Category

আত্মশুদ্ধি

Category

[৮ জুমাদাল উখরা রোজ জুমাবার মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়ায় বাদ আসর পাহাড়পুরী হুজুরের বয়ান থেকে।] আল্লাহ তাআলা যখন মানুষ সৃষ্টি করার ইচ্ছা করলেন তখন ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি তো যমিনে আমার প্রতিনিধি সৃষ্টি করতে চাই। তখন ফেরেশতাগণ বলেছিলেন, মানুষ তৈরি করার কী দরকার?! আমরাইতো আপনার প্রশংসা করি ও পবিত্র বর্ণনা করি। জবাবে আল্লাহ তাআলা বললেন, আমি যা জানি তোমরা তা জান না। বুখারী শরীফের শেষ হাদীস- كلمتان حبيبتان إلى الرحمن، خفيفتان على…

আলহামদুলিল্লাহ! কুরআন শরীফের প্রায় সমস্ত দোয়া এক জায়গায় অর্থ সহ লিপিবদ্ধ করে দেয়া হলো। এ দোয়াগুলি নিজে মুখস্থ করুন এবং অপরকে পড়ার ও মুখস্থ করার সুযোগ করে দিন। ✅ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ، وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنْتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ، البقرة ١٢٧ “হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি আমাদের থেকে (সব দোয়া) কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সবকিছু শুনতে পাও ও সব কিছু জানো। আর তুমি আমাদের তাওবাহ্ কবুল…

১. সা’দ ইবনে উবাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু। আনসারি সাহাবি। ইমাম বুখারি রহ. (২৫৬ হি.) বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা বদরযুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছেন। খাযরাজের নেতা। বাইআতুল আকাবার রাত্রে যে-কজন ‘নকিব’ ছিলেন মদিনার, সা’দ ইবনে উবাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের অন্যতম। কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আনসার বাহিনীর পতাকা থাকত সা’দ ইবনে উবাদার হাতে। নবীজির বড় প্রিয় সাহাবি তিনি। হাফেজ যাহাবি (৭৪৮ হি.) রহ. বলেন, সা’দ ইবনে উবাদা রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন সম্ভ্রান্ত সরদার। সবার আনুগত্য পাবার মতো।…

একটু ভেবে দেখেছেন—ছোট্টো একটি বাক্য আপনার জীবনে কতটা সৌভাগ্য বয়ে আনতে পারে? সেটা কি? তার আগে একটি বিষয় বলুন তো, যদি কখনো শুনতে পান, দুনিয়ার মধ্যে আপনার কোনো একান্ত পছন্দের মানুষ যিনি সম্মান মর্যাদায় এত উঁচু যে যাকে শুধু দূর থেকে ভালোবাসতে পারাটাই আপনার জন্যে গর্বের ও গৌরবের বিষয়। যার ভালোবাসা প্রকাশ্যে বা গোপনে, একান্ত আলোচনায় বা ফেসবুকে বলতে আপনার আনন্দ হয়। সম্ভব না, কিন্তু মনের অজান্তেই জীবনে একটি বার…

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সময়ের সবচেয়ে বড় ফিতনা হলো—ইসলামকে আকল দিয়ে বুঝতে চাওয়া। বুদ্ধিবৃত্তিক ইসলামের জপ করতে-করতে আকলকে বানিয়ে ফেলে ইসলাম ও শরিয়ত বোঝার মূল মানদণ্ড। কিছু বই এবং এবং কিছু আর্টিকেলে শরিয়তের কিছু মূলনীতি ভাসা-ভাসা পড়েই আকল খাটিয়ে শুরু হয় উসুলের ভুল ও বিকৃত প্রয়োগ। সেখানে কোনো দলিলের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু আকলের। অথচ, ইসলাম আকলের নাম নয়। শুধু আকল দিয়ে ইসলামকে বোঝা সম্ভবও নয়। ইসলাম বোঝার মানদণ্ড হলো—কুরআন-হাদিসের…

