যেত। সবাইকে আড়াল করে, হৃদয়ে পাহাড়সম দুঃখের বোঝা নিয়ে, এক জায়গায় এনে জড়ো করতাম আমার সব অভিযোগ– মহান আল্লাহর কাছে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার কাছে ঝরানো আমার অশ্রু বৃথা যায়নি।   বাহিরের যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে হয়ত মানুষ পরিবারের মাঝে একটু সুখ খুঁজে। আমিও ভাবতাম বাহিরের কেও আমায় না বুঝুক, বাসায় তো আর কেও ভুল বুঝবেনা। কিন্তু আমার ভাবায় বিস্তর ভুল ছিল। বাসায় ও রীতিমতো পর্দা করা নিয়ে নোংরা আলাপ হতো। বাসায় কোনো ঝামেলা হলেই আমাকে শুনানো হতো, “হ বুঝি তো! এখন সব রঙ করে এসে মুখ ঢাকছো। বাহিরে কী কী না জানি করে বেড়াস!”  -এটা ছিল আমার সৎ মায়ের কথা। আর বাবা বলতেন,  “আজকালকার যুগে এসব করে চলা অসম্ভব। নামায পড়ো তাতেই হবে। হিজাব করো সেটাই যথেষ্ট। ” এসব শুনে কতবার ভেবেছি একদিন কয়েকশ ঘুমের ওষুধ খেয়ে হারিয়ে যাব সবার থেকে। আমি পারিনি সেদিন সবকিছু থেকে দূরে চলে যেতে।    ভাল হতে চাওয়া যেন অভিশাপ, ভ্রান্ত পথ থেকে সরে আসা যেন মস্ত বড় গুনাহ। দুনিয়ার কাউকে বলতে পারতাম না আমি বাসায় কি পরিমাণ যন্ত্রণায় ভুগছিলাম এসব নিয়ে৷ ইনিয়েবিনিয়ে ভার্সিটিতে বন্ধু-বান্ধব পুরনো দিনের গুনাহ স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমাকে কাঁদাতো একদিকে – আর অন্যদিকে বাসায়ও কথা শুনতাম এসব শুরু করা নিয়ে। পুরাতন বন্ধু-বান্ধব থেকে সরে গিয়ে পুরো একা হয়ে গিয়েছিলাম ক্যাম্পাসে। ওরা ছিল গান-বাজনা আর ফ্রি মিক্সিং এর মাঝে। আমি চাইতাম পুরোপুরি ইসলামের রঙে নিজেকে রাঙাতে। একজন ত্বলিবুল ইলম খুঁজছিলাম জীবনে। একজন মানুষ যার সাথে থাকলে স্মরণ হবে আল্লাহর কথা। বইয়ের গ্রুপে ঘাটাঘাটি করে “ফেরা” বইয়ের মাধ্যমে একা একা যাত্রা শুরু হয়েছিল আমার বইয়ের জগতে। নানা বই পড়ে আকিদার ভুল-ভ্রান্তি বুঝতে পেরে আফসোস হচ্ছিল বিগত বছরগুলোকে স্মরণ করে। নামায, পর্দা, ইলম আর আমলের দিকে আস্তেধীরে অগ্রসর হচ্ছিলাম রব্বের দয়ায় – আলহামদুলিল্লাহ।    ইসলামী বিভিন্ন বই, আলিমগণের লেকচারের মাধ্যমে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণার অনেক কিছুই অনুধাবন করতে শুরু করলাম। এছাড়াও অনলাইনে ইলম শেখার এক প্ল্যাটফর্ম পেয়েছিলাম। উস্তাদের আক্বীদাহ আর সীরাতের ওপর দেওয়া দরসগুলো শুনতাম আর ভুল শুধরে নিতে চাইতাম। কিন্তু বাসায় এসব নসিহা হিসেবে বললে, লেগে যেত আরেক ঝামেলা। “তুই বেশি বুঝিস, বেশি জ্ঞানী” এসব বলে আমার কথা অগ্রাহ্য করতো। সাথে আমার সৎ মা-ও আব্বুকে আমার বিরুদ্ধে লাগিয়ে যেন পরিবারের শত্রু করে দিতো। কেও আমায় বুঝতেই চাইতো না যে আমি যা বলছি তা মনগড়া নয়। নন-মাহরাম দের সামনে প্রায় জোরজবরদস্তি করেই পাঠাতো। অনিচ্ছুক হয়েই যেতে হতো তাদের সামনে। আত্মীয়দের কাছেও এসব বলে সবার অপ্রিয় হতাম আরও। অতিমাত্রায় গীবত নারীসমাজের মধ্যে অধিক  বিরাজমান। তাল কে তিল বানানো, বেগানা পুরুষ কে তোয়াক্কা না করা, গীবত করা এসবের ব্যাপারে আশেপাশের মানুষকে নসিহা করতে গিয়ে হতাম তাদের শত্রু, শুনতাম নানা ট্যাগ। হাজারো ট্যাগ পেতে পেতে আজ আর গালাগাল শুনে কাঁদিনা। আজ কেন যেন স্বাভাবিক লাগে এসব আমার কাছে। যুদ্ধ আজ প্রায় দেড় কিংবা দুই বছর হওয়ার পরেও থামেনি। আজও বাসায় আমি কথা শুনি পুরানো দিন নিয়ে। যদিও বাহিরের লোকের কথা থেমেছে কিছুটা। তবুও সাধারণ মুসলিমরা বিশ্বাস করতে চায়না নামাজ, রোজার বাহিরেও দ্বীনের অনেক কিছু রয়েছে। তারা মানতেই চায়না পর্দা যে পরিবারের নন-মাহরামদের মাঝেও করা উচিত। আক্বীদাহগত ত্রুটি, বিদ’আত কোনোটাও সংশোধন করতে ইচ্ছুক না অনেকে।   