Category

মাহমুদ সিদ্দিকী

Category

আব্দুল্লাহ ইববনুল মুবারক রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। যুগশ্রেষ্ঠ যে-কজন তাবে-তাবেয়ী আছেন ইবনুল মুবারক তাদের অন্যতম। কুতুবে সিত্তার সকল কিতাবে তার হাদীস বর্ণিত হয়েছে। একাধারে তিনি একজন ইমাম, একজন মুহাদ্দিস, একজন ফকিহ, একজন মুজাহিদ এবং একজন ব্যবসায়ী। মুমিনের জীবনে সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকা জরুরি। সম্পদ অর্জন করেও যে সম্পদের মোহ থেকে মুক্ত থাকা যায়, তাঁর উদাহরণ ও প্রেরণা আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহ.। মুমিন সম্পদ অর্জন করলেও সম্পদের মোহ সে অন্তরে ঢুকতে দিবে না।…

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে দ্বীনদারদের সংখ্যা বেড়েছে। তাদের কেউ-কেউ ইলমচর্চা করছেন, কেউ দ্বীনের পক্ষে নিজস্ব ইলম নিয়ে লেখালেখি করছেন। আলহামদুলিল্লাহ, এটি আশাব্যঞ্জক খবর। কিন্তু আশঙ্কার কথা হলো, তাদের মধ্যে এমন একটি শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা আলিমদেরকে তাদের কাজের বাধা ও প্রতিপক্ষ মনে করেন। সুযোগ পেলেই আলিমদেরকে নিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বা সরাসরি অসমীচিন কথা বলেন। দ্বীন, ঈমান ও ইসলাম প্রচার-প্রসার এবং রক্ষাকর্মে আলিমদের অবদানকে তাচ্ছিল্য কিংবা অস্বীকার করেন। এঁদের মধ্যে শিক্ষিত সাধারণ…

১. সা’দ ইবনে উবাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু। আনসারি সাহাবি। ইমাম বুখারি রহ. (২৫৬ হি.) বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা বদরযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। খাযরাজের নেতা। বাইআতুল আকাবার রাত্রে যে-কজন ‘নকিব’ ছিলেন মদিনার, সা’দ ইবনে উবাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের অন্যতম। কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আনসার বাহিনীর পতাকা থাকত সা’দ ইবনে উবাদার হাতে। নবীজির বড় প্রিয় সাহাবি তিনি। হাফেজ যাহাবি (৭৪৮ হি.) রহ. বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সম্ভ্রান্ত সরদার। সবার আনুগত্য পাবার মতো।…

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সময়ের সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো—ইসলামকে আকল দিয়ে বুঝতে চাওয়া। বুদ্ধিবৃত্তিক ইসলামের জপ করতে-করতে আকলকে বানিয়ে ফেলে ইসলাম ও শরিয়ত বোঝার মূল মানদণ্ড। কিছু বই এবং এবং কিছু আর্টিকেলে শরিয়তের কিছু মূলনীতি ভাসা-ভাসা পড়েই আকল খাটিয়ে শুরু হয় উসুলের ভুল ও বিকৃত প্রয়োগ। সেখানে কোনো দলিলের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু আকলের। অথচ, ইসলাম আকলের নাম নয়। শুধু আকল দিয়ে ইসলামকে বোঝা সম্ভবও নয়। ইসলাম বোঝার মানদণ্ড হলো—কুরআন-হাদিসের…

একজন মুমিনের সবসময়ের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তি একজনই—প্রিয় নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। মুমিনের অনুসরণীয় ব্যক্তি কে হবেন—সেটাও নির্ধারণ করে দিবেন আল্লাহ তাআলা। সুরা আহযাবের ২১ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই নির্ধারণী ঘোষণা করে দিয়েছেন—“অবশ্যই আল্লাহর রাসুলের মাঝে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ”। একজন মুমিনের মাহবুব এবং প্রিয় ব্যক্তিও হবেন একজনই—প্রিয় হাবিব সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। সেকথা প্রিয় হাবিব নিজ জবানে বলে গেছেন—“তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ…

