Category

জীবনী

Category

ভূমিকা : বাংলার যমীন যে উলামায়ে দ্বীন, আওলিয়ায়ে কেরাম ও মাশায়েখে ইযামের অবদানে ঋণী তাঁদের মধ্যে হযরত মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর রাহ. (জন্ম : আনুমানিক ১৩১৭ হিজরী ‘বযমে আশরাফ কে চেরাগ’ কিতাবে মুদ্রিত আত্মজীবনীর বিবরণ অনুযায়ী-মৃত্যু : ১৪০৭ হিজরী) বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। হযরত রাহ.-এর কীর্তি ও অবদান এবং তাঁর ‘সাদাকাতে জারিয়া’র তালিকা অনেক দীর্ঘ। কুরআন মজীদের বাণী-(তরজমা) ‘তাঁদের ঘটনায় রয়েছে বুদ্ধিমানদের জন্য শিক্ষার উপাদান।’ অনুযায়ী পূর্বসূরীদের জীবন ও কর্ম সংরক্ষণ করা…

কাজি শুরাইহ বিন হারিস রহিমাহুল্লাহ। হজরত উমর (রা) তাকে নিযুক্ত করেছিলেন কুফার বিচারকের পদে, আর এই পদেই তিনি কাটিয়ে দেন ৬০ বছর। মাঝের সময়টায় ক্ষমতার নানা উত্থান-পতন হয়েছে কিন্তু তার দক্ষতার উপর আস্থা ছিল সবারই। বিচার পরিচালনায় তার দক্ষতা দেখে আলী (রা) বলেছিলেন, তুমি আরবের শ্রেষ্ঠ বিচারক। – একবারের ঘটনা। হজরত আলী (রা) তখন খলিফাতুল মুসলিমিন। কুফায় বসে শাসন করছেন মুসলিম বিশ্ব। একবার তিনি তার বর্ম হারিয়ে ফেলেন। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি…

তিনি সাঈদ আহমাদ পালনপুরী নামে পরিচিত। দারুল উলূম দেওবন্দের শায়খুল হাদিস ও অন্যান্য পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। পড়ালেখা কেন্দ্রিক তাঁর একমাত্র অধ্যবসায় ছিল। প্রচুর পরিশ্রম করতেন। পাশাপাশি যোগ্য উস্তাদদের সংশ্রব পেয়েছেন। তাঁদের হাত ধরে বীজ হতে অঙ্কুরিত হয়ে সূর্যমুখী হয়ে ফুটে ওঠেন। মাত্র বাইশ বছর বয়সে জ্ঞানের প্রতিটি শাখাপ্রশাখায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। শায়খ পালনপুরী ইন্ডিয়ার গুজরাট প্রদেশের অন্তর্গত পালনপুর জেলার কা’লিড়াহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর…

আব্বাজান বলেন, “রমযানের উনিশ দিন গত হলে একটি হাতকড়া পরিয়ে আমাকে কারাগার থেকে ইসহাক ইবনে ইবরাহিমের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ইসহাক প্রতিদিন আমার কাছে দুজন লোক পাঠাত”। সালেহ বলেন, আব্বাজান তাদের দুজনের নাম বলেছেন; একজন হলেন আহমদ ইবনে রাবাহ, অপরজন আবু শুয়াইব আল-হাজ্জাম। এই দুজন আমার সাথে কথা বলত, মুনাযারা করত। যখন তাদের ফিরে যাওয়ার সময় হতো, তখন প্রহরী ডেকে আমার হাতে একটি হাতকড়া এবং পায়ে চারটি বেড়ি পরিয়ে রেখে…

ইমাম আবু হানিফা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। খলিফা, আমির-উমারা ও রাজকীয় দায়-দায়িত্বকে সবসময় পরিহার করে চলতেন। এই ব্যাপারে এতটাই দৃঢ়চেতা ছিলেন যে, বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ না করার অভিযোগে কারাবরণ করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন। মৃত্যুও কারাগারেই হয়েছে। কেন এত দৃঢ়ভাবে এসব থেকে বেঁচে থাকতেন, এত বেছে চলতেন? নিচের ছোট্ট ঘটনাটা থেকে এর উত্তর পাওয়া যাবে। ‘খারিজা ইবনে মুস’আব বলেন- একবার খলিফা মনসুর আবু হানিফার জন্য দশ হাজার দিরহাম উপঢৌকনের ব্যবস্থা করেছেন। উপঢৌকন গ্রহণ…

