Category

ইতিহাস

Category

১১৯২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সালাহুদ্দিন আইয়ুবী যখন ক্রুসেডারদের সাথে ৫ বছরের লড়াই শেষে সন্ধির আলোচনা শুরু করছিলেন, তখন পৃথিবীর অন্যপ্রান্তে ভারতবর্ষে দেখা যায় এক নতুন দৃশ্য। দিল্লী থেকে দেড়শো কিলোমিটার দূরে তরাইন নামক এলাকায় সুলতান শিহাবুদ্দিন মুহাম্মদ ঘুরী তার সেনাবাহিনী নিয়ে পৃথিরাজের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। — শিহাবুদ্দিন ঘুরিকে বলা হয় ভারতবর্ষে মুসলিম সালতানাতের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা। তার আগে সুলতান মাহমুদ গযনভী সতেরো বার ভারত আক্রমন করেছিলেন। কিন্তু তিনি এখানে ইসলামি সালতানাত প্রতিষ্ঠা…

মোগড়াপাড়া বাসস্টান্ড থেকে দরগাহবাড়ির রিকশায় উঠে মনে হলো ফিরে গেছি ৭০০ বছর আগের সুলতানী আমলে। আমি হেঁটে যাচ্ছি প্রাচীন বানার নদীর তীর ধরে। নদীতে ভাসছে সওদাগরের বজরা। ঘাটে অপেক্ষা করছে সারি সারি জাহাজ। এসব জাহাজে করে মসলিন পাঠানো হবে দূরের রাজ্যে। একপাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে ইটালির নাগরিক ভারথেমা দেখছেন সে দৃশ্য।(১) রোদের প্রখরতায় ভ্রু কুঁচকে গেল। চোখের পাতা নড়ে উঠতেই দেখলাম হারিয়ে গেছে সুলতানী আমলের দৃশ্য। রাস্তার পাশে বয়ে গেছে মৃতপ্রায়…

নিজেদের সীমান্ত অতিক্রম করে হিমস শহরে আক্রমন চালালো রোমানরা। হত্যা ও লুটপাট শেষে অনেক মুসলমানকে বন্দী করে নিয়ে গেল তারা। দামেশকে বসে এই সংবাদ পেলেন সুলাইমান বিন আবদুল মালিক। তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠলেন তিনি। ক্রুদ্ধ কন্ঠে বলে উঠলেন, আমি হয় কনস্টান্টিনোপল জয় করবো নইলে মারা যাব। দ্রুত নিজের ভাই মাসলামা বিন আবদুল মালিককে নির্দেশ দিলেন সেনাবাহিনী গঠন করতে। বিভিন্ন শহর থেকে সংগ্রহ করা হলো সেনা। মিসরের গভর্নরকে নির্দেশ দেয়া হলো জাহাজ…

সংক্ষিপ্ত অনুবাদ – ইমরান রাইহান ঈমানদীপ্ত দাস্তান বই সম্পর্কে সামগ্রিক মূল্যায়ন শেষে এবার আমরা একটু ভেতরে অনুসন্ধান চালিয়ে দেখবো আলতামাশ কীভাবে কল্পনাকে ইতিহাস বলে চালিয়ে দিয়েছেন। ১। ঈমানদীপ্ত দাস্তানের প্রথম খন্ডের শুরুতে লেখক সাইফুদ্দিন গাজির কাছে প্রেরিত সুলতানের একটি চিঠি তুলে দিয়েছেন। এরপর সিরিয়া ও মিসরের পরিস্থিতি, আলী বিন সুফিয়ানের তৎপরতা, এক সেনা অফিসার নাজির সাথে আলি বিন সুফিয়ানের কৌশল, নাজিকে হত্যা, ক্রুসেডারদের আক্রমন ও তাদের পরাজয়ের কথা লিখেছেন। (১)…

আবু হানিফা রহ.বলেছেন, ‘ইবরাহিম সালিম (আবদুল্লাহ ইবনু ওমর রা.এর পুত্র) এর চেয়েও অধিক প্রাজ্ঞ। যদি সাহাবি হওয়ার শ্রেষ্ঠত্ব না থাকত, তবে আমি বলতাম ইবরাহিম ইবনু ওমর রা.এর চেয়েও অধিক প্রাজ্ঞ।’ (১) অনুবাদ করছিলাম। হঠাৎ এই লাইনগুলো লিখে চমকে যাই। ভাবতে থাকি কে এই ইবরাহিম, যার সম্পর্কে ইমামে আজম আবু হানিফা রহ. এত বড় মন্তব্য করলেন! চলুন জেনে নেই কে এই ইবরাহিম আর তাঁর সম্পর্কে ইমাম আজমের এমন মন্তব্যের কী রহস্য?…