আব্বাজান বলেন, “রমযানের উনিশ দিন গত হলে একটি হাতকড়া পরিয়ে আমাকে কারাগার থেকে ইসহাক ইবনে ইবরাহিমের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ইসহাক প্রতিদিন আমার কাছে দুজন লোক পাঠাত”। সালেহ বলেন, আব্বাজান তাদের দুজনের নাম বলেছেন; একজন হলেন আহমদ ইবনে রাবাহ, অপরজন আবু শুয়াইব আল-হাজ্জাম। এই দুজন আমার সাথে কথা বলত, মুনাযারা করত। যখন তাদের ফিরে যাওয়ার সময় হতো, তখন প্রহরী ডেকে আমার হাতে একটি হাতকড়া এবং পায়ে চারটি বেড়ি পরিয়ে রেখে…

ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। খলিফা, আমির-উমারা ও রাজকীয় দায়-দায়িত্বকে সবসময় পরিহার করে চলতেন। এই ব্যাপারে এতটাই দৃঢ়চেতা ছিলেন যে, বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ না করার অভিযোগে কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। মৃত্যুও কারাগারেই হয়েছে। কেন এত দৃঢ়ভাবে এসব থেকে বেঁচে থাকতেন, এত বেছে চলতেন? নিচের ছোট্ট ঘটনাটা থেকে এর উত্তর পাওয়া যাবে। ‘খারিজা ইবনে মুস’আব বলেন- একবার খলিফা মনসুর আবু হানিফার জন্য দশ হাজার দিরহাম উপঢৌকনের ব্যবস্থা করেছেন। উপঢৌকন গ্রহণ…

সব যুগেই শাসকরা আলিমদেরকে ভয় পেয়ে এসেছে। শরিয়ত বিরোধী কোনো কথা ও কাজ প্রকাশ বা প্রচার করতে তারা আলিমদের ব্যাপারটাকে মাথায় রেখেছে। কারণ, শরিয়ত বিরোধী কিছু হলে সবার আগে তাদের বিরোধিতা করবেন আলিমগণ—একথা যুগে-যুগে সকল শাসকই জানে। এর নজির এখনো বর্তমান। এজন্য নতুন কোনো ফিতনা তৈরি বা প্রচার-প্রসার ঘটাতে তারা দুইটা পথ গ্রহণ করে। ১. আলিমদেরকে সেই মতের সমর্থক বানাতে চেষ্টা করে। ২. না পারলে তাদেরকে নির্যাতন করে দমিয়ে রাখে।…

দোয়া হলো ইবাদতের প্রাণ। এই যে সালাত, তার সবটা মূলত দোয়া; প্রথমে আল্লাহ্‌ তাআলার বড়ত্ব-মহত্ব দিয়ে সূচনা। তারপর সুরা ফাতিহা থেকে শুরু হয় দোয়া। প্রশংসা ও গুণগান সেরে উঠতেই শুরু হয়ে যায় প্রার্থনা—“আমাদেরকে দিন সিরাতুল মুস্তাকিমের দিশা; যে-পথে চলে গেছেন আপনার নেয়ামতপ্রাপ্ত বান্দারা; সে-পথ নয়, যে-পথে চলেছে অভিশপ্ত ইহুদি ও ভ্রষ্ট নাসারা”।(১) ফাতিহা শেষ করতেই যে-শব্দটি পাঠ করা হয়—‘আমিন’; ‘আমাদের দোয়া কবুল করে নিন প্রভু’। মাটির সৃষ্টি সালাত আদায়কারীর আমিন…

আলিমগণ হলেন উম্মাহর রাহবার ও পথপ্রদর্শক। দ্বীন ও শরিয়ত সংরক্ষণের দায়িত্ব নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের ওপর দিয়ে গেছেন।থানভি রহ. বলেন—“শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি রহ.-এর জীবদ্দশায় এক আলিম জনৈক সুফির বিরুদ্ধে রদ লেখেন। শাহ সাহেব সেই আলিমের বিরুদ্ধে পাল্টা রদ লেখার মনস্থ করেন। এমন সময় তাঁর কাছে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর রুহানিয়্যাত স্পষ্ট হয় এবং বাধা অনুভব করেন। এরপর শাহ সাহেব লেখেন—খেয়াল করলাম, হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বেশি লক্ষ…

Pin It
error: Content is protected !!