খুব কম মানুষই এই মহান ব্যক্তিকে চেনেন। আবু সাহবা সেলাহ ইবনে উশাইম ছিলেন একজন দুনিয়া বিরাগী সাধক ব্যক্তিত্ব। তিনি ছিলেন আলেমা মুআযাহ আদাবীয়ার স্বামী। মহান এই সংগ্রামী সাধক মুসলিম সমাজে রেখেছিলেন অনন্য অনেক অবদান; সমাজের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে তার জন্য ছিল সীমাহিন ভালোবাসা ও ব্যাপক প্রভাব। ধৈর্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতে সন্তুষ্ট থাকা ছিল তার অনন্য গুণের একটি। সাবিত বর্ণনা করেন : একবার এক ব্যক্তি সেলাহর নিকট তার ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ…

ইমাম যাহাবী রহ. তার সম্পর্কে বলেন : তিনি ছিলেন তাবেয়ীদের সর্দার এবং সমকালীন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ যাহেদ ব্যক্তিত্ব। বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী আবু মুসলিম খাওলানীর প্রকৃত নাম আব্দুল্লাহ ইবনে সাওব।[১] ইয়ামান থেকে মদীনায় পৌঁছানোর আগেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রফীকে আলার সান্নিধ্যে চলে যান; এবং আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহুকে খলীফা মনোনীত করা হয়। ইয়ামানে নবুয়াতের দাবীদার ভণ্ডনবী আসওয়াদে আনাসীকে রুখতে তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ফেৎনার সে সময়ও তিনি ছিলেন ইসলামের…

আলকমা ইবনে মারসাদ রহ. (মৃত:১২০ হি:) বলেন, আটজন তাবেয়ীর মাঝে জুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) সবচেয়ে বেশি ছিল। তারা হলেন, ১. আমের বিন আব্দুল্লাহ রহ.। ২.উয়াইস কারনী রহ.। ৩.হারাম ইবনে হাইয়্যান। ৪. রবী ইবনে খাইসাম। ৫.আবু মুসলিম খাওলানী রহ.। ৬.আসওয়াদ ইবনে ইয়াজীদ রহ.। ৭.মাসরুক ইবনে আজদা রহ.। ৮.হাসান বসরী রহ.। [জুহদুস সামানিয়া মিনাত তাবেয়ীন, রিয়াতু ইবনে আবি হাতিম, তাহকীক, আব্দুর রহমান ফারতুয়ানী] এই আটজনকে তাজকিয়া, জুহদ ও তাসাউফের ইমাম ও শিরোমণি মনে…

তাঁর ব্যাপারে বড়দের মন্তব্য ———————————— আমার কাছে ইসলামের সত্যতার অন্যতম প্রমাণ হলো, আল্লামা কাশ্মীরীর মতো ব্যক্তি মুসলিম উম্মাহর মাঝে রয়েছেন। যদি ইসলামের মাঝে কোনো ধরনের অপূর্ণতা বা খুঁত থাকত তাহলে তিনি অবশ্যই ইসলাম থেকে বিমুখ হয়ে যেতেন। -হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ.। – শায়খুল হিন্দ তার সনদের ইজাযতনামা এভাবে লেখেন, ‘আল্লাহ পাক মাওলানা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরীর মাঝে ইলম, আমল, সীরাত, সুরত, তাকওয়া-পরহেযগারী ও মেধাপ্রতিভা সব জমা করে দিয়েছেন।’ -…

৪ এপ্রিল, ১৯৯৬। আজ থেকে ২৪ বছর পূর্বে ঠিক আজকের এই তারিখ। দিনটি ছিল বিষ্যুদবার। বসন্ত সকালের অবাধ্য রোদ তীব্র হতেই কান্দাহারে বসেছে ১৫,০০ আলেম, বরেণ্য ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও জিহাদি নেতৃবৃন্দের ছোটখাটো এক সমাবেশ। উপস্থিত ছিলো ৩৫ বছরের এক টগবগে যুবক। একেবারে সাদামাটা, গায়ে পুরনো একটা চাদর জড়ানো, মাথায় লম্বা পাগড়ি এলোমেলোভাবে পেচানো। উলামাদের সাথেই জড়োসড়ো হয়ে বসে আছেন। দেখতে নেতৃত্ব সুলভ বৈশিষ্ট্যের কোন ছাপ স্পষ্ট না, অথবা বিশিষ্ট কেউ…

Pin It
error: Content is protected !!