Category

ইমরান রাইহান

Category

ঘুমাতে পারছেন না হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। চেষ্টা করছেন জেগে থাকতে, কারণ ঘুম এখন তার কাছে আতংকের অপর নাম। কিন্তু কতক্ষণ থাকা যায় না ঘুমিয়ে। ক্লান্তিতে চোখে নেমে আসে ঘুম। আর চোখ বুজলেই তিনি স্বপ্নে দেখেন, তার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন সাঈদ ইবনু জুবাইর। জিজ্ঞেস করছেন, আমাকে হত্যা করেছ কেন? তীব্র আতংক নিয়ে ঘুম থেকে জেগে উঠেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ। চিৎকার করে বলতে থাকেন, হায়, সাঈদ ইবনু জুবাইরের সাথে আমার কী সম্পর্ক?…

মদীনা। ৬৫ হিজরী। হজ্বের সফরে এসেছেন খলিফা আবদুল মালেক ইবনে মারওয়ান। একদিন দুপুরে মসজিদে নববীর পাশে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন তিনি। বাইরে প্রখর রোদ। উত্তপ্ত হয়ে গেছে পথঘাট। খলিফার চোখে ঘুম নেমে এলো। এ সময় মসজিদে নববীতে হৈচৈ শুরু হলে খলিফার ঘুম ভেঙ্গে যায়। ‘দেখো তো মসজিদে নতুন কোনো মুহাদ্দিস এসেছে কিনা?’ খলিফা একজন প্রহরীকে পাঠালেন মসজিদে কী হচ্ছে দেখে আসার জন্য। প্রহরী মসজিদে এসে দেখলো একজন আলেম বসে তার ছাত্রদের দরস…

১১৯২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবী যখন ক্রুসেডারদের সাথে ৫ বছরের লড়াই শেষে সন্ধির আলোচনা শুরু করছিলেন, তখন পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে ভারতবর্ষে দেখা যায় এক নতুন দৃশ্য। দিল্লী থেকে দেড়শো কিলোমিটার দূরে তরাইন নামক এলাকায় সুলতান শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী তার সেনাবাহিনী নিয়ে পৃথিরাজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। — শিহাবুদ্দিন ঘুরিকে বলা হয় ভারতবর্ষে মুসলিম সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তার আগে সুলতান মাহমুদ গযনভী সতেরো বার ভারত আক্রমন করেছিলেন। কিন্তু তিনি এখানে ইসলামি সালতানাত প্রতিষ্ঠা…

মোগড়াপাড়া বাসস্টান্ড থেকে দরগাহবাড়ির রিকশায় উঠে মনে হলো ফিরে গেছি ৭০০ বছর আগের সুলতানী আমলে। আমি হেঁটে যাচ্ছি প্রাচীন বানার নদীর তীর ধরে। নদীতে ভাসছে সওদাগরের বজরা। ঘাটে অপেক্ষা করছে সারি সারি জাহাজ। এসব জাহাজে করে মসলিন পাঠানো হবে দূরের রাজ্যে। একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ইটালির নাগরিক ভারথেমা দেখছেন সে দৃশ্য।(১) রোদের প্রখরতায় ভ্রু কুঁচকে গেল। চোখের পাতা নড়ে উঠতেই দেখলাম হারিয়ে গেছে সুলতানী আমলের দৃশ্য। রাস্তার পাশে বয়ে গেছে মৃতপ্রায়…

নিজেদের সীমান্ত অতিক্রম করে হিমস শহরে আক্রমন চালালো রোমানরা। হত্যা ও লুটপাট শেষে অনেক মুসলমানকে বন্দী করে নিয়ে গেল তারা। দামেশকে বসে এই সংবাদ পেলেন সুলাইমান বিন আবদুল মালিক। তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি। ক্রুদ্ধ কন্ঠে বলে উঠলেন, আমি হয় কনস্টান্টিনোপল জয় করবো নইলে মারা যাব। দ্রুত নিজের ভাই মাসলামা বিন আবদুল মালিককে নির্দেশ দিলেন সেনাবাহিনী গঠন করতে। বিভিন্ন শহর থেকে সংগ্রহ করা হলো সেনা। মিসরের গভর্নরকে নির্দেশ দেয়া হলো জাহাজ…

