Category

লেখক

Category

মাহে রমজান। ত্রয়োদশ হিজরি। চলছে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা ওমর ইবনুল খাত্তাব রা.এর স্বর্ণালী শাসনকাল। অন্ধকারের অমানিশাকে দূরে ঠেলে ইসলামের নতুন সকালকে প্রস্ফুটিত করতে সাহাবায়ে কেরাম রা.ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন বিভিন্ন প্রান্তে। আল্লাহর তরবারি খালিদ বিন ওয়ালিদ রা. তখন ছিলেন রোমকদের মূর্তিমান ত্রাস। সিরীয় অঞ্চলে তাঁর ঘোড়ার খুঁড়ের আওয়াজ শুনে ক্রমেই কেঁপে উঠছে রোমের প্রাসাদ। অপরদিকে আরেক বীর মুজাহিদ মুসান্না ইবনুল হারেসা তখন করে দিয়েছেন পারসিকদের রাতের ঘুম হারাম। কিসরার প্রাসাদে বিরাজ…

কয়েক বছর ধরে বাংলা ভাষায় ইতিহাসচর্চার একটা জাগরণ হয়েছে বলে ধরা যায়। এ সময় ইতিহাস বিষয়ে প্রচুর বইপত্র অনুবাদ হয়েছে, মৌলিক গ্রন্থ রচনা করা হয়েছে। সামনেও ইতিহাস নিয়ে বিস্তৃত কলেবরের বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। ইতিহাস নিয়ে লিখিত বইপত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে বলেই মনে হচ্ছে। তবে পাঠের ক্ষেত্রে কিছুটা শূন্যতা দেখা যাচ্ছে। এই শূন্যতা হলো গুরুত্বের বিচারে বিষয় নির্ধারণের শূন্যতা। কোন বিষয়টি আগে জানা প্রয়োজন, কোন বিষয়টি…

নবিজি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরবের বুকে যে দাওয়াত প্রচার করেছিলেন ধীরে ধীরে সেই দাওয়াত ছড়িয়ে পড়েছিল অর্ধবিশ্ব জুড়ে। এই দাওয়াতের সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল পারস্য ও রোমান সাম্রাজ্য। অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষ পেয়েছিল আলোর দিশা। পথহারা পেয়েছিল পথের সন্ধান। মাজলুম পেয়েছিল জুলুম থেকে মুক্তি। প্রথম যুগের মুসলমানরা ছিলেন নবিজির হাতে গড়া শিষ্য সাহাবায়ে কেরাম। তারা তৈরী করেছিলেন তাবেঈদের এক বিশাল জামাত। তারা তৈরী করেছিলেন তাবে তাবেঈদের জামাত। এই সময়…

হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলি থানভী (র) এর জন্ম ১৮৬৩ সালে, ভারতের উত্তর প্রদেশে। তিনি দারুল উলুম দেওবন্দের প্রথম দিকের ছাত্রদের মধ্যে অন্যতম। পড়াশোনা শেষে তিনি কানপুরের ফয়জে আম মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। সারাজীবন তিনি লেখালেখি ও বয়ানের মাধ্যমে মানুষের মাঝে দ্বীনের দাওয়াত প্রচার করেছেন। একজন আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ছিলেন সুপরিচিত। ১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি মারা যান। তাঁর বিভিন্ন রচনাবলী ও আলোচনা থেকে সংকলন করা কিছু কথা নিম্মে তুলে ধরা হল। আজকে…

আধুনিক গবেষকদের কেউ কেউ বলতে চান সাহাবায়ে কেরাম বিজিত এলাকার মূর্তি ভাঙ্গেননি। সদ্যপ্রয়াত হাল যামানার মিসরী আলিম শায়েখ মুহাম্মাদ ইমারাহ প্রতিকৃতির বিষয়ে বলেন, ’সাহাবায়ে কিরাম বিজিত দেশগুলোর উপাস্য নয়, এমন প্রতিকৃতিকে রেখে দিতেন।  আমর ইবনুল আস রা. মিসর জয় করেন। কিছু মূর্তি ভেঙ্গে কিছু রেখে দেন। কারণ, ওগুলো উপাস্য ছিল না। এবং মিসরের খ্রিস্টানরা এগুলোর উপাসনা করতো না। এটা মুসলিম সৈন্যবাহিনীর বিশ্বাসের জন্য হুমকি হওয়ার আশংকা ছিল না।’ (আল ইসলাম…