বহুদিন রাত জেগেছি চোখের পানিকে সঙ্গী করে, বুকে যেন একটা পাথর নিয়ে কখনো বারান্দায়, কখনো বিছানার এক কোণে বসে কেঁদেছি। ওয়াল্লাহি! কখনো ভেবেছি সবকিছু ছেড়ে হারিয়ে যাব কিংবা মরেই যাব – আল্লাহর সামনে দাঁড়ানোর ভয়ে পিছপা হয়েছি। প্রিয়দের হারানোর ব্যথা তখন আরও বেশি অনুভূত হয় যখন দুনিয়ায় একা হয়ে যায় কেও। হেদায়েতের এই পথে আসার সেই দিনগুলোতে অনেক কেঁদেছি – যেমনটা আম্মুর অভাব অনুধাবন করে কাঁদতাম। পুরোপুরি দ্বীন মানতে পারিনা জানি কিন্তু খুব করে চাই আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের পথে হাঁটতে। আল্লাহর রহমতে সেই পথ ধরে হাঁটার চেষ্টায় আছি আজও। প্রথমে আমার কোনো দ্বীনি মানুষের সংস্পর্শ ছিল না জীবনে। জাহেলিয়াত কে ছেড়ে একাকীত্বের মাঝে আবারও হতাশায় ভুগতাম। আলহামদুলিল্লাহ আমার রব্ব দুই একজন দ্বীনি বোনকে জুটিয়ে দিয়েছেন এই অধমের তকদিরে। একটা ছোট খাটো বুকসেল্ফ আছে। মানুষের আমল দেখে বড্ড কষ্ট লাগে। নিজেকে আরও সংশোধন করা প্রয়োজন। কিন্ত পরিবেশ আর নিজের মাঝের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে পারিনা।   এখন বাসায় আমার বিয়ের প্রস্তাব আসে। আমার মা-বাবা দ্বীন আর প্রতিপত্তির মধ্যে সমন্বয় করে পাত্র খুঁজতে চায়। বাংলাদেশের আর কয়েকটা সাধারণ মুসলিম পরিবারের মতো ছেলে কোনোরকম নামায-কালাম পড়াই  যথেষ্ট তাদের কাছে। আমি কেবল ইসলাম কে কয়েকটি ইবাদতের সমন্বয় মানিনা। আমি ইসলামকে পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা হিসেবেই মানি। সেই জীবন ব্যবস্থায় ইলম, আমল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ। দ্বীনের ব্যাপারে আজ হয়তো কম্প্রোমাইজ করলে, অতীতের মতো বাকি পথটুকুতে ভুল মানুষ আর ভুল পথ সঙ্গী হয়ে যাবে৷ জাহেলিয়াতের সেই ভ্রান্তির পথে ফিরে যেতে চাইনা আমি আর। এখন যুদ্ধ পরিবার আর লোকে কী বলবে সেই কথার বিরুদ্ধে। “তুই ই সব দ্বীন বুঝিস, আর কেও ইসলাম বুঝেনা তো” এই টিপ্পনিকে সঙ্গ করে যুদ্ধ চলছে।  আল্লাহর রহমতের পথ ধরে হাঁটছি। চেষ্টা চলছে অনবরত গুনাহ মুছে ফেলার। জানিনা পরিবার কখনো পুরোপুরি দ্বীন মানবে কিনা, জানিনা আমার মতন ভাববে কিনা! কখনো দ্বীন ইসলামের গুরুত্ব পুরোপুরি বুঝাতে পারব কিনা সেটাও অজানা। কিন্তু আমি একচুল ও এই সিদ্ধান্ত থেকে সরব না ইন শা আল্লাহ । আল্লাহর সাহায্য নিশ্চয়ই আসবে ইন শা আল্লাহ। পরিবারকে অন্ধকারে দেখলে হৃদয় পুড়ে আর যখন পরিবার আলোর দিশাকে বুঝতে না চেয়ে আমায় কথা শুনিয়ে দেয় তখন জাহেলিয়াতে ফিরে যাওয়ার রাস্তায় খোলা থাকে।  দুনিয়া স্রেফ একটা পরীক্ষা ছাড়া কিছুই নয়। আমার রব্ব আমার পরীক্ষা নিয়েছেন কখনো দুঃখের মাঝে রেখে, কখনো অস্থিরতায় জড়িয়ে কিংবা কখনো আঘাতের পরিবর্তে এক চিলতে সুখের সন্ধান দিয়ে। কখনো সবর করেছি কখনো বা নিজের তকদীর কে মন্দ আক্ষেপ করেছি।(আস্তাগফিরুল্লাহ) আল্লাহ আমার পুরাতন সেই অন্ধকারাচ্ছন্ন দিনগুলোকে মাফ করে দিক। হারানোর মাঝেও একপ্রকার প্রাপ্তি আছে। হ্যাঁ, হারাতে হারাতে ভরসা রাখতাম আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লার ওপর। আল্লাহ তায়ালা একাকীত্বের মাধ্যমে আমাকে তাঁর নৈকট্যের রাস্তা চিনিয়েছিলেন। জীবনের হতাশা আর এক চিলতে সুখের মাঝে আল্লাহ আমায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন দুনিয়ার পরিবার, আত্মীয়, প্রিয়জন একসময় বুঝিয়ে দেয়- দুনিয়ায় কেও কারো নয়। আল্লাহ ছাড়া প্রিয়জন কেও হতেই পারেনা। রহমানের রহমতের দ্বারে দু’হাত উঠিয়ে সাহায্য প্রার্থনায় এই গুনাহগারী বান্দার হাজারো আর্তনাদ। নিঃসন্দেহে তিনি ক্ষমাশীল এবং অতিশয় দয়ালু। বান্দার জন্য যখন আল্লাহই যথেষ্ট তখন আমার মতন বান্দাদের কি আর কোনো ভয় থাকে? 