সংক্ষিপ্ত অনুবাদ – ইমরান রাইহান ঈমানদীপ্ত দাস্তান বই সম্পর্কে সামগ্রিক মূল্যায়ন শেষে এবার আমরা একটু ভেতরে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখবো আলতামাশ কীভাবে কল্পনাকে ইতিহাস বলে চালিয়ে দিয়েছেন। ১। ঈমানদীপ্ত দাস্তানের প্রথম খন্ডের শুরুতে লেখক সাইফুদ্দিন গাজির কাছে প্রেরিত সুলতানের একটি চিঠি তুলে দিয়েছেন। এরপর সিরিয়া ও মিসরের পরিস্থিতি, আলী বিন সুফিয়ানের তৎপরতা, এক সেনা অফিসার নাজির সাথে আলি বিন সুফিয়ানের কৌশল, নাজিকে হত্যা, ক্রুসেডারদের আক্রমন ও তাদের পরাজয়ের কথা লিখেছেন। (১)…

সেক্যুলাররা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য প্রশ্ন তোলে, আচ্ছা আমরা প্রথমে মুসলমান নাকি মানুষ? তারা নিজেরাই এর জবাব দেয়। তারা বলে আমরা শুরুতে মানুষ। এর পর আমরা মুসলমান। অর্থাৎ মুসলমান হওয়ার জন্য প্রথমে আমাদের মানুষ হওয়া জরুরী। সেক্যুলাররা সবসময় জোর দিয়ে বলে, একটি সমাজে ন্যায়বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে মানুষ পরিচয়ে পরিচিত হতে হবে। নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম, বংশ বা অন্য পরিচয়ে পরিচিত হওয়া যাবে না। অর্থাৎ, সমাজের মানুষকে সেই…

খাওয়ারিজমের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত সমৃদ্ধ একটি শহরের নাম কোকন্দ। (১) সাইর নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি বিখ্যাত ছিল এর নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উর্বর ভূমির জন্য। সুজলা-সুফলা এই শহরে বিস্তৃত ফলের বাগান ও ফসলি জমির মাঝে মাথা উঁচু করে ছিল মসজিদের মিনার। কিছুদূর পর পর গড়ে উঠেছিল গ্রাম। পাহাড়ের ঢালে বিছিয়ে থাকা সবুজ ঘাসের ডগা নড়ে উঠত দখিনা বাতাসে। উপত্যকায় চড়ে বেড়াত পশুদের পাল। সন্ধ্যায় সূর্যের আলোয় লাল হয়ে যেত সাইর…

কাজি শুরাইহ বিন হারিস রহিমাহুল্লাহ। হজরত উমর (রা) তাকে নিযুক্ত করেছিলেন কুফার বিচারকের পদে, আর এই পদেই তিনি কাটিয়ে দেন ৬০ বছর। মাঝের সময়টায় ক্ষমতার নানা উত্থান-পতন হয়েছে কিন্তু তার দক্ষতার উপর আস্থা ছিল সবারই। বিচার পরিচালনায় তার দক্ষতা দেখে আলী (রা) বলেছিলেন, তুমি আরবের শ্রেষ্ঠ বিচারক। – একবারের ঘটনা। হজরত আলী (রা) তখন খলিফাতুল মুসলিমিন। কুফায় বসে শাসন করছেন মুসলিম বিশ্ব। একবার তিনি তার বর্ম হারিয়ে ফেলেন। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি…

সময়টা উত্তাল। নেতৃত্ব ও অধিকারের প্রশ্নে দ্বন্দ্ব চলছে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) ও মারওয়ানের মধ্যে। আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে মক্কা ও আশপাশের এলাকা। অপরদিকে দামেশকসহ সিরিয়ার বিস্তৃর্ণ অঞ্চল মারওয়ানের দখলে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের মাঝে মাথা তুললো আরেকজন। তার উদ্দেশ্য বিরাজমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। এই ব্যক্তির নাম মুখতার বিন আবু উবাইদ। বনু সকিফ গোত্রের সদস্য হওয়ায় ইতিহাস তাকে মনে রেখেছে মুখতার আস সাকাফি নামে। তার পিতা…

Pin It
error: Content is protected !!