খাওয়ারিজমের পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত সমৃদ্ধ একটি শহরের নাম কোকন্দ। (১) সাইর নদীর তীরে অবস্থিত শহরটি বিখ্যাত ছিল এর নির্মল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও উর্বর ভূমির জন্য। সুজলা-সুফলা এই শহরে বিস্তৃত ফলের বাগান ও ফসলি জমির মাঝে মাথা উঁচু করে ছিল মসজিদের মিনার। কিছুদূর পর পর গড়ে উঠেছিল গ্রাম। পাহাড়ের ঢালে বিছিয়ে থাকা সবুজ ঘাসের ডগা নড়ে উঠত দখিনা বাতাসে। উপত্যকায় চড়ে বেড়াত পশুদের পাল। সন্ধ্যায় সূর্যের আলোয় লাল হয়ে যেত সাইর…

মহান বাদশাহ আওরঙ্গজেব আলমগীরের মৃত্যুর সাথে সাথেই যেন নিভে যায় উপমহাদেশের মাটিতে ইসলামের দাপুটে দিন। সম্রাট জাহাঙ্গীরেরর আমল থেকেই শুরু হয়ে যায় ইংরেজ চক্রান্ত। এরপরের দিনলিপিগুলো যেন শুধু বেদনারই কালি দিয়ে লেখা। এক সময় উপমহাদেশের ক্ষমতা দখল করে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। শুরু হয় ভারতবর্ষের মুসলিমদের কষ্ট, সংগ্রাম এবং অবর্ণনীয় নির্যাতনের অধ্যায়। মুসলিম কখনো শির নত করে না। অত্যাচারের দাবানলের মুখে তাঁরা এগিয়ে আসেন বুক চেতিয়ে। মৃত্যুভয় দূরে ঠেলে দিয়ে। তাদের…

কাজি শুরাইহ বিন হারিস রহিমাহুল্লাহ। হজরত উমর (রা) তাকে নিযুক্ত করেছিলেন কুফার বিচারকের পদে, আর এই পদেই তিনি কাটিয়ে দেন ৬০ বছর। মাঝের সময়টায় ক্ষমতার নানা উত্থান-পতন হয়েছে কিন্তু তার দক্ষতার উপর আস্থা ছিল সবারই। বিচার পরিচালনায় তার দক্ষতা দেখে আলী (রা) বলেছিলেন, তুমি আরবের শ্রেষ্ঠ বিচারক। – একবারের ঘটনা। হজরত আলী (রা) তখন খলিফাতুল মুসলিমিন। কুফায় বসে শাসন করছেন মুসলিম বিশ্ব। একবার তিনি তার বর্ম হারিয়ে ফেলেন। কয়েকদিন খোঁজাখুঁজি…

সময়টা উত্তাল। নেতৃত্ব ও অধিকারের প্রশ্নে দ্বন্দ্ব চলছে আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর (রা) ও মারওয়ানের মধ্যে। আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে মক্কা ও আশপাশের এলাকা। অপরদিকে দামেশকসহ সিরিয়ার বিস্তৃর্ণ অঞ্চল মারওয়ানের দখলে। দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের মাঝে মাথা তুললো আরেকজন। তার উদ্দেশ্য বিরাজমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। এই ব্যক্তির নাম মুখতার বিন আবু উবাইদ। বনু সকিফ গোত্রের সদস্য হওয়ায় ইতিহাস তাকে মনে রেখেছে মুখতার আস সাকাফি নামে। তার পিতা…

মাদরাসা বলতে আমরা বুঝি এমন ব্যবস্থাপনাকে যেখানে ছাত্রদের থাকার জন্য ভবন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সকল উপকরণের ব্যবস্থা রয়েছে। যার দেখাশোনার সাথে জড়িত আছেন আলিমগণ। যারা একান্তভাবে দরস-তাদরিসে নিয়োজিত। চতুর্থ হিজরি শতাব্দী পর্যন্ত জামে মসজিদ্গুলোই ইলম শিক্ষার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গণ্য ছিল। ইলমচর্চার প্রধান কেন্দ্র ছিল তখন মসজিদে মসজিদে শাইখগণের মজলিস। এ মজলিস থেকেই শাইখগণ নিজেদের সুযোগ্য শাগরিদ গড়ে তুলতেন। সে সময়ে শিক্ষার সর্বোচ্চ স্তর ছিল শাইখের কাছ থেকে লিখে নেয়া।…

Pin It
error: Content is protected !!