পরিবারে কোন মেয়েকে ছেলের বউ করে আনবে,আমাদের সমাজে এটার উদ্দেশ্য হলো, জামাই পরিবারের সকল সদশ্যের কাজ সে মেয়ে আনজাম দিবে।কাপড় কাচবে।উঠান ঝাড়ু দিবে।রান্না করবে।সিজনের ফসলাদি বপন করে উৎপন্ন ফসল ঘরে আনবে।বাড়ির সকলের আবদার রক্ষা করে চলবে।এক কথায় বলা যেতে পারে, একজনের বউ থাকেনা! কেমন যেন বাড়ির বউ হয়ে যায়।গতানুগতিক এমন একজন হলেন আমার মা।বলে রাখা ভালো,যাপিত সমাজে তো পর্দার প্রশ্নই আসেনা! ইসলামের রীতি-নীতিতো দুর কী বাত।সেই মেয়ে কার সাথে পর্দা…

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামীন মনের ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে আমি মানুষটা একেবারেই কাঁচা।কখনোই গুছিয়ে কাউকে কিছু বলতে পারি না। এই সুন্দর উদ্যোগ টা সম্পর্কে জানতে পারার দুইদিন কাটিয়ে এক গাদা সাহস জমিয়ে ভাবলাম এখন একটু না হয় লিখি। আমি আমার পরিবারের বড় মেয়ে।আমার বাবা মা দুইজনের ই ছেলে সন্তানের শখ ছিলো,আর আমার মায়ের ছিলো ছেলে সন্তান নিয়ে আলাদা ফ্যান্টাসি। সেই ফ্যান্টাসি থেকেই ছোট বেলা থেকেই আম্মু…