‘মেয়েরা চাইলে তাদের চেহারা খুলে রাখবে। ঢেকে রাখা ভালো, বাকি না ঢাকলে কোনো সমস্যা নেই।’ এই বিষয়ে বয়ানের মঞ্চ থেকে ফেসবুক পাড়ায় বেশ জোরেশোরে কিছু ভাই কাজ করে যাচ্ছেন। অথচ এইগুলো তো বেশ পুরোনো ইস্যু। আমাদের আকাবিররা এই বিষয়ে যতধরনের প্রশ্ন, আপত্তি অপব্যাখ্যা আছে তার সবগুলোর জবাবে দিস্তার পর দিস্তা লেখে গেছেন। শুধু মাসিক আলকাউসারে এই বিষয়ে আমারই প্রায় দশটার কাছাকাছি বড় বড় প্রবন্ধ নজরে পড়েছে। আমার দুঃখ হলো—যারা চেহারা…

অনুবাদ: আবদুল্লাহ তালহা একই যোগ্যতার দু‘জন ব্যক্তিকে দুটি বোঝা বহন করতে দেওয়া হলো। একজন এমন অবস্থা প্রকাশ করল যেন তার কাঁধে দুটি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরেকজন মনের সুখে গান গেয়ে গেয়ে তার বোঝাটি বহন করে চলেছে। তাকে দেখে মনে হচ্ছে, তার কাঁধে কিছুই নেই। অনুরূপ দেখা যায়, একই রকম দু‘জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছে। রোগও অভিন্ন। একজনের মন অত্যন্ত ভারাক্রান্ত। ভয়ে সে শুকিয়ে গেছে। সে যেন শুধু মৃত্যুর অপেক্ষা করছে।…

২০০৭ সাল। বিশ্ব ইজতিমার বিদেশী মেহমান কামরায় বিশ্ববরেণ্য আলিম ও মুবাল্লিগদের পাশাপাশি আলো ছড়াচ্ছেন কিছু দুনিয়াবী তারকা। নাপাক নাচিজ দুনিয়ার মোহে যারা জীবনের সিংহভাগ সময় পার করে দিয়েছেন। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিভার দ্যুতি ছড়িয়ে কেড়ে নিয়েছেন গনমাধ্যম ও গণমানুষের বিশেষ আকর্ষন। তবে আল্লাহ রব্বুল ইজ্জত মেহেরবান এক সত্তা। নাপাক দুনিয়ার মিথ্যা হাতছানি আর যশ খ্যতির মরীচিকা ভেদ করে তাদেরই গুটিকয়েক মানুষকে তিনি আলোর সন্ধান দিয়েছেন। জীবনের হাকীকত বুঝে আখিরাতের সাফল্যমণ্ডিত…

জুনাইদ জামশেদ। পাকিস্তানের পপ-তারকাদের অন্যতম। জীবনের একটি বড় অংশ যাঁর বিপথে কেটেছে। পরে তার উপর আল্লাহর সুদৃষ্টি পড়েছে। ফলে তাবলীগ জামাতের উছিলায় হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছেন। অন্ধকার দূরীভূত হয়েছে তাঁর জীবন থেকে; আল্লাহর অনুগ্রহে আলোর ফোয়ারা কুলকুল করে বইতে শুরু করল তাঁর ছন্নছাড়া জীবনে। ফিরে পেয়েছেন সরল পথের দিশা; একমাত্র মুক্তির পথ সিরাতুল মুসতাকিম। চিত্রাল থেকে ইসলামাবাদে যাওয়ার পথে বিমান দুর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন তিনি। আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদৌসের উচ্চ মকাম দান করুন।…

মানুষের যেমন দৈহিক রোগ থাকে, তেমনি আত্মিক রোগও থাকে। দৈহিক রোগের জন্য যেমন ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয় তেমনি আত্মিক রোগের জন্যও আত্মিক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হয়। দৈহিক রোগ থেকে আত্মিক রোগ বেশি ক্ষতিকর। দৈহিক রোগের কারণে সর্বোচ্চ ইহকালীন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু আত্মিক রোগের কারণে ইহকালীন ও পরকালীন উভয় ক্ষতির আশংকা থাকে। আত্মিক রোগ দূরীকরণের লক্ষ্যে যে চেষ্টা-সাধনা করা হয় তাকে তাযকিয়া বা আত্মশুদ্ধি বলে। সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভীর…

Pin It
error: Content is protected !!