হেদায়াতের প্রকারভেদ : اهدنا الصراط المسقيم. হেদায়াত তো নবি কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবা ও আউলিয়া বুজুর্গদের অর্জন ছিলো, তারপরও তারা হেদায়াত চাচ্ছে। এটা তো تحصيل ما مصل (অর্জিত বিষয়কে আবার অর্জন করার তামান্না) হয়ে গেছে। আর এটা অনর্থক একটি কাজ। আর যদি বলেন নবিদের হেদায়াত অর্জন হয়নি, তাই তারা হেদায়াত চাচ্ছে, তাহলে তো তোর ইমানই শেষ। যদিও তোর দাঁড়ি এত বড় হোক না কেন,যার নিচে পুরো পাকিস্থান! ইশকাল আর…

৩১. একজন মানুষ, সে নিজের জন্যে ব্যয় করে, পরিবারের জন্যে ব্যয় করে আবার সে তার সম্পদ ব্যয় করে এমনও কারুর জন্যে যে নয় তার আত্মীয়৷ এই যাবতীয় ব্যয়ের সময় সেই মানুষটির উচিত আল্লাহ তা’লার সন্তুষ্টির নিয়ত করা৷ সাদাকাহ, দান, খায়রাত ইত্যকার ব্যয়ের সময় মানুষের সমুখে তো রবের সন্তোষ অর্জনের সদিচ্ছা থাকেই; উল্লিখিত সমুদয় ব্যয়ের সময়ও যদি তার সামনে রবের সন্তুষ্টি অর্জন উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে যা ব্যয় করছে সে নিজের…

হাদিস শরিফে কোনো ওসিলা দিয়ে দুআ করার কথা বলা হয়েছে। ওসিলা দিয়ে দুআ করার একটি তরিকা হলো, নেক আমলের ওসিলা দিয়ে দুআ করা। তা এভাবে যে, হে আল্লাহ! আমার এই আমলের ওসিলায় আমার দুআ কবূল করুন। . ওসিলা দেওয়ার আরেকটি তরিকা হলো, আমার নিকট তেমন কোনো আমল নেই। তবে আমি বলছি, হে আল্লাহ! আপনার ওমুক প্রিয় বান্দাকে আমি মুহব্বত করি। সেই মুহাব্বতের ওসিলা দিয়ে আপনার নিকট দুআ করছি। এখন বলুন,…

দোয়া হলো ইবাদতের প্রাণ। এই যে সালাত, তার সবটা মূলত দোয়া; প্রথমে আল্লাহ্‌ তাআলার বড়ত্ব-মহত্ব দিয়ে সূচনা। তারপর সুরা ফাতিহা থেকে শুরু হয় দোয়া। প্রশংসা ও গুণগান সেরে উঠতেই শুরু হয়ে যায় প্রার্থনা—“আমাদেরকে দিন সিরাতুল মুস্তাকিমের দিশা; যে-পথে চলে গেছেন আপনার নেয়ামতপ্রাপ্ত বান্দারা; সে-পথ নয়, যে-পথে চলেছে অভিশপ্ত ইহুদি ও ভ্রষ্ট নাসারা”।(১) ফাতিহা শেষ করতেই যে-শব্দটি পাঠ করা হয়—‘আমিন’; ‘আমাদের দোয়া কবুল করে নিন প্রভু’। মাটির সৃষ্টি সালাত আদায়কারীর আমিন…

রোগীঃ স্বামী-স্ত্রী। বিয়ের বয়স দেড় বছর। . সমস্যাঃ – স্বামী – স্ত্রী একে অন্যের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। কোন যৌক্তিক কারণ ছাড়া। – অকারণ রেগে যায়। প্রচন্ড ঝগড়া। পরে বুঝতে পারে, এই ঝগড়ায় কোন কারণই ছিলো না। – স্ত্রী যখন ঘরে একা থাকে তখন ঠিক থাকে। স্বামী ঘরে এলেই তার মেজাজ গরম হয়ে যায়। – স্বামী বাইরে ভালোই। কিন্তু ঘরে এলে অস্থির লাগে। মনে হয় ঘর থেকে বের হয়ে যাই।…

Pin It
error: Content is protected !!