“আপনি যাকে পছন্দ করবেন, তাকে সৎপথে আনতে পারবেন না, তবে আল্লাহ তা’য়ালা যাকে ইচ্ছা সৎপথে আনয়ন করেন।” (সূরা কাসাস আয়াত ৫৬) “হিদায়াত” এটি নিছক কোনো শব্দ নয়, এটি হলো একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ কাকে হিদায়াত দিবেন আর কিভাবে দিবেন আল্লাহই জানেন। কাউকে আল্লাহ হিদায়াত দেন হঠাৎ করে, আবার কাউকে দেন ধীরে ধীরে। আমার ক্ষেত্রে আল্লাহ তা’য়ালা দিয়েছেন ধীরে ধীরে। হঠাৎ করে একদিন টেলিভিশনে ড. জাকির নায়েকের লেকচার…

আমার বয়স যদিও কম , তবুও আজ থেকে কয়েকবছর আগের আমি’র সাথে বর্তমান আমি’র কোনো মিল নেই। পরিবর্তন গুলো একদিনে হয়নি। আধুনিকতার নামে অশ্লীলতা ও বেহায়াপনার এই যুগে নিজের চরিত্র ঠিক রাখা, নবীজির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ অনুযায়ী চলা, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামকে টেনে আনা, খারাপ কাজে নিষেধ, ভালো কাজের আদেশ করা এগুলো কোনো সহজ বিষয় নয়। অন্তত আমার মত জেনারেল লাইনে পড়াশোনা করা যেকারো পক্ষেই এইসব বিষয় খুবই…

-ঠক ঠক ঠক -কে? -আল্লাহর ঘর থেকে, আল্লাহর মেহমান, আল্লাহর কথা নিয়ে এসেছেন। ঘরে কোনো পুরুষ থাকলে মেহেরবানী করে বেরিয়ে আসলে ভালো হয়। আমার জন্মটা হয়েছিল গতানুগতিক বাঙালি মুসলিম পরিবারে।মা নিয়মিত নামাজ পড়তেন।বাবা মাঝে মাঝে নামাজ পড়তেন। কিন্তু ইসলামের ছিটেফোঁটাও আমার মাঝে ছিল না।কোনো মক্তবেও যাই নি।সুরা কালাম কিছু স্কুলের বইতে ছিল সেগুলোই শিক্ষকদের চাপে মুখস্ত করতাম।ক্লাস ৭ এ থাকতে এলাকার হুজুরের কাছ থেকে কুরআন পড়া শিখেছিলাম কিন্তু ততদিনে ভুলে…

আমায় যদি প্রশ্ন করো, জীবনের সবচেয়ে বড়ো প্রাপ্তি টা কি? অকপটে আমি উত্তর দেব, “আমার বাবার মৃত্যু! ” বাবা মারা গেছে আজ দুই বছর।কোন সন্তান তার বাবার মৃত্যুতে খুশি হতে পারে কি? তবে আমি বেজায় খুশি। আজ থেকে যদি দুূ’দশক পিছনে ফিরে দেখানো যায়,তাহলে দেখবে,আমি তখন ছোট্ট! খুবই ছোট্ট! একেবারে হাতের ফাঁক দিয়ে গলে পরার মতোন ছোট্ট! আম্মো বলত কুতকুতে চোখে তাকিয়ে থাকতাম।তো বিশ বছর আগের আমার সেই কুতকুতে চোখ…

জীবন মানেই সব অদ্ভুত কাহিনী, ইসলামী পরিবারে বেড়ে ওঠার পরও সবকিছুই কেমন যেন অগোছালো হয়ে গিয়েছিল। প্রাইমারি স্কুল থেকেই জীবনটা আমার পারসিয়েলিটিতে ভরপুর শুধুমাত্র প্রাক্টিসিং মুসলিম পরিবার এ বিলং করার জন্য। আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়ানক দিনগুলো ছিলো ১০বছরের স্কুল জীবন।  ক্লাস ৬ এ ওঠার পর দুনিয়াতে যে এতকিছু আছে তা আমি জানলাম নতুন বান্ধবীদের থেকে,এই দিবস ওই দিবস ব্লা ব্লা..।জন্মদিন বলে যে কিছু আছে আমি তাও জানতাম না।জীবনে সব কিছু একবারে নতুন,যাকে…

আসসালামু আলাইকুম  ওয়ারহমাতুল্লাহ। “আলহামদুলিল্লাহ” -সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ’তালার, তার হেদায়েতেই আমি আজ নন প্রাকটিসিং মুসলিম বা সেক্যুলার চিন্তাধারা থেকে একজন প্রাকটিসিং মুসলিম হতে পেরেছি। আমার অতীতের সাথে বর্তমানকে যখন আমি মেলানোর চেষ্টা করি, আমার কাছে সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগে। কিন্তু ওই যে চিরন্তন সত্য, “অসম্ভবকে সম্ভব করতে আল্লাহর ১ সেকেন্ডও লাগে না”। আমি পার্থ। আমি আমার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। একটা শহুরে পরিবারে আমার জন্ম, তাই গ্রামের যৌথপরিবারের স্বাধ হতে আমি বঞ্চিত।…

“আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ” “আমি পেয়েছি মহান রবের নীড়ের ছায়া” রবের নীড়ে ফেরার গল্প লিখতে গেলে মনে পড়ে যায় অতীতে ফেলে আসা সেই গুনাহের জীবনের কথা।ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে আবার ঘুমাতে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত মহান রবকে স্মরণ করতাম না একবারও।সেই যুবক আজ আমি মহান রবকে ছাড়া যেন আর কিছুই বুঝিনা। আল্লাহ তা’আলা কুরআনুল কারিমে বলেছেন,”আমি জ্বীন ও মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য।”(সুরা যারিয়াত:৫৬)।কিন্তু…

Pin It
error: Content is protected !!